মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

আশাশুনিতে বিলীন মাঝির নৌকা:নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া নদীতে পালতোলার সেই দৃশ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে বিলীন মাঝির নৌকা:নতুন প্রজন্মের কাছে অচেনা কপোতাক্ষ-খোলপেটুয়া নদীতে পালতোলার সেই দৃশ্য

 

সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি: সাতক্ষীরার আশাশুনি নামটি উচ্চারণ করলেই একসময় চোখের সামনে ভেসে উঠত নদী, খাল-বিল আর নৌকার ব্যস্ততা। কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া বেতনা, মরিচ্চাপসহ অসংখ্য নদী-খালের সঙ্গে মানুষের জীবন ছিল নিবিড়ভাবে জড়িত। একসময় এ জনপদের মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান বাহন ছিল মাঝির নৌকা। গ্রামের ঘাট থেকে বাজার, হাট থেকে বাড়ি কিংবা রোগী নিয়ে হাসপাতালÑসব পথেরই যেন শেষ ঠিকানা ছিল কোনো না কোনো নৌঘাট। ভোরের আলো ফুটতেই নদীর ঘাটে শুরু হতো নৌকার ব্যস্ততা। মাঝির বৈঠার ছন্দে নদীর পানি কেটে নৌকা এগিয়ে যেত গন্তব্যের দিকে। কখনো অনুকূল বাতাস পেলে নৌকায় পাল উঠত। বাতাসে ফুলে ওঠা সাদা পাল আর নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে নৌকার দুলুনি ছিল এক অপরূপ দৃশ্য। সন্ধ্যার নরম আলোয় নদীর বুক দিয়ে পালতোলা নৌকা চলে যাওয়ার সেই দৃশ্য আজ অনেকটাই স্মৃতি।আশাশুনির বুধহাটা, কুল্যা, শোভনালী, বড়দল, প্রতাপনগর, আনুলিয়া, খাজরা, শ্রীউলা, আশাশুনি সদরসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের জীবনে একসময় নৌকার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। বর্ষাকালে অনেক গ্রাম হয়ে উঠত বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো। তখন নৌকাই ছিল মানুষের প্রধান ভরসা। কৃষকের ধান, ব্যবসায়ীর পণ্য, জেলেদের মাছ কিংবা বাজারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীÑসবই নৌকায় পরিবহন করা হতো।শুধু যাতায়াত নয়, জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রেও মাঝির নৌকা ছিল মানুষের শেষ আশ্রয়। রাত-বিরাতে অসুস্থ রোগীকে নৌকায় তুলে নদী পাড়ি দিয়ে হাসপাতালে নিতে হতো। প্রসূতি নারী থেকে শুরু করে মুমূর্ষু রোগীÑঅনেকের জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে আছে এই নৌকার গল্প। কখনো সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছে বেঁচেছে প্রাণ, আবার কখনো দীর্ঘ নৌযাত্রার কারণে পথেই ঘটেছে অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু।প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনো ভাসে সেই দিনের কথা। ঘাটে দাঁড়িয়ে যাত্রী ডাকছেন মাঝিÑ‘নৌকা ছাড়ব, আর কেউ যাবেন?’ কেউ বাজারের ব্যাগ হাতে ছুটছেন, কেউবা রোগী নিয়ে ঘাটে এসে মাঝির সাহায্য চাইছেন। মাঝিরাও ছিলেন মানুষের আপনজনের মতো। নদীর স্রোত, জোয়ার-ভাটা, আবহাওয়া ও নৌপথ সম্পর্কে তাঁদের ছিল গভীর অভিজ্ঞতা।কিন্তু সময় বদলেছে। গ্রাম থেকে শহর, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা সদরে সড়ক যোগাযোগ বেড়েছে। সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ হয়েছে। মানুষের হাতে এসেছে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান, অটোরিকশাসহ নানা ধরনের যানবাহন। ফলে নৌকার ওপর মানুষের নির্ভরতা কমেছে। একই সঙ্গে অনেক খাল-নদী নাব্যতা হারিয়েছে। কোথাও পলি জমেছে, কোথাও দখল-দূষণে সংকুচিত হয়েছে জলপথ। ফলে মাঝির নৌকাও ধীরে ধীরে হারিয়ে গেছে। একসময় যে ঘাটে সারি সারি নৌকা বাঁধা থাকত, সেখানে এখন অনেক জায়গায় নেই সেই চেনা দৃশ্য। বৈঠার ছন্দের বদলে শোনা যায় মোটরযানের শব্দ। নদীর বুক দিয়ে পালতোলা নৌকা যাওয়ার দৃশ্য নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই এখন গল্পের মতো।প্রবীণ এক মাঝির ভাষায়, ‘আগে নৌকা চালিয়েই সংসার চলত। মানুষ আমাদের ডাকত, ঘাটে অপেক্ষা করত। এখন মানুষের হাতে গাড়ি হয়েছে, নৌকার দরকার পড়ে না। নদী আছে, কিন্তু আগের মতো নৌকা নেই।’ তবে মাঝির নৌকা পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি বাহনের বিলুপ্তি নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে একটি পেশা, একটি জীবনধারা এবং একটি নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি। মাঝিদের গান, বৈঠার শব্দ, ঘাটের আড্ডা, যাত্রী ওঠানামার ব্যস্ততাÑসবকিছুই এখন অতীতের অংশ।আশাশুনির নদী ও খালগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পুনঃখনন করে নৌযান চলাচলের উপযোগী করা গেলে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের কিছুটা ফিরিয়ে আনা সম্ভব। একই সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী নৌকা সংরক্ষণ করে নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পালতোলা নৌকা, নৌকাবাইচ কিংবা ঐতিহ্যবাহী নৌভ্রমণ পর্যটকদের আকর্ষণ করতে পারে।নদী এখনো আছে, জোয়ার-ভাটাও আছে। শুধু আগের মতো নেই মাঝির বৈঠার ছন্দ। প্রশ্ন তাই থেকেই যায়Ñআশাশুনির নদীর বুকে কি আবার কখনো দেখা যাবে পালতোলা নৌকার সারি? নাকি মাঝির নৌকা চিরতরেই থেকে যাবে প্রবীণদের স্মৃতি আর গল্পের পাতায়?

 

 

Ads small one

দেবহাটার সখিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোখলেছুর রহমান মুকুলের মোটরসাইকেল শোডাউন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটার সখিপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোখলেছুর রহমান মুকুলের মোটরসাইকেল শোডাউন

দীপঙ্কর বিশ্বাস: আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেবহাটার সখিপুর এলাকা জুড়ে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন মোখলেছুর রহমান মুকুল।

 

চেয়ারম্যান পদে নিজের প্রার্থীতা জানান দিতে এবং সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে কুশল বিনিময় করতে (২০ অক্টোবর) মঙ্গলবার বিকালে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোটরসাইকেল শোডাউনটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়াডের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাজার প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সর্বস্তরের মানুষ তাকে করতালি ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে স্বাগত জানান।

 

মোখলেছুর রহমান মুকুল দেবহাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। শাডাউন শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত পথসভায় মোখলেছুর রহমান মুকুল বলেন, “আমি কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে রাজনীতি বা সমাজসেবা করি না। দীর্ঘ পথচলায় জনগণের ভালো-মন্দে পাশে থেকেছি।

 

সখিপুর ইউনিয়নকে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও দুর্নীতিমুক্ত মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলাই আমার মূল লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে আমি আগামী ইউপি নির্বাচনে আপনাদের দোয়া, ভালোবাসা ও সার্বিক সমর্থন প্রত্যাশা করছি।”শোডাউনে ইউনিয়নের বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ বিপুল অংশ নেন।

পাটকেলঘাটায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
পাটকেলঘাটায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে শাড়ি বিতরণ করলেন সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ

পাটকেলঘাটা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পাটকেলঘাটায় সনাতন ধর্মাবলম্বী অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে শাড়ি বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় পাটকেলঘাটা দারুল ইসলাম ট্রাস্ট মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডার থেকে প্রাপ্ত শাড়ি বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনারা সৎ লোকদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন, তাহলে আপনাদের অধিকার আপনাদের কাছে পৌঁছে যাবে। আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। সরকার থেকে যা বরাদ্দ পাই, তা আপনাদের কাছে পৌঁছে দিই। এক কানাকড়িও নিজের কাছে রাখি না।”

তালা উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সহকারী অধ্যাপক ইদ্রিস আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক গাজী সুজায়েত আলী, তালা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কবিরুল ইসলাম, সরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ শাহ আলম, ইউপি সদস্য হাফেজ আব্দুল হামিদ প্রমুখ।

কয়রায় বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
কয়রায় বিভিন্ন মন্দির পরিদর্শন করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পী

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: দুর্গাপূজা শুধু ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, শিল্প ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা। এই উৎসব মানুষের মধ্যে ভালবাসা, সৌহার্দ্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে কয়রা উপজেলার বিভিন্ন পূজা মন্দিরে ভক্তবৃন্দ ও দর্শনার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জেলা জাসাস আহবায়ক শহিদুল ইসলাম সহিদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, এড. আব্দুর রশিদ, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিউর রহমান, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, জিএম রাসেল ইসলাম, ইয়ারুল ইসলাম রিপন, মল্লিক আজাদ, জাহিদুর রহমান শোভন, মাসুম বিল্লাহ, শেখ মাহমুদ পারভেজ, গোলাম রসুল, নূরুল ইসলাম খোকা, দিলরুবা মিজান, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ, নজরুল ইসলাম, জামাল জাফরিন, ডিএম হেলালউদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ কাজল, মহরম হোসেন, আরিফ বিল্লাহ সবুজ, মামুন হাসান, এহসানুল ইছান, জুবায়ের হোসেন প্রমুখ।