শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩

বিশ্ব ডলফিন দিবস: নীল পৃথিবীর বুদ্ধিমান জলজ প্রহরীদের আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৮ অপরাহ্ণ
বিশ্ব ডলফিন দিবস: নীল পৃথিবীর বুদ্ধিমান জলজ প্রহরীদের আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

১২ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ডলফিন দিবস। পৃথিবীর অন্যতম বুদ্ধিমান, সামাজিক ও সংবেদনশীল প্রাণী ডলফিনের সংরক্ষণ, তাদের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরা এবং মানবসৃষ্ট বিভিন্ন হুমকির বিরুদ্ধে বিশ্বজনমত গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে দিবসটি পালিত হয়। ১২ সেপ্টেম্বরের বিশ্ব ডলফিন দিবসের পেছনে রয়েছে এক বেদনাদায়ক ইতিহাস। ২০২১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ডেনমার্কের অধীনস্থ ফারো দ্বীপপুঞ্জে ঐতিহ্যবাহী ‘গ্রিন্ড’ শিকারের নামে একদিনে ১,৪২৮টি আটলান্টিক হোয়াইট-সাইডেড ডলফিন হত্যা করা হয়। এটিকে ইতিহাসের বৃহত্তম একক ডলফিন হত্যাকা- হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদ এবং বিশ্বব্যাপী ডলফিন সংরক্ষণের দাবি জোরদার করতে সামুদ্রিক সংরক্ষণ সংস্থা ‘সি শেফার্ড গ্লোবাল’ ২০২২ সালে এ দিবসের সূচনা করে।

ডলফিন মাছ নয়, তারা স্তন্যপায়ী প্রাণী। মানুষের মতোই তারা ফুসফুসের মাধ্যমে বাতাসে শ্বাস নেয়, জীবন্ত বাচ্চা জন্ম দেয় এবং শাবকদের দুধ পান করিয়ে লালন-পালন করে। পৃথিবীতে প্রায় ৪০টির কাছাকাছি ডলফিন প্রজাতি রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশই সামুদ্রিক। ডেলফিনিডি পরিবারভুক্ত এসব প্রাণীর মধ্যে বোতলনোজ ডলফিন, স্পিনার ডলফিন, কমন ডলফিন এবং ওড়কা বা কিলার হোয়েল বিশেষভাবে পরিচিত। অনেকেই অবাক হন জেনে যে কিলার হোয়েল আসলে তিমি নয়, বরং ডলফিন পরিবারের সবচেয়ে বড় সদস্য। প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের গড় আয়ু ৩০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরেই ডলফিনকে প্রাণিজগতের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করে আসছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিটি ডলফিনের নিজস্ব স্বতন্ত্র শিসধ্বনি রয়েছে, যা অনেকটা মানুষের নামের মতো কাজ করে। কোনো ডলফিন তার নিজস্ব শিসধ্বনি শুনলে সাড়া দেয়। সামাজিক সম্পর্ক, শিকার এবং দলগত যোগাযোগে এই ক্ষমতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডলফিন সাধারণত ‘পড’ নামে পরিচিত দলে বসবাস করে। একটি পডে কয়েকটি থেকে শুরু করে শত শত, কখনও কখনও হাজার হাজার ডলফিনও থাকতে পারে। আহত বা অসুস্থ সদস্যকে সহায়তা করা, সন্তান জন্মের সময় সহযোগিতা করা এবং দলবদ্ধভাবে শিকার করা তাদের উন্নত সামাজিক আচরণের প্রমাণ বহন করে।

ডলফিন শুধু আকর্ষণীয় প্রাণী নয়; তারা জলজ বাস্তুতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদীর ডলফিনকে বিজ্ঞানীরা ‘কিস্টোন স্পিসিজ’ এবং ‘বায়ো-ইন্ডিকেটর’ হিসেবে বিবেচনা করেন। অর্থাৎ, কোনো নদী বা সমুদ্রে ডলফিনের উপস্থিতি সেই পরিবেশের সুস্থতার অন্যতম সূচক। খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষ পর্যায়ের শিকারি হিসেবে তারা মাছ ও স্কুইডের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। ডলফিন না থাকলে কিছু প্রজাতির মাছ অতিরিক্ত বৃদ্ধি পেয়ে পুরো খাদ্যশৃঙ্খলে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘ট্রফিক ক্যাসকেড’ বলে অভিহিত করেন।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ডলফিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা উঠে এসেছে। তারা গভীর সমুদ্র থেকে খাদ্য গ্রহণ করে উপরের স্তরে মলত্যাগ করে, যা ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনের জন্য পুষ্টি হিসেবে কাজ করে। ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন পৃথিবীর মোট অক্সিজেন উৎপাদনের একটি বড় অংশে অবদান রাখে এবং বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে জলবায়ু নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ফলে ডলফিন সংরক্ষণ কেবল জীববৈচিত্র্যের বিষয় নয়; এটি জলবায়ু সুরক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত।

তবুও আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রজাতির ডলফিন মারাত্মক হুমকির মুখে। প্লাস্টিক দূষণ, শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক দূষণ, তেল দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, নৌযানের শব্দদূষণ, নদীতে বাঁধ নির্মাণ এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়াÑসব মিলিয়ে তাদের অস্তিত্ব সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে ‘বাইক্যাচ’ বা অনিচ্ছাকৃতভাবে মাছ ধরার জালে আটকা পড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক ডলফিন মারা যায়। অনেক ক্ষেত্রে ডলফিনের প্রজনন ক্ষেত্র এবং চলাচলের পথও মানবিক কর্মকা-ের কারণে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ দূষণের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের একটি বড় উদাহরণ হলো ২০১০ সালের ডিপওয়াটার হরাইজন তেল দুর্ঘটনা। মেক্সিকো উপসাগরে প্রায় ১৩৪ মিলিয়ন গ্যালন অপরিশোধিত তেল ছড়িয়ে পড়ার ১৫ বছর পরও লুইজিয়ানার বারাটারিয়া উপসাগরের বটলনোজ ডলফিনদের মধ্যে ফুসফুসের রোগ, উচ্চ মৃত্যুহার, প্রজনন ব্যর্থতা এবং শারীরিক দুর্বলতার প্রভাব দেখা যাচ্ছে।আইইউসিএন, এনওএএ বা ডাব্লিউডাব্লিউএফ গবেষকদের মতে, পরিবেশগত বিপর্যয়ের ক্ষতি কখনও কখনও কয়েক প্রজন্ম পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অঞ্চলের গোলাপি নদী ডলফিনও আরেকটি উদ্বেগজনক সংকটের মুখে রয়েছে। বর্তমানে প্রাকৃতিক পরিবেশে এদের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম বলে ধারণা করা হয়। অবৈধ শিকার, মাছ ধরার জাল এবং তথাকথিত ‘পুসাঙ্গা’ নামের প্রেমের ওষুধ তৈরিতে ডলফিনের তেল ও দেহাংশ ব্যবহারের কুসংস্কার এই বিরল প্রাণীটির অস্তিত্বকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

বাংলাদেশও ডলফিন সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি দেশ। সুন্দরবন অঞ্চলে গাঙ্গেয় শুশুক ও ইরাবতী ডলফিনের আবাসস্থল রক্ষায় ধানমারী, চাঁদপাই এবং দুধমুখী ডলফিন অভয়ারণ্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বন অধিদপ্তর ও ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সোসাইটি-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এসব অভয়ারণ্য দেশের জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে নদী দূষণ, নৌযানের চাপ এবং জালে আটকে পড়ার ঘটনা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

ডলফিন রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণীকে রক্ষা করা নয়; বরং সমুদ্র, নদী, মৎস্যসম্পদ, জলবায়ু এবং মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎকে সুরক্ষিত রাখা। পৃথিবীর এই বুদ্ধিমান প্রহরীরা সৃষ্টি থেকেই জলজ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে আসছে। তাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে পুরো বাস্তুতন্ত্র, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত মানুষের জীবন ও অর্থনীতির ওপরও পড়বে। তাই দূষণ নিয়ন্ত্রণ, টেকসই মৎস্যব্যবস্থা, সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, বৈজ্ঞানিক গবেষণা বৃদ্ধি এবং জনসচেতনতা জোরদার করার মধ্য দিয়েই ডলফিনের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সম্ভব। আজ বিশ্ব ডলফিন দিবসে এটাই হোক আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।

Ads small one

ভোমরা বন্দরে বাণিজ্য গতি ফেরানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ, দুই মাসে আদায় ২৭৪ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
ভোমরা বন্দরে বাণিজ্য গতি ফেরানোই প্রধান চ্যালেঞ্জ, দুই মাসে আদায় ২৭৪ কোটি টাকা

এম শফিকুল ইসলাম: ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি ও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি ফেরানোকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যপ্রবাহে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভোমরা স্থলবন্দর কাস্টমস হাউসের জন্য ২,৩৮৩ কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে আদায় হয়েছে ২৭৪ কোটি ৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে জুলাই মাসে ১০৭ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা এবং আগস্ট মাসে ১৬০ কোটি টাকার বিপরীতে ১৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। তবে উচ্চমূল্যের পণ্য আমদানি কমে যাওয়ায় রাজস্ব আয়ে কিছুটা ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

ভোমরা কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু মুছা জানান, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে সরকার বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ২৪ ঘণ্টা বন্দর সেবা চালু এবং কর ব্যবস্থার সংস্কার করা সম্ভব হলে বাণিজ্য গতি পাবে। ব্যবসায়ীরা সরকারের এসব পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের প্রত্যাশা করছেন।

অপরাধমুক্ত দেবহাটা গড়তে পুলিশের পাশে জনগণকে দাঁড়ানোর আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৫৬ অপরাহ্ণ
অপরাধমুক্ত দেবহাটা গড়তে পুলিশের পাশে জনগণকে দাঁড়ানোর আহ্বান

Oplus_131072

দেবহাটা প্রতিনিধি: মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের পাশাপাশি জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এইচ এম শাহীন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পূর্বে দেবহাটা উপজেলার সখিপুর ইউনিয়নের ঈদগাহ বাজার জামে মসজিদে মুসল্লিদের উদ্দেশে বক্তব্যকালে তিনি এ আহ্বান জানান।

ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, মাদক, চুরি, চাঁদাবাজি ও ইভটিজিং ঠেকাতে পুলিশের সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। এলাকার যেকোনো অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য তিনি সবার প্রতি অনুরোধ জানান।

অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তান সন্ধ্যার পর কোথায় সময় কাটাচ্ছে, স্কুলে নিয়মিত যাচ্ছে কি না এবং কাদের সঙ্গে চলাফেরা করছেÑএসব বিষয়ে বাবা-মাকে নিয়মিত নজর রাখতে হবে। সন্তানদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মাদক নির্মূলে স্থানীয়দের সহযোগিতা চেয়ে ওসি বলেন, মাদক বিক্রি বা সেবনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে সরাসরি পুলিশকে জানাতে হবে এবং তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় গোপন রাখা হবে। দেবহাটাকে নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত করতে পুলিশ এবং জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

 

সম্পাদকীয়/ বাল্যবিবাহের অভিশাপ ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাল্যবিবাহের অভিশাপ ও আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতা

কিশোরী বয়সে যখন হাত বাড়ানোর কথা নতুন বইয়ের পাতার দিকে, যখন শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের সঙ্গে স্বপ্ন ও চিন্তার বিস্তার ঘটার কথা, ঠিক সেই বয়সে সংসার জীবনের ভারী দায়িত্ব চেপে বসা এক কঠিন ও নির্মম বাস্তবতা। সাতক্ষীরার তালার ইসলামকাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের নবম ও দশম শ্রেণির ১৩ জন ছাত্রীর বাল্যবিবাহের সাম্প্রতিক ঘটনাটি আমাদের সমাজের এক গভীর ক্ষতকে আবার উন্মোচিত করেছে। একই প্রতিষ্ঠানের এত বিপুলসংখ্যক অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর বিয়ে হয়ে যাওয়া কেবল শিক্ষার পথকে রুদ্ধ করে না, বরং দেশের প্রচলিত আইন ও সামাজিক অগ্রগতির সামনে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে।

একটি মেয়েশিশুর অপরিণত বয়সে বিয়ে তার মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পথকে চিরতরে রুদ্ধ করে দেয়। পুষ্টিহীনতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, পারিবারিক সহিংসতা এবং সর্বোপরি অকাল মাতৃত্বের কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাছাড়া এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; আমাদের গ্রামীণ জনপদে বাল্যবিবাহের এই প্রবণতা প্রকাশ করে যে আইন ও সচেতনতা সৃষ্টির প্রচার চালানো সত্ত্বেও সামাজিক মনোভাবের পরিবর্তন পুরোপুরি ঘটেনি। দারিদ্র্য, কুসংস্কার কিংবা সামাজিক নিরাপত্তার অভাবের অজুহাতে অভিভাবকদের এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

ঘটনাটি নজরে আসার পর উপজেলা প্রশাসনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। স্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তার উদ্যোগে অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা, বাল্যবিবাহে নিষেধাজ্ঞা জারি করা এবং শিক্ষার্থীদের পুনরায় বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কেবল সময়োপযোগী নয়, বরং এটি একটি জোরালো প্রশাসনিক বার্তাও বহন করে। তবে প্রশাসনিক কঠোরতা ও নজরদারিই যে এ ব্যাধি নির্মূলে একমাত্র সমাধান নয়, তা-ও স্মরণে রাখা জরুরি।

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় সুশীল সমাজকে প্রহরীর ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোনো শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকলে তার কারণ অনুসন্ধানে নজরদারি বাড়ানো দরকার। একই সঙ্গে অভিভাবকদের মধ্যে সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত সচেতনতা তৈরিতে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। তালার ঘটনাটিকে কেবল একটি সংবাদের শিরোনামে সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে সচেতনতার প্রদীপ জ্বালানোর তাগিদ হিসেবে দেখতে হবে। তবেই একটি সুস্থ, সচেতন ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।