কলারোয়ায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা
প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় কপোতাক্ষ নদে ডুবে যাওয়া কার্গোটি উদ্ধারে অভিযান শরু হয়েছে। খুলনার হোসেনের ডুবুরি দল কার্গোটি উদ্ধারে অভিযান শরু করেছে। জোয়ারের সময় নদে ভরে থাকে, সে জন্য ভাটার সময় ডুবুরি দল উদ্ধারের কাজ করছে।
জানা গেছে, ৩ অক্টোবর শনিবার ৩টার দিকে বালি ভর্তি কার্গোটি কপোতাক্ষ নদের বোয়লিয়া ব্রিজের প্লিয়ারে সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। কার্গোটির মালিক পাইকগাছার রাড়ুলি ইউনিয়ানের রজব আলী গাজীর। তিনি জানান, কার্গোটি কপোতাক্ষ নদে আসার পর ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যায়, তখন কার্গোটি নিয়ন্ত্রণ করা যাইনি।
ভাসতে ভাসতে কার্গোটি বোয়লিয়া ব্রিজের প্লিয়ারে সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে গেছে। এসময় কার্গোটি বালি ভর্তি ছিলো। খুলনার ডুবুরি হোসেনকে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দিতে হবে কার্গোটি উদ্ধারের জন্য। ৩ দিন ধরে উদ্ধার কাজ চলছে। বৃহস্পতিবার কার্গোটি পানির নিচ থেকে উদ্ধার হতে পারে।
কপোতাক্ষ নদে ডুবে যাওয়া কার্গোটি উদ্ধার করার কাজ দেখতে শত শত লোক নদের দুই তির ও ব্রিজের উপর ভিড় করছে। বিপুল সংখ্যাক লোকের উপস্থিতি দেখলে মনে হবে মেলা বসেছে।
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওশান হ্যাচারিতে ২৫০ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের শুভ সূচনার যাত্রা শুরু হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) শ্যামনগরের বাগদা চিংড়ির রেণু উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে এই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সূচনা শুরু করা হয়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে যৌথভাবে সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ও জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশ।
সাইমা পাওয়ার টেকনোলজি ও সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিচালক (অপারেশনস) সাইমা সাজেদুল করিম বলেন, শ্যামনগরের ওশান সি হ্যাচারির সঙ্গে আমাদের ২৫০ কিলোওয়াটের হাইব্রিড সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের চুক্তি হয়েছে। বাগদা চিংড়ির হ্যাচারিতে এ ধরনের প্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এই প্রথম। এখানে এমন একটি নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সৌর প্যানেলগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী একপাশে ভাঁজ করে সরিয়ে নেওয়া যাবে। ফলে হ্যাচারির ট্যাংক শুকানোর সময় জায়গাটি সম্পূর্ণ খালি করা সম্ভব হবে।’
হ্যাচারি মালিক আব্দুল আজিজ বলেন, আমরা এখানে ২৫০ কিলোওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করছি। এতে নিজেদের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এতে বিদ্যুৎ খরচ কমার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে লাভবান হবে বলে আশা করছি। এই প্রকল্পে আমাদের প্রায় ১ কোটি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। আগে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে হ্যাচারির ছাউনি খুলে পুকুর ও ট্যাংকগুলো রোদে শুকাতে হতো। নতুন প্রযুক্তির সৌর প্যানেল ব্যবহারের ফলে সেই কাজ সহজ হবে এবং হ্যাচারির কার্যক্রমও স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান বলেন, ‘নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়েছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও কারখানাগুলো নিজেদের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবে। সরকার প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে ওই বিদ্যুৎ কিনবে।
ওশান হ্যাচারিতে স্থায়ী সৌর প্যানেলের পরিবর্তে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের সময় প্যানেলগুলো একপাশে সরিয়ে হ্যাচারির পুকুর ও ট্যাংকে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা থাকবে। শ্যামনগরের অন্যান্য হ্যাচারিতেও এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।
পরিদর্শনকালে প্রস্তাবিত সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিশেষ প্যানেল স্থাপন পদ্ধতি, হ্যাচারির উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার সমন্বয়, বিদ্যুৎ সংযোগ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ওশান হ্যাচারি পরিদর্শনে চায়না জেনিক্সগ্রিনের পরিচালক ডন, সাইমার পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রকৌশলী দল, জেনিক্সগ্রিন বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আজিজুর রহমান, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) সাতক্ষীরা অঞ্চলের কর্মকর্তা সোয়াইব হোসেন, সাইমা পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মীর মো: গোলাম মোস্তফা, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের আশা, শ্যামনগরের এই উদ্যোগ সফল হলে দেশের চিংড়ি হ্যাচারি ও মৎস্য খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। একই সঙ্গে হ্যাচারি শিল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের একটি অনুসরণযোগ্য মডেলও তৈরি হতে পারে।
মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার প্রবীণ আইনজীবী ও এড. আবুল হোসেন এন্ড এসোসিয়েটসের সিনিয়র সদস্য এডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদারের স্মৃতিচারণ সভা ও প্রার্থনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর আত্মার সদগতি ও পরম শান্তি কামনায় বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর ২টায় সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির চতুর্থ তলায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এড. শহীদ হাসান বাবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় প্রয়াত আইনজীবীর কর্মময় জীবন ও ব্যক্তিগত গুণাবলি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন অ্যাডভোকেট সোমনাথ ব্যানার্জি, অ্যাডভোকেট তারক কুমার মিত্র, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. রনজিত সরকার, অ্যাডভোকেট তপন কুন্ড, অ্যাডভোকেট সোহরাব হোসেন, অ্যাডভোকেট অজয় সরকার, অ্যাডভোকেট পঙ্কজ দেবনাথ, অ্যাডভোকেট রঘুনাথ মন্ডল, জিপি অ্যাডভোকেট অসীম কুমার মন্ডল, অ্যাডভোকেট প্রবীর মুখার্জি, অ্যাডভোকেট শেখ ইমদাদুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মনীন্দ্র নাথ সরদারসহ অনেকে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সদানন্দ কুমার সরকার।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বক্তারা বলেন, এডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদার ছিলেন অত্যন্ত সদালাপী, বিনয়ী ও সহযোগিতাপরায়ণ মানুষ। দীর্ঘ আইন পেশাজীবনে তিনি সহকর্মী, মক্কেল ও পরিচিতজনদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। কারও বিপদে বা প্রয়োজনে দিন-রাতের হিসাব না করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেন। এমনকি গভীর রাতেও কেউ ফোন করলে তা গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। মানুষের সঙ্গে তাঁর আচরণ ছিল আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন এমন স্মৃতি সহকর্মীদের কাছে নেই বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা বলেন, একজন দক্ষ আইনজীবী হিসেবে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাই তাঁকে সবার কাছে আলাদা করে স্মরণীয় করে রাখবে। তাঁর চলে যাওয়া শুধু পরিবার নয়, আইন অঙ্গনেও একটি শূন্যতা তৈরি করেছে।
স্মৃতিচারণের সময় প্রয়াত আইনজীবীর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরতে গিয়ে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সহকর্মীদের কণ্ঠে উঠে আসে তাঁর হাসিমুখ, আন্তরিক ব্যবহার ও সহযোগিতার নানা স্মৃতি। প্রিয় সহকর্মীকে হারানোর বেদনায় স্মরণসভায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, এডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৫ সালে আইন বিষয়ে পড়াশোনা শেষ করে সাতক্ষীরা জজ কোর্টে আইন পেশা শুরু করেন। দীর্ঘ প্রায় ৪১ বছর তিনি সিভিল আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাগত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। গত ৩ অক্টোবর দিবাগত রাতে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত এডভোকেট নিরোদ কুমার মজুমদারের আত্মার সদগতি ও পরম শান্তি কামনা করেন। একই সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এমন একটি স্মরণসভা আয়োজনের জন্য এড. আবুল হোসেন এন্ড এসোসিয়েটসের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, প্রিয় সহকর্মী ও প্রবীণ আইনজীবীর কর্মময় জীবন এবং মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা ও সহযোগিতার স্মৃতি ধরে রাখতেই এ আয়োজন।