শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রক্তের সেতুবন্ধন: মানবিকতার অমর স্পন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ১১:৩৯ অপরাহ্ণ
রক্তের সেতুবন্ধন: মানবিকতার অমর স্পন্দন

সাকিবুর রহমান বাবলা

১৪ জুন—বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। আন্তর্জাতিক ক্যালেন্ডারের পাতায় এটি কেবল একটি নির্দিষ্ট তারিখ নয়; বরং এটি আত্মত্যাগ ও মানবিকতার এক মহাসম্মিলন। রক্ত কেবল শরীরের সঞ্জীবনী সুধা নয়, এটি জীবনের মূলমন্ত্র। যখন একজন মানুষ নিভৃতে নিজের শরীরের উষ্ণ রক্ত অন্যের ধমনিতে প্রবাহিত করে দেন, তখন জন্ম নেয় এক অমোঘ ‘রক্তের বন্ধন’। এটি রক্তের উত্তরাধিকারের বাইরেও এক নতুন আত্মিক আত্মীয়তার সেতুবন্ধন, যেখানে দাতা ও গ্রহীতা একে অপরের নাম বা পরিচয় না জেনেও অসীম ভালোবাসার এক অদৃশ্য সুতোয় আবদ্ধ হয়ে যান।

মানবিকতা ও আধ্যাত্মিকতার সংযোগ: পৃথিবীর প্রতিটি ধর্ম ও দর্শন মানবসেবাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়েছে। পবিত্র কোরআনের কালজয়ী সেই অমোঘ বাণী—“যে ব্যক্তি একটি প্রাণ রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল”—স্বেচ্ছায় রক্তদানের মহিমাকেই প্রতিধ্বনিত করে। এই নিঃস্বার্থ দান যখন কোনো মানুষের প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হয়, তখন সমাজ অন্ধকার থেকে আলোর পথে এক ধাপ এগিয়ে যায়। রক্তদান প্রকৃত অর্থেই একটি ইবাদত।

রক্তের অমরত্ব: কৃতজ্ঞতার নিরন্তর ¯্রােত: বিজ্ঞান অনুযায়ী, আমাদের লোহিত রক্তকণিকার আয়ুষ্কাল সর্বোচ্চ ১২০ দিন। কিন্তু দাতার দেওয়া রক্তের মাধ্যমে গ্রহীতার শরীরে যে নতুন জীবনের স্পন্দন সঞ্চারিত হয়, তার রেশ থেকে যায় আজীবন। গ্রহীতার প্রতিটি হৃদস্পন্দনে দাতার নিঃস্বার্থ ত্যাগের এক অমর গাথা প্রতিধ্বনিত হতে থাকে। এটি কোনো লেনদেনের সম্পর্ক নয়; বরং ভৌগোলিক, সামাজিক ও বর্ণের দেয়াল ভেঙে দেওয়া এক অনন্য মমত্ববোধ। এই দান অশেষ, এই কৃতজ্ঞতা চিরন্তন।

নৈতিক অবক্ষয় বনাম মানবিক বিপ্লব: আজ অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করতে হয়, রক্তের পবিত্রতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক শ্রেণির অসাধু বাণিজ্য। যারা মুমূর্ষু রোগীর নিরুপায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে রক্ত কেনাবেচায় লিপ্ত, তারা প্রকারান্তরে মানবিকতাকে পণ্যে রূপান্তর করছে। এই ‘রক্তচোষা’ চক্র নৈতিকতার চরম অধঃপতনের পরিচায়ক।

তবে আশার আলো দেখাচ্ছে আমাদের তরুণ প্রজন্ম। স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা যুব সংগঠনগুলো আজ এক নীরব মানবিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছে। অন্ধকারের এই অশুভ চক্র ভাঙতে তাদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা কেবল জীবনই বাঁচায় না, বরং সমাজকে মানবিকতার নতুন পাঠও শেখায়।

শপথ হোক জীবন সাজানোর: রক্ত ঝরানো কিংবা রক্ত নিয়ে বাণিজ্যের কদর্যতাকে পেছনে ফেলে আমাদের নতুন করে শপথ নিতে হবে—রক্ত দিয়ে জীবন সাজানোর। একজন দাতার দান করা এক ব্যাগ রক্ত কোনো পরিবারের জন্য হয়ে উঠতে পারে স্বস্তির এক আধ্যাত্মিক নিঃশ্বাস।

আসুন, রক্তদানকে কেবল একটি প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে সামাজিক উৎসব ও অভ্যাসে পরিণত করি। রক্তদান হোক আমাদের মানবিক অহংকার। পৃথিবী বেঁচে থাকুক প্রতিটি দাতার উষ্ণ রক্তের স্পন্দনে।

 

Ads small one

মরিচ্চাপ নদীর ভাঙনে বিলীনের ঝুঁকিতে শ্রীকলস ফুটবল মাঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
মরিচ্চাপ নদীর ভাঙনে বিলীনের ঝুঁকিতে শ্রীকলস ফুটবল মাঠ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি সদরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীকলস ফুটবল মাঠটি (বালুর মাঠ) মরিচ্চাপ নদীর তীব্র ভাঙনের মুখে পড়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে মাঠটির বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শ্যামানন্দ কুন্ডু ভাঙনকবলিত মাঠ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শ্রীকলস গ্রামের একমাত্র খেলাধুলার স্থান এই মাঠটি। গত এক বছর ধরে নদীর স্রোতের আঘাতে মাঠের উত্তর অংশে ভাঙন চলছে। বাঁধ রক্ষার জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এক বছরে মাঠের প্রায় ৫০ ফুট জায়গা নদীগর্ভে ধসে গেছে। বর্তমানে প্রায় ৭০০ ফুট দৈর্ঘ্য এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই পাইলিং ও জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে বাঁধ রক্ষার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ভাঙনের তীব্রতা দেখে বিষয়টি নিয়ে তিনি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবেন। পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক স ম হেদায়েতুল ইসলাম, সাবেক সদস্য সচিব মশিউল হুদা তুহিন, মাঠ কমিটির সভাপতি গাউসুল আজম, সহসভাপতি মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিক, ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম রেজা, ইউপি সদস্য শাহীনুর ইসলাম প্রমুখ।

আশাশুনিতে শিক্ষকদের সঙ্গে যশোর বোর্ড চেয়ারম্যানের মতবিনিময়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শিক্ষকদের সঙ্গে যশোর বোর্ড চেয়ারম্যানের মতবিনিময়

আশাশুনি প্রতিনিধি: যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ফারুকে আজম মো. আব্দুস সালাম সাতক্ষীরার আশাশুনিতে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা করেছেন। শনিবার (১৩ জুন) বিকেল চারটায় আশাশুনি দারুস সাখাওয়াত ইসলামিয়া মাদ্রাসায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সুষ্ঠু, নকলমুক্ত, ভীতিহীন পরিবেশে এবং নিয়মানুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা গ্রহণসহ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন আশাশুনি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নজরুল ইসলাম, মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আবদুর রব, এপিএস কলেজের অধ্যক্ষ মুজিবুর রহমান, দরগাহপুর কলেজের অধ্যক্ষ গৌর চন্দ্র মন্ডল, বড়দল কলেজের অধ্যক্ষ বাবলুর রহমান, বুধহাটা কলেজের অধ্যক্ষ মোহিত কুমার, গদাইপুর আবদুল লতিফ কলেজের অধ্যক্ষ, বদরতলা আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ, প্রভাষক জাকির হোসেন ভুট্ট, প্রভাষক রবিউল ইসলাম এবং আশাশুনি গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও বক্তব্য শোনেন। তিনি কঠোরভাবে আইন মেনে কলেজ পরিচালনা এবং পরীক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দেন। এর আগে তিনি তাঁর গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন।

ধূলিহরে হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
ধূলিহরে হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর কাছারী পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স’-এর শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার যোহরের নামাজের পর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।
কমপ্লেক্সের জমিদাতা সদস্য গোলাম হোসেন হেলি এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্সের সভাপতি ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর।
উপস্থিত ছিলেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আশরাফুজ্জামান খোকন, সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, মাস্টার আবুল হাসান এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সাংবাদিক মাওলানা আব্দুল করিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মান প্রবাসী ও সমাজসেবক জুলফিকার হায়দার। উদ্বোধনকালে কমপ্লেক্সের অধীনস্থ ‘মফিজ উদ্দীন বিশ্বাস ক্যাডেট মাদ্রাসা’র নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী হাবিবী।