সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

আশাশুনিতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, হুমকির মুখে রপ্তানি বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৩:০৯ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ, জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিতে, হুমকির মুখে রপ্তানি বাণিজ্য

আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মাছ আড়তে চিংড়িতে জেলি ও বিভিন্ন অপদ্রব্য পুশ করে ওজন বাড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সিরিঞ্জের মাধ্যমে চিংড়ির শরীরে জেলি, স্টার্চ ও রাসায়নিক পদার্থ প্রবেশ করিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

এতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন, অন্যদিকে জনবস্বাস্থ্য ও দেশের চিংড়ি রপ্তানি খাতও বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বুধহাটা, কাদাকাটি, দরগাপুর, মহিষকুড়, গোয়ালডাঙ্গা, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, মহিষাডাংগা ও আশাশুনি সদর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিংড়ি কেনাবেচা হয়।

 

এসব বাজারের কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চিংড়ির শরীরে সিরিঞ্জ দিয়ে জেলি জাতীয় পদার্থ প্রবেশ করিয়ে কৃত্রিমভাবে ওজন বাড়াচ্ছেন। বাইরে থেকে মাছ স্বাভাবিক মনে হলেও রান্না বা কাটার পর ভেতরে জেলির মতো পদার্থ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা। স্থানীয় গৃহিণী শিউলী রানী বলেন, “বাজার থেকে চিংড়ি কিনে বাসায় এনে পরিষ্কার করার সময় দেখি ভেতর থেকে সাদা জেলির মতো কিছু বের হচ্ছে।

 

পরে জানতে পারি এগুলো পুশ করা চিংড়ি।” মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিংড়িতে ব্যবহৃত এসব অপদ্রব্য মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের রাসায়নিক বা জেলি জাতীয় পদার্থ শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি, লিভার ও পাকস্থলীতে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। শিশুদের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতা ও হরমোনজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

 

আশাশুনি উপজেলা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিংড়ি উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানকার হাজারো ঘের মালিক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী চিংড়ি শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বাগদা ও গলদা চিংড়ি দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়। কিন্তু পুশকৃত চিংড়ির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়ির সুনাম ক্ষুণœ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

মাছ ব্যবসায়ী আমিন উদ্দীন বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো খাত আজ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা এখন বাংলাদেশের চিংড়ির মান নিয়ে সন্দেহ করছে। এভাবে চলতে থাকলে রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধাক্কা লাগবে।” স্থানীয় চাষিদের অভিযোগ, বহুবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ পাওয়া যায়নি। মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হলেও তা নিয়মিত নয়।

 

ফলে কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার আগের মতো পুশ বাণিজ্য শুরু হয়। চিংড়ি চাষি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “আমরা যারা সৎভাবে চিংড়ি চাষ করি, তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। পুশের কারণে বিদেশি বাজারে পুরো এলাকার চিংড়ির বদনাম হচ্ছে।” এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগÑপ্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তি এই চক্রকে নীরবে সহযোগিতা করায় অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা।

 

আশাশুনি উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেজাল ও পুশ প্রতিরোধে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।সচেতন মহল বলছেন, চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশের মতো অপরাধ বন্ধে নিয়মিত বাজার তদারকি, নমুনা পরীক্ষা ও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে হবে। অন্যথায় আশাশুনির সম্ভাবনাময় চিংড়ি শিল্প ভবিষ্যতে বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।

Ads small one

এক বছর বিচারকশূন্য সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ
এক বছর বিচারকশূন্য সাতক্ষীরা নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনাল
৫ হাজারের কাছাকাছি  মামলা ঝুলছে, দ্রুত বিচারক পদায়নের দাবি
বদিউজ্জামান:
সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘ আট মাস ধরে কোনো বিচারক না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। একমাত্র এই ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজারের কাছাকাছি  মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দীর্ঘদিন বিচারকার্য বন্ধ থাকায় মামলার জট ক্রমেই বাড়ছে। দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের দাবি জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি সহ বিভিন্ন মানবাধিকার ও নারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল বরাবর ২৩ আগস্ট একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনে সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত একজন বিচারক পদায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্য পরিচালনার জন্য একমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু প্রায় এক বছর ধরে ট্রাইব্যুনালটি বিচারকশূন্য থাকায় বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ৫ হাজারের কাছাকাছি মামলা বিচারাধীন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর ফলে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর মামলার বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। মামলার বাদী, ভুক্তভোগী নারী ও শিশু এবং তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়মিত আদালতে এসে বিচারকার্যের অগ্রগতি না পাওয়ায় তাদের ভোগান্তি বাড়ছে। একই সঙ্গে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত বিলম্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত মামলাগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক বিষয়। এসব মামলার দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তি ভুক্তভোগী ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু একটি মাত্র ট্রাইব্যুনালে বিপুলসংখ্যক মামলা এবং দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় মামলার জট নিরসন কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জন্য একজন বিচারক পদায়নের বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপারিশ/প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের জন্য বিবেচনাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
এ অবস্থায় সাতক্ষীরার হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করতে দ্রুত একজন যোগ্য বিচারক পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোঃ নুরুল আমিন বলেন, “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল দীর্ঘদিন বিচারকশূন্য থাকায় বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি মানবিক ও ন্যায়বিচারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে দ্রুত একজন বিচারক পদায়ন করা প্রয়োজন।”
আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, বিষয়টি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় প্রধান বিচারপতির সদয় বিবেচনায় এনে দ্রুত সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একজন বিচারক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষমাণ হাজার হাজার মামলার বিচারকার্য পুনরায় গতিশীল হবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ সুগম হবে।

সুন্দরবনে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ
সুন্দরবনে ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ

অনলাইন ডেস্ক: সুন্দরবনের  শ্যালক চর ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নেওয়া জেলে বহর হানা দিয়ে একটি ফিশিং ট্রলারসহ ৫ জেলেকে অপহরণ করে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী। শনিবার (২২ আগস্ট) দিবাগত রাত ১০টার দিকে এ অপহরণের ঘটনা। তবে রবিবার (২৩ আগস্ট) বিকেলে অপহরণের বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

অপহৃত জেলেরা হলেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলা দক্ষিণ রাজাপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩৮), শিহাব হাওলাদার (৩৫), সাব্বির হাওলাদার (৩০), রিপন হাওলাদার (২৮) এবং উত্তর রাজাপুর গ্রামের জাকির হাওলাদার (৪০)। অপহরণের পর জেলেরা কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন তা নিশ্চিত করতে পারেননি বন বিভাগ ও মহাজনরা।

 

অপহৃত জেলেদের মহাজন বাবুল মাঝি জানান, অপহরণের পর দস্যুরা এখন পর্যন্ত কোনো যোগাযোগ করেনি। জেলেদেরকে বনের কোথায় নিয়ে গেছে তাও জানা সম্ভব হয়নি। অপহরণের খবর শুনে জেলেদের পরিবারে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

 

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের শ্যালার চর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে উঠে বেশ কয়েকটি ট্রলার নিয়ে জেলেরা শ্যালার চরের কালামিয়া ও নারকেলবাড়িয়া এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। রাত ১০ টার দিকে বনদস্যু বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সশস্ত্র দস্যুরা এসে হানা দেয় জেলে বহরে। এসময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মৎস্য ব্যবসায়ী বাবুল মাঝির একটি ট্রলারসহ তিন জেলেকে এবং অপর দুটি ট্রলার থেকে আরও দুই জেলেসহ মোট পাঁচ জনকে তুলে নিয়ে যায়। জেলে অপহরণের খবর পেয়ে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, জেলেদের অপহরণের কথা আমরা শুনেছি। আমরা প্রতিনিয়ত খোঁজখবর রাখছি। বিষয়টি কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনকে জানানো হয়েছে। হঠাৎ করে বনদস্যুদের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় কোস্টগার্ড ও বনবিভাগ যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে।

পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় মমতাজ বেগম গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তি দিতে না পারায় মমতাজ বেগম গ্রেপ্তার

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: পাটকেলঘাটায় এনজিও ঋণের কিস্তির টাকা দিকে না পারায় গ্রেপ্তার হয়েছে এক নারী। রবিবার দিবাগত রাতে পাটকেলঘাটা থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার নারীর নাম মমতাজ বেগম। তিনি পাটকেলঘাটার তৈলকুপি গ্রামের শাহাজাহান সরদারের স্ত্রী।

 

জানা গেছে, নিয়মিত কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে না পারায় মমতাজ বেগম এর বিরুদ্ধে এনজিও উন্নয়ন প্রচেষ্টা আদালতে মামলা দায়ের করে। এ মামলায় থানা পুলিশ গতকাল রাতে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করেছে।