বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

আশাশুনিতে বিলীন মাঝির নৌকা:নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া নদীতে পালতোলার সেই দৃশ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে বিলীন মাঝির নৌকা:নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া নদীতে পালতোলার সেই দৃশ্য

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি নামটি উচ্চারণ করলেই একসময় চোখের সামনে ভেসে উঠত নদী, খাল-বিল আর নৌকার ব্যস্ততা। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া বেতনা, মরিচ্চাপসহ অসংখ্য নদী-খালের সঙ্গে মানুষের জীবন ছিল নিবিড়ভাবে জড়িত। একসময় এ জনপদের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল মাঝির নৌকা। গ্রামের ঘাট থেকে বাজার, হাট থেকে বাড়ি কিংবা রোগী নিয়ে হাসপাতালÑসব পথেরই যেন শেষ ঠিকানা ছিল কোনো না কোনো নৌঘাট। ভোরের আলো ফুটতেই নদীর ঘাটে শুরু হতো নৌকার ব্যস্ততা। মাঝির বৈঠার ছন্দে নদীর পানি কেটে নৌকা এগিয়ে যেত গন্তব্যের দিকে। কখনো অনুকূল বাতাস পেলে নৌকায় পাল উঠত। বাতাসে ফুলে ওঠা সাদা পাল আর নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে নৌকার দুলুনি ছিল এক অপরূপ দৃশ্য। সন্ধ্যার নরম আলোয় নদীর বুক দিয়ে পালতোলা নৌকা চলে যাওয়ার সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই স্মৃতি।আশাশুনির বুধহাটা, কুল্যা, শোভনালী, বড়দল, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনে একসময় নৌকার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বর্ষাকালে অনেক গ্রাম হয়ে উঠত বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। তখন নৌকাই ছিল মানুষের প্রধান ভরসা। কৃষকের ধান, ব্যবসায়ীর পণ্য, জেলেদের মাছ কিংবা বাজারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীÑসবই নৌকায় পরিবহন করা হতো।শুধু যাতায়াত নয়, জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মাঝির নৌকা ছিল মানুষের শেষ আশ্রয়। রাত-বিরাতে অসুস্থ রোগীকে নৌকায় তুলে নদী পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হতো। প্রসূতি নারী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীÑঅনেকের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নৌকার গল্প। কখনো সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে বেঁচেছে প্রাণ, আবার কখনো দীর্ঘ নৌযাত্রার কারণে পথেই ঘটেছে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু।প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনো ভাসে সেই দিনের কথা। ঘাটে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন মাঝিÑ‘নৌকা ছাড়ব, আর কেউ যাবেন?’ কেউ বাজারের ব্যাগ হাতে ছুটছেন, কেউবা রোগী নিয়ে ঘাটে এসে মাঝির সাহায্য চাইছেন। মাঝিরাও ছিলেন মানুষের আপনজনের মতো। নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা, আবহাওয়া ও নৌপথ সম্পর্কে তাঁদের ছিল গভীর অভিজ্ঞতা।কিন্তু সময় বদলেছে। গ্রাম থেকে শহর, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে সড়ক যোগাযোগ বেড়েছে। সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে। মানুষের হাতে এসেছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন। ফলে নৌকার ওপর মানুষের নির্ভরতা কমেছে। একই সঙ্গে অনেক খাল-নদী নাব্যতা হারিয়েছে। কোথাও পলি জমেছে, কোথাও দখল-দূষণে সংকুচিত হয়েছে জলপথ। ফলে মাঝির নৌকাও ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। একসময় যে ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকত, সেখানে এখন অনেক জায়গায় নেই সেই চেনা দৃশ্য। বৈঠার ছন্দের বদলে শোনা যায় মোটরযানের শব্দ। নদীর বুক দিয়ে পালতোলা নৌকা যাওয়ার দৃশ্য নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই এখন গল্পের মতো।প্রবীণ এক মাঝির ভাষায়, ‘আগে নৌকা চালিয়েই সংসার চলত। মানুষ আমাদের ডাকত, ঘাটে অপেক্ষা করত। এখন মানুষের হাতে গাড়ি হয়েছে, নৌকার দরকার পড়ে না। নদী আছে, কিন্তু আগের মতো নৌকা নেই।’ তবে মাঝির নৌকা পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি বাহনের বিলুপ্তি নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে একটি পেশা, একটি জীবনধারা এবং একটি নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি। মাঝিদের গান, বৈঠার শব্দ, ঘাটের আড্ডা, যাত্রী ওঠানামার ব্যস্ততাÑসবকিছুই এখন অতীতের অংশ।আশাশুনির নদী ও খালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুনঃখনন করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা গেলে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নৌকা সংরক্ষণ করে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পালতোলা নৌকা, নৌকাবাইচ কিংবা ঐতিহ্যবাহী নৌভ্রমণ পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।নদী এখনো আছে, জোয়ার-ভাটাও আছে। শুধু আগের মতো নেই মাঝির বৈঠার ছন্দ। প্রশ্ন তাই থেকেই যায়Ñআশাশুনির নদীর বুকে কি আবার কখনো দেখা যাবে পালতোলা নৌকার সারি? নাকি মাঝির নৌকা চিরতরেই থেকে যাবে প্রবীণদের স্মৃতি আর গল্পের পাতায়?

 

 

Ads small one

সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়নবিষয়ক কর্মশালা

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (খামারবাড়ি) কমপ্লেক্সে সুন্দরবন অঞ্চলে জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মৎস্য চাষ, গবাদিপশু ও জীবিকার ওপর স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় এবং যৌথ পরিকল্পনাবিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘জলবায়ু-সহনশীল জীবিকায়ন: স্থানীয় পর্যায়ের সমন্বয় ও যৌথ পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করে কেয়ার বাংলাদেশের নেতৃত্বে ‘নবপল্লব’ কনসোর্টিয়াম ও কর্ডএইড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কেয়ার বাংলাদেশের রিজিওনাল ম্যানেজার লুৎফা পারভীন ও কর্ডএইডের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মাসুদ রানা।
কর্মশালায় বক্তারা সুন্দরবন উপকূলে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান (নেচার-বেসড সলিউশনস) গ্রহণের ওপর জোর দেন। জলবায়ু অভিযোজন ও স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকারি দপ্তর, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়।

কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

 

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়া উপজেলার মানিকনগর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভিটেবাড়ি দখলের চেষ্টা, মিথ্যা মামলা ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
সোমবার রাতে কলারোয়া প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, একই গ্রামের তিন নারী ও কপিল উদ্দিন গাজী দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে তাঁর পরিবারকে হয়রানি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন। তাঁদের অত্যাচারের কারণে মানিকনগরের বাড়ি ছেড়ে বর্তমানে খোর্দ্দ বাজারে দাদার বাড়িতে তাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন।
উজ্জ্বল হোসেন জানান, ২০১৪ সালে তাঁদের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হলেও তা আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পরবর্তীতে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এবং ৩০ আগস্ট তাঁদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করা হয়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। এর মধ্যে সর্বশেষ মামলায় ২ নম্বর আসামি হিসেবে তাঁর মামা শামিনুর রহমানকে ১২ সেপ্টেম্বর রাতে সোনাবাড়িয়া বাজার থেকে কলারোয়া থানা-পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁকে ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশ ও জখমের হুমকি দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনের কাছে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
জেলা কালচারাল অফিসার অন্বেষার সঙ্গে মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। মঙ্গলবার বেলা ১২টায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কালচারাল অফিস কক্ষে উপস্থিত হয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সংগঠনটির প্রতিনিধিরা।
সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি মৌচাক সাহিত্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মকা- সম্পর্কে অবহিত হন এবং সংগঠনের কবি-সাহিত্যিকদের খোঁজখবর নেন। এ সময় মৌচাক সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে জেলা কালচারাল অফিসার ফাইজা হোসেন অন্বেষাকে শুভেচ্ছা স্মারক, ‘মৌচাক’ পত্রিকা এবং মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদের লেখা তিনটি বই প্রদান করা হয়।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা মৌচাক সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কবি আব্দুল ওহাব আজাদ, সহসভাপতি প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।