শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ১১:৪৪ অপরাহ্ণ
কমনওয়েলথ গেমসে যাচ্ছেন সাতক্ষীরার কৃতি সন্তান শিরিন আক্তার: জেলা প্রশাসকের শুভেচ্ছা

নিজস্ব প্রতিনিধি: স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আসন্ন ‘কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬’-এ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন দেশসেরা স্প্রিন্টার ও দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তার। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনের এই মেগা ইভেন্টে তার অংশগ্রহণের বিষয়টি সাতক্ষীরা জেলা তথা সমগ্র বাংলাদেশের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব।
জানা গেছে, কমনওয়েলথ গেমসে অংশ নিতে স্কটল্যান্ড যাত্রার পূর্বে বাংলাদেশের এই চৌকস অ্যাথলেট সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসকের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাৎকালে তিনি জেলা প্রশাসকের কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম মানবী শিরিন আক্তারকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক শিরিন আক্তারের এই গৌরবময় অর্জনের প্রশংসা করে বলেন, শিরিন আমাদের গর্ব। তিনি কেবল সাতক্ষীরা নয়, পুরো বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। আমাদের প্রত্যাশা, কমনওয়েলথ গেমসে তিনি বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা উড়িয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। সাক্ষাৎকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শিরিন আক্তারও তার এই অগ্রযাত্রায় জেলা প্রশাসনসহ দেশবাসীর সার্বিক সহযোগিতা ও দোয়া চেয়েছেন, যাতে তিনি দেশের জন্য সেরা সাফল্যটি ছিনিয়ে আনতে পারেন।

Ads small one

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ইতালির কড়া বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১২ অপরাহ্ণ
অবৈধ অভিবাসন নিয়ে ইতালির কড়া বার্তা

অবৈধ অভিবাসন নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছে ইতালি। ঢাকায় ইতালির দূতাবাস আজ শুক্রবার এ তথ্য জানায়।

দূতাবাস জানায়, ইতালি, গ্রিস ও সাইপ্রাস থেকে আসা বাংলাদেশি নাগরিকদের নিয়ে ইইউ ফ্রন্টেক্সের একটি ফ্লাইট আজ পাঠানো হয়েছে। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং বৈধ অভিবাসনের পক্ষে ইউরোপ। ইউরোপ অবৈধ আগমন এবং অবৈধ অবস্থানের সঙ্গে জিরো টলারেন্স।

দূতাবাস আরও জানায়, পাচারকারী, দালাল এবং চোরাকারবারিদের যথাযথ ভিসা ছাড়াই ইতালিতে যাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করা অবৈধ এবং এর ফলে শেনজেন দেশগুলো থেকে তাদের প্রত্যাবাসন এবং নিষিদ্ধ করা হবে।

খুলনায় নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করল ‘দ্য পালংকি’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
খুলনায় নতুন আঙ্গিকে যাত্রা শুরু করল ‘দ্য পালংকি’

খুলনা নগরীর ভোজনরসিকদের জন্য নতুন সংযোজন হিসেবে যাত্রা শুরু করেছে ‘দ্য পালংকি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’। নগরীর সোনাডাঙ্গা এলাকার মজিদ সরণিতে, গাজী মেডিকেল কলেজের বিপরীতে অবস্থিত আধুনিক এই প্রতিষ্ঠানটির উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে, এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন দৈনিক পূর্বাঞ্চল-এর সম্পাদক মোহাম্মদ আলী সনি ও দৈনিক খুলনাঞ্চল-এর সম্পাদক মিজানুর রহমান মিলটন।

আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ এবং খাবারে বৈচিত্র্য নিয়ে খুলনার রেস্টুরেন্ট অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করতে চায় ‘দ্য পালংকি’। নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় নতুন এই রেস্টুরেন্ট ও পার্টি সেন্টার চালুর ফলে খাবারপ্রেমীদের জন্য যুক্ত হলো রুচিশীল একটি স্থান। সুস্বাদু দেশি-বিদেশি খাবারের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আয়োজন, পারিবারিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক সমাবেশ আয়োজনের সুবিধাও থাকবে এখানে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, খুলনা নগরীতে মানসম্মত ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট এবং পার্টি সেন্টারের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এ প্রেক্ষাপটে ‘দ্য পালংকি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড পার্টি সেন্টার’-এর যাত্রা স্থানীয় খাবারপ্রেমী ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনকারীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
৮১ বছরে জাতিসংঘ: বিশ্ব চায় প্রতিশ্রুতির কার্যকর বাস্তবায়ন

নিকোলাস বিশ্বাস

২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস। ২০২৬ সালে বিশ্ব এমন এক সময়ে দিবসটি পালন করছে, যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা গভীর সংকটের মুখে। যুদ্ধ বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা সম্মিলিত উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করছে, মানবাধিকার সুরক্ষায় দেখা যাচ্ছে দ্বৈতনীতি এবং জলবায়ু সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করছে বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও আর্থিক চাপও টেকসই উন্নয়নের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা করা এবং সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করা। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার ৮১ বছর পরও এই লক্ষ্য সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তবে প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ও মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যকার ব্যবধান প্রশ্ন তুলছে—জাতিসংঘ কি তার প্রতিশ্রুতি পূরণে সক্ষম?

প্রতিনিধিত্ব ও কার্যকারিতার সংকট

বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। ভ্যাটিকান সিটি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্র জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য নয়; তারা পর্যবেক্ষক রাষ্ট্রের মর্যাদা ভোগ করছে। ১৯৪৫ সালে ৫১টি প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করা সংস্থাটিতে বাংলাদেশ যোগ দেয় ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর। সর্বশেষ সদস্যরাষ্ট্র দক্ষিণ সুদান, যা ২০১১ সালের ১৪ জুলাই জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।

সাধারণ পরিষদে প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্রের একটি করে ভোট থাকলেও বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব রাষ্ট্রের প্রভাব সমান নয়। বিশেষ করে নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোয় ক্ষমতার অসম বণ্টন স্পষ্ট। তাই প্রশ্নটি জাতিসংঘের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সংস্থাটি কতটা কার্যকর, প্রতিনিধিত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক হতে পারে, সেটিই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।

শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

বিশ্বে যুদ্ধ প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। অথচ ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের ভেটো ক্ষমতা প্রায়ই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে। যখন সম্মিলিত দায়িত্বের চেয়ে জাতীয় ও কৌশলগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়, তখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। পরিবার হারায় স্বজন, মানুষ হারায় ঘরবাড়ি, শিশুরা হারায় শিক্ষার সুযোগ এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।

শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া নয়; এর অর্থ নিরাপদে ঘরে ফেরা, ভয়মুক্ত জীবনযাপন এবং মর্যাদার সঙ্গে নতুন করে জীবন গড়ে তোলার সুযোগ পাওয়া। সংঘাত প্রতিরোধে আগাম সতর্কতা, কূটনৈতিক উদ্যোগ ও মধ্যস্থতা জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা পরিষদে স্বল্প প্রতিনিধিত্ব পাওয়া অঞ্চলগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ব্যাপক নৃশংসতার ঘটনায় ভেটো ব্যবহারে সংযম প্রতিষ্ঠা জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়োজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা।

বহুপাক্ষিকতায় আস্থা ফেরানো

জাতীয়তাবাদ, রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার অবক্ষয় বৈশ্বিক সহযোগিতাকে দুর্বল করছে। কিছু সরকার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের ওপর সীমাবদ্ধতা হিসেবে দেখে; অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো সব ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করে না। আস্থা পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমান ফলাফল। অন্যদের কাছে জবাবদিহি দাবি করা ক্ষমতাধর রাষ্ট্রগুলোকেও নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে এই বিতর্ক স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মাইলেই জাতিসংঘকে ‘অকার্যকর সংস্থা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সংস্থাটির কর্মকর্তাদের ‘অহংকারী পরজীবী’ বলে সমালোচনা করেন বলে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, জাতিসংঘ সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ নিরাপত্তা পরিষদে সব অঞ্চলের ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সংস্কারের আহ্বান জানান এবং স্থায়ী সদস্যদের ভেটো ক্ষমতা বিলুপ্ত করার পক্ষে মত দেন বলে আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মহামারি, জলবায়ু পরিবর্তন ও সাইবার হুমকি প্রমাণ করে, স্বার্থের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা অপরিহার্য। দায়িত্বশীল বহুপাক্ষিকতা জাতীয় স্বার্থকে অস্বীকার করে না; বরং তা সুরক্ষায় সহায়তা করে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জাতিসংঘের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হওয়া উচিত।

মানবাধিকার হতে হবে সর্বজনীন

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র মানুষের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও সমতার অভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে। কিন্তু এর বাস্তবায়ন এখনো অসম। কোনো কোনো সরকার সমালোচনা এড়াতে সার্বভৌমত্বের যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, নজরদারি, অনলাইন সেন্সরশিপ ও ডিজিটাল দমন-পীড়ন ব্যক্তি-স্বাধীনতার জন্য নতুন হুমকি তৈরি করছে।

রাজনৈতিক সুবিধা বিবেচনা না করে সর্বক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা করতে পারলেই জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে। বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও আইনের দৃষ্টিতে সমতা কোনো রাজনৈতিক সমঝোতার হাতিয়ার হতে পারে না। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।

টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক সংহতি

জাতিসংঘের ২০৩০ সালের এজেন্ডা ও ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা দারিদ্র্য, বৈষম্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও পরিবেশ সুরক্ষায় একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি করেছে। কিন্তু অর্থনৈতিক অভিঘাত, ঋণসংকট, অপর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন অগ্রগতিকে মন্থর করছে। পরিবেশগত সংকটে যাদের অবদান সবচেয়ে কম, অনেক ক্ষেত্রে তারাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য সহজলভ্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার, স্বল্পসুদে উন্নয়ন অর্থায়ন এবং অসহনীয় ঋণের বোঝা কমানো জরুরি। উন্নত দেশগুলোকে জলবায়ু বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব আর্থিক সহায়তার সমন্বয় ঘটাতে হবে।

তবে শুধু বৈদেশিক সহায়তাই যথেষ্ট নয়। জাতীয় নেতৃত্ব, সুশাসন ও জবাবদিহিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের দায়িত্ব হলো অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং উন্নয়নের সুফল যেন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করা।

ঘোষণার চেয়ে বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের প্রতিপাদ্য—‘আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন মোকাবিলা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’—বর্তমান চ্যালেঞ্জের সারকথা তুলে ধরে। মানুষের জীবনে দৃশ্যমান অগ্রগতিই আস্থা ফেরানোর প্রধান শর্ত। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, ফলাফলের জন্য জবাবদিহি এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা জনসেবা উন্নত করতে পারে, তবে এর ব্যবহার মানবাধিকার ও স্বচ্ছতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি।

সদস্যরাষ্ট্রগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, তরুণ প্রজন্ম, গবেষক ও সাংবাদিকদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোর উচিত শুধু আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশগ্রহণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ন্যায্য বৈশ্বিক নিয়ম প্রতিষ্ঠা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

মানবতার প্রতি নতুন অঙ্গীকার

জাতিসংঘ দিবস কেবল বার্ষিকী উদ্‌যাপনের দিন নয়; বরং প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবতার ব্যবধান পর্যালোচনার উপলক্ষ। জাতিসংঘ নিখুঁত কোনো প্রতিষ্ঠান নয়, কিন্তু রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনা ও সমঝোতার জন্য একটি অভিন্ন বৈশ্বিক মঞ্চের প্রয়োজন অনস্বীকার্য। বহুপাক্ষিক সহযোগিতা পরিত্যাগ করলে বৈশ্বিক সংকট দূর হবে না; বরং সেগুলো মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

৮১ বছরে পদার্পণ করা জাতিসংঘের প্রয়োজন প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শের প্রতি নতুন অঙ্গীকার, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন এবং সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেওয়ার মানসিকতা। এর সাফল্য নির্ধারিত হবে শুধু গৃহীত প্রস্তাব দিয়ে নয়; বরং যুদ্ধের দুর্ভোগ কমছে কি না, মানবাধিকার সুরক্ষিত হচ্ছে কি না, উন্নয়নশীল দেশগুলো ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছে কি না এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী নিশ্চিত হচ্ছে কি না—তার ভিত্তিতে।

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বারহাম সালিহের বক্তব্যের মর্মার্থ হলো, ‘শান্তির পরিমাপ শুধু স্বাক্ষরিত চুক্তির মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের জীবনে আসা পরিবর্তনের মাধ্যমেও করতে হবে।’ বিশ্বের প্রয়োজন এমন একটি জাতিসংঘ, যা কেবল মুষ্টিমেয় মানুষের স্বার্থে নয়, বরং সবার জন্য কাজ করবে এবং বাস্তব ফলাফল নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকবে।

লেখক পরিচিতি: নিকোলাস বিশ্বাস একজন ফ্রিল্যান্স গণমাধ্যমকর্মী এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত।
যোগাযোগ: gonomaddzam@gmail.com