রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস: গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস: গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

সাকিবুর রহমান বাবলা
২৩ জুন ‘আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস’—বিশ্বব্যাপী জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি অনন্য উপলক্ষ। ২০০২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবসটি ঘোষণার মাধ্যমে জনসেবার মর্যাদা বৃদ্ধি, দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা। আর এই সেবা হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক, যেখানে নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে অবারিত।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা, কৃষি, বানিজ্য, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে দেশ বেশ সাফল্য অর্জন করলেও দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য, মাদক, অভিবাসন এবং পরিবর্তিত জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা আমাদের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সাথে সততা, মানবিকতা ও জনকল্যাণের আদর্শ গভীরভাবে মিশে আছে। তাই জনসেবাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র নৈতিক ও মানবিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদের সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি—সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জনগণের সবচেয়ে নিকটতম সেবক। স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের মানদ- অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহারে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক।
বর্তমান যুগে জনসেবার গুণগত মান উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো ‘ডিজিটাল রূপান্তর’। অনলাইন সেবা, ই-গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত তথ্যভা-ার, অনলাইন বাজেট প্রকাশ এবং নাগরিক অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জনপ্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলছে। প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ দুর্নীতি হ্রাস, সেবাপ্রাপ্তির সময় সাশ্রয় এবং দ্রুত প্রতিকারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে পারলে একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্ত উন্নয়নমূলক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি জনগণের কল্যাণে নিবেদিত সেবার মধ্যেই নিহিত। দেশের জনপ্রতিনিধিরা যদি নৈতিক নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবেই একটি আধুনিক, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এভাবেই আমাদের উন্নয়নযাত্রা গতিশীল হবে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।

Ads small one

দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:২১ পূর্বাহ্ণ
দর্শক খরায় বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ, টিকিটের দামে ছাড় দিয়েও মিলছে না ক্রেতা

সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে ইংল্যান্ড এবং স্পেনের কাছে ফ্রান্সের বিদায়ের পর দুই দলের সমর্থকদের মাঝেই যেন বিশ্বকাপের আমেজ অনেকটাই স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তারই সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ সময় রবিবার রাত ৩টায় মায়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য দুই ইউরোপীয় জায়ান্টের মধ্যকার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী বা ব্রোঞ্জ মেডেল ম্যাচে। ম্যাচটি মাঠে গড়ানোর আগমুহূর্তেও ফিফার অফিসিয়াল সাইটগুলোতে হাজার হাজার টিকিট অবিক্রিত পড়ে রয়েছে।

ফিফার টিকিট পোর্টাল এবং অফিসিয়াল রিসেল প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের এই ম্যাচটি ঘিরে এখনও প্রায় ৭,০০০ টিকিট অবিক্রিত অবস্থায় তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে ১,২৪৬টি টিকিট অবিক্রিত আছে, যার একেকটির মূল্য হাঁকা হচ্ছে ৮৬৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৬৫৭ পাউন্ড) থেকে ১,১২৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৮৫৫ পাউন্ড) পর্যন্ত।

সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে অফিসিয়াল রিসেল বা পুনঃবিক্রয় প্ল্যাটফর্মে। সেখানে প্রায় ৫,৮৬৪টি টিকিট বিক্রির জন্য জমা পড়ে আছে। সমর্থকরা তাদের কেনা টিকিট নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে দিতে চাইছেন। সবচেয়ে সস্তা ক্যাটাগরি-৩-এর টিকিটগুলো ফেস ভ্যালু ৪৫৫ ডলারে পাওয়া যাচ্ছে (এর সঙ্গে ফিফার ১৫ শতাংশ অতিরিক্ত ফি যুক্ত হবে)।

ম্যাচের আকর্ষণ ও দর্শক আগ্রহ কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে প্রিমিয়াম বা ক্যাটাগরি-১-এর টিকিটগুলোতে। যে টিকিটগুলোর মূল ক্রয়মূল্য ছিল ১,১২৫ ডলার, সেগুলো এখন প্রায় অর্ধেক বা বিশাল ডিসকাউন্টে মাত্র ৬৫৯ ডলারে রিসেল প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:১০ পূর্বাহ্ণ
মেসিদের মুখোমুখি হওয়ার আগে বড় ধাক্কা স্পেনের, অনুশীলন বাতিল

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের মহারণে নামার ঠিক আগের দিন বড়সড় ধাক্কা খেলো স্পেন শিবির। নিউজার্সির বৈরী আবহাওয়ার কারণে শেষ মুহূর্তের চূড়ান্ত প্রস্তুতি আর ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করতে পারলো না লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা। প্রবল বৃষ্টি ও লাগাতার বজ্রপাতের কারণে শনিবারের (১৮ জুলাই) নির্ধারিত শেষ দিনের পুরো অনুশীলন সেশনটিই বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শনিবার নিউজার্সির হুইপ্যানিতে স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় (বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায়) স্পেনের অনুশীলনে নামার কথা ছিল। স্প্যানিশরা এই সেশনের জন্য বেছে নিয়েছিল নিউইয়র্ক রেড বুলসের সাবেক অনুশীলন কেন্দ্র এবং বর্তমানে এনডব্লিউএসএল ক্লাব গথাম এফসির ভবিষ্যৎ ট্রেনিং কমপ্লেক্সটি। কিন্তু সকাল থেকেই শুরু হয় তীব্র বজ্রঝড়। প্রথমে অনুশীলন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও পরিস্থিতির কোনও উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত পুরো সেশনই বাতিল ঘোষণা করা হয়। মাঠে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা সংবাদকর্মীদেরও নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে নির্ধারিত কর্মক্ষেত্রের ভবনের ভেতরে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রে বজ্রঝড় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও কঠোর, তা প্রকাশ পেয়েছে মাঠের এক কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যে। সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানান, অনুশীলন বা ম্যাচ ভেন্যুর ৮ মাইলের মধ্যে কোথাও বজ্রপাত শনাক্ত হলেই নিয়ম অনুযায়ী মাঠের সব ধরনের কার্যক্রম সঙ্গে সঙ্গে স্থগিত করা হয়। এরপর প্রতি ৩০ মিনিট পরপর পরিস্থিতি গভীরভাবে মূল্যায়ন বা পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বজ্রপাতের এই ঝুঁকি যখন পুরোপুরি কেটে যায়, তখনই কেবল নিরাপত্তা বিভাগ থেকে ‘অল ক্লিয়ার’ সংকেত দেওয়া হয়। এই সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই খেলোয়াড়রা মাঠে প্রবেশের অনুমতি পান। তবে শনিবার সকালে হুইপ্যানির পরিস্থিতি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল যে স্পেনকে মাঠে নামার অনুমতি দেওয়াই সম্ভব হয়নি।

চলতি বিশ্বকাপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ভেন্যুগুলোতে একই বজ্রঝড়-সংক্রান্ত কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। এর আগে এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে চলমান টুর্নামেন্টের একাধিক ম্যাচের সময়সূচিতে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছিল। কোনও কোনও ম্যাচ দীর্ঘ সময় স্থগিতও রাখতে হয়েছিল।

বাংলাদেশ সময় রবিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাত ১টায় (স্থানীয় সময় সন্ধ্যা) নিউজার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বসেরার মুকুটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে স্পেন ও আর্জেন্টিনা। যেখানে আর্জেন্টিনা দল তাদের প্রস্তুতি ঠিকঠাক সারতে পেরেছে, সেখানে অনুশীলনের এই ঘাটতি স্পেনের জন্য কতটা ভোগান্তি বাড়াবে তা বলা মুশকিল। তবে ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় শঙ্কা— নিউজার্সির এই বৈরী আবহাওয়া ফাইনালকেও কোনও বিঘ্নের মুখে ফেলে কি না!

বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ
বিলাসবহুল ট্রাঙ্কে চড়ে ফাইনালের মঞ্চে পৌঁছাবে বিশ্বকাপ ট্রফি

বিশ্বকাপ ট্রফি শুধু ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারই নয়, এটি মর্যাদা ও ঐতিহ্যেরও প্রতীক। সেই ট্রফিকে ফাইনালের মঞ্চে নিয়ে যেতে এবারও বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে ফরাসি বিলাসবহুল ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান লুই ভিতোঁ। ২০১০ সাল থেকে টানা পঞ্চম বিশ্বকাপে এই দায়িত্ব পালন করছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে বিশেষভাবে তৈরি লুই ভিতোঁর এই ট্রাঙ্কে করেই মাঠে আনা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

বিশেষ এই ট্রাঙ্কের সামনে রয়েছে সোনালি রঙের ইংরেজি অক্ষর ‘ভি’। যা একদিকে ভিক্টরি তথা জয় -এর প্রতীক, অন্যদিকে ভিতোঁর আলাদা পরিচয় বহন করছে। ট্রাঙ্কজুড়ে রয়েছে লুই ভিতোঁর পরিচিত নকশা এবং সোনালি আবরণযুক্ত পিতলের কর্নার প্রটেক্টর।

এটি টানা পঞ্চম বিশ্বকাপ যেখানে ট্রফির জন্য বিশেষ ট্রাঙ্ক তৈরি করেছে লুই ভিতোঁ। এর আগে ২০১০, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও একই দায়িত্ব পালন করেছিল ফরাসি এই বিলাসবহুল ব্র্যান্ড।