সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটির পক্ষ থেকে একটি বিশ্লেষণ
মুক্তমত
ক্ষমা প্রার্থনা নাকি কৌশলী নতিস্বীকার?
ক্ষমা মহত্ত্বের গুণ হতে পারে, কিন্তু সেই প্রার্থনা যখন আসে পরাজয় নিশ্চিত জেনে কিংবা তীব্র আন্দোলনের মুখে, তখন তার নৈতিক ভিত্তি ও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলাম স্যারের সঙ্গে যে ধৃষ্টতা দেখানো হয়েছে, তা কেবল একটি সাধারণ ‘ভুল’ নয়; বরং শিক্ষক সমাজের প্রতি চরম অবমাননা।
সজীব বায়োলজি একাডেমী কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজীব যেভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছেন, তা কেবল ন্যাক্কারজনকই নয়, শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি বিপজ্জনক সংকেত। আজ পরিস্থিতির চাপে পড়ে তার এই ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যাওয়াকে সচেতন সমাজ ‘হৃদয়বদল’ হিসেবে মানতে নারাজ। একে বরং আইনি ও সামাজিক ব্যবস্থা থেকে নিজেকে বাঁচানোর একটি ‘কৌশলী নতিস্বীকার’ হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
শিক্ষকরা আমাদের আলোকবর্তিকা এবং পরম শ্রদ্ধেয় অভিভাবক। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের সম্মান রক্ষায় যে অভূতপূর্ব ঐক্য প্রদর্শন করেছে, তা এই জনপদের আপোষহীন মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ। সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি সবসময় প্রকৃতি ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে, আর একজন শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের আদর্শিক দায়িত্ব।
আমরা মনে করি, এই ক্ষমা প্রার্থনা যেন কেবল আত্মরক্ষার ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। এই ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য একটি কঠোর বার্তা হয়ে থাকা উচিতÑঅহংকার আর শিক্ষকদের অবমাননা করে কেউ কখনোই সম্মানের আসনে টিকে থাকতে পারে না।
শিক্ষকের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার যে চেষ্টা হয়েছে, তার বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজের এই রুখে দাঁড়ানোই বলে দেয়—দিনশেষে সত্য ও ন্যায়ের জয় সুনিশ্চিত। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এমন ধৃষ্টতা দেখানোর সাহস আর কেউ পাবে না।
-তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি






