বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

কী লিখব, কেন লিখব-সাংবাদিকতায় নয় কি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
কী লিখব, কেন লিখব-সাংবাদিকতায় নয় কি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সাংবাদিকতার শুরু কোথায়? কলমে, ক্যামেরায়, মাইক্রোফোনেÑনাকি একটি প্রশ্নে? সম্ভবত প্রশ্নেই। কারণ একজন সাংবাদিক যখন কোনো ঘটনা দেখেন, তখন তাঁর সামনে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, সেটি হলোÑকী লিখব? এর পরেই আসা উচিত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নÑকেন লিখব? কার জন্য লিখব? এই লেখা মানুষের কী কাজে আসবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার, সাংবাদিকতার দায়িত্ববোধও তত শক্তিশালী। প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে। কোথাও রাস্তা ভাঙে, কোথাও খাল দখল হয়, কোথাও কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না, কোথাও সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হন।

 

আবার কোনো কোনো জায়গায় একজন মানুষ নীরবে এমন একটি কাজ করেন, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। সব ঘটনাই সংবাদ নয়। আবার ছোট বলে মনে হওয়া কোনো ঘটনা কখনো কখনো বড় সামাজিক বাস্তবতার দরজা খুলে দিতে পারে। সাংবাদিকের কাজ তাই শুধু ঘটনা খুঁজে বের করা নয়; ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নেওয়া। একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়Ñএই তথ্যটি কি মানুষের জানা প্রয়োজন? এতে কি জনস্বার্থ জড়িত? এর পেছনে কি কোনো বড় সমস্যা আছে? কারও অধিকার কি ক্ষুণœ হচ্ছে? কোনো প্রতিষ্ঠান কি তার দায়িত্ব পালন করছে না? কিংবা এই ঘটনার আড়ালে কি এমন কোনো বাস্তবতা রয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসা দরকার? এখানেই সাংবাদিকতা আর নিছক সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

 

সংবাদ মানেই শুধু ঘটনা নয়। আমাদের সংবাদচর্চায় একটি প্রবণতা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছেÑঘটনা ঘটল, ছবি তোলা হলো, দু-একজনের বক্তব্য নেওয়া হলো, তারপর দ্রুত সংবাদ প্রকাশ। এতে সংবাদ হয়তো প্রকাশিত হয়, কিন্তু সাংবাদিকতার কাজ কি শেষ হয়? একটি সড়ক ভেঙে গেছেÑএটি একটি তথ্য। কিন্তু কেন ভাঙল? কতদিন ধরে এমন অবস্থা? সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল কি না? কাজটি কে করেছিল? কাজের মান কেমন ছিল? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে? এই সড়কের ওপর কত মানুষ নির্ভরশীল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই একটি সাধারণ খবর পরিণত হতে পারে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। অর্থাৎ ঘটনা সংবাদ তৈরি করে, কিন্তু প্রশ্ন সাংবাদিকতাকে গভীরতা দেয়।

 

সাংবাদিকতার শক্তি এখানেইÑসে দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে থাকা অদৃশ্য কারণটি খুঁজে বের করে। কেউ যদি জানতে চান, সাংবাদিক কেন লেখেনÑএর উত্তর হওয়া উচিত শুধু ‘সংবাদ প্রকাশের জন্য’ নয়। লিখব, কারণ মানুষের জানার অধিকার আছে।লিখব, কারণ কোনো অনিয়মকে অন্ধকারে রেখে দিলে তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। লিখব, কারণ যে মানুষটি নিজের কথা বলার সুযোগ পান না, তাঁর কথাও সমাজের জানা দরকার। লিখব, কারণ ক্ষমতাবানদের সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে পড়ছে, তা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

 

লিখব, কারণ কোনো সমস্যার কথা প্রকাশ্যে না এলে তার সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও অনেক সময় তৈরি হয় না। কিন্তু এর পাশাপাশি সাংবাদিককে এটিও মনে রাখতে হবেÑলেখা মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। অভিযোগ সংবাদ হতে পারে, কিন্তু অভিযোগ নিজেই সত্য নয়। তাই একটি অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ, নথি, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যের প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা; রায় দেওয়া নয়। ডিজিটাল যুগ সাংবাদিকতার গতি বাড়িয়েছে। একটি ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষ তা দেখে ফেলছেন।

 

এই বাস্তবতায় সাংবাদিকের ওপর দ্রুত প্রকাশের চাপও বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআগে প্রকাশ করাই কি সাংবাদিকতার সাফল্য? একটি ভুল তথ্য কয়েক মিনিটে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সংশোধনী প্রকাশ করলেও আগের ক্ষতি সব সময় পূরণ করা যায় না। তাই ‘সবার আগে’ হওয়ার চেয়ে ‘সঠিক’ হওয়ার প্রতিযোগিতাই সাংবাদিকতার জন্য বেশি জরুরি। একজন পাঠক যখন কোনো সংবাদ পড়েন, তখন তিনি ধরে নেনÑএই তথ্যটি যাচাই করা হয়েছে। সেই আস্থা ভেঙে গেলে শুধু একটি প্রতিবেদনের ক্ষতি হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাস যোগ্যতা। সাংবাদিকতার আলোচনায় রাজধানী কেন্দ্রিক সংবাদ অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতার বড় অংশ ছড়িয়ে আছে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকের চোখে যে সমস্যা ধরা পড়ে, সেটিই অনেক সময় বৃহত্তর জাতীয় সমস্যার প্রথম সংকেত। একটি খালের দখল হয়তো প্রথমে স্থানীয় সমস্যা। কিন্তু কয়েক বছর পর সেটিই জলাবদ্ধতা, কৃষি সংকট কিংবা পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। একটি গ্রামের পানির সংকট হয়তো একটি ছোট খবর। কিন্তু তার পেছনে থাকতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। তাই স্থানীয় সাংবাদিকতা কোনোভাবেই ‘ছোট সাংবাদিকতা’ নয়। বরং মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে বাস্তবতা দেখার সুযোগ স্থানীয় সাংবাদিকেরই বেশি। এই প্রশ্নের উত্তরও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

 

সাংবাদিকতা পক্ষ নেবেÑসত্যের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে, জনস্বার্থের পক্ষে। কিন্তু সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দল ভালো কাজ করলে তা সংবাদে আসবে, সমালোচনার মতো কাজ করলে সেটিও সংবাদে আসবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা ভালো উদ্যোগ নিলে তা প্রশংসিত হবে, আবার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে প্রশ্নও উঠবে। একই নীতি ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন কিংবা সাংবাদিকÑসবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আসলে এই নিরপেক্ষতার জায়গাটিকেই শক্তিশালী করে। একজন সাংবাদিকের পরিচয় শুধু তাঁর প্রেস কার্ডে নয়। তাঁর পরিচয় তৈরি হয় দীর্ঘদিনের কাজ দিয়ে।

 

তিনি কতটা তথ্য যাচাই করেন, কতটা ভারসাম্য রাখেন, ভুল হলে কতটা স্বীকার করেন, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন এবং ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে একই মাপকাঠি ব্যবহার করেনÑএসবই তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে যে কেউ নিজের একটি পেজ খুলে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন। এতে তথ্যপ্রবাহ বেড়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতা সহজ হয়ে যায়নি। বরং দায়িত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন পাঠকের সামনে তথ্যের অভাব নেই; সমস্যা হলো কোন তথ্যটি বিশ্বাস করবেন। এই জায়গায় একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রয়োজন আরও বেশি।

 

দিন শেষে একজন সাংবাদিকের নিজের কাছে ফিরে আসা উচিত সেই দুটি প্রশ্নেÑকী লিখলাম? কেন লিখলাম? আরও কয়েকটি প্রশ্ন যোগ করা যায়Ñআমি কি তথ্যটি যাচাই করেছি? যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বক্তব্য কি নিয়েছি? আমার প্রতিবেদনে কি অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে? এই লেখা কি মানুষের কাজে আসবে? আমি কি কোনো পক্ষের প্রচার করছি, নাকি সত্য তুলে ধরছি? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি সাংবাদিক নিজেই সন্তুষ্টির সঙ্গে দিতে পারেন, তাহলে তাঁর লেখা শুধু একটি সংবাদ থাকবে না; সেটি হয়ে উঠবে জনস্বার্থের দলিল।

 

সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সাফল্য পাঠকের প্রশংসা পাওয়া নয়। বরং এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যার পর কোনো অনিয়ম বন্ধ হয়, কোনো অবহেলিত মানুষের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়, কোনো নীতিগত ভুল নিয়ে আলোচনা শুরু হয় কিংবা সমাজের মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। তাই সাংবাদিকতার আসল শক্তি কলমের কালি নয়, প্রশ্ন করার সাহস এবং সত্য যাচাই করার সততা। ‘কী লিখব’ প্রশ্নটি একজন সাংবাদিককে সংবাদ খুঁজে নিতে সাহায্য করে।

 

আর ‘কেন লিখব’ প্রশ্নটি তাঁকে মনে করিয়ে দেয়Ñএই পেশা কেবল খবর প্রকাশের জন্য নয়। এটি মানুষের কথা বলার দায়িত্ব। এটি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার দায়িত্ব এটি সত্যকে যাচাই করে সামনে আনার দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয়Ñকতগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছি, তা নয়; বরং কতগুলো সত্য মানুষের সামনে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরতে পেরেছি।

লেখক: সংবাদকর্মী, সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।

 

ভারতে ইছামতীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত বেনাপোল সীমান্তের ১০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
ভারতে ইছামতীর পানি বৃদ্ধিতে প্লাবিত বেনাপোল সীমান্তের ১০০ পরিবারকে বিজিবির ত্রাণ

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: ভারতের ইছামতী নদীর উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে যশোরের বেনাপোল সীমান্তে প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার বিকেলে দৌলতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সীমান্ত এলাকায় পানিবন্দী হয়ে পড়া ১০০টি পরিবারের মধ্যে এ ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। ত্রাণ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের হাতে চাল, ডাল, আটা, তেল, লবণ ও চিনি তুলে দেন ২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান। সম্প্রতি নদীর পানি বৃদ্ধিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে বিপাকে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুর্ভোগ কমাতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর পক্ষ থেকে এই মানবিক সহায়তা প্রদান করা হয়। ২১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান জানান, যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সীমান্তবর্তী সাধারণ মানুষের পাশে বিজিবির এই সহায়তার ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।