শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

শিক্ষককে অপমান: ক্ষমা চাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
শিক্ষককে অপমান: ক্ষমা চাওয়া নিয়ে উত্তপ্ত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ

মুক্তমত

মো. হাফিজুল ইসলাম
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক শহিদুল ইসলামকে অপমানের ঘটনায় অভিযুক্ত কোচিং পরিচালকের ক্ষমা প্রার্থনা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে এই ক্ষমা প্রার্থনাকে ‘সুবিধাবাদী পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, শিক্ষককে অপমানের জেরে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ঘটনাটি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মোহাম্মদ শাহাজুদ্দীন। তিনি বলেন, “স্বেচ্ছায় অনুশোচনা থেকে ক্ষমা চাইলে তা মহত্ত্বের লক্ষণ হয়। কিন্তু শিক্ষকদের অপমান ও শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর অপরাধের পর বিপদে পড়ে ভোল পাল্টানো মূলত সুবিধাবাদ। এটি নৈতিক পরাজয় আড়াল করার একটি কৌশল মাত্র।”

ছাত্রদল নেতার মতে, সাধারণ শিক্ষার্থীরা সচেতন এবং তারা বোঝে কোনটি প্রকৃত অনুশোচনা আর কোনটি অস্তিত্ব রক্ষার অভিনয়।

গত বৃহস্পতিবার কলেজ চলাকালে কোচিং সেন্টার খোলা রাখা নিয়ে আপত্তি জানান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। অভিযোগ উঠেছে, এ কারণে ওই কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও একটি কোচিং সেন্টারের পরিচালক সজীব মুঠোফোনে শিক্ষকের সঙ্গে অত্যন্ত অশালীন ও উগ্র আচরণ করেন। পরবর্তীতে সেই কথোপকথনের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।

এর প্রতিবাদে গত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীরা সাতক্ষীরায় সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টারটি ঘেরাও করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কোচিং সেন্টার থেকে কম্পিউটার ও হার্ডডিস্ক জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেয়।

শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতা-কর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত পক্ষ থেকে আসা কথিত ক্ষমা প্রার্থনা ও পাল্টা বক্তব্য ঘিরে অনলাইন ও অফলাইনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

শিক্ষক অবমাননার এই ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে এখনো থমথমে পরিস্থিতি ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ও শিক্ষকের সম্মান বজায় রাখতে এই ঘটনার একটি দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রয়োজন। লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় সুর ও বাণীতে রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:১০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সুর ও বাণীতে রবীন্দ্রনাথের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী উদ্যাপন

পত্রদূত রিপোর্ট: ‘তোমারি গেহ-অঙ্গনতলে শুভ্র হর্ষে/ বিকশিত হোক জীবন নবীন বর্ষে’Ñ কবির এই প্রার্থনাকে পাথেয় করে সাতক্ষীরায় যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তী। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলার পাটকেলঘাটায় জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের আয়োজনে সুর, ছন্দ ও কবিতার আবহে স্মরণ করা হয় বাংলা সাহিত্যের এই ধ্রুবতারাকে।

অনুষ্ঠানের সূচনায় কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শিল্পী ও সুধীজনেরা। এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। সাতক্ষীরা জেলা রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে বক্তারা রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করেন।

বক্তারা বলেন, রবীন্দ্রনাথ কেবল একজন কবি নন; তিনি বাঙালি সত্তার আলোকবর্তিকা। তাঁর সাহিত্য ও দর্শন আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার ভিত্তি গড়ে দেয়। সংকটে, সংগ্রামে কিংবা প্রেম ও পূজায় রবীন্দ্রনাথ আজও আমাদের পরম আশ্রয়। নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রচর্চা ছড়িয়ে দেওয়া গেলেই একটি মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব।
সভায় বক্তৃতা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ জুনায়েদ আকবর, মাস্টার বিধান চন্দ্র দাস, গোবিন্দ লাল ঘোষ, উৎপল সাধু, অধ্যাপক দেব্রজিৎ মিত্র, অধ্যাপক আসাদুল হক, অধ্যাপক অরুণ রায় প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার রায়।

আলোচনা পর্ব শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। রবীন্দ্রনাথের ‘হৃদয় দিয়ে হৃদয়ের’ পরশ নিতে মঞ্চে একে একে রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন স্থানীয় শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট শিল্পীরা। গানের তালের সঙ্গে শৈল্পিক নৃত্যের মুদ্রা ও প্রিয় কবিতার দরাজ আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। কবি তন্দ্রা মুখার্জি ও তিমা ভট্টাচার্যসহ অন্যান্যদের পরিবেশনা পুরো অনুষ্ঠানস্থলে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ সংস্কৃতিমনা সুধীজন উপস্থিত ছিলেন। সুরের লহর আর রবীন্দ্র-স্মরণের মধ্য দিয়ে রাতের নিস্তব্ধতা যেন এক শান্তিনিকেতনী আবহে রূপ নেয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

কলারোয়ায় শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় শুরু হলো ৩ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা

কলারোয়া প্রতিনিধি: কলারোয়ার জালালাবাদ ইউনিয়নের বাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ময়দানে শুরু হলো তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। শুক্রবার বিকালে মেলার উদ্বোধন করেন বিএনপির প্রকাশনা সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

 

বিএনপি নেতা আব্দুর রহিমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল ইসলাম, কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এইচএম শাহীন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, কলারোয়া পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসুল, কলারোয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম, ইউপি সদস্য মশিয়ার রহমান, ব্যবসায়ী ইউনুস আলী, আব্দুস সালাম মধু, ছাত্রনেতা আসাদুজ্জামান, ফায়সাল হোসেন, আবু রায়হান প্রমূখ।

 

উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথিসহ অতিথিবৃন্দ মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস: মো. আসাদুজ্জামান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস: মো. আসাদুজ্জামান

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মোঃ আসাদুজ্জামান বলেছেন, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের জন্য এক নিরন্তর অনুপ্রেরণার উৎস। রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া বাঙালি জাতিসত্তা, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে কল্পনা করা যায় না।

তিনি শুক্রবার খুলনা ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণডিহি রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আলোচনার বিষয় ছিলো: ‘শান্তি ও মানবতার কবি রবীন্দ্রনাথ’।

মন্ত্রী বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেবল বাংলারই সম্পদ নন, বরং সাহিত্যপ্রেমী মানুষের হৃদয়ে অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আজও বেঁচে আছেন। তাঁর কালজয়ী সাহিত্যকর্ম যুগে যুগে মানুষের জীবনবোধ, মানবতা ও সৌন্দর্যচেতনার প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের মাঝে রবীন্দ্রপ্রেম ও সংস্কৃতিচর্চা ছড়িয়ে দিতে পারলে তরুণরা মাদক থেকে দূরে থেকে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকান্ডে আরও বেশি মনোনিবেশ করবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল হক, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্মারক বক্তৃতা করেন শিক্ষাবিদ ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ট্রেজারার অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুচি রানী সাহা। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও খুলনা জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।