রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কারিগরি শিক্ষায় সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক মুক্তির পথ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৩ মে, ২০২৬, ১০:৫৫ অপরাহ্ণ
কারিগরি শিক্ষায় সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক মুক্তির পথ

মো. মামুন হাসান

একবিংশ শতাব্দীর ভূ-অর্থনৈতিক পরিম-লে কোনো দেশের সমৃদ্ধি এখন আর কেবল তার ভৌগোলিক আয়তন বা ভূগর্ভস্থ খনিজ সম্পদের ওপর নির্ভর করে না বরং তা আবর্তিত হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদের প্রাতিষ্ঠানিক রূপায়নের ওপর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ছাইভস্ম থেকে জার্মানির ফিনিক্স পাখির মতো জেগে ওঠা, প্রাকৃতিক সম্পদহীন সিঙ্গাপুরের গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ক্যাপিটাল হয়ে ওঠা কিংবা সুইজারল্যান্ডের উচ্চ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার নেপথ্যে কোনো জাদুমন্ত্র ছিল না; ছিল তাদের সুদূরপ্রসারী কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা দর্শন। বিশেষ করে সুইজারল্যান্ডের ভোকেশনাল অ্যান্ড প্রফেশনাল এডুকেশন মডেল বিশ্বের অন্যতম সেরা যেখানে প্রায় সত্তর শতাংশ তরুণ উচ্চশিক্ষার চিরাচরিত সনদের পেছনে না ছুটে সরাসরি কর্মমুখী শিক্ষায় প্রবেশ করে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছে।

 

বর্তমান চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই ক্ষণসন্ধিতে বৈশ্বিক শ্রমবাজার অতি দ্রুত রূপান্তরিত হচ্ছে যেখানে সনাতন তত্ত্বীয় সনদের চেয়ে বাস্তবভিত্তিক কর্মদক্ষতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তির প্রায়োগিক জ্ঞানকে সবচেয়ে বড় মুদ্রা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ যখন একটি মধ্যম আয়ের দেশ থেকে উচ্চ অর্থনীতির দিকে ধাবমান, তখন দেশের দক্ষিণ পশ্চিম কোণে অবস্থিত অবহেলিত অথচ বিপুল সম্ভাবনাময় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরাকে কেন্দ্র করে একটি কৌশলগত ও রূপান্তরমূলক অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা গ্রহণের সময় এসেছে। মৎস্য সম্পদ, আধুনিক লবণসহিষ্ণু কৃষি, উদীয়মান তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিশেষ করে বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে ঘিরে এই জেলার যে ভূ-অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, তাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে প্রয়োজন কারিগরি শিক্ষার এক যুগান্তকারী ও আমূল সংস্কার।

আমাদের প্রচলিত উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা যেখানে প্রতিবছর হাজার হাজার উচ্চ শিক্ষিত ডিগ্রিধারী বেকার তৈরি করে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বোঝা বাড়াচ্ছে, সেখানে জার্মানির বিখ্যাত ডুয়েল এডুকেশন সিস্টেম আমাদের জন্য একটি চোখ খুলে দেওয়া মডেল হতে পারে। সেই ব্যবস্থায় একজন শিক্ষার্থী ক্লাসরুমের চেয়ে বেশি সময় কাটায় সরাসরি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব কর্মক্ষেত্রে। ফলে শিক্ষা জীবন শেষ করার আগেই তারা একেকজন উৎপাদনশীল বৈশ্বিক পেশাজীবী হিসেবে গড়ে ওঠে। ঠিক একইভাবে সিঙ্গাপুর তাদের পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোকে সরাসরি বাজারের চাহিদার সাথে যুক্ত করে শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে। সাতক্ষীরাতেও এই ধরনের একটি ফলপ্রসূ বৈশ্বিক মডেলের প্রয়োগ কেবল সম্ভবই নয় বরং অত্যন্ত জরুরি।

 

বিশেষ করে সুন্দরবনের আন্তর্জাতিক আপিলকে কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে কেন্দ্র করে এখানে একটি উচ্চতর স্কিল ডেভেলপমেন্ট হাব বা দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব। সনাতন গৎবাঁধা পর্যটনের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক চাহিদার সাথে মিল রেখে যদি এখানে পরিবেশবান্ধব রিসোর্ট ম্যানেজমেন্ট, ওয়াইল্ডলাইফ বা বন্যপ্রাণী পর্যটন, আন্তর্জাতিক ফুড প্রোডাকশন, গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম এবং ডিজিটাল ট্রাভেল মার্কেটিংয়ের মতো বিশেষায়িত কোর্সগুলো চালু করা যায়, তবে সাতক্ষীরার তরুণরা আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের ফ্রন্টলাইনারে পরিণত হতে পারবে এবং জেলা থেকে বেকারত্ব শব্দটি চিরতরে মুছে যাবে।

সাতক্ষীরার অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক মহাপরিকল্পনা তুলে ধরা প্রয়োজন যা এই অঞ্চলের পুরো দৃশ্যপট বদলে দিতে পারে। প্রথমত, সাতক্ষীরায় একটি সুন্দরবন ট্যুরিজম স্কিল ইনোভেশন সেন্টার বা পর্যটন দক্ষতা উদ্ভাবন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। বর্তমান বিশ্বে ইকো ট্যুরিজম বা পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেবল একটি ভ্রমণের মাধ্যম নয় বরং এটি একটি মাল্টি বিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক শিল্প। সুন্দরবনের অনন্য ম্যানগ্রোভ ইকোসিস্টেম, উপকূলীয় লোকসংস্কৃতি ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে সাতক্ষীরায় কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম বা জনসম্পৃক্ত পর্যটনের এক বিশাল আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি করা সম্ভব।

 

এই প্রস্তাবিত ইনোভেশন সেন্টারে আধুনিক পর্যটন ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বহুজাতিক ভাষা শিক্ষা বিশেষ করে ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ ও ম্যান্ডারিন ভাষা, কাস্টমার রিলেশনস এবং আন্তর্জাতিক আতিথেয়তার ওপর সম্পূর্ণ বিশ্বমানের ল্যাবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে স্থানীয় তরুণরা কেবল গাইড বা সাধারণ কর্মী হিসেবে নয় বরং আন্তর্জাতিক মানের ট্রাভেল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, নেচার ফটোগ্রাফার ও ইকো রিসোর্ট উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, যা দেশের ব্লু ইকোনমি বা নীল অর্থনীতিতেও বড় ধরনের গতি আনবে।

দ্বিতীয়ত, সাতক্ষীরার সামগ্রিক অর্থনীতি মৎস্য ও কৃষি খাতের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। এই ঐতিহ্যবাহী খাত দুটিকে আধুনিকায়ন করতে এখানে একটি মৎস্য ও লবণসহিষ্ণু কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারিগরি ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। সাতক্ষীরার বাগদা ও গলদা চিংড়ি হোয়াইট গোল্ড বা সাদা সোনা হিসেবে খ্যাত হলেও সঠিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও আধুনিক বৈশ্বিক লজিস্টিকস জ্ঞানের অভাবে আমরা বিশ্ববাজারের বিশাল অংশ হারাচ্ছি।

 

কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে যদি স্থানীয় যুবসমাজকে মৎস্য চাষের আধুনিক বায়োফ্লক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক উপায়ে হ্যাচারি পরিচালনা, হিমায়িত খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ডস বা হাইজিন কোড বিষয়ে ডিপ্লোমা ও বিশেষায়িত সার্টিফিকেট প্রদান করা যায়, তবে সাতক্ষীরা থেকে সরাসরি ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে প্রিমিয়াম মূল্যে সামুদ্রিক খাদ্য রপ্তানি করা সম্ভব হবে। একই সাথে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী লবণসহিষ্ণু আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং স্মার্ট কৃষি যন্ত্রপাতি চালনার ওপর কারিগরি প্রশিক্ষণ দিলে স্থানীয় পর্যায়ে লাখ লাখ গ্রামীণ তরুণের জন্য নিশ্চিত কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং তারা পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি পাবে।

তৃতীয়ত, ভৌগোলিক সীমানার বাধা পেরিয়ে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন তরুণও যাতে ভারতের বেঙ্গালুরু মডেলের মতো ঘরে বসেই বিশ্ব অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারে, সে জন্য জেলাটিতে একটি স্মার্ট ট্যুরিজম অ্যান্ড টেকনোলজি পার্ক প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে, যা হবে দক্ষিণ পশ্চিম অঞ্চলের অর্থনীতির জন্য প্রকৃত গেম চেঞ্জার। এই বিশেষায়িত পার্কে অ্যাডভান্সড আইটি, থ্রিডি গ্রাফিক ডিজাইন, প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং, ড্রোন টেকনোলজি পরিচালনা, ডিজিটাল বুস্টিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ভিত্তিক বিভিন্ন কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

 

সাতক্ষীরার তরুণদের আইটি সেক্টরে দক্ষ করে তুলতে পারলে তারা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ করে কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারবে। এর পাশাপাশি হসপিটালিটি সেক্টরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ এবং দূরপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যে দক্ষ শেফ, হোটেল ম্যানেজার বা ক্রুজ শিপ কর্মীর বিপুল চাহিদা রয়েছে, সাতক্ষীরার তরুণদের সেই আন্তর্জাতিক মানদ-ে তৈরি করতে পারলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে এক নতুন জোয়ার আসবে। একই সাথে ফুড প্রসেসিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং এবং অনলাইন এন্টারপ্রেনারশিপের মাধ্যমে নারীদের কারিগরি শিক্ষায় ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে পারলে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের আর্থিক ক্ষমতায়ন সুদৃঢ় করবে ও সমাজ থেকে বৈষম্য কমিয়ে আনবে।

 

একটি দেশের টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন একাডেমিয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির মধ্যকার নিবিড় যোগসূত্র যা আমাদের দেশে প্রায় অনুপস্থিত। সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটসহ জেলার অন্যান্য কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ, পর্যটন অ্যাসোসিয়েশন এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সাথে সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তির মাধ্যমে যুক্ত করা যায়, তবে এই অঞ্চল দেশের অন্যতম একটি বিশেষায়িত স্কিল বেইজড ইকোনমিক জোন বা দক্ষতাভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। আজকের পৃথিবীতে মানুষই সবচেয়ে বড় মূলধন, যদি তাকে উপযুক্ত কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করা যায়।

 

সরকারের জাতীয় উন্নয়ন রূপরেখায় সাতক্ষীরাকে একটি বিশেষায়িত দক্ষতা ও পর্যটনভিত্তিক অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে সুপরিকল্পিত সরকারি বিনিয়োগ ও আধুনিক ল্যাব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে, এই জেলা কেবল অবহেলিত কোনো জনপদের সম্ভাবনার গল্প হয়ে থাকবে না বরং তা হবে পুরো বাংলাদেশের জন্য কারিগরি দক্ষতা, আধুনিক উদ্ভাবন এবং টেকসই কর্মসংস্থানের এক অনন্য ও অনুকরণীয় জাতীয় মডেল। নীয় নীতিনির্ধারকদের দূরদর্শী সিদ্ধান্তই পারে সাতক্ষীরার এই সুপ্ত সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলে দেশের মূল অর্থনৈতিক গ্রোতে এক বিশাল রূপান্তর ঘটাতে।

লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:৩৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদার সঙ্গে বেড়েছে দামও

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসতেই খুলনার পাইকগাছার হাট-বাজারে ঐতিহ্যবাহী মসলা চুই ঝালের চাহিদা বেড়েছে। মাংসের স্বাদ ও সুবাস বৃদ্ধি করার জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় এই এলাকার মানুষের কাছে চুইঝালের ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। মাংসের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়াতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে চুই ঝাল যেন এক অপরিহার্য উপাদান। চুইঝাল ছাড় মাংস বা বিরিয়ানী রান্না যেন পূর্ণতা পায় না। তাই চুইঝাল লাগবেই লাগবে।

ঈদে ঐতিহ্যবাহী ও সুস্বাদু মসলা চুইঝালের চাহিদা ও দাম দুটোই বহুগুণ বেড়ে গেছে। গরুর মাংস ও খাসির মাংসের স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে চুইঝাল দারুণ কার্যকরী। ঈদের সময় প্রায় প্রতিটি ঘরেই মাংসের নানা পদ বিরিয়ানি, ভুনা মাংস রান্নায় চুইঝালের কদর থাকে তুঙ্গে। বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই দাম কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী। আকারের চিকন বা মোটা ওপর নির্ভর করে চুইঝাল কেজিপ্রতি ৮০০ থেকে ১০০০ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হয়।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও যশোর এলাকায় বিখ্যাত মসলা এই চুইঝাল। চুইঝালের শিকড়, পাতা ও ফুল, ফলে ঔষধি গুণ আছে। চুইঝাল মাছ ও মাংসের সাথে রান্না করে খাওয়া হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম অঞ্চলের জেলা খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট এ সব এলাকায় চুইঝাল মসলা খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে দেশের অন্যান্য জেলাতেও ঝাল হিসেবে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।

খুলনা অঞ্চলে চুইঝালের কান্ড, শিকড় বা লতাকে ছোট ছোট টুকরো করে মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যেকোনো ধরনের মাংস, গরুর বা খাসির মাংস রান্না করা হয়। চুইঝালের রান্না মাংস এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এবং খুবই জনপ্রিয় একটি খাবার। তবে চুই এর শিকড়ের মধ্যে কান্ডের তুলনায় কড়া সুঘ্রাণ ও ঝাঁঝালো স্বাদ বেশি থাকার কারণে এটি কান্ডের তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয়। চুইঝাল দিয়ে রান্না করলে মাংসে একধরনের কড়া সুঘ্রাণ এবং ঝাল প্রকৃতির, ঝাঁঝালো ও টক স্বাদ যুক্ত হয় যা মাংসের মধ্যে ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের স্বাদ এনে দেয়।

সারাবছরই চাহিদা ও দামের দিক থেকে উপরে থাকে মশলাটি। তবে ঈদ আসলেই চুইঝালের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। এই সুযোগে ব্যবসায়ীরা পকেট কাটেন ভোক্তাদের। কুরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসছে পাইকগাছায় চুইঝালের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে চুইঝালের দোকান নিয়ে বসেছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। দোকানগুলোতে ভীড়ও বাড়ছে ক্রেতাদের। সাধারণ সময়ে চুইঝাল কেজি প্রতি ৪০০ থেকে হাজার টাকা থাকালেও বর্তমানে আকার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ৮শত থেকে এক হাজার ও খুর ভালো মানের চুইঝাল কেজি ১৫শত টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নতুন বাজারের চুইঝাল বিক্রেতা মীর কাজল বলেন, মাংস বা বিরিয়ানী রান্নার সব রকম মশলা পাওয়া যায়। আর আদা-চুইঝাল তো আছেই। কোরবানির ঈদ উপলক্ষ্যে চুইঝালের চাহিদা ও বিক্রি বেড়েছে। আর এক বিক্রেতা শহিদুল ইসলাম বলেন, আগে চুইঝাল চিকন (আকারে ছোট) ৪ শত থেকে ৬শ টাকায় ও কিছুটা বড় চুইঝাল ৮শত টাকা কেজিতে বিক্রি করতাম।

 

কোরবানি উপলক্ষে বাজারে চাহিদা বাড়ায় পাইকারী দরে কিনতেই বেশি টাকা গুণতে হচ্ছে। তাই চুইঝালের সাইজ অনুযায়ী কেজি প্রতি ৮শত থেকে ১৫শত টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। চুইঝাল কিনতে আসা শফিকুল ইসলাম বলেন, সারা বছর মাঝে মধ্যে চুইঝাল খাওয়া মাংসের সাথে। কিন্তু কুরবানির সময় গরুর মাংসের সাথে চুইঝাল না হলে চলে না।

গদাইপুর বাজারে চুইঝালের ক্রেতা আব্দুল করিম বলেন, চুইঝালের দাম ঈদের আগে আরো বাড়তে পারে। তাই ভিড় এড়াতে আগে ভাগেই চুইঝাল কিনতে এসেছি। তবে কুরবানি উপলক্ষে দাম কিছুটা বেড়েছে। ঈদের সময় চুইঝাল দিয়ে রান্না করা মাংস অতিথিদের খুবই পছন্দের। দাম একটু বৃদ্ধি পেলেও, মাংস খেতে চুইঝাল লাগবেই। চুইঝালের মাংস রান্নার স্বাদই অন্যরকম উপলব্ধি হয়।

 

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ
ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

ঈদযাত্রায় ঘরমুখো মানুষের ঢল ও জনস্্েরাত বাংলাদেশের অন্যতম বড় উৎসবের অংশ। প্রতি বছরই নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের এই চাপে ঢাকা ও এর আশেপাশের মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের তীব্র চাপ ও যানজট তৈরি হয়।

উৎসবকে ঘিরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরগুলো ফাঁকা হতে থাকে, আর মহাসড়কগুলো পরিণত হয় মানুষের স্্েরাতে। লাখো মানুষ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের জন্য গ্রামের পথে ছুটে যায়। ঈদে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার উচ্ছ্বাস এবং নাড়ির টানে ঘরে ফেরার ব্যস্ততা।

কিন্তু প্রতি বছর উৎসবের সময় অতিরিক্ত যাত্রীচাপ এবং বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। আনন্দের এই যাত্রা রূপ নেয় শোকের মিছিলে। অতিরিক্ত গতি, বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল, ক্লান্ত চালকের ঘুম, অব্যবস্থাপনা ও আইন অমান্য করার প্রবণতা অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নেয়।

নবীনগর-চন্দ্রা, ঢাকা-ময়মনসিংহ এবং ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি যানবাহনের চাপ থাকে। গণপরিবহন ও ব্যক্তিগত গাড়ির অতিরিক্ত চাপে কিছু কিছু পয়েন্টে ধীরগতি ও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সদরঘাটের মতো টার্মিনালগুলোতে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। লঞ্চ ও ফেরিগুলোতে তিল ধারণের জায়গা থাকে না। কমলাপুর স্টেশনসহ অন্যান্য স্টেশনে যাত্রীদের প্রচন্ড জনস্্েরাত লক্ষ্য করা যায়।

ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার অন্যতম বড় কারণ হলো অতিরিক্ত যাত্রীচাপ। ঈদের আগে কয়েক দিন শহর ছেড়ে মানুষ গ্রামের বাড়িতে রওনা দেয়। ফলে সড়কে যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল, সিএনজি, নসিমন-করিমনসহ সব ধরনের যানবাহন একসঙ্গে সড়কে নেমে পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ফিটনেসবিহীন ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনও চলাচল করে। পরিবহনের চাহিদা বাড়ায় যাত্রী পরিবহনে মালবাহী ট্রাক পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সড়ক ব্যবস্থাপনায় কঠোর শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা দরকার। সড়ক, যানবাহন ও চালকের শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজন মহাসড়কে ত্রুটিপূর্ণ এবং লাইসেন্সহীন গাড়ি চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। ওভারস্পিডিং বা বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে স্পিড গান ও সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা। চালকদের বিশ্রাম নিশ্চিত করতে একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো বন্ধ করে বিকল্প চালকের ব্যবস্থা রাখা। ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং রোধে মহাসড়কে বিপজ্জনকভাবে লেন পরিবর্তন ও ওভারটেকিং করা কঠোরভাবে বন্ধ করা।

 

মোটরসাইকেলে চালকসহ সর্বোচ্চ দুজন আরোহী এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন বন্ধ করতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন ঠেকাতে টার্মিনালগুলোতে কড়া নজরদারি করা। ফিটনেসবিহীন যানবাহন চলাচল বন্ধ এবং চালক ও যাত্রীদের সচেতনতা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।
চালকদের বেপরোয়া মনোভাবও দুর্ঘটনার বড় কারণ। অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং প্রবণতা, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ক্লান্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা ঈদযাত্রায় ভয়াবহ রূপ নেয়।

 

পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করা, হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া কিংবা মহাসড়কে হাঁটার প্রবণতাও দুর্ঘটনা ঘটায়। একটানা দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে অনেক চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বিশেষ করে রাতের বেলায় ঘুমঘুম অবস্থায় চালানো যানবাহন বড় ধরনের দুর্ঘটনার জন্ম দেয়।

ঈদযাত্রাকে আনন্দময় করতে আইনের কঠোর প্রয়োগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা অপরিহার্য। ফিটনেসবিহীন গাড়ি এড়িয়ে চলা। যানজট এড়াতে ভ্রমণের জন্য অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে রওনা হওয়া উচিত। চরম ভিড়ের মাঝে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় জরুরি ওষুধ সঙ্গে রাখা আবশ্যক।

সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যানজট নিরসনে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশসহ আইন প্রয়োগকারি বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয় ও নজরদারি বাড়াতে হবে। বিআরটিএ, হাইওয়ে পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বিত তদারকি বৃদ্ধি করা। টোল প্লাজায় বুথ বাড়িয়ে দ্রুত গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা করা, যাতে দীর্ঘ যানজট ও চালকদের ক্লান্তি না বাড়ে। মহাসড়কের মোড় বা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার ও স্ট্যান্ড দ্রুত অপসারণ করা। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় এবং মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করা জরুরি।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ঐতিহ্য ও বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র সাতক্ষীরার ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততার মাঝে বুক ভরে নিঃশ্বাস নেওয়ার এক টুকরো সবুজ চত্বর ‘শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক’। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক পার্কটি কেবল একটি বিনোদন কেন্দ্রই নয়, এটি সাতক্ষীরার রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের এক নীরব সাক্ষী।

প্রতিদিনই শহরের হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকে এই পার্ক প্রাঙ্গণ। বিশেষ করে সকাল এবং বিকেলে সব বয়সী মানুষের জন্য এটি এক অন্যতম মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস ও নামকরণ: মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাসের সাথে জড়িয়ে আছে এই পার্কের নাম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে মার্চের গণআন্দোলনের সময় ৩ মার্চ নিহত দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী বীর শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের স্মরণে এই পার্কটির নামকরণ করা হয়। পার্কের ভেতরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে এক কোণে দাঁড়িয়ে থাকা দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, যা আগত দর্শনার্থী ও তরুণ প্রজন্মের মাঝে দেশপ্রেমের চেতনাকে জাগ্রত করে।

নাগরিক জীবনের ফুসফুস: যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে ক্লান্তি দূর করতে এই পার্কটি স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে এক বড় আশ্রয়স্থল।

প্রাতঃভ্রমণ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা: প্রতিদিন ভোরে শহরের শত শত সচেতন নাগরিক এখানে আসেন প্রাতঃভ্রমণ ও ব্যায়াম করতে। পার্কের বিশাল গাছপালার ছায়া ঘেরা পরিবেশ ভোরের বাতাসকে রাখে সতেজ।

বিকেলের আড্ডা ও শিশু বিনোদন: বিকেলে পার্কটি মুখরিত হয়ে ওঠে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীদের আড্ডায়। পরিবারের সবাইকে নিয়ে একটু খোলামেলা পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি শহরের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্থান।
সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু: সাতক্ষীরার যেকোনো বড় উৎসব, মেলা, রাজনৈতিক সমাবেশ কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল ভেন্যু হিসেবে বছরের পর বছর ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে এই শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। বিজয় মেলা, বইমেলা কিংবা স্বাধীনতা দিবসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই মাঠ উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়।

সংস্কার ও আধুনিকায়নের প্রত্যাশা: স্থানীয় দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পার্কের পরিবেশ রক্ষায় এবং সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করতে কিছু সংস্কার প্রয়োজন। পার্কের ভেতর বসার পর্যাপ্ত আধুনিক বেঞ্চের ব্যবস্থা করা, ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) আরও উন্নত করা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

নাগরিকদের অভিমত: “শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কটি আমাদের সাতক্ষীরা শহরের প্রাণ। পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন যদি পার্কটির সৌন্দর্য বর্ধনে এবং পরিবেশ রক্ষায় আরও একটু নজর দেয়, তবে এটি দেশের অন্যতম সেরা একটি দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সব মিলিয়ে, সাতক্ষীরার ঐতিহ্য ও নাগরিক জীবনের স্পন্দন হয়ে আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক। শহরের সৌন্দর্য ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিনোদনের স্বার্থে এই পার্কের যতœ নেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। সংবাদদাতা জুলফিকার আলী