শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩

কানের লালগালিচায় বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিরঞ্জন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬, ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ
কানের লালগালিচায় বাঙালি কনটেন্ট ক্রিয়েটর নিরঞ্জন

আসল নামের চেয়ে পোশাকি নামেই বেশি পরিচিত তিনি। কখনও হাস্যরসাত্মক, কখনও স্পর্শকাতর বিষয়ে সংবেদনশীল কনটেন্ট তৈরি করে বারবার নেটদুনিয়ার নজর কেড়েছেন। অসংখ্য কনটেন্ট ক্রিয়েটরের ভিড়েও নিজস্ব ঢংয়ে আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন তিনি। আলু-ফুলকপির গল্প কিংবা ‘মিষ্টি বাপী’ সিরিজ দিয়ে লাখো দর্শকের মন জয় করা সেই ‘বাঙালি বাবু’ এবার পৌঁছে গেলেন বিশ্বমঞ্চে।

পশ্চিমা আড়ম্বরপূর্ণ পোশাক নয়, নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য নিয়েই ২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের লালগালিচায় হাঁটলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেতা নিরঞ্জন মণ্ডল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ‘লাফটারসেন’ নামেই বেশি পরিচিত।

ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রতিদিনের চেনা বাঙালি সংস্কৃতি ও পারিবারিক চালচিত্রকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তুলে ইতোমধ্যে ১০ লাখের বেশি ফলোয়ার ভক্ত তৈরি হয়েছে নিরঞ্জনের। এতদিন ঘিঞ্জি শোবারঘর, কোলাহলপূর্ণ বারান্দা কিংবা বসার ঘরের মধ্যবিত্ত হট্টগোলের মধ্যে যাকে ভিডিও শুট করতে দেখেছে জেন-জি প্রজন্ম, সেই চিরচেনা নিরঞ্জনকে কানের লালগালিচায় হাঁটতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একে ইন্টারনেটের ‘সাফল্যের চূড়ান্ত মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন ভক্তরা।

শনিবার ইনস্টাগ্রামে কানের লালগালিচায় অভিষেকের খবরটি জানিয়ে নিরঞ্জন লিখেছেন, ‘কান চলচ্চিত্র উৎসবে আমাদের অভিষেক হতে যাচ্ছে… মনে হচ্ছে একটা স্বপ্ন সত্যি হলো।’ খবরটি শেয়ার করার পরপরই স্বস্তিকা দত্ত, ঊষসী রায় এবং পার্নো মিত্রের মতো জনপ্রিয় তারকা ও সহ-কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের শুভেচ্ছাবার্তায় ভেসে যান তিনি।

নিরঞ্জনের এই যাত্রা তরুণ প্রজন্ম ও আঞ্চলিক কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের কাছে অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও অনুপ্রেরণার। গ্ল্যামার আর কৃত্রিমতার দুনিয়ায় নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নিরঞ্জন কখনও নিজের কন্টেন্ট থেকে ‘বাঙালিয়ানা’ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেননি। বাঙালি পরিবারের প্রতিদিনের ড্রামা, মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন, আবেগের ব্ল্যাকমেইল, অদ্ভুত আত্মীয়স্বজন, ঘ্যানঘ্যানে মা আর স্থানীয় পরনিন্দা-পরচর্চার মতো খাঁটি দেশি বিষয়গুলোকে তিনি তার কমেডির মূল হাতিয়ার করেছেন। এই একেবারে স্থানীয় গল্প বলার ধরনই তাকে আজ বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তুলেছে।

১২ মে থেকে শুরু হওয়া ৭৯তম কান চলচ্চিত্র উৎসবে এবার ভারতীয় ডিজিটাল ক্রিয়েটরদের এক বিশাল উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে, যা আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। কয়েক বছর ধরে কান উৎসব মূলত বলিউড তারকা, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এবং লাক্সারি ফ্যাশন অ্যাম্বাসেডরদের দখলে থাকলেও ২০২৬ সালের কান দেখাচ্ছে এক ভিন্ন চিত্র। এবার সিনেমার তারকাদের পাশাপাশি গ্লোবাল মঞ্চ দখল করে নিয়েছেন ইনফ্লুয়েন্সার, ফ্যাশন সমালোচক, নৃত্যশিল্পী, শেফ ও উদ্যোক্তারা। ব্রুট ইন্ডিয়ার অংশীদারত্বে এবার কান-এর অফিসিয়াল মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ভারতীয় ক্রিয়েটরদের এই বৈচিত্র্যময় দল বিশ্বমঞ্চে যোগ দিয়েছে।

নিরঞ্জন ছাড়াও ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের যে ক্রিয়েটররা এবার কানে আলো ছড়াচ্ছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন রিদা থারানা, দিশা মদন, কৃতিকা (দ্য মারমেইড স্কেলস), ইশিতা মঙ্গলা ও রুপিন্দর কৌর গিল (রুপি গিল)।

এ ছাড়া নাচের জগৎ থেকে নিধি কুমার, লাইফস্টাইল ও বিউটি ক্রিয়েটর স্মৃতি খান্না, ঈশানি মিত্র ও পবিত্রা কৌর এই আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের মেলে ধরেছেন। শুধু ক্রিয়েটর নন, স্নেহা খানাল ও ভূপেন্দ্র খানালের মতো উদ্যোক্তারাও তাদের কোম্পানি ডগসি চিউ-এর মাধ্যমে কানে অংশ নিয়েছেন।

সূত্র: ইন্ডিয়া ডটকম

Ads small one

“কথার ভার”

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৩ পূর্বাহ্ণ
“কথার ভার”

 

 

বাপী নাগ
রাগ-অভিমান ভুলে একবার এসো, জমে থাকা কথাগুলো একটু ভাগ করে নিই।
কী হলো, শুনতে পাচ্ছ? এখনও কিছু না-বলা কথা রয়ে গেছে— সময়ের ভাঁজে, নীরবতার আড়ালে।
না না, ভয় নেই! আমার শত দুঃখের ভার তোমায় নিতে হবে না, তোমার সুখের অংশও আমায় দিতে হবে না। শুধু কিছু কথার বিনিময়— হয়তো এতেই মনটা একটু হালকা হবে।
রাগ কোরো না, তোমার রোজনামচায় জমে থাকা কিছু কথা আজ নির্দ্বিধায় আমায় বলতে পারো। আমিও প্রতিদিনের বুকের ভেতর জমে থাকা কিছু অপ্রকাশিত কথা নিঃসংকোচে তোমার হাতে তুলে দিতে চাই।
বাকশক্তি থাকা কালীন কথা বিনিময় ছাড়া বেঁচে থাকা বোধহয় অসম্ভব। কারণ, কিছু নীরবতা শব্দের অপেক্ষায়ই বেঁচে থাকে।
আজ নিরবে, নিঃশব্দে, জমে থাকা অনেক কথা বলতে চাই। নেবে কি আমার কথার ভার? শুনবে কি আমার হৃদয়ের দীর্ঘদিনের নীরব স্বীকারোক্তি?
বিশ্বাস করো, সব কথা অভিযোগ নয়, কিছু কথা শুধু মানুষ হয়ে মানুষের পাশে বসার আকুতি। কিছু কথা ক্ষমা চায়, কিছু কথা ফিরে পেতে চায় হারিয়ে যাওয়া সেই সহজ সম্পর্ক।
হয়তো কথা বললেই দুঃখের যন্ত্রণা পুরোপুরি মুছে যাবে না, তবু বুকের ভারটা একটু হালকা হবে। কারণ, না-বলা কথার চেয়ে বলা কথার আফসোস অনেক কম।
তাই একবার এসো— শুধু কিছুক্ষণ সময় নিয়ে। আজ কথা হোক, কারণ একদিন হয়তো সময় থাকবে, কিন্তু বলার মতো মানুষটি আর থাকবে না।
কথারা কখনও দূরত্ব বাড়ায় না, দূরত্ব বাড়ায় শুধু নীরবতা। তাই এসো, অভিমানের দেয়াল ভেঙে একবার কথা বলি… হিসেব-নিকেশ নয়,আজ শুধু হৃদয়ের দরজাটা খুলে দিই। যদি কিছুই ফিরে না পাই,তবু এই তৃপ্তিটুকু থাকবে—চেষ্টা করেছিলাম,নীরবতাকে হারিয়েকথার আলোয় ফিরে আসতে।
শেষবারের মতো বলছি- এসো, একবার কথা হোক।
হয়তো সব অভিমান মুছে যাবে না, সব প্রশ্নের উত্তরও মিলবে না। তবু কিছু নীরবতার অবসান হবে, কিছু দীর্ঘশ্বাস ফিরে পাবে মুক্তির পথ।
জীবন তো অনিশ্চিত— কে কখন কোন মোড়ে হারিয়ে যায়, তা কেউ জানে না। তাই সময় থাকতে কথাগুলো বলে নিই, ক্ষমাগুলো চেয়ে নিই, ভালোবাসাগুলো জানিয়ে দিই।
কারণ, একদিন হয়তো মানুষ থাকবে না, শুধু থেকে যাবে— না-বলা কিছু কথা….. আর বুকভরা একরাশ আফসোস।

শ্রাবণের বর্ষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪২ পূর্বাহ্ণ
শ্রাবণের বর্ষা

দুখু হুমায়ুন
শ্রাবণ মেঘে বরষা নামে
বাংলার পল্লী-গাঁয়,
টিনের চালে মজার তালে
নূপুর বেজে যায়।
তালের পাতা শালের পাতা
বৃক্ষ-লতা যত,
নাচছে হেলে রূপের ছন্দে
দক্ষ পটুয়ার মতো।
হঠাৎ ফাঁকে থামলো বৃষ্টি
সূর্য আঁখি খোলে,
উঠলো হেসে পল্লী বাংলা
অরূপ রূপের কোলে।

আকাশকোণে ফিনকি দিয়ে
রংধনুটা হাসে,
ছড়িয়ে পড়ে রূপের ছটা
সাতটি রঙের পাশে।

হঠাৎ আবার আসলো ধেয়ে
ঝমঝমিয়ে ঢল,
একটুখানি জিরিয়ে বুঝি
ফিরে পেল বল।
শ্রাবণ দিনে এমনি চলে
রূপের লুকোচুরি,
বাংলার বুকে বর্ষা সাজায়
হাজার রূপের ডালি।

মায়ার গভীরতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
মায়ার গভীরতা

 

 

বাপী নাগ
মরার জন্য গরল লাগে না,
একজনের মায়াতেই নিঃশেষ হওয়া যায়।
হৃদয়ে মাঝেই যার বসবাস,
সে দূরে গেলে”ই জীবন শূন্যতা”য় হারায়।

সবাই মোদের প্রিয় হয় না,
তবুও তারাই সবচেয়ে আপন হয়ে”ই রয়।
সকলের ভিড়ে দাঁড়িয়েও,
একজনের অভাবেই নীরব এ হৃদয় ক্ষয়।

মায়া যে অধিকার চায় না,
চাই শুধুই একটু পাশে থাকার’ই অনুভব।
দূরত্ব যদি নিয়তি লিখে রাখে,
তবুও থাকে অমলিন সেই অনুরাগের রব।

অপেক্ষা’রা জানালায় বসে,
ফিরে আসার আশায় স্বপ্নেই দিন গোনা।
হয়তো আর যে ফিরবে না,
তবুও মন খোঁজে একমাত্র আপনজনা।

পুরনো স্মৃতি এ মনে পড়ে,
সে গুলো আজ যে বেঁচে থাকারই কারণ।
কিছু মায়া অসম্পূর্ণ বলেই,
তা থাকে জীবনের সবচেয়ে গভীর স্মরণ।

গভীর মায়াতে পাওয়া নয়,
কখনো কখনো হারিয়েও সেই করে জয়।
যার উপস্থিতিতে হৃদয় পূর্ণ,
তার অভাবেই অশ্রু জলে এই মন হারায়।