মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ইজিবাইক: জীবিকার চাকা থামিয়ে কি যানজটের সমাধান হবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৯ অপরাহ্ণ
ইজিবাইক: জীবিকার চাকা থামিয়ে কি যানজটের সমাধান হবে?

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের সড়কে ইজিবাইক এখন একটি অনিবার্য বাস্তবতা। এই বাস্তবতাকে কেউ দেখেন যানজটের কারণ হিসেবে, কেউ দেখেন কর্মসংস্থানের উৎস হিসেবে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, ইজিবাইককে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত দুটি প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে। প্রথমত, একটি রাষ্ট্র কীভাবে নগর ও পরিবহন ব্যবস্থাপনা করবে? দ্বিতীয়ত, সেই ব্যবস্থাপনার নামে মানুষের জীবিকার অধিকার কতটা সুরক্ষিত থাকবে? সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ইজিবাইকের বিরুদ্ধে অভিযান, চলাচলে নিষেধাজ্ঞা কিংবা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।

 

যুক্তি দেওয়া হচ্ছেÑযানজট কমাতে হবে, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। লক্ষ্য নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যে সমস্যার শিকড় পরিকল্পনার ঘাটতিতে, তার সমাধান কি কেবল একটি যানবাহনকে দায়ী করেই সম্ভব? বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশের অধিকাংশ শহর, জেলা সদর কিংবা উপজেলা শহরের সম্প্রসারণ হয়েছে পরিকল্পনার আগেই। সড়ক সংকীর্ণ, ফুটপাত দখল হয়ে গেছে, বাজার গড়ে উঠেছে রাস্তার ওপর, বাসস্ট্যান্ডের নির্দিষ্ট স্থান নেই, ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুণ।

 

একই রাস্তায় বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল, রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকÑসব চলাচল করছে। এমন পরিস্থিতিতে যানজট সৃষ্টি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই যানজটের দায় শুধু ইজিবাইকের ঘাড়ে চাপানো বাস্তবতার সরলীকরণ মাত্র। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিতÑআমাদের শহরগুলোর জন্য কি সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা আছে? কতটি পৌরসভায় পৃথক ধীরগতির যানবাহনের লেন রয়েছে? কোথায় ইজিবাইকের জন্য নির্দিষ্ট স্টপেজ বা পার্কিং ব্যবস্থা করা হয়েছে? অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উত্তর হবেÑনা। অর্থাৎ সমস্যার বড় অংশ পরিকল্পনার, যানবাহনের নয়। ইজিবাইককে শুধু পরিবহনের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বড় একটি সামাজিক বাস্তবতা অদৃশ্য হয়ে যায়। এই খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান জড়িত।

 

একজন চালক শুধু নিজের জন্য গাড়ি চালান না; তাঁর আয়ের ওপর নির্ভর করে পুরো পরিবার। সংসারের বাজার, সন্তানের স্কুলের ফি, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ওষুধÑসবকিছুর উৎস সেই দৈনিক আয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, অধিকাংশ চালক নিজস্ব মূলধনে ইজিবাইক কেনেন না। তাঁরা এনজিও, ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান কিংবা সমবায় সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে গাড়ি কেনেন। প্রতি সপ্তাহে বা মাসে কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কোনো কারণে কয়েক দিন গাড়ি চালাতে না পারলে কিস্তি বকেয়া পড়ে, জরিমানা যোগ হয়, অনেক সময় ঋণের চাপ অসহনীয় হয়ে ওঠে। অর্থাৎ প্রশাসনিক একটি সিদ্ধান্ত কেবল একটি যানবাহনকে নয়, একটি পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে নড়বড়ে করে দেয়।

 

রাষ্ট্র যদি কোনো পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সেটি অবশ্যই তার অধিকার। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের আগে একটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজনÑযাঁদের জীবিকা বন্ধ হবে, তাঁদের বিকল্প কী? উন্নত দেশগুলোতে কোনো খাত পুনর্বিন্যাসের আগে পুনর্বাসন, প্রশিক্ষণ কিংবা বিকল্প কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা থাকে। আমাদের ক্ষেত্রেও সেই দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন। শিক্ষার বিষয়টিও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। উপজেলা ও গ্রামীণ অঞ্চলের অসংখ্য স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থী প্রতিদিন ইজিবাইকে যাতায়াত করে। অনেক এলাকায় বাস নেই, মিনিবাস নেই, এমনকি নিয়মিত রিকশাও পাওয়া যায় না।

 

অভিভাবকেরা তুলনামূলক কম খরচে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারেন ইজিবাইকের মাধ্যমে। যদি পরিকল্পনা ছাড়া এই পরিবহন হঠাৎ সীমিত করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমবে, ঝরে পড়ার ঝুঁকি বাড়বে। শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর এমন প্রভাব কোনোভাবেই কাম্য নয়। একইভাবে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও ইজিবাইকের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বাংলাদেশের অসংখ্য গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স সময়মতো পৌঁছাতে পারে না। সরু রাস্তা, কাঁচা পথ কিংবা দুর্গম এলাকায় মুমূর্ষু রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার একমাত্র বাহন হয়ে ওঠে ইজিবাইক।

 

প্রসূতি মা, স্ট্রোকের রোগী, হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা সাপে কাটা রোগীÑঅনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছাতে এই যানবাহন জীবন বাঁচানোর মাধ্যম হয়ে দাঁড়ায়। তাই ইজিবাইককে কেবল যানজটের কারণ হিসেবে দেখা বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশকে অস্বীকার করার শামিল। উদ্বেগের বিষয় হলো, বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ উঠেছেÑকিছু প্রভাবশালী পরিবহন স্বার্থ সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে এবং অন্য পরিবহনে উঠতে বাধ্য করছে। যদি এমন ঘটনা সত্য হয়ে থাকে, তবে তা কেবল বেআইনি নয়, নাগরিক অধিকার ও মুক্ত প্রতিযোগিতার পরিপন্থী। আইন প্রয়োগের দায়িত্ব প্রশাসনের; কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।

 

সড়ককে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্র বানানো হলে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। তবে সব দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে দিলে চলবে না। ইজিবাইক চালকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ট্রাফিক আইন মানা, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানামা করানো, অতিরিক্ত যাত্রী না নেওয়া এবং অপ্রাপ্ত বয়স্কদের গাড়ি চালাতে না দেওয়াÑএসব নিশ্চিত করতে হবে। শৃঙ্খলা এক তরফাভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; চালক, যাত্রী, প্রশাসন ও নগর কর্তৃপক্ষÑসবার সম্মিলিত দায়িত্বে তা গড়ে ওঠে। এখন সময় এসেছে ইজিবাইককে নিষিদ্ধ করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে এটিকে নীতির আওতায় আনার।

 

নিবন্ধন, রুট পারমিট, চালকদের প্রশিক্ষণ, নির্দিষ্ট স্টপেজ, নিরাপদ চার্জিং ব্যবস্থা এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতকে সুশৃঙ্খল করা সম্ভব। এতে যেমন যানজট কমবে, তেমনি মানুষের জীবিকাও রক্ষা পাবে। উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন তা মানুষের জীবনকে সহজ করে; কঠিন নয়। একটি ইজিবাইকের চাকা থামিয়ে যদি হাজারো পরিবারের চুলা নিভে যায়, শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়, মুমূর্ষু রোগীর হাসপাতালে পৌঁছানো বিলম্বিত হয়, তবে সেই উন্নয়ন প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইজি বাইককে তাই কেবল একটি যানবাহন হিসেবে নয়, একটি সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে দেখতে হবে।

 

রাষ্ট্রের দায়িত্ব শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, কিন্তু সেই শৃঙ্খলা যেন মানবিকতাকে অস্বীকার না করে। কারণ একটি ইজিবাইকের স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে শুধু একজন চালকের হাত নয়, একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, একটি শিশুর শিক্ষা, একজন রোগীর জীবন এবং প্রান্তিক বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় অংশ জড়িয়ে আছে। অতএব, সমাধানের পথ নিষেধাজ্ঞা নয়Ñসুশাসন; সংঘাত নয়Ñসমন্বয়; আর দমন নয়Ñপরিকল্পিত নিয়ন্ত্রণ। এই উপলব্ধিই হতে পারে নিরাপদ সড়ক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

Ads small one

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৫ অপরাহ্ণ
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তিন বাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান মিসবাহ উল আজীম এবং বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান। মঙ্গলবার দুপুরে এ সাক্ষাৎ হয় বলে বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে তিন বাহিনীর প্রধান রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। তারা নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতাও কামনা করেন তারা। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে একটি আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাহিনীর সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিন বাহিনীর প্রধানকে আশ্বস্ত করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শপথ নিয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিবের পদ ছেড়ে রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।

 

 

 

প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
প্রকাশ্যে এলো মোজতবা খামেনির নতুন ভিডিও, শোনা গেলো কণ্ঠ

চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই প্রথম প্রকাশ্যে শোনা গেলো ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কণ্ঠ। ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত একটি বিরল ও তারিখহীন ভিডিওতে ৫৬ বছর বয়সী এই নেতাকে একটি ধর্মীয় অ্যাকাডেমিক সেশনে সভাপতিত্ব করতে এবং এক শিক্ষার্থীর গবেষণাপত্র মূল্যায়ন করতে দেখা গেছে।

 

ভিডিওতে মোজতবা খামেনি ইরানি শাসনব্যবস্থার ইসলামি নিরাপত্তা মডেল নিয়ে আলোচনা করেন এবং ওই শিক্ষার্থীকে ২০-এর মধ্যে ১৯.৫ নম্বর দিয়ে তার গবেষণাপত্রকে ‘ত্রুটিহীন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

২৮ ফেব্রুয়ারি চলমান সংঘাতের প্রথম দিনে হামলায় তার বাবা নিহত হওয়ার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মোজতবা খামেনিকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতির কারণে তিনি হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।

হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন বলে খবর প্রকাশের পর তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তীব্র হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এপ্রিলে সূত্রের বরাতে জানায়, তিনি মুখের আকৃতি পরিবর্তন এবং পায়ের গুরুতর ট্রমা থেকে সেরে উঠছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এর আগে বলেছিলেন যে তিনি ‘আহত এবং সম্ভবত বিকৃত চেহারার’ শিকার হয়েছেন। যদিও ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, আঘাত পেলেও তা তার নেতৃত্ব প্রদানে বাধা তৈরি করেনি।

রয়টার্সের ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছিল, শারীরিক অবস্থা যাই হোক না কেন, মোজতবা মানসিকভাবে সজাগ রয়েছেন এবং অডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এমনকি যুদ্ধ ও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতা আলোচনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।

নতুন প্রকাশিত ভিডিওটি কবে রেকর্ড করা হয়েছে বা বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা কেমন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তার স্বাস্থ্য ও নেতৃত্ব ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার মধ্যে এটি ইরানি সর্বোচ্চ নেতার একটি বিরল প্রকাশ্য উপস্থিতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই ভিডিও এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা চরম পর্যায়ে রয়েছে, হরমুজ প্রণালি ও অন্যান্য ইস্যু নিয়ে সম্পর্কের জটিলতার মাঝেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৯ অপরাহ্ণ
অন্যায়ভাবে কেউ যেন জেলে না থাকে, সরকার তা নিশ্চিত করবে: শামা ওবায়েদ

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেছেন, ‘বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক, কিংবা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে আটকে না থাকে, তা বর্তমান সরকার নিশ্চিত করবে।’ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অনির্দিষ্টকাল বিচারপূর্ব আটক রাখা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গত ১৭ বছরে বাংলাদেশে যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, দেশের ইতিহাসে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন আগে কখনো হয়নি। এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির নেতাকর্মীরা। সুতরাং আমরা কখনোই চাইবো না, বর্তমানে বা ভবিষ্যতে আমাদের গত ফ্যাসিস্ট আমল ফিরে আসুক। আমরা চাই, সবার ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করা হোক এবং প্রত্যেক নাগরিকের মানবাধিকার রক্ষা করা হোক।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, আইনমন্ত্রীও বলেছেন-জুলাই-আগস্টে যে ঘটনা ঘটেছে এবং যে অভ্যুত্থান হয়েছে, তারপর অনেক মামলা হয়েছে। যেসব মামলা আইনগতভাবে হওয়ার কথা ছিল, সেগুলো হয়েছে। যারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত এবং যারা গুম-খুনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে।’

আবার অনেক মামলা ‘অতি উৎসাহী’ হয়েও অনেকে দায়ের করেছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেসব মামলাও আইন মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা করবে বলে জানিয়েছে। মামলাগুলো পর্যালোচনা করে যদি কোনো সত্যতা না পাওয়া যায় বা কোনো ভিত্তি না থাকে, তাহলে পর্যালোচনার পর সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন মন্ত্রণালয় এ বিষয়টি পরিষ্কার করে জানিয়েছে।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘আমাদের সরকারের অবস্থান হলো-আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সচেষ্ট এবং জনগণের কাছে দায়বদ্ধ আছি। কোনো বিরোধী দল হোক, আওয়ামী লীগ হোক বা যে দলই হোক; রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কেউ যেন অন্যায়ভাবে জেলে বা আটক না থাকে, তা বর্তমান সরকার অবশ্যই নিশ্চিত করবে।’