শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে
অস্তাচলে রেখে যায় শেষ স্বাক্ষর
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।

শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা
টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়—
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।

সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,
অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়ে—
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।

ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,
হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো–ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।

তুমিও তবে হাত বাড়াও
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।
এসো, আমরা বন্ধু হই
এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,
এই অনন্ত মমতার।

 

 

 

Ads small one

আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ণ
আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস

আসছে চরকি অ্যাওয়ার্ডস। দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আয়োজনে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের সেরাদের পুরস্কৃত করার পাশাপাশি প্রয়াত অভিনেত্রী কারিনা কায়সারকে বিশেষ সম্মাননা জানাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি। আগামী ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে ‘সেনসেশন চরকি কার্নিভাল পাওয়ার্ড বাই ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’।

বাংলা কনটেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে পাঁচ বছর পূর্ণ করতে যাচ্ছে চরকি। এই সময়ে প্ল্যাটফর্মটির প্রিমিয়াম কনটেন্ট দেখা হয়েছে ১০০ কোটিরও বেশি ঘণ্টা। চরকির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন ৩ কোটির বেশি নিবন্ধিত গ্রাহক। দর্শকদের জন্য শতাধিক কনটেন্ট নিয়ে আসার এই যাত্রায় দেশের শিল্পী, কলাকুশলী ও নির্মাতাদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই আয়োজন করা হচ্ছে এই পুরস্কার অনুষ্ঠান।

সমালোচকদের মূল্যায়ন এবং সাবস্ক্রাইবারদের ভোটের ভিত্তিতে ২৩টি বিভাগে দেওয়া হবে পুরস্কার। ১৩ জুন থেকে শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। দর্শকরা chorki.com/awards-এ গিয়ে ২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে ভোট দিতে পারবেন।

২০২৪ সালের সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগে বেস্ট ফিল্ম ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে ‘কাছের মানুষ দূরে থুইয়া’, ‘তুফান’, ‘লাস্ট ডিফেন্ডারস অব মনোগামী’ এবং ‘৩৬–২৪–৩৬’। বেস্ট অ্যাক্টর (মেল), ফিল্ম বিভাগে মনোনীত হয়েছেন ইয়াশ রোহান, প্রীতম হাসান, শাকিব খান ও সৈয়দ জামান শাওন। বেস্ট অ্যাক্টর (ফিমেল), ফিল্ম বিভাগে রয়েছেন তাসনিয়া ফারিণ, মাসুমা রহমান নাবিলা এবং মেহজাবীন চৌধুরী।

এ ছাড়া বেস্ট সিরিজ বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ‘আধুনিক বাংলা হোটেল’, ‘কালপুরুষ’, ‘সিনপাট’ এবং ‘২ষ’। বেস্ট অ্যাক্টর (মেল), সিরিজ বিভাগে মনোনীত হয়েছেন এফ এস নাঈম, তাহসান খান, মোশাররফ করিম ও সিয়াম আহমেদ। বেস্ট অ্যাক্টর (ফিমেল), সিরিজ বিভাগে রয়েছেন কাজী নওশাবা আহমেদ, জয়া আহসান, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা ও সাফা কবির। অন্যদিকে বেস্ট সং বিভাগে মনোনয়ন পেয়েছে ‘কেমনে কি?’, ‘দুষ্টু কোকিল’, ‘মেঘ বালিকা’ এবং ‘লাগে উরা ধুরা’।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রেদওয়ান রনি বলেন, “চরকি অ্যাওয়ার্ডসে সাবস্ক্রাইবারস চয়েস ২০২৪ ক্যাটাগরিতে বেস্ট অ্যাক্টর (ফিমেল)-ফিল্ম বিভাগে ‘৩৬–২৪–৩৬’ চলচ্চিত্রের জন্য মনোনীত হয়েছিলেন প্রিয় কারিনা কায়সার। তাঁর অসাধারণ সব কাজ রয়ে গেলেও, তিনি আজ সকল প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে। প্রয়াত কারিনা কায়সারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁকে এই বিভাগে প্রতিযোগিতার বাইরে রাখা হয়েছে। তাঁর অসামান্য অবদানকে স্মরণ করে এবারের চরকি অ্যাওয়ার্ডসে আমরা তাঁকে বিশেষভাবে সম্মান জানাতে চাই।”

চরকি জানিয়েছে, শিগগিরই প্রকাশ করা হবে ২০২৪ সালের সমালোচক পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকা। এরপর প্রকাশ করা হবে ২০২৩ সালের সমালোচক ও সাবস্ক্রাইবারস চয়েস বিভাগের মনোনয়নও।

তবে এবারের ‘সেনসেশন চরকি কার্নিভাল’ শুধু একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে অভিনয়ের মাস্টারক্লাস এবং প্যানেল আলোচনা। পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরির বিভিন্ন উদ্যোগও থাকবে আয়োজনে।

রেদওয়ান রনি বলেন, “চরকি প্রতি মাসেই দর্শকদের জন্য নানা ধরনের কনটেন্ট নিয়ে আসে। ফিল্ম, সিরিজ, শর্ট কনটেন্ট থেকে শুরু করে প্রেক্ষাগৃহের সিনেমাও রয়েছে এই তালিকায়। এসব কনটেন্ট তৈরির পেছনে শত মানুষের সৃজনশীল পরিশ্রম রয়েছে। সেই মানুষগুলোকে সম্মান জানাতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।”

তিনি আরও জানান, দেশের পরিস্থিতি এবং কনটেন্ট নিয়ে বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে চরকি অ্যাওয়ার্ডের আয়োজন কিছুদিন বন্ধ ছিল। তবে আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

‘আমার পুরো দেশের জন্য এটি একটি বড় মুহূর্ত’, সিএনএনকে ডিজে সানজয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
‘আমার পুরো দেশের জন্য এটি একটি বড় মুহূর্ত’, সিএনএনকে ডিজে সানজয়

বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে পারফর্ম করার ঠিক আগে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই বলেছিলেন ডিজে সানজয়।

খ্যাতি ও যশের চূড়ায় উঠলেও নিজের শিকড় আর দেশকে যে কতটা দারুণভাবে ভালোবাসা যায়, বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে তারই এক অনন্য এবং কালজয়ী উদাহরণ সৃষ্টি করলেন এই তরুণ। পুরো বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের নজর যখন তার ওপর, তখন তিনি নিজের একক সাফল্যের চেয়ে স্বদেশের গৌরবকেই বড় করে দেখালেন।

শুধু একজন ডিজে হিসেবেই নন, সানজয় একজন বিশ্বমানের মিউজিক প্রডিউসার বা সংগীত প্রযোজক হিসেবে ইতোমধ্যে হলিউড থেকে শুরু করে বলিউডের সংগীতের ধারা বদলে দিচ্ছেন। দীর্ঘ সময় ধরে পর্দার আড়ালে থেকে নোরা ফাতেহির একের পর এক ব্লকবাস্টার হিট গানের পেছনের মূল কারিগর ছিলেন তিনি, আর এবার কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামের (বিএমও ফিল্ড) বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই কারিগর নিজেই এলেন একদম সামনে।

বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া সানজয় পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠেন এবং বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক একজন ইডিএম (ইলেকট্রনিক ডান্স মিউজিক) প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করছেন।

ইলেকট্রনিক ও ফিউশন ঘরানার সংগীতে তার কাজ ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বলিউড ছাড়িয়ে আরবান পাঞ্জাবি মিউজিক ঘরানায় দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তিনি। তার জাদুকরী প্রযোজনায় ইতোমধ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন অরিজিৎ সিং, গুরু রন্ধাওয়া, সুনিধি চৌহান, জনিতা গান্ধী, বেনি দয়াল এবং আমেরিকান আইডলের তারকা এলিয়ট ইয়ামিন,ট্রেভর হোমস ও অ্যাশ কিংসহ আরও অনেক বিশ্বখ্যাত শিল্পী। সমসাময়িক হিন্দি ও ফিউশন সংগীতের বিভিন্ন প্রজেক্টে যুক্ত থেকে বলিউডের সংগীত অঙ্গনেও নিজের এক মজবুত অবস্থান তৈরি করেছেন এই দূরদর্শি প্রযোজক।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফর্ম করতে যাওয়ার আগেই সানজয় প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তিনি তার চিন্তা-চেতনা আর মননে বাংলাদেশকে কী প্রবলভাবে ধারণ করেন। স্টেডিয়াম কাঁপাতে নামার আগে নিজের আউটফিট বা পোশাকের মাধ্যমেই তিনি বিশ্ববাসীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে।

তার জন্য বিশেষভাবে তৈরি কাস্টম-মেড জ্যাকেটটির কলার, হাতা এবং পিঠের অংশে সগৌরবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, গর্জনরত রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের প্রতীক এবং এদেশের লোকজ ঐতিহ্যের অনন্য অনুষঙ্গ ‘রিকশা পেইন্টের’ নিখুঁত রঙিন মোটিফ।

কোনো চাপিয়ে দেওয়া প্রচার নয়, বরং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বৈশ্বিক প্রবাসীদের প্রতিনিধি হয়ে নিজের শেকড়কে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া মঞ্চে তুলে ধরার এই দুর্দান্ত প্রয়াসটি হৃদয় কেড়েছে প্রতিটি বাঙালির।

বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং ‘সির সির’ গানটিতে সানজয়ের এই পারফরম্যান্স এবং এর কালচারাল ইমপ্যাক্টের ভূয়সী প্রশংসা করেছে বিবিসি নিউজ, সিএনএন এবং দ্য ন্যাশনালের মতো বিশ্বের প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলো। বিবিসি নিউজ তাদের বিশেষ ফিচারে পশ্চিমা ইলেকট্রনিক বিটের সাথে দক্ষিণ এশীয় ছোঁয়ার এই মেলবন্ধনকে সাধুবাদ জানিয়েছে।

আর মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া সেই এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সানজয় বলেন, “আমি যেখান থেকে এসেছি, সেখানে সাধারণত এরকম মুহূর্ত খুব একটা পাওয়া যায় না। তাই এটি শুধু আমার নিজের জন্য কোনো মুহূর্ত নয়, এটি আসলে আমার পুরো দেশের জন্য একটি বড় মুহূর্ত। আর হ্যাঁ, আমি আমার দেশের মানুষ ও আমার বাবা-মায়ের জন্য অত্যন্ত গর্বিত। এবং হ্যাঁ, আমার সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে।”

এই আনন্দের মাঝে বাংলাদেশের জন্য আরও একটি গর্বের বিষয় হলো, বিশ্ব মাতানো এই গানটির কো-প্রডিউসার এবং লিরিকেও জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের নাম। সানজয়ের সাথে এই গানের সহ-প্রযোজনা এবং লিরিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশের আরেক কৃতি সন্তান রাসেল আলি। আন্তর্জাতিক এই প্রজেক্টে তাদের দুজনের এই মেলবন্ধন বাংলা সংস্কৃতির বৈশ্বিক যাত্রায় এক নতুন পালক যুক্ত করল।

এবারের ফিফা ওয়ার্ল্ডকাপের অফিশিয়াল গানগুলো যখন বিশ্বজুড়ে তেমন একটা আলোড়ন তুলতে পারছিল না, ঠিক তখনই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এক মহাকাব্যিক ঝড় তোলে সানজয়-নোরার এই গানটি। রিলিজ হওয়ার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউটিউবে ২০ মিলিয়নেরও (২ কোটি) বেশি ভিউ পার করে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় রেকর্ড গড়ে এটি। এর মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় পপ কুইন শাকিরার প্রথম দিনের ভিউয়ের রেকর্ড সম্পূর্ণ ভেঙে দেন।

এবারের আসরে শাকিরার অফিশিয়াল গান ‘দাই দাই’ প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যেখানে ৮.২ মিলিয়ন ভিউ পেয়েছিল, সেখানে সানজয়-নোরার গানটি তার দ্বিগুণেরও বেশি ভিউ পেয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে দেখা ফিফা অ্যান্থেম-এর মর্যাদা লাভ করে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, গানটির অফিশিয়াল মিউজিক ভিডিওর ভিউ ইতিমধ্যেই ইউটিউবে ৪১ মিলিয়নের ঘর ছুঁয়ে অবিরাম ছুটে চলেছে।

প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী ও প্রযোজক হিসেবে ফিফার অফিশিয়াল ট্র্যাকে সরাসরি নাম লেখানো এবং উদ্বোধনী মঞ্চে দাঁড়িয়ে পুরো বিশ্বকে নাচানোর এই মহাকাব্যিক রেকর্ড দক্ষিণ এশীয় সংগীতের ইতিহাসে চিরকাল একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।

আর ভবিষ্যত? দেশের মানুষের উদ্দেশ্যে সানজয় তো বলছেন, এটা মাত্র শুরু…

সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: উপকূলে মিঠাপানির সংকট

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ প্রসঙ্গ: উপকূলে মিঠাপানির সংকট

সাতক্ষীরাসহ সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলে মিঠাপানির সংকট এখন আর কেবল একটি সাধারণ সমস্যা নয়, এটি রূপ নিয়েছে এক মানবিক ও অস্তিত্বের সংকটে। জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব, তীব্র জলোচ্ছ্বাস, নদী-খাল ভরাট এবং আশঙ্কাজনকভাবে ভূগর্ভস্থ ও ভূ-উপরিস্থ পানিতে লবণাক্ততার আগ্রাসন উপকূলের মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও জীবিকাকে চরম বিপন্ন করে তুলেছে। এই বাস্তবতায় সম্প্রতি সাতক্ষীরায় ‘মিঠা পানির যোগান নিশ্চিতকরণ ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অংশীজনের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালাটি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা।

উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট আজ কতটা তীব্র, তা সেখানে না গেলে অনুধাবন করা কঠিন। মাইলের পর মাইল হেঁটে কলসি কাঁখে নারীদের একটু খাওয়ার পানির জন্য সংগ্রাম করা কিংবা লবণাক্ত পানি পানের ফলে নারীদের জরায়ুর রোগসহ নানা চর্মরোগে আক্রান্ত হওয়া নিত্যদিনের চিত্র। অন্যদিকে, মিঠাপানির অভাবে ব্যাহত হচ্ছে কৃষি ও গবাদিপশু পালন। অর্থাৎ, পানির এই সংকট উপকূলের সামগ্রিক অর্থনীতি ও জনমিতিকেই বদলে দিচ্ছে।

সাতক্ষীরার কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কণ্ঠ থেকে যে উদ্বেগ ও সুপারিশগুলো উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক। প্রধান অতিথি সাতক্ষীরা পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা যথাযথই বলেছেন যে, মিঠাপানি কেবল প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি মানুষের বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। আর এই অধিকার রক্ষায় কেবল সরকারি আশ্বাসের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না; প্রয়োজন স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা এবং একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা।

 

খননের অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়া স্থানীয় খাল ও ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো দ্রুত পুনঃখনন করে মিঠাপানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা সবচেয়ে কার্যকর সমাধানগুলোর একটি। পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্রযুক্তি ও সহায়তা বাড়াতে হবে। নদী, খাল ও সরকারি জলাশয় দখল করে যারা পরিবেশের ক্ষতি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বেলা’ এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। কর্মশালা থেকে উঠে আসা সুপারিশমালাকে কেবল কাগজের দলিলে বন্দি না রেখে, দ্রুত সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া এবং তা বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।

উপকূলের মানুষের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে হলে পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার ও সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সংস্থাসমূহ সাতক্ষীরার এই কর্মশালার সুপারিশগুলোকে আমলে নিয়ে উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির স্থায়ী সমাধান ও ‘সবুজ দিন’ বিনির্মাণে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। উপকূলের মানুষকে বাঁচাতে মিঠাপানির অধিকার নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই।