কয়রায় গুম মামলার আসামীর সংবাদ সম্মেলন, দাবী মামলা মিথ্যা
কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের আল আমিন সরদারকে গুমের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন তার স্ত্রী রাবেয়া খাতুন। এই মামলায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। মামলার আসামিরা এটিকে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দাবি করলেও বাদীর দাবী তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে গুম করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়রা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন গুম মামলার আসামি বিল্লাল সরদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আল আমিন দীর্ঘদিন সুন্দরবনকেন্দ্রীক দস্যুতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আত্মসমর্পণের পর আবারও তিনি দস্যুতায় ফিরে যান।
বিল্লাল সরদার জানান, গত ১৬ এপ্রিল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আল আমিনের স্ত্রী রাবেয়া খাতুন একটি গুমের মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় বিল্লাল সরদার, তার ভাইসহ সাতজনকে আসামি করা হয়।
তার ভাষ্য, বর্তমানে আল আমিন কোথায় আছেন, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। পরিকল্পিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ এনে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
তিনি মামলায় মনগড়া তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগ তুলে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত আব্দুল হান্নান দাবি করেন, কয়েক মাস আগে সুন্দরবনে মাছ ধরার সময় আল আমিন তাকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে গুলি করে আহত করা হয়। পরে কোস্ট গার্ডের সহায়তায় তিনি বাড়ি ফেরেন। এ ঘটনায় একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল গণি ও মিজানুর রহমান খোকন মন্তব্য করেন, বিল্লাল সরদার ও অন্য আসামিরা নিরীহ মানুষ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন আবার সুন্দরবনে গিয়ে দস্যু কর্মকান্ড শুরু করেন। হয়রানির উদ্দেশ্যে তার স্ত্রী মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন বলেও অভিযোগ তোলেন তারা।
অন্যদিকে মামলার বাদী রাবেয়া খাতুন দাবি করেন, তার স্বামী আল আমিন ২০১৮ সালে আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বিল্লাল সরদার ও আব্দুল হান্নান তাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করতেন। তাদের অত্যাচারের কারণেই তিনি আবার দস্যু কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।
রাবেয়ার অভিযোগ, কয়েক মাস আগে আব্দুল হান্নানের পায়ে গুলির ঘটনার জেরে বিল্লাল ও তার ভাইসহ কয়েকজন পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে গুম করেছেন।
তিনি জানান, নিখোঁজ হওয়ার এক দিন আগেও স্বামীর সঙ্গে তার কথা হয়েছিল। সন্তানদের কথা ভেবে আল আমিন আবার স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। এর পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আল আমিন সুন্দরবনের জাহাঙ্গীর বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফের দস্যুতায় সক্রিয় হন। কয়েক মাস আগে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি জাহাঙ্গীর বাহিনী ছেড়ে ‘আল আমিন বাহিনী’ নামে পৃথক একটি দল গঠন করে বনজীবীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এক মাস আগে আল আমিনের মরদেহ নদীতে ভাসতে দেখা গেছে বলে এলাকায় গুঞ্জন ওঠে। তবে পুলিশ ও স্বজনদের খোঁজাখুঁজির পরও এখন পর্যন্ত কোনো মরদেহ উদ্ধার হয়নি।









