শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
কানাডায় ববিতার ৩৬ ঘণ্টার সড়ক ভ্রমণ, সঙ্গে ছিলেন রাজ্জাকের ছেলে

কানাডায় ছেলে অনীকের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন চিত্রনায়িকা ববিতা। এর মধ্যে নায়ক রাজ্জাকের ছেলে বাপ্পী ও তার পরিবারের সঙ্গেও বেশ কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ হয়েছে তার।

ঘরোয়া আড্ডার পাশাপাশি বাপ্পীর সঙ্গে ৩৬ ঘণ্টার দীর্ঘ সড়ক ভ্রমণও করেছেন এই অভিনেত্রী।

ববিতা জানান, বাপ্পী ১৮ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়ে তাকে নিয়ে কুইবেকে যান। সেখানে ঘোরাঘুরির পর তারা যান গেসপারে। একদিকে সমুদ্র, অন্যদিকে পাহাড়—প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য মুগ্ধ করেছে তাকে। পরে আরও ১৮ ঘণ্টার পথ পাড়ি দিয়ে তারা ফিরে আসেন।

এই দীর্ঘ যাত্রায় গল্প, স্মৃতি আর আনন্দে কেটেছে সময়। ববিতা বলেন, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের শব্দ এখনও কানে বাজে। সমুদ্রের কাছে প্রচণ্ড ঠান্ডা ছিল। তারপরও সবাই মিলে খুব উপভোগ করেছি। যেতে যেতে কত গল্প করেছি, ফেরার সময়ও গল্প করতে করতে ফিরেছি।’

 

বাপ্পীর সঙ্গে ববিতার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের পারিবারিক। প্রতিবছর কানাডায় যাওয়ার আগে বাপ্পী তাকে ফোন করে জানতে চান কবে আসছেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

বাপ্পীর দুই সন্তান দাদাভাই রাজ্জাককে নিয়ে নানা গল্প শুনতে আগ্রহী। তাদের সঙ্গে আড্ডায় পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ করেন ববিতা। রাজ্জাকের বিপরীতে অভিনয় এবং তার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমায় কাজের অভিজ্ঞতাও ভাগ করে নেন তিনি।

বাপ্পীর বাসায় কয়েক দিন কাটিয়ে আবার ছেলে অনীকের কাছে ফিরবেন ববিতা। নভেম্বরে দেশে ফেরার আশা করছেন এই অভিনেত্রী।

Ads small one

বিশ্ব ডলফিন দিবস: নীল পৃথিবীর বুদ্ধিমান জলজ প্রহরীদের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ডলফিন দিবস: নীল পৃথিবীর বুদ্ধিমান জলজ প্রহরীদের আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ডলফিন দিবস। পৃথিবীর অন্যতম বুদ্ধিমান, সামাজিক ও সংবেদনশীল প্রাণী ডলফিনের সংরক্ষণ, তাদের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে দিবসটি পালিত হয়। ১২ সেপ্টেম্বরের বিশ্ব ডলফিন দিবসের পেছনে রয়েছে এক বেদনাদায়ক ইতিহাস। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের অধীনস্থ ফারো দ্বীপপুঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিন্ড’ শিকারের নামে একদিনে ১,৪২৮টি আটলান্টিক হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন হত্যা করা হয়। এটিকে ইতিহাসের বৃহত্তম একক ডলফিন হত্যাকা- হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিশ্বব্যাপী ডলফিন সংরক্ষণের দাবি জোরদার করতে সামুদ্রিক সংরক্ষণ সংস্থা ‘সি শেফার্ড গ্লোবাল’ ২০২২ সালে এ দিবসের সূচনা করে।

ডলফিন মাছ নয়, তারা স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানুষের মতোই তারা ফুসফুসের মাধ্যমে বাতাসে শ্বাস নেয়, জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয় এবং শাবকদের দুধ পান করিয়ে লালন-পালন করে। পৃথিবীতে প্রায় ৪০টির কাছাকাছি ডলফিন প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সামুদ্রিক। ডেলফিনিডি পরিবারভুক্ত এসব প্রাণীর মধ্যে বোতলনোজ ডলফিন, স্পিনার ডলফিন, কমন ডলফিন এবং ওড়কা বা কিলার হোয়েল বিশেষভাবে পরিচিত। অনেকেই অবাক হন জেনে যে কিলার হোয়েল আসলে তিমি নয়, বরং ডলফিন পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য। প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের গড় আয়ু ৩০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই ডলফিনকে প্রাণিজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি ডলফিনের নিজস্ব স্বতন্ত্র শিসধ্বনি রয়েছে, যা অনেকটা মানুষের নামের মতো কাজ করে। কোনো ডলফিন তার নিজস্ব শিসধ্বনি শুনলে সাড়া দেয়। সামাজিক সম্পর্ক, শিকার এবং দলগত যোগাযোগে এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডলফিন সাধারণত ‘পড’ নামে পরিচিত দলে বসবাস করে। একটি পডে কয়েকটি থেকে শুরু করে শত শত, কখনও কখনও হাজার হাজার ডলফিনও থাকতে পারে। আহত বা অসুস্থ সদস্যকে সহায়তা করা, সন্তান জন্মের সময় সহযোগিতা করা এবং দলবদ্ধভাবে শিকার করা তাদের উন্নত সামাজিক আচরণের প্রমাণ বহন করে।

ডলফিন শুধু আকর্ষণীয় প্রাণী নয়; তারা জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর ডলফিনকে বিজ্ঞানীরা ‘কিস্টোন স্পিসিজ’ এবং ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ, কোনো নদী বা সমুদ্রে ডলফিনের উপস্থিতি সেই পরিবেশের সুস্থতার অন্যতম সূচক। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ পর্যায়ের শিকারি হিসেবে তারা মাছ ও স্কুইডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ডলফিন না থাকলে কিছু প্রজাতির মাছ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রফিক ক্যাসকেড’ বলে অভিহিত করেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ডলফিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উঠে এসেছে। তারা গভীর সমুদ্র থেকে খাদ্য গ্রহণ করে উপরের স্তরে মলত্যাগ করে, যা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের জন্য পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পৃথিবীর মোট অক্সিজেন উৎপাদনের একটি বড় অংশে অবদান রাখে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে ডলফিন সংরক্ষণ কেবল জীববৈচিত্র্যের বিষয় নয়; এটি জলবায়ু সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবুও আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন মারাত্মক হুমকির মুখে। প্লাস্টিক দূষণ, শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক দূষণ, তেল দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নৌযানের শব্দদূষণ, নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়াÑসব মিলিয়ে তাদের অস্তিত্ব সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ‘বাইক্যাচ’ বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ডলফিন মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র এবং চলাচলের পথও মানবিক কর্মকা-ের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ হলো ২০১০ সালের ডিপওয়াটার হরাইজন তেল দুর্ঘটনা। মেক্সিকো উপসাগরে প্রায় ১৩৪ মিলিয়ন গ্যালন অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ার ১৫ বছর পরও লুইজিয়ানার বারাটারিয়া উপসাগরের বটলনোজ ডলফিনদের মধ্যে ফুসফুসের রোগ, উচ্চ মৃত্যুহার, প্রজনন ব্যর্থতা এবং শারীরিক দুর্বলতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।আইইউসিএন, এনওএএ বা ডাব্লিউডাব্লিউএফ গবেষকদের মতে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের ক্ষতি কখনও কখনও কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের গোলাপি নদী ডলফিনও আরেকটি উদ্বেগজনক সংকটের মুখে রয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম বলে ধারণা করা হয়। অবৈধ শিকার, মাছ ধরার জাল এবং তথাকথিত ‘পুসাঙ্গা’ নামের প্রেমের ওষুধ তৈরিতে ডলফিনের তেল ও দেহাংশ ব্যবহারের কুসংস্কার এই বিরল প্রাণীটির অস্তিত্বকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশও ডলফিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। সুন্দরবন অঞ্চলে গাঙ্গেয় শুশুক ও ইরাবতী ডলফিনের আবাসস্থল রক্ষায় ধানমারী, চাঁদপাই এবং দুধমুখী ডলফিন অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন অধিদপ্তর ও ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভয়ারণ্য দেশের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নদী দূষণ, নৌযানের চাপ এবং জালে আটকে পড়ার ঘটনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

ডলফিন রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; বরং সমুদ্র, নদী, মৎস্যসম্পদ, জলবায়ু এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। পৃথিবীর এই বুদ্ধিমান প্রহরীরা সৃষ্টি থেকেই জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাস্তুতন্ত্র, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবন ও অর্থনীতির ওপরও পড়বে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই মৎস্যব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদার করার মধ্য দিয়েই ডলফিনের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। আজ বিশ্ব ডলফিন দিবসে এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

বিষে বিপন্ন কৃষি/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
বিষে বিপন্ন কৃষি/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি কৃষি। অথচ সেই কৃষিই আজ এক গভীর বৈপরীত্যের মুখোমুখি। বাংলাদেশ বিশ্বের ১৬০টির বেশি দেশে ওষুধ রপ্তানি করে। হাজার হাজার কোটি টাকার ওষুধ বিদেশে পাঠিয়ে আমাদের ওষুধশিল্প আন্তর্জাতিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। অথচ কৃষির অপরিহার্য উপকরণ কীটনাশকের চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশই পূরণ করতে হয় আমদানির মাধ্যমে। রোগ সারানোর ওষুধ তৈরিতে আমরা সক্ষমতা অর্জন করলেও খাদ্য উৎপাদনের রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় উপকরণ তৈরিতে সেই সক্ষমতা কেন গড়ে উঠল নাÑএ প্রশ্ন এখন গুরুত্বের সঙ্গে ভাবার সময় এসেছে।তবে সংকট শুধু আমদানিনির্ভরতার নয়।

 

এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কৃষি উৎপাদন, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্যের প্রশ্ন। ফসল রক্ষায় কীটনাশক প্রয়োজনীয় হাতিয়ার হলেও অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কৃষিকে এমন এক রাসায়নিকনির্ভর ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যার ক্ষতি বহন করতে হচ্ছে কৃষক, ভোক্তা ও পরিবেশÑতিন পক্ষকেই।গত কয়েক দশকে দেশে কীটনাশকের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে দেশে বালাইনাশকের ব্যবহার ছিল প্রায় ৪ হাজার টন। ১৯৮০ সালে তা বেড়ে ৫ হাজার টন এবং ২০০০ সালে প্রায় ৮ হাজার টনে দাঁড়ায়। ২০২২ সালে ব্যবহার বেড়ে হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ কয়েক দশকে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ।কৃষি উৎপাদন বাড়লে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণে কীটনাশকের ব্যবহার কিছুটা বাড়তেই পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমরা কি প্রয়োজন অনুযায়ী তা ব্যবহার করছি? নাকি কৃষির রোগবালাই মোকাবিলায় রাসায়নিকই হয়ে উঠছে প্রথম ও প্রধান সমাধান?এর পেছনে কৃষকের বাস্তবতাও রয়েছে। রোগবালাইয়ের আক্রমণে একবার ফসল নষ্ট হলে পুরো মৌসুমের শ্রম, সময় ও বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়ে। তাই ফসল বাঁচাতে কৃষক দ্রুত কীটনাশকের আশ্রয় নেন।

 

কিন্তু কোন রোগে কোন ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কতবার প্রয়োগ করতে হবেÑএসব বিষয়ে অনেক কৃষকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নেই। ফসল সংগ্রহের কতদিন আগে কীটনাশক প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে, সে বিষয়েও অনেক সময় যথেষ্ট সচেতনতা থাকে না।ফলে কোথাও কোথাও কৃষি কর্মকর্তার পরিবর্তে কীটনাশক বিক্রেতাই হয়ে ওঠেন কৃষকের পরামর্শদাতা। এখানেই তৈরি হয় স্বার্থের সংঘাত। কৃষকের প্রয়োজন আর বিক্রেতার ব্যবসায়িক স্বার্থ এক নয়। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি কীটনাশক ব্যবহার এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হয়।

কীটনাশকের বাজারও ছোট নয়। সংশ্লিষ্ট সংগঠনের হিসাবে, দেশে বর্তমানে কীটনাশকের বাজার প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার। এর প্রায় ৫৫ শতাংশ, অর্থাৎ ৪ হাজার ১২৫ কোটি টাকার বাজার সাতটি বহুজাতিক কোম্পানির হাতে। স্থানীয় আমদানিকারকেরা চাহিদার প্রায় ৪১ শতাংশ বা ৩ হাজার ৭৫ কোটি টাকার কীটনাশক আমদানি করেন। আর দেশীয় উৎপাদনকারীদের হিস্যা মাত্র ৪ শতাংশ, প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যান শুধু একটি বড় ব্যবসায়িক বাজারের চিত্র নয়; এর সঙ্গে কৃষিনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জড়িত।

 

কৃষির এত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের বাজারে দেশীয় উৎপাদনের অংশ এত কম কেন? আমাদের ওষুধশিল্প যদি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারে, তাহলে কৃষির জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন বালাইনাশক তৈরিতে গবেষণা ও উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ আরও জোরালো হবে না কেন?অবশ্য কীটনাশক উৎপাদন ও ওষুধ উৎপাদন এক বিষয় নয়। বালাইনাশকের কার্যকারিতা, রাসায়নিক উপাদান, পরিবেশগত প্রভাব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর গবেষণা ও মাননিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। তাই দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মান ও নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

সবচেয়ে বড় উদ্বেগ জনস্বাস্থ্য নিয়ে। কৃষকের জমিতে প্রয়োগ করা কীটনাশক শুধু জমিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। এর অবশিষ্টাংশ ফসল, মাটি ও পানির মাধ্যমে খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করতে পারে। অতিরিক্ত বা ভুলভাবে ব্যবহৃত কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। ফলে নিরাপদ খাদ্যের প্রশ্নটি এখন কৃষি উৎপাদনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।আমাদের তাই প্রশ্ন করতে হবেÑআমরা কি শুধু বেশি খাদ্য উৎপাদন করতে চাই, নাকি নিরাপদ খাদ্যও উৎপাদন করতে চাই?খাদ্যনিরাপত্তার অর্থ শুধু দেশের মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা নয়; সেই খাদ্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর হওয়াও জরুরি।

 

মাঠে ফলন বাড়ল, বাজারে সবজি ও ফলের সরবরাহ বাড়লÑকিন্তু সেই খাদ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিকের অবশিষ্টাংশ থাকলে উৎপাদনের সাফল্যকে পূর্ণাঙ্গ সাফল্য বলা যায় না।পরিবেশের ওপর কীটনাশকের প্রভাবও কম নয়। অতিরিক্ত কীটনাশক মাটির উপকারী জীবাণু ও পোকামাকড়ের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জলাশয়ে রাসায়নিক মিশলে মাছ ও জলজ জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ক্ষতিকর পোকার পাশাপাশি উপকারী পোকা ধ্বংস হওয়ায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে কীটপতঙ্গের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি কীটনাশকের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

 

এই বিপজ্জনক চক্র থেকে বের হওয়ার অন্যতম পথ হলো সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা। কীটনাশক পুরোপুরি বাদ দেওয়ার কথা নয়; বরং যেখানে প্রয়োজন, সেখানে সঠিক ওষুধ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধী জাত, জৈবিক নিয়ন্ত্রণ, ফেরোমোন ফাঁদ, আলোক ফাঁদ ও যান্ত্রিক পদ্ধতির মতো পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বালাইনাশক নিবন্ধন, লাইসেন্স প্রদান, মান নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন-বিক্রয়-ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।

 

মানহীন কীটনাশকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও বলা হয়েছে। তবে শুধু নীতি ঘোষণা করলেই হবে না, মাঠপর্যায়ে তার কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বাজারগুলোতে নিয়মিত তদারকি বাড়াতে হবে। কোনো কীটনাশক নিবন্ধিত কি না, মেয়াদ আছে কি না, প্যাকেটের নির্দেশনা সঠিক কি না এবং নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়েছে কি নাÑএসব পরীক্ষা করা জরুরি। ভেজাল বা মানহীন পণ্য বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কার্যকর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।একই সঙ্গে কৃষককে দায়ী করার আগে তাকে প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও বিকল্প দিতে হবে। কোনো কৃষক যদি না জানেন কোন রোগে কতটুকু কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়, তাহলে শুধু তাঁর ওপর দায় চাপানো ন্যায় সংগত নয়।

 

ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। কৃষিপণ্যে কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ পরীক্ষার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। শুধু আমদানিকৃত কীটনাশকের মান পরীক্ষা করলেই হবে না; বাজারে আসা কৃষিপণ্যও নিয়মিত পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। কোন অঞ্চলে কোন ফসলে কী ধরনের রাসায়নিক বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে, কোথায় ঝুঁকি বেশিÑএসব তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি গড়ে তুলতে হবে। দেশের সামনে একটি বড় সুযোগও রয়েছে।

 

জলবায়ু পরিবর্তন, মাটির স্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই কৃষির গুরুত্ব বিশ্বজুড়ে বাড়ছে। কম রাসায়নিক ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন এবং আধুনিক সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনায় বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের বাজারও সম্প্রসারিত হতে পারে।টেকসই কৃষি মানে শুধু বেশি ফলন নয়। কৃষকের আয় বাড়ানো, উৎপাদন ব্যয় কমানো, মাটির উর্বরতা রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভোক্তার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই টেকসই কৃষির মূল লক্ষ্য। তাই এখন সময় এসেছে কীটনাশক ব্যবহারের পুরো ব্যবস্থাকে নতুন করে দেখার।

 

কোন কোম্পানি কী আমদানি করছে, কী উৎপাদন করছে, কীভাবে বাজারজাত করছে, কৃষককে কী পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত সেই রাসায়নিকের প্রভাব কোথায় গিয়ে পড়ছেÑসবকিছুকে সমন্বিত নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দেশীয় গবেষণা ও উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। আমাদের ওষুধশিল্প বিশ্বের বহু দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারলে কৃষির জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন বালাইনাশক তৈরির সক্ষমতা গড়ে তোলাও অসম্ভব নয়। তবে সেই উদ্যোগ হতে হবে গবেষণাভিত্তিক, পরিবেশসম্মত ও কৃষকবান্ধব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কৃষককে কৃষিনীতি ও সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে রাখা। কারণ কীটনাশকের দাম কৃষক দেন, অতিরিক্ত ব্যবহারের ক্ষতি কৃষক বহন করেন, খাদ্যে অবশিষ্টাংশের ঝুঁকি ভোক্তা বহন করেন এবং পরিবেশগত ক্ষতির বোঝা বহন করে পুরো সমাজ।

 

তাই কীটনাশকের সংকট কোনো একটি মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর কিংবা কৃষকের একার সমস্যা নয়। এটি অর্থনীতি, কৃষি, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্যনিরাপত্তার সম্মিলিত সংকট। মনে রাখতে হবেÑকৃষকের জমিতে যে রাসায়নিকের যাত্রা শুরু হয়, তার শেষ হতে পারে মানুষের খাবারের টেবিলে। তাই কৃষি উৎপাদনের সাফল্য তখনই অর্থবহ হবে, যখন সেই উৎপাদন হবে নিরাপদ, টেকসই এবং কৃষকের জন্য লাভজনক। কীটনাশক হবে প্রয়োজনের উপকরণÑকৃষির নিয়ন্ত্রক নয়। এই নীতিই হতে পারে নিরাপদ খাদ্য ও টেকসই কৃষির পথে বাংলাদেশের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

লেখক: সাংবাদকর্মী

সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই, বিভিন্ন সংগঠনের শোক

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার সংবাদ অঙ্গনের পরিচিত মুখ, দৈনিক পত্রদূতের নিজস্ব প্রতিনিধি ও সাতক্ষীরা জেলা ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল আলিম আর নেই। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর রাজধানী ঢাকার ডক্টর সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।

ফুসফুসে বাতাস প্রবেশের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে তাঁকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে দ্রুত ঢাকায় নেওয়া হয়। শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর ফুসফুসে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করে। তবে অস্ত্রোপচার-পরবর্তী নিবিড় পরিচর্যায় থাকা অবস্থায় সন্ধ্যায় হঠাৎ খিঁচুনি উঠে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

দীর্ঘ পেশাগত জীবনে শেখ আব্দুল আলিম দৈনিক পত্রদূতের পাশাপাশি দৈনিক সদ্যখবর ও দৈনিক সাতক্ষীরা চিত্র পত্রিকায় সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পাশাপাশি মানুষের শিক্ষা ও চিকিৎসায় নিঃস্বার্থ সহায়তা প্রদান করে তিনি বহুজনের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন।

তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ, ব্যবসায়ী মহল ও সুশীল সমাজের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও সহকর্মীরা এক গভীর বেদনাবিধুর পরিবেশে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন।

দৈনিক পত্রদূত পরিবারের শোক: সাংবাদিক শেখ আব্দুল আলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে দৈনিক পত্রদূত পরিবার। পত্রদূত পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা এবং মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের শোক: শেখ আব্দুল আলিমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বিবৃতি দিয়েছেন, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সহ-সভাপতি আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম. শাহীন গোলদার, অর্থ সম্পাদক শেখ ফরিদ আহমেদ ময়না, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আকরামুল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক মাসুদুজ্জামান সুমন, নির্বাহী সদস্য যথাক্রমে এড. খায়রুল বদিউজ্জামান, আবু তালেব, কাজী জামালউদ্দিন মামুন, আব্দুস সামাদ, আসাদুজ্জামান সরদার।

 

জেলা জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশনের শোক: সাংবাদিক আব্দুল আলিমের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরা জেলা জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন। বিবৃতিদাতারা হলেন, সংগঠনের সভাপতি শেখ রেজাউল ইসলাম বাবলু, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আজম খান মামুন, সহ-সভাপতি আহাদুর রহমান জনি, মারুফ আহমেদ খান শামীম, মোহাম্মদ মুজাহিদ এবং শেখ হাসান গফুর।
এছাড়াও শোক জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আক্তারুল ইসলাম, মো. ইদ্রিস আলী, শাহ নেওয়াজ মৃণাল, আরিফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ, আতাউর রহমান, জাহাঙ্গীর সরদার, গাজী হাবিব, আলমগীর হোসেন ও মো. কামাল হোসেনসহ অন্যান্য সাংবাদিকবৃন্দ।

জেলা সাংবাদিক ফোরামের শোক: সাতক্ষীরা জেলা সাংবাদিক ফোরাম (রেজিঃ নং ৫৮৩) এর পক্ষ থেকে বিবৃতিদাতারা হলেন, সংগঠনের সভাপতি মোঃ শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক শেখ আমিনুর হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশাররফ হোসেন আব্বাস, যুগ্ম-সম্পাদক শেখ বেলাল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দীন, অর্থ সম্পাদক মোতাহার নেওয়াজ মিনাল, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম আক্কাজ, কার্যনির্বাহী সদস্য আনিছুর রহমান তাজু, আরীফ মাহমুদ, মোঃ আব্দুল মতিন, মোঃ জিয়াউর রহমান জিয়া ও এএইচএম তুমু।