শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস: মানবতার সেবাই বিশ্বজনীন অনন্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস: মানবতার সেবাই বিশ্বজনীন অনন্য

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস। মানবতা, সহমর্মিতা, পরোপকার এবং সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার চেতনাকে জাগ্রত করাই এ দিবসের মূল লক্ষ্য। জাতিসংঘের উদ্যোগে পালিত এই দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, একটি ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ এবং টেকসই বিশ্ব গঠনে দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্ব অপরিসীম।

‘দাতব্য’ বলতে কোনো প্রতিদান বা ব্যক্তিগত স্বার্থের প্রত্যাশা ছাড়াই অন্যের কল্যাণে অর্থ, সম্পদ, সময়, শ্রম কিংবা সেবা প্রদানকে বোঝায়। এটি কেবল অর্থ দানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের কষ্ট লাঘব, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার এক মহান প্রচেষ্টা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ, মহামারি কিংবা দারিদ্র্যের মতো সংকটময় পরিস্থিতিতে দাতব্য কার্যক্রম মানুষের জীবন রক্ষা ও পুনর্গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবসের সূচনা হয় হাঙ্গেরি সরকারের উদ্যোগে। ২০১১ সালে দেশটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এ দিবস পালনের প্রস্তাব উত্থাপন করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালের ১৭ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ প্রস্তাব এ/আরইএস/৬৭/১০৫ গ্রহণের মাধ্যমে প্রতি বছর ৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৩ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপিত হয়ে আসছে।

৫ সেপ্টেম্বর তারিখটি নির্বাচনের পেছনে রয়েছে এক গভীর মানবিক ইতিহাস। এদিন ১৯৯৭ সালে মৃত্যুবরণ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব মাদার তেরেসা। কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত তাঁর ‘মিশনারিজ অব চ্যারিটি’ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে অনাথ, অসুস্থ, কুষ্ঠরোগী, অন্ধ এবং মৃত্যুপথযাত্রী মানুষের সেবায় নিবেদিত ছিল। মানবকল্যাণে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ১৯৭৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার লাভ করেন এবং পুরস্কারের সমগ্র অর্থ দরিদ্র মানুষের কল্যাণে দান করেন। তাঁর আত্মত্যাগ, ভালোবাসা ও মানবসেবার স্মৃতিকে সম্মান জানাতেই ৫ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

বর্তমান বিশ্বে দাতব্য কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য হলো দারিদ্র্য ও ক্ষুধা দূর করা, সামাজিক বৈষম্য কমানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে এই মানবিক সেবা বিভিন্ন উপায়ে পরিচালিত হয়-যেমন আর্থিক অনুদান দেওয়া, খাদ্য, পোশাক, ওষুধ ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা কিংবা স্বেচ্ছাসেবার মাধ্যমে সময় ও শ্রম উৎসর্গ করা। কেবল সাময়িক সহায়তাই নয়, বরং স্থায়ী স্কুল, হাসপাতাল, এতিমখানা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এসব টেকসই দাতব্য উদ্যোগ এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জাতিসংঘের ২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

বিশ্বের প্রায় সব ধর্মই দাতব্য কাজকে উৎসাহিত করেছে। ইসলামে যাকাত একটি ফরজ ইবাদত এবং সদকা একটি মহৎ মানবিক কর্ম। হিন্দুধর্মে দান ও পরোপকারকে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। খ্রিস্টধর্ম ও বৌদ্ধধর্মেও দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবাকে আধ্যাত্মিক উন্নতির অন্যতম পথ হিসেবে দেখা হয়। ফলে দাতব্য কার্যক্রম শুধু সামাজিক নয়, নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্বব্যাপী বহু বৃহৎ দাতব্য প্রতিষ্ঠান মানবকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। ডেনমার্কভিত্তিক নোভো নরডিস্ক ফাউন্ডেশন, ভারতের টাটা ট্রাস্টস এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বিশ্বের বৃহত্তম দাতব্য তহবিলসমৃদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম। চিকিৎসা গবেষণা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব উন্নয়নে তাদের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন মানবিক কাজে, পার্টনার্স ইন হেলথ এবং ফন্ট বোরিস-এর মতো আন্তর্জাতিক চিকিৎসাসেবা দানকারী চ্যারিটি অন্যতম।

মাঠপর্যায়ে সরাসরি মানবিক সহায়তা, চিকিৎসা ও জরুরি ত্রাণ প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস, ওয়ার্ল্ড ভিশন ইন্টারন্যাশনাল এবং ইসলামিক রিলিফ ওয়ার্ল্ডওয়াইড বিশ্বজুড়ে সংকটপূর্ণ অঞ্চলে মানুষের জীবন রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের অধীনস্থ সংস্থাগুলোর মধ্যে আয়তন ও কার্যক্রমের দিক থেকে সবচেয়ে বড় মানবিক সংস্থা হলো ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম। এছাড়া ইউনিসেফ ও ইউএনএইচসিআর শিশু, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের সুরক্ষা ও কল্যাণে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। মানবসেবায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রেড ক্রস, ইউএনএইচসিআর, ইউনিসেফ, ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস ও ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছে।

দাতব্য কর্মকান্ডে রাষ্ট্র ও জাতির অবদানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মোট অর্থমূল্যের বিচারে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ও উদারতার সূচকে ইন্দোনেশিয়া দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থানে, এছাড়া রয়েছে ইউরোপভিত্তিক প্রতিষ্ঠান চ্যারিটিজ এইড ফাউন্ডেশন। এটি প্রমাণ করে যে দাতব্য শুধু অর্থের বিষয় নয়; বরং মানুষের হৃদয়ের উদারতা, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতিফলন।

বাংলাদেশেও দাতব্য ও মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রমের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রেখে চলেছে দেশের বৃহত্তম উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। ক্যারিতাস বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করছে। তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত জাগো ফাউন্ডেশন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। একইভাবে আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশন শিক্ষা, ত্রাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, জাগো ফাউন্ডেশন ও ফ্রেন্ডশিপসহ বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিষ্ঠাতারা সম্মাননা লাভ করেছেন।

কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সাহায্য ছাড়াই নিজের সময়, শ্রম, অর্থ বা সম্পদের মাধ্যমে নিঃস্বার্থভাবে অন্যের কল্যাণে কাজ করাই হলো ব্যক্তিগত দাতব্য সেবা বা পরোপকার। স্বেচ্ছাসেবা, সরাসরি আর্থিক বা বস্তুগত দান, বৃক্ষ রোপণ, আইনি সহায়তা, পরামর্শ, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা রক্তদানের মতো সামাজিক ও মানবিক নানা উপায়ে একজন ব্যক্তি একক উদ্যোগেই মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।

আজকের বিশ্বে যখন যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন, দারিদ্র্য, ক্ষুধা এবং মানবিক সংকট ক্রমাগত বাড়ছে, তখন দাতব্য কার্যক্রমের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। সরকার, আন্তর্জাতিক সংস্থা, করপোরেট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দাতব্য শুধু অর্থ প্রদান নয়; এটি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের বাস্তব প্রকাশ।

আন্তর্জাতিক দাতব্য দিবস আমাদের শেখায়-মানবতার সেবাই সর্বোচ্চ সেবা। প্রত্যেকে যদি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়ক হিসেবে অন্যের পাশে দাঁড়াই, তবে ক্ষুধামুক্ত, বৈষম্যহীন, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ একটি বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব। তাই আসুন, দানের পরিমাণ নয়, মানবতার প্রতি আমাদের অঙ্গীকারকে বড় করে দেখি এবং একটি সুন্দর মানবতার পৃথিবী নির্মাণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করি।

 

Ads small one

তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:০০ অপরাহ্ণ
তালায় জেলে ও কৃষকদের মুখোমুখি ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

তালা প্রতিনিধি: জলদস্যুদের হুমকি ও হামলা, খাসজমি বন্দোবস্ত, পানি সংকট এবং নদী-খালের নাব্যতাসহ নানা সমস্যার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের কাছে তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরার তালার জেলে, কৃষক, ভূমিহীন, আমচাষি ও মৎস্যচাষিরা।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার গোনালী নলতা, হরিচন্দ্রকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে আলাদা মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার’ (পিপিআরসি)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকার কথা শুনতেই এই আয়োজনে অংশ নেন। মতবিনিময়কালে জেলে ও মৎস্যজীবীরা নদী-জলাশয়ে মাছ ধরতে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতা এবং জলদস্যুদের অত্যাচার-হুমকির কথা তুলে ধরেন। কৃষক ও আমচাষিরা সেচ সংকটসহ কৃষিকাজের নানান প্রতিবন্ধকতা জানান। পাশাপাশি ভূমিহীন পরিবারগুলো খাসজমি বন্দোবস্ত পাওয়ার জটিলতা তুলে ধরে।

মতবিনিময় সভায় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, গণতন্ত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হলো জবাবদিহিতা। এটি কার্যকর করতে হলে মাঠপর্যায়ের মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথা শুনে তথ্যনির্ভর সুপারিশ তৈরি করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জেলে, ভূমিহীন, কৃষক, মৎস্যচাষি ও আমচাষিদের দুঃখ-কষ্টের কথা সরাসরি শুনলাম। এখানকার বড় সমস্যার একটি হলো জলদস্যুদের আক্রমণ ও হুমকি। খাসজমি বন্দোবস্ত নিয়েও জটিলতা রয়েছে। সরাসরি না এলে স্থানীয় মানুষের এই বাস্তব সমস্যাগুলো এত কাছ থেকে বোঝা সম্ভব হতো না।’

খলিলনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রণব ঘোষ বাবলুর পরিচালনায় মতবিনিময় সভায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ এম হাশেমী, পিপিআরসির জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী নমিরা শামীম, জেন্ডার বিশেষজ্ঞ মাহবুবা হক ও যোগাযোগ ব্যবস্থাপক জয়ন্ত কুমার পাল উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়, নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালা প্রেসক্লাবে অভ্যর্থনা: তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান সাতক্ষীরার তালায় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও প্রেসক্লাব পরিদর্শন করেছেন।

৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি তালা প্রেসক্লাবে যান। সেখানে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।

শুভেচ্ছা জানান তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি সেলিম হায়দার, সাধারণ সম্পাদক জোয়ার্দার ফারুক হোসেন, সহসভাপতি আসাদুজ্জামান রাজু, অর্থ সম্পাদক মোতাহিরুল শাহীন, প্রচার সম্পাদক সেকেন্দার আবু জাফর বাবু, নির্বাহী সদস্য প্রণব ঘোষ বাবলু, জয়দেব চক্রবর্তী, ইমরান হোসেন, এস এম নাহিদ হাসান, তাপস সরকার, কামাল হোসেন, সেলিম হোসেন, রফিকুল ইসলাম, খলিলুর রহমান, সুমন রায় গণেশ ও সাংবাদিক মীর মিল্টন।

 

এ সময় ড. হোসেন জিল্লুর রহমান তালা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে স্থানীয় নানা সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫৪ অপরাহ্ণ
দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সম্পাদক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সংবাদপত্র জগতের প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর সম্পাদক ও প্রকাশক জি এম নুরইসলামের স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেবহাটা প্রেসক্লাবের আয়োজনে শুক্রবার বিকেল চারটায় পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন দেবহাটা পাবলিক লাইব্রেরি হলরুমে এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
স্মরণসভায় দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বায়েজিদ বোস্তামী উজ্জ্বলের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন দৈনিক দৃষ্টিপাত-এর নির্বাহী সম্পাদক আবু তালেব মোল্ল্যা।

 

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অব. বারী, দেবহাটা উপজেলা জামায়াতের সম্পাদক মাওলানা এমদাদুল হক, পারুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম সানা, সাধারণ সম্পাদক হাসান সরাফী, অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আইনজীবী জাহাঙ্গীর কবির বাবু, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি চন্দ্রকান্ত মল্লিক, অধ্যাপক রাজু আহমেদ, অধ্যাপক আবদুল্লাহ সিদ্দিকী, দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি চিকিৎসা কর্মকর্তা অহিদুজ্জামান, ফেয়ার মিশনের পরিচালক কাদের মহিউদ্দিন ও সাংবাদিক উত্তম কুমার।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা রিপোর্টার্স ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিটন ঘোষ বাপ্পী, কোষাধ্যক্ষ এস কে অভি, সহসভাপতি সুমন পারভেজ, সাংগঠনিক সম্পাদক কবির হোসেন, উপজেলা তাঁতী দলের আহ্বায়ক হিরন কুমার মন্ডল, সদস্যসচিব আবীর হোসেন লিয়ন, বিএনপি নেতা গোলাম রসুল খোকনসহ অনেকে।

গত ২৭ আগস্ট দুপুর ১টার পর ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন প্রবীণ সাংবাদিক জি এম নুরইসলাম।

নব্বইয়ের দশকে খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার মাধ্যমে তাঁর সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়। পরে ২০০১ সালে তিনি দৈনিক দৃষ্টিপাত প্রকাশ করেন এবং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পত্রিকাটির সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করেন।

স্মরণসভায় বক্তারা বলেন, জি এম নুরইসলাম একজন সৎ, আলাপচারী ও ভালো মনের মানুষ ছিলেন। তিনি কখনো প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে তাঁর পত্রিকায় কারও বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেননি। অনুষ্ঠান শেষে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫১ অপরাহ্ণ
সরকারি সম্পদ দখলদারের-নাকি জনগণের ?

মুক্তমত

এম. এম হায়দার আলী

সরকারি সম্পদ কার? এই প্রশ্নের উত্তর দিতে কোনো অভিধান ঘাঁটতে হয় না। সরকারি জমি, পুকুর কিংবা স্থাপনা, সবই জনগণের। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ। অথচ সেই জনগণের সম্পদ যখন বছরের পর বছর কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা প্রভাবশালী মহলের দখলে পড়ে থাকে, তখন প্রশ্ন শুধু দখলদারের বিরুদ্ধে ওঠে না, প্রশ্ন ওঠে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিয়েও।

 

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনিতে সম্প্রতি যা ঘটছে, তা তাই নিছক একটি পুকুর বা কয়েক শতক জমি উদ্ধারের ঘটনা নয়। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে দীর্ঘদিনের একটি বাস্তবতা এবং একটি কঠিন প্রশ্ন। যে সম্পদ এতদিন বেদখলে ছিল, তা উদ্ধারের জন্য এতদিন কী করা হয়েছিল? থানার পাশে জেলা পরিষদের প্রায় ৫৫ শতক পুকুর ও জমি দীর্ঘদিন দখলে থাকার পর এখন তা দখলমুক্ত করে জেলা পরিষদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের উপস্থিতিতে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের দৃশ্য সাধারণ মানুষের চোখে তাই আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। কারণ, সরকারি সম্পদ বেদখল হওয়া নতুন কোনো গল্প নয়। গল্পটা বরং পুরোনো, দখল হয়, মানুষ দেখে, কর্তৃপক্ষ জানে, আলোচনা হয়; তারপর সময় চলে যায়।

 

অনেক সময় দখলদারিত্ব এতটাই পুরোনো হয়ে যায় যে মানুষ সেটিকে অস্বাভাবিক বলেই মনে করতে ভুলে যায়। সেখানেই বর্তমান উদ্যোগের গুরুত্ব। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের এই কর্মতৎপরতাকে স্থানীয় সাধারণ মানুষের অনেকে ইতিবাচক ভাবে দেখছেন। তাদের মুখে প্রশংসা, আলোচনায় বাহবা। কারণ দীর্ঘদিন পর তারা দেখছেন, সরকারি সম্পদকে আবার সরকারি সম্পদ হিসেবে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। আর যেখানে জনগণ বাহবা দিচ্ছে, সেখানে দখলদারদের অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক।

 

স্থানীয় ভাবে আলোচনা রয়েছে, দখলমুক্তির উদ্যোগ শুরু হওয়ার পর দীর্ঘদিনের অবৈধ দখলকারীদের অনেকেই নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। এটি যদি সত্য হয়, তাহলে আরও বড় প্রশ্ন সামনে আসে, কারা এতদিন সরকারি সম্পদ দখলে রেখেছিল? কীভাবে রেখেছিল? কার ছত্রচ্ছায়ায় রেখেছিল? যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য প্রয়োজন সরকারি নথি, ভূমি রেকর্ড, দখলের ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ববর্তী কার্যক্রম খতিয়ে দেখা। তাহলেই বেরিয়ে আসতে পারে আসল চিত্র। প্রশ্ন হলো,একটি সরকারি সম্পত্তি বছরের পর বছর বেদখলে থাকার পরও যদি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না হয়, তাহলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই কি দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? না। দখলদার যেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হবে, তেমনি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে সেই ব্যবস্থাকেও, যে ব্যবস্থা জনগণের সম্পদ পাহারা দেওয়ার দায়িত্ব পেয়েছিল। এ কারণেই হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ের চোখে দেখলে ভুল হবে।

 

সরকারি সম্পদ উদ্ধার কোনো দলের সম্পদ নয়, কোনো নেতার ব্যক্তিগত কৃতিত্বের বিষয়ও নয়। এটি রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তবে দীর্ঘদিনের নীরবতার মধ্যে কেউ যদি সেই নীরবতা ভেঙে উদ্যোগ নেন, তাহলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোও নাগরিক সমাজের দায়িত্ব। তিনি ইতোমধ্যে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি অবকাঠামো, জমি ও বিভিন্ন স্থাপনা দখলে থাকলে সেগুলো দখলমুক্ত করে সরকারের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাতক্ষীরার সার্বিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন।

এখন জনগণ দেখতে চায়, কথা কতটা কাজে রূপ নেয়। শ্যামনগর-আশাশুনির ৫৫ শতক দিয়ে কি অভিযান থেমে যাবে, নাকি সাতক্ষীরার অন্য প্রান্তে বেদখলে থাকা সরকারি সম্পত্তির দিকেও নজর যাবে? কারণ একটি ৫৫ শতকের পুকুর উদ্ধার যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো দখলমুক্তির সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা। সরকারি সম্পদ উদ্ধারের পর সেটি আবার যেন কারও ব্যক্তিগত কবজায় চলে না যায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। সীমানা নির্ধারণ করতে হবে, রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে, প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড দিতে হবে, নিয়মিত নজরদারি করতে হবে। নইলে আজ উদ্ধার, কাল আবার দখল, এই পুরোনো নাটকই চলতে থাকবে।

 

সাতক্ষীরার মানুষ উন্নয়ন চায়। তারা সরকারি সম্পদের অপচয় চায় না। তারা চায় না, জনগণের সম্পদ কারও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহৃত হোক। তারা চায় প্রশাসন জাগুক, জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নিক, আর সরকারি সম্পদ ফিরে আসুক জনগণের কাজে। আজ তাই প্রশ্নটি আরও জোরে উচ্চারিত হওয়া দরকার, সরকারি জমি দখল করে রাখার সাহস দখলদারকে কে দেয়? বছরের পর বছর বেদখল থাকার পরও সংশ্লিষ্টরা নীরব থাকেন কেন? দখলমুক্তির উদ্যোগ নিলে যারা নড়েচড়ে বসে, তাদের ভয়টা কোথায়? আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের সম্পদ রক্ষার দায়িত্ব কি কেবল কোনো একজনের উদ্যোগের ওপর নির্ভর করবে, নাকি এটি হবে রাষ্ট্রের নিয়মিত দায়িত্ব?

সময় এসেছে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার।

হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বর্তমান উদ্যোগ যদি সত্যিই ধারাবাহিক হয়, যদি সাতক্ষীরার প্রতিটি বেদখল সরকারি সম্পত্তির দিকে নজর পড়ে, যদি উদ্ধার হওয়া সম্পদ আবার দখলের হাত থেকে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে এটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিতে পারে। কারণ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নয়, কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়। এটি জনগণের সম্পদ।

আর জনগণের সম্পদ রক্ষার প্রশ্নে আপোসের কোনো জায়গা নেই। দখলদার যতই শক্তিশালী হোক, সরকারি সম্পদের ওপর তার অধিকার নেই। আর দায়িত্বশীলরা যতদিন নীরব থাকবেন, ততদিন দখলদারিত্বের শেকড় ততই গভীরে যাবে। তাই এখন সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। দখলমুক্ত হোক সরকারি সকল সম্পদ,ফিরে আসুক জনগণের অধিকার আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট