কপিলমুনিতে বালি ব্যবসায়ীদের কারসাজি: প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা
কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনিতে বালি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ও নানা কারসাজিতে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ভবন বা যেকোনো অবকাঠামো নির্মাণের প্রধান উপকরণ হওয়ায় অসাধু ব্যবসায়ীদের ফাঁদে পড়ে প্রতিনিয়ত আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্রেতারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কপিলমুনিতে হাতে গোনা কয়েকজন ব্যবসায়ী পুরো বালি ব্যবসাকে কুক্ষিগত করে রেখেছেন। এখানে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন কামাল, আজমল ও তাঁদেরই এক কর্মচারী মিজানুর রহমান। ক্রেতারা এই প্রতারণা ধরতে পারলেও বিকল্প কোনো বিক্রেতা না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁদের কাছ থেকেই বালি কিনতে হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিনব সব প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। কোনো ক্রেতা বালির দামদর করে পছন্দ না হওয়ায় ফিরে এলে, তাঁর নামে উল্টো ১/২ ট্রলি বালির দাম বাকির খাতায় তুলে রাখা হয়। পরবর্তীতে হালখাতার কার্ড হাতে পেলে ক্রেতাদের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ক্রেতা অভিযোগ করেন, এক নম্বর মিষ্টি বালির অর্ডার দিলে অনেক সময় সরবরাহ করা হয় দুই নম্বরের সস্তা বালি। হিসাবের খাতায় কারচুপি তো রয়েছেই; ক্রেতাদের বাকির খাতায় সব সময় ৩/৪ ট্রলি বালির দাম বেশি লিখে রাখা হয়।
এর বাইরে রয়েছে মাপে কম দেওয়ার চতুর কৌশল। ৫০ ফুটের ট্রলির ব্যাস ৪৫ ফুট করে, সেখানে কৃত্রিমভাবে উচ্চতা বাড়িয়ে দেওয়া হয়। ফলে কাগজে-কলমে ক্রেতা যে পরিমাণ বালি কেনেন, বাস্তবে পান ৫ ফুট কম। আবার ভেজা বালি বিক্রি কিংবা বালিতে অতিরিক্ত পানি মিশিয়ে আয়তন বাড়িয়ে দেওয়া তো নিত্যদিনের ঘটনা। পানি শুকিয়ে যাওয়ার পর বালির আসল পরিমাণ অনেক কমে যায়, যা ক্রেতার সরাসরি লোকসান।
অভিযোগ রয়েছে, ভালো মানের মোটা বালির সঙ্গে সস্তা ও নি¤œমানের বালি কিংবা নদী থেকে তোলা পলিমাটিযুক্ত বালি মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে ভবনের স্থায়িত্ব মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে। বছরের পর বছর ধরে এই প্রতারণার ব্যবসা করে সিন্ডিকেটের সদস্যরা কোটিপতি বনে গেছেন। প্রশাসনের কোনো তদারকি না থাকায় তারা দিন দিন আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতা ও সাধারণ মানুষ।












