সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

আশাশুনিতে এনজিও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে এনজিও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে এনজিও সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১২টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডুর সভাপতিত্বে সভায় সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার আব্দুল সালাম, এনজিও সমন্বয়কারী আসাদুল ইসলাম আজাদ সহ সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধি অংশ নেন।

 

সভায় বেশি বেশি সুপেয় পানি নিয়ে কাজ করা, জলাবদ্ধতা দূরীকরনে খাল খননের কাজ করা, উপকারভোগী বাছাই করণে দ্বৈততা পরিহার করা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট সরকারি ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করা এবং এনজিওগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয় করে কাজ করার জন্য সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Ads small one

তালায় কোরেক্সসহ দুই ব্যক্তি আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
তালায় কোরেক্সসহ দুই ব্যক্তি আটক

খলিষখালি (পাটকেলঘাটা) প্রতিনিধি: তালার খলিশখালী থেকে চার বোতল কোরেক্সসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২২ জুন) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খলিশখালী পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই জিহাদ হোসেনের নেতৃত্বে কাশিয়াডাঙ্গা বাজারে অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—সরুলিয়া ইউনিয়নের লালচন্দ্রপুর গ্রামের আজগার শেখের ছেলে ভ্যানচালক জাহাঙ্গীর হোসেন এবং কুমিরা গ্রামের মৃত মনি শেখের ছেলে শাহিন শেখ।
খলিশখালী পুলিশ ক্যাম্পের এএসআই জিহাদ হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মাদকের বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না এবং খলিশখালী ইউনিয়নকে মাদক মুক্ত করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস: গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস: গণতান্ত্রিক নেতৃত্ব ও ডিজিটাল বাংলাদেশ

সাকিবুর রহমান বাবলা
২৩ জুন ‘আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস’—বিশ্বব্যাপী জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার একটি অনন্য উপলক্ষ। ২০০২ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিবসটি ঘোষণার মাধ্যমে জনসেবার মর্যাদা বৃদ্ধি, দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করে। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে জনসেবা নিশ্চিত করা। আর এই সেবা হতে হবে দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং ন্যায়বিচারভিত্তিক, যেখানে নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে অবারিত।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জনবহুল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। স্বাধীনতার পর থেকে শিক্ষা, কৃষি, বানিজ্য, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি খাতে দেশ বেশ সাফল্য অর্জন করলেও দারিদ্র্য, বেকারত্ব, দুর্নীতি, সামাজিক বৈষম্য, মাদক, অভিবাসন এবং পরিবর্তিত জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলা আমাদের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। আমাদের ধর্মীয় সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সাথে সততা, মানবিকতা ও জনকল্যাণের আদর্শ গভীরভাবে মিশে আছে। তাই জনসেবাকে কেবল প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে নয়, বরং একটি পবিত্র নৈতিক ও মানবিক অঙ্গীকার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জাতীয় সংসদের সদস্য থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি—সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জনগণের সবচেয়ে নিকটতম সেবক। স্থানীয় উন্নয়ন, নাগরিক সেবা, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তাদের কার্যকর নেতৃত্ব অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক গণতন্ত্রের মানদ- অনুযায়ী, জনপ্রতিনিধিদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া এবং সরকারি সম্পদের ব্যবহারে পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখা একান্ত আবশ্যক।
বর্তমান যুগে জনসেবার গুণগত মান উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি হলো ‘ডিজিটাল রূপান্তর’। অনলাইন সেবা, ই-গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল অভিযোগ ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত তথ্যভা-ার, অনলাইন বাজেট প্রকাশ এবং নাগরিক অংশগ্রহণমূলক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম জনপ্রশাসনকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করে তুলছে। প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগ দুর্নীতি হ্রাস, সেবাপ্রাপ্তির সময় সাশ্রয় এবং দ্রুত প্রতিকারের মাধ্যমে জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি প্রান্তিক ও গ্রামীণ জনপদকে ডিজিটাল সেবার আওতায় আনতে পারলে একটি প্রকৃত অন্তর্ভুক্ত উন্নয়নমূলক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।
আন্তর্জাতিক জনসেবা দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি জনগণের কল্যাণে নিবেদিত সেবার মধ্যেই নিহিত। দেশের জনপ্রতিনিধিরা যদি নৈতিক নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারেন, তবেই একটি আধুনিক, মানবিক ও টেকসই রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। এভাবেই আমাদের উন্নয়নযাত্রা গতিশীল হবে এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম হবে।

উপকূলের মানুষের প্রশ্ন: আর কতবার ভাসতে হবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৪১ অপরাহ্ণ
উপকূলের মানুষের প্রশ্ন: আর কতবার ভাসতে হবে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
বর্ষা বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষকের মাঠে সবুজের সমারোহ, নদীর বুকে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য, প্রকৃতির নবজাগরণÑসবকিছুর সঙ্গে বর্ষার এক গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের লাখো মানুষের কাছে বর্ষা আনন্দের নয়, বরং এক অজানা আতঙ্কের নাম। আষাঢ়ের প্রথম মেঘ আকাশে জমলেই সাতক্ষীরার আশাশুনি ও শ্যামনগরের মানুষ উৎকণ্ঠায় দিন গুনতে শুরু করেন। তাদের চোখে ভেসে ওঠে ভাঙা বেড়িবাঁধ, লোনা পানিতে ডুবে যাওয়া জনপদ, ভেসে যাওয়া ফসলের মাঠ এবং আশ্রয়হীন মানুষের দীর্ঘশ্বাস।উপকূলবাসীর এই আতঙ্কের কারণও বাস্তব। চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের অন্তত ৪০টি পয়েন্টে ফাটল, ধস ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। আশাশুনির তেঁতুলিয়া সেতু সংলগ্ন মরিচ্চাপ নদীর তীর ভাঙন, প্রতাপনগরের কুড়িকাউনিয়া, হরিষখালী ও চাকলা এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ, আনুলিয়ার কাকবাসিয়া ও বিছট গ্রামের ভয়াবহ ভাঙন, অন্যদিকে শ্যামনগরের পদ্মপুকুর, গাবুরা, বুড়িগোয়ালিনী, আটুলিয়া ও মুন্সিগঞ্জের বাঁধের দুর্বলতাÑসব মিলিয়ে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।প্রকৃতপক্ষে, উপকূলের মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ শুধু একটি অবকাঠামো নয়; এটি তাদের জীবনরেখা। এই বাঁধই লোনা পানির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মন্দির-মসজিদ, বাজার ও জীবন-জীবিকাকে। একটি বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু মাটি সরে যায় না, ভেঙে পড়ে মানুষের স্বপ্নও।উপকূলের মানুষের দুর্ভোগের ইতিহাস নতুন নয়। ২০০৭ সালের সিডর, ২০০৯ সালের আইলা, ২০২০ সালের আম্পান এবং ২০২১ সালের ইয়াসের কথা এখনও মানুষের মনে জীবন্ত। বিশেষ করে আইলা সাতক্ষীরার ইতিহাসে এক ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে আছে। বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়েছিল। বহু এলাকায় মাসের পর মাস লোনা পানি আটকে ছিল। কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে, মিঠা পানির উৎস নষ্ট হয়ে যায়, শিক্ষা কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। আজও আশাশুনি ও শ্যামনগরের অনেক পরিবার আইলার ক্ষতি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। কেউ হারিয়েছেন বসতভিটা, কেউ হারিয়েছেন আবাদি জমি, কেউবা বাধ্য হয়েছেন পেশা পরিবর্তন করতে। জলবায়ু উদ্বাস্তু শব্দটি একসময় বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ ছিল, কিন্তু আজ তা উপকূলের বাস্তবতা। সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলে নদীভাঙন একটি বড় সংকট। কপোতাক্ষ, মরিচ্চাপ, খোলপেটুয়া, কালিন্দী, কদমতলী ও মালঞ্চ নদীর তীব্র স্রোত অনেক জায়গায় বাঁধের গোড়া দুর্বল করে দিচ্ছে। নদীভাঙন এখন শুধু জমি গ্রাস করছে না, পুরো জনপদকে অনিরাপদ করে তুলছে।আশাশুনির গোয়ালডাঙ্গা বাজার এলাকায় মরিচ্চাপ নদীর ভাঙন তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে বাজারের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। একইভাবে কুড়িকাউনিয়া, বিছট ও কাকবাসিয়ার মানুষও প্রতিদিন ভাঙনের সঙ্গে লড়াই করছেন।বিশ্বের মোট কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান এক শতাংশেরও কম। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রভাবের শিকার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। আর সেই প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে উপকূলীয় অঞ্চলে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অতিরিক্ত জলোচ্ছ্বাস, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং নদীর গতিপথ পরিবর্তনÑসবকিছু মিলে উপকূলকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তাহলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বহু এলাকা স্থায়ীভাবে লবণাক্ততার ঝুঁকিতে পড়বে। ফলে শুধু বাঁধ সংস্কার নয়, জলবায়ু অভিযোজনের বৃহত্তর পরিকল্পনাও জরুরি হয়ে উঠেছে।প্রতিবছর বর্ষার আগে কিংবা কোনো দুর্যোগের পরে বাঁধ সংস্কারের কাজ হয়। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে সেই সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। কয়েক মাস বা এক-দুই বছরের মধ্যেই আবার ভাঙন দেখা দেয়।অনেক সময় প্রকল্প গ্রহণ করা হয় জরুরি প্রয়োজনের ভিত্তিতে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন, বাঁধের কাঠামোগত উন্নয়ন কিংবা বৈজ্ঞানিক নকশা বাস্তবায়নে গতি দেখা যায় না। ফলে জনগণের করের টাকা ব্যয় হলেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায় না। উপকূলবাসীর অভিযোগ, ভাঙন যখন শুরু হয় তখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তখন তড়িঘড়ি করে কাজ শুরু হয়। এতে ব্যয় বাড়ে, কিন্তু কার্যকারিতা কমে। অনেকে মনে করেন, বেড়িবাঁধ ভাঙন কেবল স্থানীয় সমস্যা। বাস্তবে বিষয়টি জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। সাতক্ষীরা দেশের অন্যতম চিংড়ি উৎপাদন অঞ্চল। এখানকার হাজার হাজার হেক্টর ঘের এবং কৃষিজমি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। একটি বড় বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু কয়েকটি গ্রাম নয়, পুরো অঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।লোনা পানি প্রবেশ করলে ধান, শাকসবজি ও ফলের উৎপাদন কমে যায়। পুকুরের মাছ মারা যায়। যোগাযোগ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়। ফলে একটি ভাঙনের প্রভাব বহু বছর ধরে চলতে থাকে। বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, উপকূলীয় বাঁধকে শুধু মাটির বাঁধ হিসেবে দেখার সময় শেষ। বর্তমান বাস্তবতায় প্রয়োজন আধুনিক ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো।
এর জন্য প্রয়োজনÑবাঁধের উচ্চতা ও প্রস্থ বৃদ্ধি;নদীতীর সংরক্ষণে কংক্রিট ব্লক ও জিওটেক্সটাইল ব্যবহার; ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী স্লোপ প্রটেকশন; নিয়মিত ড্রোন ও প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ; স্থানীয়জনগণকে সম্পৃক্ত করে কমিউনিটি মনিটরিং; নদীশাসন ও ড্রেজিংয়ের সমন্বিত পরিকল্পনা;দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল গঠন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, বিশেষ করে নেদারল্যান্ডস, সমুদ্রের সঙ্গে যুদ্ধ করে আধুনিক বাঁধ ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজেদের নিরাপদ করেছে। বাংলাদেশও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও নিজস্ব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপকূল রক্ষায় নতুন মডেল তৈরি করতে পারে। উপকূলের মানুষ কোনো বিশেষ সুবিধা চান না। তারা চান নিরাপত্তা। তারা চান এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে বর্ষার মেঘ দেখলে ভয় নয়, স্বস্তি অনুভব করবেন। তারা চান তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ নদীগর্ভে হারিয়ে না যাক। আশাশুনির একজন কৃষকের ঘর, শ্যামনগরের একজন জেলের নৌকা কিংবা গাবুরার একজন শিক্ষার্থীর স্কুলÑসবকিছুই একটি নিরাপদ বাঁধের ওপর নির্ভরশীল। তাই বেড়িবাঁধের প্রশ্নটি কেবল প্রকৌশলগত নয়; এটি মানবিক, সামাজিক এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন।
প্রতি বছর দুর্যোগের পর ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করা, ত্রাণ বিতরণ করা কিংবা নতুন প্রতিশ্রুতি দেওয়ার চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি, বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আজ যদি ঝুঁকিপূর্ণ ৪০টি পয়েন্টে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তাহলে আগামী দিনের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা সম্ভব হবে। অন্যথায় আবারও কোনো এক ঝড় কিংবা জলোচ্ছ্বাসের পর আমরা উপকূলবাসীর কান্না দেখব, সহানুভূতি জানাব, কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। উপকূলের মানুষের প্রশ্ন তাই শুধু সাতক্ষীরার নয়, সমগ্র বাংলাদেশের প্রতি এক নীরব আবেদনÑ “আর কতবার ভাসতে হবে?” রাষ্ট্র, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আজ সেই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। কারণ টেকসই বেড়িবাঁধ কোনো উন্নয়ন প্রকল্পের নাম নয়; এটি উপকূলের মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার। লেখক: সংবাদকর্মী