মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কী লিখব, কেন লিখব-সাংবাদিকতায় নয় কি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
কী লিখব, কেন লিখব-সাংবাদিকতায় নয় কি

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সাংবাদিকতার শুরু কোথায়? কলমে, ক্যামেরায়, মাইক্রোফোনেÑনাকি একটি প্রশ্নে? সম্ভবত প্রশ্নেই। কারণ একজন সাংবাদিক যখন কোনো ঘটনা দেখেন, তখন তাঁর সামনে প্রথম যে প্রশ্নটি আসে, সেটি হলোÑকী লিখব? এর পরেই আসা উচিত আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নÑকেন লিখব? কার জন্য লিখব? এই লেখা মানুষের কী কাজে আসবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যত পরিষ্কার, সাংবাদিকতার দায়িত্ববোধও তত শক্তিশালী। প্রতিদিন অসংখ্য ঘটনা ঘটে। কোথাও রাস্তা ভাঙে, কোথাও খাল দখল হয়, কোথাও কৃষক তাঁর উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পান না, কোথাও সরকারি সেবা নিতে গিয়ে মানুষ হয়রানির শিকার হন।

 

আবার কোনো কোনো জায়গায় একজন মানুষ নীরবে এমন একটি কাজ করেন, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। সব ঘটনাই সংবাদ নয়। আবার ছোট বলে মনে হওয়া কোনো ঘটনা কখনো কখনো বড় সামাজিক বাস্তবতার দরজা খুলে দিতে পারে। সাংবাদিকের কাজ তাই শুধু ঘটনা খুঁজে বের করা নয়; ঘটনার গুরুত্ব বুঝে নেওয়া। একজন দায়িত্বশীল সাংবাদিককে প্রতিদিন নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়Ñএই তথ্যটি কি মানুষের জানা প্রয়োজন? এতে কি জনস্বার্থ জড়িত? এর পেছনে কি কোনো বড় সমস্যা আছে? কারও অধিকার কি ক্ষুণœ হচ্ছে? কোনো প্রতিষ্ঠান কি তার দায়িত্ব পালন করছে না? কিংবা এই ঘটনার আড়ালে কি এমন কোনো বাস্তবতা রয়েছে, যা প্রকাশ্যে আসা দরকার? এখানেই সাংবাদিকতা আর নিছক সংবাদ সংগ্রহের মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয়।

 

সংবাদ মানেই শুধু ঘটনা নয়। আমাদের সংবাদচর্চায় একটি প্রবণতা দিন দিন দৃশ্যমান হচ্ছেÑঘটনা ঘটল, ছবি তোলা হলো, দু-একজনের বক্তব্য নেওয়া হলো, তারপর দ্রুত সংবাদ প্রকাশ। এতে সংবাদ হয়তো প্রকাশিত হয়, কিন্তু সাংবাদিকতার কাজ কি শেষ হয়? একটি সড়ক ভেঙে গেছেÑএটি একটি তথ্য। কিন্তু কেন ভাঙল? কতদিন ধরে এমন অবস্থা? সংস্কারের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল কি না? কাজটি কে করেছিল? কাজের মান কেমন ছিল? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী বলছে? এই সড়কের ওপর কত মানুষ নির্ভরশীল? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই একটি সাধারণ খবর পরিণত হতে পারে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। অর্থাৎ ঘটনা সংবাদ তৈরি করে, কিন্তু প্রশ্ন সাংবাদিকতাকে গভীরতা দেয়।

 

সাংবাদিকতার শক্তি এখানেইÑসে দৃশ্যমান ঘটনার আড়ালে থাকা অদৃশ্য কারণটি খুঁজে বের করে। কেউ যদি জানতে চান, সাংবাদিক কেন লেখেনÑএর উত্তর হওয়া উচিত শুধু ‘সংবাদ প্রকাশের জন্য’ নয়। লিখব, কারণ মানুষের জানার অধিকার আছে।লিখব, কারণ কোনো অনিয়মকে অন্ধকারে রেখে দিলে তা আরও বিস্তৃত হতে পারে। লিখব, কারণ যে মানুষটি নিজের কথা বলার সুযোগ পান না, তাঁর কথাও সমাজের জানা দরকার। লিখব, কারণ ক্ষমতাবানদের সিদ্ধান্তের প্রভাব সাধারণ মানুষের জীবনে কীভাবে পড়ছে, তা তুলে ধরা গণমাধ্যমের দায়িত্ব।

 

লিখব, কারণ কোনো সমস্যার কথা প্রকাশ্যে না এলে তার সমাধানের প্রয়োজনীয়তাও অনেক সময় তৈরি হয় না। কিন্তু এর পাশাপাশি সাংবাদিককে এটিও মনে রাখতে হবেÑলেখা মানেই কাউকে অভিযুক্ত করা নয়। অভিযোগ সংবাদ হতে পারে, কিন্তু অভিযোগ নিজেই সত্য নয়। তাই একটি অভিযোগের সঙ্গে প্রমাণ, নথি, প্রত্যক্ষ তথ্য এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্যের প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকের দায়িত্ব হলো সত্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা; রায় দেওয়া নয়। ডিজিটাল যুগ সাংবাদিকতার গতি বাড়িয়েছে। একটি ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে সেটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যে শত শত মানুষ তা দেখে ফেলছেন।

 

এই বাস্তবতায় সাংবাদিকের ওপর দ্রুত প্রকাশের চাপও বেড়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑআগে প্রকাশ করাই কি সাংবাদিকতার সাফল্য? একটি ভুল তথ্য কয়েক মিনিটে হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। পরে সংশোধনী প্রকাশ করলেও আগের ক্ষতি সব সময় পূরণ করা যায় না। তাই ‘সবার আগে’ হওয়ার চেয়ে ‘সঠিক’ হওয়ার প্রতিযোগিতাই সাংবাদিকতার জন্য বেশি জরুরি। একজন পাঠক যখন কোনো সংবাদ পড়েন, তখন তিনি ধরে নেনÑএই তথ্যটি যাচাই করা হয়েছে। সেই আস্থা ভেঙে গেলে শুধু একটি প্রতিবেদনের ক্ষতি হয় না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো সংবাদ মাধ্যমের বিশ্বাস যোগ্যতা। সাংবাদিকতার আলোচনায় রাজধানী কেন্দ্রিক সংবাদ অনেক সময় বেশি গুরুত্ব পায়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতার বড় অংশ ছড়িয়ে আছে গ্রাম, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে।

 

স্থানীয় সাংবাদিকের চোখে যে সমস্যা ধরা পড়ে, সেটিই অনেক সময় বৃহত্তর জাতীয় সমস্যার প্রথম সংকেত। একটি খালের দখল হয়তো প্রথমে স্থানীয় সমস্যা। কিন্তু কয়েক বছর পর সেটিই জলাবদ্ধতা, কৃষি সংকট কিংবা পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। একটি গ্রামের পানির সংকট হয়তো একটি ছোট খবর। কিন্তু তার পেছনে থাকতে পারে জলবায়ু পরিবর্তন, লবণাক্ততা, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া কিংবা দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা। তাই স্থানীয় সাংবাদিকতা কোনোভাবেই ‘ছোট সাংবাদিকতা’ নয়। বরং মানুষের সবচেয়ে কাছাকাছি থেকে বাস্তবতা দেখার সুযোগ স্থানীয় সাংবাদিকেরই বেশি। এই প্রশ্নের উত্তরও স্পষ্ট হওয়া দরকার।

 

সাংবাদিকতা পক্ষ নেবেÑসত্যের পক্ষে, মানুষের অধিকারের পক্ষে, জনস্বার্থের পক্ষে। কিন্তু সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তি, দল, প্রতিষ্ঠান বা গোষ্ঠীর মুখপাত্র হতে পারে না। কোনো রাজনৈতিক দল ভালো কাজ করলে তা সংবাদে আসবে, সমালোচনার মতো কাজ করলে সেটিও সংবাদে আসবে। কোনো সরকারি কর্মকর্তা ভালো উদ্যোগ নিলে তা প্রশংসিত হবে, আবার দায়িত্বে অবহেলা থাকলে প্রশ্নও উঠবে। একই নীতি ব্যবসায়ী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন কিংবা সাংবাদিকÑসবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আসলে এই নিরপেক্ষতার জায়গাটিকেই শক্তিশালী করে। একজন সাংবাদিকের পরিচয় শুধু তাঁর প্রেস কার্ডে নয়। তাঁর পরিচয় তৈরি হয় দীর্ঘদিনের কাজ দিয়ে।

 

তিনি কতটা তথ্য যাচাই করেন, কতটা ভারসাম্য রাখেন, ভুল হলে কতটা স্বীকার করেন, মানুষের সঙ্গে কেমন আচরণ করেন এবং ক্ষমতাবান ও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে একই মাপকাঠি ব্যবহার করেনÑএসবই তাঁর বিশ্বাসযোগ্যতার ভিত্তি। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যুগে যে কেউ নিজের একটি পেজ খুলে সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন। এতে তথ্যপ্রবাহ বেড়েছে, কিন্তু সাংবাদিকতা সহজ হয়ে যায়নি। বরং দায়িত্ব আরও বেড়েছে। কারণ এখন পাঠকের সামনে তথ্যের অভাব নেই; সমস্যা হলো কোন তথ্যটি বিশ্বাস করবেন। এই জায়গায় একজন পেশাদার সাংবাদিকের প্রয়োজন আরও বেশি।

 

দিন শেষে একজন সাংবাদিকের নিজের কাছে ফিরে আসা উচিত সেই দুটি প্রশ্নেÑকী লিখলাম? কেন লিখলাম? আরও কয়েকটি প্রশ্ন যোগ করা যায়Ñআমি কি তথ্যটি যাচাই করেছি? যার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর বক্তব্য কি নিয়েছি? আমার প্রতিবেদনে কি অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হচ্ছে? এই লেখা কি মানুষের কাজে আসবে? আমি কি কোনো পক্ষের প্রচার করছি, নাকি সত্য তুলে ধরছি? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি সাংবাদিক নিজেই সন্তুষ্টির সঙ্গে দিতে পারেন, তাহলে তাঁর লেখা শুধু একটি সংবাদ থাকবে না; সেটি হয়ে উঠবে জনস্বার্থের দলিল।

 

সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সাফল্য পাঠকের প্রশংসা পাওয়া নয়। বরং এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা, যার পর কোনো অনিয়ম বন্ধ হয়, কোনো অবহেলিত মানুষের কথা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছায়, কোনো নীতিগত ভুল নিয়ে আলোচনা শুরু হয় কিংবা সমাজের মানুষ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। তাই সাংবাদিকতার আসল শক্তি কলমের কালি নয়, প্রশ্ন করার সাহস এবং সত্য যাচাই করার সততা। ‘কী লিখব’ প্রশ্নটি একজন সাংবাদিককে সংবাদ খুঁজে নিতে সাহায্য করে।

 

আর ‘কেন লিখব’ প্রশ্নটি তাঁকে মনে করিয়ে দেয়Ñএই পেশা কেবল খবর প্রকাশের জন্য নয়। এটি মানুষের কথা বলার দায়িত্ব। এটি ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার দায়িত্ব এটি সত্যকে যাচাই করে সামনে আনার দায়িত্ব। শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয়Ñকতগুলো সংবাদ প্রকাশ করেছি, তা নয়; বরং কতগুলো সত্য মানুষের সামনে দায়িত্বশীলভাবে তুলে ধরতে পেরেছি।

লেখক: সংবাদকর্মী, সচ্চিদানন্দ দে সদয়, আশাশুনি, সাতক্ষীরা

Ads small one

সাতক্ষীরা পাওবো ভেড়িবাধের একদিকে সংস্কার চলছে, আর একদিকে ভাঙন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা পাওবো ভেড়িবাধের একদিকে সংস্কার চলছে, আর একদিকে ভাঙন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ সংস্কারের কাজ বছর জুড়েই চলমান। সরকারি অর্থ ব্যয়ে একের পর এক বাঁধ সংস্কার করা হলেও জেলার পাউবোর দুটি বিভাগের আওতাধীন ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে বিভিন্ন পয়েন্ট এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও জোয়ারের পানির চাপে বাঁধে ধস নামছে, কোথাও দেখা দিয়েছে নতুন ফাটল ও ভাঙন। ফলে বাঁধ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সব সময়ই বিরাজ করছে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, নিম্নমানের কাজ এবং পাউবো কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকির অভাবের কারণে সংস্কারের পরও বাঁধ টেকসই হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে সংস্কার শেষ হওয়ার এক বছরের মধ্যেই একই স্থানে ফের ভাঙন দেখা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিতে পড়ছে উপকূলের জনবসতি, কৃষিজমি, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি।

পাউবো সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-১ ও বিভাগ-২-এর আওতাধীন বিভিন্ন পোল্ডারের অন্তর্ভুক্ত মোট ৬৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে পাউবো বিভাগ-১ এর অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার এবং পাউবো বিভা-২ এর অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। কপোতাক্ষ নদ, খোলপেটুয়া, মাদার, চুনা, গলগেসিয়া, বেতনা, মরিচ্চাপ এবং সীমান্তবর্তী কালিন্দী ও ইছামতি নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা এসব বাঁধ জেলার উপকূলীয় জনপদের মানুষের জীবন-জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

বর্ষা মৌসুমে বা যে কোনো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় নদীর প্রবল স্্েরাত, জোয়ারের পানির চাপ, ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে এসব বাঁধের বিভিন্ন অংশ প্রতিবছরই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত থেকে শুরু করে বড় ধরনের সংস্কারকাজও করা হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে সংস্কারের কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিন পরই বাঁধের ওই অংশে ফের দুর্বলতা দেখা দেয়।

প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা গ্রামের সাবেক মেম্বার গোলাম রসুল জানান, বাঁধ সংস্কারের ক্ষেত্রে মাটি ভরাট, মাটি সংরক্ষণ, ঢাল সঠিকভাবে তৈরি করা এবং প্রয়োজনীয় স্থানে জিওব্যাগসহ অন্যান্য সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথভাবে না করায় বাঁধ দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে। এরপর নদীর জোয়ার-ভাটা ও গ্রোতের চাপে অল্প সময়ের মধ্যেই সংস্কার করা অংশে ফের ভাঙন শুরু হয়। যে কারণে আমাদের উপকূলবাসীর দুর্ভোগ কমে না।

নওয়াবেকি গ্রামের ইকবাল হোসেন বলেন, “বেড়িবাঁধ ভাঙলে আমাদের আতঙ্ক শুরু হয়। সরকারি টাকা খরচ করে বাঁধ মেরামত করা হয়, কিন্তু কিছুদিন পর আবার সেই জায়গায় ভাঙন দেখা দেয়। কাজ যদি ঠিকভাবে করা হয়, তাহলে একই জায়গায় বারবার সংস্কার করতে হবে কেন? একই পয়েন্টে বারবার সংস্কারকাজের ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।”

উপকূলের বিছট গ্রামের আব্দুল হাকিম মোড়ল জানান, “সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের কাছে বেড়িবাঁধ শুধু একটি মাটির বাঁধ নয়, এটি তাদের ঘরবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। বাঁধের কোনো অংশে ভাঙন দেখা দিলেই আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম, অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার এবং নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ের সময় ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। বাঁধ ভেঙে বা উপচে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করলে কৃষিজমি ও মৎস্যঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়িও হুমকির মুখে পড়ে।

তবে বেড়িবাঁধ নির্মাণ বা সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম এবং পাউবো কতপক্ষের গাফিলতির অভিযোগ অস্বীকার করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম জানান, তার বিভাগের অধীনে ৩৮৩ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে ৫ কিলোমিটার বাঁধের ১০/১৫ পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সংস্কার কাজ চলছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কাজ চলমান রয়েছে।

সাতক্ষীরা পাউবো বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, “তার অধীনে ৩০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ রয়েছে। এর মধ্যে আশাশুনির প্রতাপনগর ও আনুলিয়া এবং শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নটির ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এর মধ্যে পাঁচ কিলোমিটার জায়গায় সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে। বাকি ১০ দশমিক ৮৮ কিলোমিটারের জন্য বরাদ্দ পেলে সেখানেও সংস্কারকাজ করা হবে।

তিনি আরও জানান, “নদীর স্বাভাবিক স্্েরাত, জোয়ারের চাপ, বৃষ্টিপাত, জলোচ্ছ্বাস ও বিভিন্ন প্রাকৃতিক কারণে উপকূলীয় বাঁধের ক্ষয় ও ভাঙন একটি চলমান প্রক্রিয়া।”

 

 

কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ
কলারোয়া সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মালামাল আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সোমবার ও মঙ্গলবার (১৭ ও ১৮ আগস্ট ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ কাকডাঙ্গা ও মাদরা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় শাড়ি ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে র কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে। এছাড়াও, মাদরা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালি হতে ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় শাড়ি আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় নদী রক্ষা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল দশটায় সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক মিজ কায়সার আজিজের সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান সিনিয়র সচিব মোঃ মোকসুমুল হাকিম চৌধুরী।

এ সময় জাতীয় পানি কমিশনের উপ-পরিচালক উপসচিব আব্দুল আল জাকি, জাতীয় পানি কমিশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আশরাফুল হক, পানি প্রকৌশলী সহকারী প্রধান আহমদ শামস কাদিরসহ সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড এক ও দুইয়ের প্রকৌশলী, সাংবাদিক জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, মোঃ আব্দুল বারী এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাতক্ষীরার জলবদ্ধতা নিরসন, নদী ও খালের অবৈধ দখলদার উচ্ছেদসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভা শেষে অতিথিবৃন্দ সাতক্ষীরা প্রাণসায়র খাল, বেতনা নদীসহ বিভিন্ন নদীর পাড় পরিদর্শন করেন।