আমে ভরেছে সাতক্ষীরার বাজার: বাগানে হাসি, দামে ব্যবধান
জি এম আমিনুল হক: সাতক্ষীরার আম্রকাননগুলো যেন ডালভাঙা ফলের ভারে নুয়ে পড়ার উপক্রম। জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত সূচি মেনে গাছ থেকে আম নামানোর বৃহস্পতিবার ছিল চতুর্থ দিন। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুর বড় বাজার থেকে শুরু করে মফস্বলের ইটাগাছা বা ব্রহ্মরাজপুরÑসবখানেই এখন কেবল আমের জয়গান। আমের এই বিপুল সমারোহে একদিকে যেমন বাম্পার ফলনের আনন্দ, অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের বিস্তর ফারাক নিয়ে রয়েছে দীর্ঘশ্বাস।
বাজারে এখন গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ আর গোলাপখাসÑএই তিন জাতের আমের রাজত্ব। সঙ্গে আছে বাহারি সব স্থানীয় জাত। ঝুড়িভর্তি রঙিন আম সাতক্ষীরা থেকে ট্রাক ও কুরিয়ার সার্ভিসে চড়ে ছুটে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের নানা প্রান্তে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনের মুখেও তৃপ্তির হাসি। তিনি বলেন, ‘এবার আমের ফলন হয়েছে প্রত্যাশার চেয়েও ভালো। ৫ মে থেকে গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগ নামানো শুরু হয়েছে। তবে আমের আসল উৎসব শুরু হবে ১৫ মে, যখন বাজারে আসবে সাতক্ষীরার পৃথিবীবিখ্যাত হিমসাগর।’
ফলনের প্রাচুর্যে বাজারের থলে দ্রুত ভরলেও হিসাবের খাতায় গরমিল দেখছেন অনেকে। সুলতানপুর বাজারের পাইকারি আড়তগুলোতে গোবিন্দভোগ আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। অথচ সেই আমই শহরের খুচরা বাজারে সাধারণ ভোক্তাকে কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়।
এদিকে অনলাইন বাজারে চিত্রটা আরও চড়া। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনলাইন উদ্যোক্তারা কুরিয়ার ও প্যাকিং খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আম বিক্রি করছেন ১২৫ টাকায়। সেই হিসাবে অনলাইনে প্রতি মণ আমের দাম দাঁড়াচ্ছে ৫ হাজার টাকা। সরবরাহ আরও বাড়লে পাইকারি দাম আরও পড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় কপালে ভাঁজ পড়েছে প্রান্তিক চাষিদের। লোকসানের ঘ্রাণ পাচ্ছেন অনেক বাগান মালিক।
সাতক্ষীরার আমের যে সুনাম বিশ্বজুড়ে, তাতে যেন কোনো আঁচ না লাগে, সে বিষয়ে সতর্ক জেলা প্রশাসন। এবার এই জেলায় ৭০ হাজার মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যাতে আমে ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশাতে না পারে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। বিষমুক্ত ও নিরাপদ আম ভোক্তার পাতে পৌঁছে দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর।
বিকেলের দিকে সুলতানপুর বাজারে দেখা গেল আমের ঝুড়ি সাজাতে ব্যস্ত এক ব্যবসায়ীকে। তিনি হাসিমুখে বললেন, ‘আমের এবার যেমন রূপ, তেমন গুণ। দামটা যদি চাষি আর ভোক্তাÑউভয় পক্ষের নাগালে থাকত, তবেই সার্থক হতো এই মধুমাসের অপেক্ষা।’









