বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সুন্দরবনের নানাভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের অস্ত্রসস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৫৫ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনের নানাভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জনের অস্ত্রসস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: সুন্দরবনের নানা ভাই বাহিনীর প্রধানসহ ১২ জন সক্রিয় জলদস্যু কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। এসময় উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনের সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূল এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ অদ্যাবধি ২৯ জন বনদস্যুকে আটক করা হয়। এসময় দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা মোট ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা প্রদান শেষে নিরাপদে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তরর করা হয়।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক ও সফল অভিযানের ফলে সুন্দরবনে সক্রিয় বিভিন্ন দস্যু বাহিনী বর্তমানে ব্যাপকভাবে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে এবং দস্যুরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যর্থ হচ্ছে। ফলশ্রুতিতে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩ জন সক্রিয় সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য ইতোমধ্যে অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে। এ প্রেক্ষিতে গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকাল ৬ টায় বাগেরহাটের মোংলা থানাধীন সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে।

 

এসময় তাদের কাছে থাকা ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হেমার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রী গ্যাস গান, ২টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার, ২টি এয়ার গান, ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল বল, ০৫ রাউন্ড ৮ মি.মি. তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগান গোলা, ৪ টি পিস্তল ম্যাগাজিন, ২ টি এয়ারগান ম্যাগাজিন ও চার্জারসহ ৬টি ওয়াকিটকি কোস্ট গার্ডের নিকট জমা প্রদান করে।

আত্মসমর্পণকারী ডাকাত জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬)। এরা সবাই খুলনা জেলার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া থানার বাসিন্দা।

 

এছাড়া শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজি (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার বাসিন্দা এবং আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাট জেলার রামপাল থানার বাসিন্দা। নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে তারা দীর্ঘদিন যাবৎ সুন্দরবনে ডাকাতিসহ সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল।

জব্দকৃত অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আত্মসমর্পণকারী ডাকাতদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাসহ পরবর্তী আইনানুগ কার্যব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সুন্দরবনের সকল সক্রিয় বনদস্যুকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। আত্মসমর্পণকারীদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যারা অপরাধমূলক কর্মকান্ড অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকারের নির্দেশনা, আপনাদের সকলের সহযোগিতা এবং অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানকে দেখতে যান জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় তার বাসভবনে নেতৃবৃন্দ তার শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আশু আরোগ্য কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদি, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল।

এছাড়াও জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলের কাছে অসুস্থ নেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় মানবাধিকার কর্মী আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আবারও প্রতারণার মাধ্যমে তিনলক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সু’বিচার পেতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআঁচড়ার আ.ফ.ম. নিছার আলীর ছেলে ও বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের বাসিন্দা। আসাদের নামে যশোর ও ঝিনাইদহ আদালতে তিনটি মামলা চলোমান ও শার্শা থানায় দুটি চাঁদাবাজি এবং একটি খুন জখমের অভিযোগসহ ছয়টি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নতুন মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান আসাদ ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার আসাননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চার লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশে (মালয়েশিয়ায়) বৈধ ভিসায় মোটা টাকা বেতনের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বিদেশে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর তার বাড়িতে বসে “আসাদুজ্জামান আসাদকে” প্রথম ধাপে বিদেশে যাওয়ার জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নগত তিন লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

 

আসাদ সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ঐ তিন লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। মামলার কপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইটের দিন ০১ এপ্রিল ২৬ তারিখে বাকী এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আসাদকে দিতে হবে। আর যদি ইংরেজি ০১ এপ্রিল তারিখের মধ্যে অভিযুক্ত আসাদ ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইংরেজি ০১ মে তারিখের মধ্যে তিন লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন। কিন্তু উক্ত তারিখের মধ্যে ভুক্তভোগীকে মালয়েশিয়া পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় আসাদকে দেওয়া তিনলক্ষ টাকা ফেরত চাইলে, তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন সুবিচার প্রার্থনা করে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলী আদালত, ঝিনাইদহে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ধারা- ৪০৬/৪২০/৫০৬ (২) দঃ বিঃ আইন।

কেশবপুর শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ অপরাহ্ণ
কেশবপুর শিক্ষকের বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা চুরি

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুরে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা বসতবাড়ির দ্বিতীয় তলায় ঢুকে পরিবারের সদস্যদের চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগ করে অচেতন করে ফেলে। পরবর্তীতে তারা আলমারি ভেঙে মেয়ের বিয়ের জন্য রাখা প্রায় ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ২ লাখ টাকা এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়।

সূত্রে জানাগেছে, চুরি শেষে দুর্বৃত্তরা পাশের একটি আমবাগানে বসে খালি গহনার প্যাকেটগুলো ফেলে রেখে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়। বর্তমানে মাস্টার আব্দুস সাত্তার ও তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সাতক্ষীরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেশবপুর উপজেলায় প্রায়ই একইভাবে চেতনানাশক স্প্রে করে চুরির ঘটনা ঘটছে। গত কয়েক বছর ধরে উপজেলার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্তর মূল চক্রকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। চিংড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই শামীম হোসাইন বলেন, ঘটনার পর পুলিশ আলামত সংগ্রহ করেছে এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত কৌশল ও ফেলে যাওয়া প্যাকেটগুলো পর্যালোচনা করছে।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রোকসানা খাতুন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্তর গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অপরাধী চক্রটিকে শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছে।