রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩

‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই শনিবার অনুষ্ঠেয় আলোচনায় দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিলেও, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের স্বতন্ত্র রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী।

রবিবার অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইসলামাবাদে আলোচনার দ্বিতীয় পর্বের এই বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার কোনও ব্যর্থতা হিসেবে দেখা উচিত নয়। শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়াটি সঠিক পথেই রয়েছে।’

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা রাতারাতি কমানো সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আলোচনার এই প্রক্রিয়ায় ‘উভয় পক্ষকেই প্রজ্ঞা ও ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে।’

সৈয়দ মোহাম্মদ আলী আরও বলেন, ‘এটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও জটিল একটি প্রক্রিয়া। এতে উত্থান-পতন থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আশার কথা হলো, যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে আছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়, যাতে তা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কোনও নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে।’

Ads small one

সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়:প্রসঙ্গ: প্রাণসায়ের খাল ও নাগরিক স্বাস্থ্য রক্ষা হোক সর্বাগ্রে

সাতক্ষীরা শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত প্রাণসায়ের খাল। এক সময়ের খরস্রোতা এই খালটি আজ মৃতপ্রায়, যার অন্যতম কারণ দখল আর দূষণ। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব রোধে জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতারের নেতৃত্বে শহরে যে পরিচ্ছন্নতা ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে সুলতানপুর বড় বাজার এলাকার বর্জ্য অপসারণ এবং খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার যে দৃঢ় অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক ব্যক্ত করেছেন, তা সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি।
তবে এই অভিযানের মাঝেই একটি উদ্বেগের বিষয় সামনে এসেছে। সুলতানপুর বড় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন যে, সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ খালের ধারেই কসাইখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। যেখানে খালের পানি প্রবাহ ঠিক রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রশাসনের মূল লক্ষ্য, সেখানে খালের পাড়ে কসাইখানা স্থাপন করা হবে চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কসাইখানার বর্জ্য সরাসরি খালে পড়লে তা কেবল পানিকেই বিষাক্ত করবে না, বরং ডেঙ্গু ও মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়ে জনস্বাস্থ্যকে ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই জায়গার মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান এবং স্থিতিবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে পৌরসভার টেন্ডার প্রক্রিয়া কেবল আইনি জটিলতাই বাড়াবে না, বরং খালের অস্তিত্বকেও সংকটে ফেলবে। জেলা প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেছেন যে, খালের পাড়ে কোনো ময়লার ভাগাড় হতে দেওয়া হবে না।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে খালের পাড়ে কসাইখানা নির্মাণের মতো হটকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা প্রয়োজন।
শহরের জনচলাচল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা জরুরি। জেলা প্রশাসকের এই অভিযান কেবল এক দিনের লোকদেখানো কার্যক্রম না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় রূপ নিতে হবে। আগামী শনিবার তিনি পুনরায় পরিদর্শনে আসার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
আমরা মনে করি, সাতক্ষীরার প্রাণসায়ের খালকে বাঁচাতে এবং নাগরিকদের মশাবাহিত রোগ থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন ও পৌরসভাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খালের পাড়ে কসাইখানা নয়, বরং সেখানে বৃক্ষরোপণ ও হাঁটার পথ (ওয়াকওয়ে) তৈরি করে পরিবেশবান্ধব সাতক্ষীরা গড়ার কাজ এগিয়ে নেওয়া হোক। জনস্বার্থই হোক সকল উন্নয়ন কর্মকা-ের মূল লক্ষ্য।

‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৭ অপরাহ্ণ
‎কন্যাসন্তান হওয়ায় গৃহবধূকে নির্যাতন, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: পরপর চারটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়া এবং সবশেষ সন্তানটি গর্ভে থাকাকালে গর্ভপাতে রাজি না হওয়ায় এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূকে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরার তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।
ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূর নাম বিশাখা রাণী দাস। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে। ১৫ বছর আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের শিবপদ দাসের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
বিশাখা দাসের অভিযোগ, বিয়ের পর তাঁর পরপর তিনটি কন্যাসন্তান হওয়ার পর থেকেই শ্বশুরবাড়িতে তাঁর ওপর নির্যাতনের শুরু হয়। চতুর্থবার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেন। কিন্তু বিশাখা তাতে রাজি হননি। চার মাস আগে চতুর্থ কন্যাসন্তান জন্মের পর তাঁর ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। ওই সময় তাঁকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
বিশাখা জানান, সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর স্বামী শিবপদ দাস তাঁকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। এই খবর শুনে গত শনিবার সকালে তিনি স্বামীর বাড়িতে গেলে স্বামী শিবপদ, দেবর মৃত্যুঞ্জয়, সতিন জ্যোতি দাস ও শাশুড়ি শান্তি দাস মিলে তাঁকে ব্যাপক মারধর করেন। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁর ভাই রবিন দাস তাঁকে উদ্ধার করে তালা হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে বিশাখা রাণী দাস বলেন, ‘ছোট মেয়েটা পেটে আসার পর থেকেই তারা বাচ্চা নষ্ট করার জন্য চাপ দিচ্ছিল। আমি রাজি হইনি বলে তারা আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে। আমাকে না জানিয়ে আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে।’
বিশাখার ভাই রবিন দাস বলেন, ‘খবর পেয়ে বোনের বাড়িতে গিয়ে দেখি সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছে। পাষ-রা তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করেছিল। আমি তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসি।’
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে শিবপদ দাসের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেশবপুর ও তালা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আশাশুনির খাজরায় কিশোরীদের পুষ্টি মেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ণ
আশাশুনির খাজরায় কিশোরীদের পুষ্টি মেলা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে উৎসবমুখর পরিবেশে দিনব্যাপী পুষ্টি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই মেলার আয়োজন করা হয়। মূলত কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে এই মেলার আয়োজন।
মেলায় খাজরা ইউনিয়নের পিরোজপুর, দুর্গাপুর, গোয়ালডাঙ্গা ও রাউতাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কিশোরী ক্লাবের শতাধিক সদস্য অংশগ্রহণ করে। দিনব্যাপী আয়োজনে ছিল খেলাধুলা, চিত্রাঙ্কন, কুইজ ও নাচ-গান। তবে মেলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ছিল বাল্যবিবাহের পক্ষে-বিপক্ষে কিশোরীদের প্রাণবন্ত বিতর্ক প্রতিযোগিতা। বিতর্কে অংশ নিয়ে কিশোরীরা বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর দিক ও এর সামাজিক কুফলগুলো যুক্তি দিয়ে তুলে ধরে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, কিশোরীদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সঠিক পুষ্টির বিকল্প নেই। এই ধরনের আয়োজন তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য ইয়াকুব আলী ও রবিউল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী হুমায়ূন কবির, ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম এবং এরিয়া ম্যানেজার বিপ্লব দেবনাথ। মেলার সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন টেকনিক্যাল অফিসার সুরুজ আলী ও শেখ ওসমান আলী।
দিনশেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী কিশোরীদের হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী কিশোরীরা জানায়, পুষ্টি মেলায় এসে তারা খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য জানতে পেরেছে।