শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

কন্টিকারি ভেষজগুল্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
কন্টিকারি ভেষজগুল্ম

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কন্টিকারি কন্টকময় গুল্ম জাতীয় উদ্ভিদ। বাড়ির পরিত্যক্ত অংশ বা অব্যবহৃত কোণে ধীরে ধীরে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য ছোটখাটো লতাগুল্মগুলোকে আমরা বাজে উদ্ভিদ বলে কেটে উজাড় করে ফেলি। তেমনি একটি ভেষজগুল্ম কন্টিকারি। তাকে অবশ্য একটি নামে চেনার উপায় নেই।

 

নিসর্গবিদরা বহু নামে নামকরণ করেছেন এ গুল্মটিকে। কন্টালিকা, কন্টকিনী, কণ্টকারী, ধাবনী, ক্ষুদ্রা, দুষ্প্রধার্ষিণী প্রভৃতি নামে ডাকা হয় তাকে।

তবে কন্টিকারী নামটি বিভিন্ন ভাষায় ভিন্ন নামে বহুল পরিচিত: বাংলায় কন্টিকারী কাটাবেগুন, হিন্দিতে বলে কটেরী, মারাঠীতে বিঙ্গনী, ওড়িয়ায় কন্টমারিষ, তেলেগুতে বেরটিমুলঙ্গ, সংস্কৃতে ব্যাঘী।

কন্টিকারী ডালপালা, কান্ড এবং পাতাসহ কন্টকময়। গুলাজাতীয় উদ্ভিদ গাছের মতো মাটিতে ছড়িয়ে থাকে। ডাটা ৪ ফুট পর্যন্ত লম্বা এবং পর্যন্ত চওড়া ৩ ইঞ্চি হয় কিছুটা ডিম্বাকৃতি দেখায়। পাতার স্থানে স্থানে অস্পষ্ট লোমযুক্ত থাকে পুরো গাছে খাড়াভাবে ধারালো কাটা থাকে এবং আধা ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়। পুষ্পদও শাখা প্রশাখাবিশিষ্ট। ফুলের রং সাদা ও নীল, ফল পীতবর্ণ বা সাদা আভাযুক্ত সবুজ বর্ণের হয়। ফুলের পাপড়ি ৫টা। পুংকেশরগুলো লম্বা এবং হলুদ রঙের হয়। ফলের আকার খুবই ছোট, অনেকটা বেগুনের মতো দেখায়। ফলের গায়ে সাদা লম্বা লম্বা দাগ থাকে।

 

ফল পাকলে লাল ও হলুদ বর্ণের হয়। গরম পড়ার প্রথম দিকে গাছে ফুল ফোটে এবং পরে ফল ধরে। ফলের মধ্যে অসংখ্য বীজ থাকে। বর্ষার পানি পেলে গাছ মরে যায়। আরও এক ধরণের কন্টকারী গাছ আছে, যার ফুল দেখতে নীল এ কন্টকারী খুব কম দেখা যায়।

কন্টিকারি একটি কাঁটা ধরনের গাছ। এটি হল নাইটশেড প্রজাতির একটি উদ্ভিদ। যা সৌদি আরব, ইয়েমেন, আফগানিস্তান, ইরান, চিন, বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়ায় প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। এটা রাস্তার ধারের পতিত জায়গায় বেশি হয়। এখন মোটামুটি সারা পৃথিবীতে এর বিস্তৃতি রয়েছে।

এর ফলটা খাওয়ার যোগ্য। তবে মানুষ কম খায়। এটা বন্যপ্রাণীদের খাবার। এর ফলটি জন্মনিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। এ গুল্মের মূল বা শেকড় উপকারী এবং ভেষজগুণসম্পন্ন থাকায় কবিরাজরা এটিকে বিভিন্ন কাজে লাগায়।

 

Ads small one

সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি বিশ্লেষণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:২১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি বিশ্লেষণ

মুক্তমত
ক্ষমা প্রার্থনা নাকি কৌশলী নতিস্বীকার?

ক্ষমা মহত্ত্বের গুণ হতে পারে, কিন্তু সেই প্রার্থনা যখন আসে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কিংবা তীব্র আন্দোলনের মুখে, তখন তার নৈতিক ভিত্তি ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে যে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, তা কেবল একটি সাধারণ ‘ভুল’ নয়; বরং শিক্ষক সমাজের প্রতি চরম অবমাননা।

সজীব বায়োলজি একাডেমী কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজীব যেভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন, তা কেবল ন্যাক্কারজনকই নয়, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বিপজ্জনক সংকেত। আজ পরিস্থিতির চাপে পড়ে তার এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়াকে সচেতন সমাজ ‘হৃদয়বদল’ হিসেবে মানতে নারাজ। একে বরং আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা থেকে নিজেকে বাঁচানোর একটি ‘কৌশলী নতিস্বীকার’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

শিক্ষকরা আমাদের আলোকবর্তিকা এবং পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সম্মান রক্ষায় যে অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শন করেছে, তা এই জনপদের আপোষহীন মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি সবসময় প্রকৃতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে, আর একজন শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের আদর্শিক দায়িত্ব।

আমরা মনে করি, এই ক্ষমা প্রার্থনা যেন কেবল আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকা উচিতÑঅহংকার আর শিক্ষকদের অবমাননা করে কেউ কখনোই সম্মানের আসনে টিকে থাকতে পারে না।

শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার যে চেষ্টা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের এই রুখে দাঁড়ানোই বলে দেয়—দিনশেষে সত্য ও ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস আর কেউ পাবে না।

-তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি

শিক্ষককে অপমান: ক্ষমা চাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষককে অপমান: ক্ষমা চাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মুক্তমত

মো. হাফিজুল ইসলাম
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে অপমানের ঘটনায় অভিযুক্ত কোচিং পরিচালকের ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘সুবিধাবাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শিক্ষককে অপমানের জেরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজুদ্দীন। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় অনুশোচনা থেকে ক্ষমা চাইলে তা মহত্ত্বের লক্ষণ হয়। কিন্তু শিক্ষকদের অপমান ও শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের পর বিপদে পড়ে ভোল পাল্টানো মূলত সুবিধাবাদ। এটি নৈতিক পরাজয় আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।”

ছাত্রদল নেতার মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং তারা বোঝে কোনটি প্রকৃত অনুশোচনা আর কোনটি অস্তিত্ব রক্ষার অভিনয়।

গত বৃহস্পতিবার কলেজ চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখা নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, এ কারণে ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজীব মুঠোফোনে শিক্ষকের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও উগ্র আচরণ করেন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা সাতক্ষীরায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোচিং সেন্টার থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয়।

শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ থেকে আসা কথিত ক্ষমা প্রার্থনা ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে অনলাইন ও অফলাইনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

শিক্ষক অবমাননার এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখতে এই ঘটনার একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। লেখক: সংবাদকর্মী

 

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে মাদকসহ ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: শুক্রবার (০৮ মে ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ মাদরা, হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় উইন কোরেক্স কফ সিরাপ, ঔষধ, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও শাড়ি আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার জানায়, মাদরা বিওপির পৃথক দুইটি বিশেষ আভিযানে কলারোয়া থানার উত্তর ভাদিয়ালী ও রাজপুর হতে ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ ও মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার হিজলদী বুজতলা ডারকি রোড হতে ৪০ হাজার ৮০০ টাকার ১০২ বোতল ভারতীয় উইন কোরেক্স কফ সিরাপ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শালবাগান হতে ৩০ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৫ লাখ ৩০ হাজার ৮০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।