আশাশুনিতে জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে জমি দখল, দোকানঘর ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. মিজানুর রহমান (৪৭)। বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে আশাশুনি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন, আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা গ্রামের মৃত ইমান আলী গাজীর ছেলে তিনি। বুধহাটা গ্রামের মৃত তোকাজ্জেল হোসেনের ছেলে মো. মোতাহার হোসেনের কাছ থেকে ২০২০ সালে বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে তিনি জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ওই জমি নামজারি করে নিয়মিত খাজনা পরিশোধসহ শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় চাঁদাবাজ আব্দুল হাই ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে তার জমি ও দোকানঘর দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটের দিকে তার দোকানঘর ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আব্দুল হাই ও তার সহযোগীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরদিন ২৯ সেপ্টেম্বর মিস্ত্রির মাধ্যমে দোকানঘর পুনরায় নির্মাণের কাজ শুরু করলে আব্দুল হাই দ্বিতীয় দফায় লোকজন নিয়ে এসে গায়ের জোরে দোকানঘর ভাঙচুর করেন। পরবর্তীতে ৪ অক্টোবর সকালে আব্দুল হাই ও তার সহযোগীরা আবারও তার দোকানঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
মিজানুর রহমানের অভিযোগ, একই দিন সন্ধ্যায় বাজারের একপাশে ডেকে নিয়ে তাকে দোকান নির্মাণের জন্য ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা না দিলে তার জমি ও দোকানঘর দখল করে নেওয়া হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জড়িয়ে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জমি ক্রয় ও ভোগদখলের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে। এরপরও একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। এ ঘটনায় তিনি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে মিজানুর রহমান প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “অভিযুক্তদের অব্যাহত হুমকি ও ভাঙচুরের কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমার বৈধ জমি ও দোকানঘর রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
তবে সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হাই বা তার সহযোগীদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।












