বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

নদী বাঁচাতে শুধু আশ্বাস নয়, চাই দৃশ্যমান পদক্ষেপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচাতে শুধু আশ্বাস নয়, চাই দৃশ্যমান পদক্ষেপ

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সাতক্ষীরার নদী-খাল নিয়ে নতুন করে আশার কথা শুনিয়েছে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন। মঙ্গলবার সাতক্ষীরা সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান মকসুমুল হাকিম চৌধুরীর সঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও স্থানীয় পরিবেশকর্মীদের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় জেলার নদী-খালের বর্তমান পরিস্থিতি, অবৈধ দখল, নাব্যতাসংকট এবং পরিবেশগত নানা সমস্যা তুলে ধরা হয়।

 

কমিশনের চেয়ারম্যান সমস্যাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন এবং পর্যায়ক্রমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। তাঁর একটি বক্তব্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখেÑনদী ও খাল রক্ষায় শুধু আইনি পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ এবং জোরালো সামাজিক আন্দোলন। এই বক্তব্যের মধ্যেই সাতক্ষীরার নদী-খালের সংকটের মূল বাস্তবতা অনেকটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কারণ নদী রক্ষার জন্য দেশে আইন আছে, সরকারি প্রতিষ্ঠান আছে, আদালতের নির্দেশনা আছে, নদী রক্ষা কমিশন আছে, পরিবেশবাদী সংগঠন আছে।

 

তারপরও কেন নদী-খাল দখল হচ্ছে? কেন খাল ভরাট হয়ে যাচ্ছে? কেন নাব্যতা কমছে? কেন জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা বাড়ছে? প্রশ্নগুলো নতুন নয়। বরং দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হলেও বাস্তব পরিস্থিতির খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। সাতক্ষীরা একটি উপকূলীয় জেলা। এ জেলার প্রকৃতি নদী, খাল, বিল, জলাভূমি ও জোয়ার-ভাটার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

 

এখানকার কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীববৈচিত্র্য এবং মানুষের জীবন-জীবিকা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জলপ্রবাহের ওপর নির্ভরশীল। ফলে কোনো নদী বা খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু একটি জলাশয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তা ছড়িয়ে পড়ে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, মাছের ঘের, সড়ক, বাজার এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বর্ষা এলে এই বাস্তবতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। স্বাভাবিকভাবে বৃষ্টির পানি খাল ও নদীপথে নিষ্কাশিত হওয়ার কথা। কিন্তু কোনো খাল যদি দখল, ভরাট কিংবা পলি জমে সংকুচিত হয়ে পড়ে, তখন পানি নামার পথ বাধাগ্রস্ত হয়। সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা।

 

আবার নদীর নাব্যতা কমে গেলে জোয়ারের পানি প্রবেশ ও ভাটার পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়াও ব্যাহত হয়। উপকূলীয় এলাকায় এর সঙ্গে যুক্ত হয় লবণাক্ততার সমস্যা। ফলে নদী-খাল রক্ষার বিষয়টি আসলে জলাবদ্ধতা, কৃষি, মৎস্য, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। নদী-খালের সংকটের অন্যতম কারণ অবৈধ দখল। নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, খালের জায়গা ভরাট করে বসতবাড়ি বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, জলপ্রবাহের জায়গা সংকুচিত করাÑএসব কর্মকা- একদিনে তৈরি হয়নি।

 

দীর্ঘদিনের অবহেলা, দুর্বল তদারকি এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রভাবশালী মহলের নানা ধরনের প্রভাবের কারণে এসব দখল স্থায়ী রূপ পেয়েছে। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো, একটি অবৈধ দখল যখন দীর্ঘদিন টিকে থাকে, তখন সেটিই ধীরে ধীরে স্থানীয় বাস্তবতার অংশ হয়ে যায়। একসময় মানুষ ভুলে যায়, ওই জায়গাটি আসলে নদী বা খালের। এখানে প্রশাসনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নদী-খালের সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল শনাক্ত করা, দখলদার উচ্ছেদ, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং পুনরায় দখল ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

 

শুধু উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। উচ্ছেদের পর জায়গাটি কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে, কে নজরদারি করবে এবং ভবিষ্যতে নতুন করে কেউ দখল করার চেষ্টা করলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবেÑএসব বিষয়ও নিশ্চিত করতে হবে। নদী রক্ষার আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ নাব্যতাসংকট। নদী ও খালে পলি জমা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা না থাকলে তা ভয়াবহ আকার ধারণ করে।

 

অনেক খাল ও নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যাওয়ায় পানির ধারণক্ষমতা কমে যায়। কোথাও আবার জলপ্রবাহের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। একটি খাল অন্য খালের সঙ্গে, খাল নদীর সঙ্গে এবং নদী জোয়ার-ভাটার সঙ্গে যুক্তÑএই স্বাভাবিক জলব্যবস্থাকে বিবেচনায় না নিয়ে বিচ্ছিন্নভাবে কোনো একটি স্থানে খনন করলে কাক্সিক্ষত ফল পাওয়া কঠিন। তাই সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষায় প্রয়োজন সমন্বিত নদী ব্যবস্থাপনা। শুধু বড় নদী খনন করলেই হবে না; নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল, বিল ও জলাভূমির প্রবাহও সচল রাখতে হবে।

 

কোথায় খনন প্রয়োজন, কোথায় দখল উচ্ছেদ জরুরি, কোথায় পানির প্রবাহ পুনঃস্থাপন করতে হবেÑএসব বিষয় নিয়ে বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা করা দরকার। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণও অপরিহার্য। নদী-খালের পাশে বসবাসকারী মানুষই সবচেয়ে ভালো জানেন কোন খাল আগে কতটা প্রশস্ত ছিল, কোথায় পানি চলাচল করত, কোথায় দখল হয়েছে এবং কোথায় পানি আটকে থাকে। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে নদী রক্ষার পরিকল্পনা করলে তা অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে।

 

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এ কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত পরিবেশকর্মীরা সাতক্ষীরার নদী-খালের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। তাঁদের মধ্যে দ্য ডেইলি স্টারের সাংবাদিক ও বাপা জেলা কমিটির উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জি, এটিএন বাংলার সাংবাদিক ও বাপা জেলা কমিটির উপদেষ্টা এম কামরুজ্জামান, স্বদেশের নির্বাহী পরিচালক ও বাপার সাধারণ সম্পাদক মাধব চন্দ্র দত্ত, সুন্দরবন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও বেলার নেটওয়ার্ক সদস্য শেখ আফজাল হোসেন এবং বেসরকারি সংস্থা ‘হেড’-এর নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইনসহ স্থানীয় পরিবেশকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এ ধরনের মতবিনিময় গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাঠের বাস্তবতা অনেক সময় দাপ্তরিক নথির চেয়ে ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। তবে শুধু পরিবেশবাদীদের উদ্যোগে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। প্রয়োজন গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা। নদী দখল বা দূষণের ঘটনা সামনে এলে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনমত তৈরি হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্ব হবে শুধু অভিযোগ প্রকাশ না করে সমস্যার কারণ, প্রশাসনিক দুর্বলতা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব এবং সমাধানের পথও তুলে ধরা। ধারাবাহিক অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণধর্মী সাংবাদিকতা নদী রক্ষার আন্দোলনকে শক্তিশালী করতে পারে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

তাঁরা জনগণের প্রতিনিধি। তাঁদের উচিত উন্নয়ন কর্মকা-ের সঙ্গে পরিবেশগত বিষয়কে যুক্ত করা। কোনো রাস্তা, সেতু, কালভার্ট, বাঁধ বা স্থাপনা নির্মাণের সময় যাতে নদী-খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। উন্নয়ন যদি জলপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেই উন্নয়ন শেষ পর্যন্ত মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে। সবচেয়ে বড় কথা, নদীকে শুধু পানি নিষ্কাশনের পথ হিসেবে দেখলে চলবে না। নদী একটি জীবন্ত প্রতিবেশব্যবস্থা। এর সঙ্গে মাছ, পাখি, জলজ উদ্ভিদ, কৃষি এবং মানুষের জীবন জড়িত। একটি নদী শুকিয়ে গেলে কিংবা একটি খাল ভরাট হয়ে গেলে তার সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি সম্পূর্ণ প্রতিবেশগত ভারসাম্য।

 

তাই নদী রক্ষার প্রশ্নটি পরিবেশ রক্ষার প্রশ্নও বটে। জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের বক্তব্যে যে সামাজিক আন্দোলনের কথা বলা হয়েছে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের মধ্যে নদী সম্পর্কে দায়িত্ববোধ তৈরি করতে হবে। নদী দখলকে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়Ñএমন একটি অবস্থান তৈরি করা জরুরি। স্থানীয়ভাবে নদী ও খাল রক্ষা কমিটি গঠন, নিয়মিত নজরদারি, দখলের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রশাসনকে অবহিত করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

 

স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও নদী ও পরিবেশ রক্ষার কার্যক্রমে যুক্ত করা সম্ভব। একই সঙ্গে নদী রক্ষায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো নদী বা খাল দখল হলে শুধু দখলদারকে দায়ী করলেই প্রশ্ন শেষ হয় না; দীর্ঘদিন ধরে কীভাবে সেই দখল টিকে থাকল, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী করেছে, কোথায় তদারকির ঘাটতি ছিলÑএসব প্রশ্নেরও উত্তর প্রয়োজন। কারণ নদী দখল অনেক সময় একদিনের ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তারও ফল হতে পারে।

 

সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষায় এখন প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা। প্রথমে জেলার নদী ও খালের পূর্ণাঙ্গ তালিকা ও বর্তমান অবস্থা নিরূপণ করতে হবে। এরপর দখল, দূষণ, নাব্যতা ও প্রবাহের সমস্যাকে আলাদা করে চিহ্নিত করতে হবে। অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে সময়সীমাবদ্ধ কর্মসূচি নিতে হবে। কাজের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করলে জবাবদিহিও বাড়বে। মঙ্গলবারের মতবিনিময় সভা তাই শুধু একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখলে ভুল হবে।

 

এটি সাতক্ষীরার নদী-খাল রক্ষার দীর্ঘদিনের দাবিকে জাতীয় পর্যায়ে আবারও সামনে আনার একটি সুযোগ। এখন এই সুযোগকে কাজে লাগানোর দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সবার। সাতক্ষীরার নদী-খাল বাঁচাতে শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ। আইনের প্রয়োগ, প্রশাসনিক সদিচ্ছা, বৈজ্ঞানিক নদী ব্যবস্থাপনা এবং মানুষের সামাজিক আন্দোলনÑএই চারটি বিষয় একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

 

নদী রক্ষা কমিশনের আশ্বাস যদি মাঠপর্যায়ে কার্যকর উদ্যোগে রূপ নেয়, তাহলে তা শুধু নদী-খাল নয়, সাতক্ষীরার প্রাণ-প্রকৃতি ও মানুষের ভবিষ্যৎ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কারণ নদী হারালে শুধু একটি জলধারা হারায় নাÑহারায় একটি জনপদের জীবনপ্রবাহ। তাই নদী বাঁচানোর লড়াই আসলে সাতক্ষীরাকে বাঁচানোর লড়াই।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

Ads small one

ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন, রাজধানীতে সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রবির 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ অপরাহ্ণ
ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন সম্পন্ন, রাজধানীতে সবচেয়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রবির 
রবি আজিয়াটা পিএলসি বৃহত্তর ঢাকাজুড়ে তাদের মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপক আধুনিকায়ন কার্যক্রমের কাজ সম্পন্ন করেছে। দেশের সবচেয়ে বেশি ডেটা ব্যবহার হওয়া এই অঞ্চলে সংযোগ সেবার নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে রবি।
বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি জেলা আধুনিকায়নের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। রবির দাবি, এরই মধ্যে ঢাকার গ্রাহকরা আরও দ্রুতগতির ডেটা সেবা, আরও পরিষ্কার ভয়েস কল এবং আরও শক্তিশালী ইনডোর নেটওয়ার্ক কভারেজের সুবিধা পাচ্ছেন।
ঢাকার এই নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন রবির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রূপান্তর কর্মসূচির অংশ। এই কাজে নতুন প্রজন্মের “গিগা গ্রিন ৪জি/৫জি রেডি” প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও শক্তিশালী, ভবিষ্যৎ উপযোগী এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এখন রবি আধা-শহুরে (সেমি-আরবান) এলাকায় নেটওয়ার্ক আরও জোরদার করার দিকে নজর দিচ্ছে, যাতে এসব এলাকার দ্রুত বর্ধনশীল গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করা যায়।
গাজীপুর, সাভার, মানিকগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জসহ বৃহত্তর ঢাকায় ৪,৮০০টির বেশি সাইট আধুনিকায়ন করা হয়েছে। গ্রাহকসেবায় প্রায় কোনো বিঘ্ন ছাড়াই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিজ্ঞতায় বড় ধরনের উন্নতি হয়েছে। ডেটার গতি বেড়েছে, কল ড্রপ কমেছে এবং গ্রাহকরা ইনডোর আরও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন।
নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্সেও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিভিন্ন ক্লাস্টারে গ্রাহক অভিজ্ঞতা সর্বোচ্চ ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত হয়েছে। কল ড্রপ ২০ শতাংশ কমেছে। বৃহত্তর ঢাকা ও গাজীপুরের গ্রাহকরা ইনডোর আগের তুলনায় তিন গুণ ভালো কভারেজ ও সংযোগ পাচ্ছেন। নতুন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী নেটওয়ার্কের কারণে প্রতি জিবি ডেটা ব্যবহারে বিদ্যুৎ খরচও ২০ শতাংশ কমেছে। এটি রবির টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করছে।
এই আধুনিকায়নের ফলে রবির তরুণদের জন্য তৈরি ডিজিটাল লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড সার্কেল-এর গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হবে। ভিডিও স্ট্রিমিং, গেমিং, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বেশি ডেটা প্রয়োজন এমন বিভিন্ন কাজে তারা আরও দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংযোগ পাবেন। গতি, নির্ভরযোগ্যতা এবং ঘরের ভেতরের নেটওয়ার্ক মান উন্নত করার মাধ্যমে ঢাকায় নেটওয়ার্কের নেতৃত্বের দাবি আরও শক্তিশালী হয়েছে বলে জানিয়েছে রবি। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমানভাবে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত তরুণ জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে।
আজ ঢাকার তেজগাঁওয়ে রবির করপোরেট অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন রবির চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামে আহমেদ মেতাওয়েহ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, রবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াদ সাতারা এবং প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, “আমাদের সরকার বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাহকদের আরও ভালো সেবা দিতে রবির নেটওয়ার্কে বড় বিনিয়োগ দেখে আমি উৎসাহিত। এই মাইলফলকের জন্য রবিকে অভিনন্দন জানাই। সব নাগরিকের কাছে ডিজিটাল সুবিধা পৌঁছে দিতে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে মোবাইল অপারেটরদের তাদের নেটওয়ার্কে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হবে।”
রেহান আসিফ আসাদ বলেন, “শিল্পখাত আরও পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেবার মানই এখন প্রতিযোগিতার প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে। ঢাকার নেটওয়ার্ক নতুন করে সাজিয়ে রবি তার প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত। গ্রাহকরা ভালো মানের সেবা পেলে সেটি সবার জন্যই লাভজনক।”
বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) এমদাদ উল বারী বলেন, “একজন প্রকৌশলী হিসেবে আমি বুঝতে পারি, মাত্র তিন মাসে প্রায় ৫,০০০টি সাইটে কাজ সম্পন্ন করা একটি অবিশ্বাস্য ও বিস্ময়কর অর্জন। এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য আমি বিশেষভাবে রবি টেকনোলজি টিমকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। গ্রাহকদের জন্য মানসম্মত ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কারণে রবিকে দ্বিগুণ অভিনন্দন প্রাপ্য। ডিজিটাল বৈষম্য দূর করতে এই মুহূর্তে আমাদের ঠিক এ ধরনের উদ্যোগই প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে রবির ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিইও জিয়াদ সাতারা ঢাকার নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নকে একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ঢাকায় এখন রবির নেটওয়ার্ক সবচেয়ে শক্তিশালী।
তিনি জানান, রবি শিগগিরই চট্টগ্রামের নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের কাজও শেষ করবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সেরা মানের নেটওয়ার্ক হিসেবে তার অবস্থান ধরে রাখবে। তার ভাষায়, এই শ্রেষ্ঠত্ব শুধু বিজ্ঞাপনে নয়, বাস্তব নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতাতেও দেখা যাবে।
তিনি আরও বলেন, “আধুনিকায়নের ফলে আমাদের নেটওয়ার্ক অনেক শক্তিশালী হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনও কাজ বাকি রয়েছে, কারণ সেখানে আমাদের নতুন সাইট প্রয়োজন। নতুন সাইটের জায়গা পাওয়া এখন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। ঢাকার প্রতিটি এলাকায় একই মানের সেবা পৌঁছে দিতে সাইট স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা পেতে মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির জরুরি সহযোগিতা চাই।”
রবি ধারাবাহিকভাবে নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতে নতুনত্ব এনেছে। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠানটি দেশের সব ৬৪ জেলায় ৪জি সেবা চালু করে। বর্তমানে রবির ৪জি গ্রাহকের হার ৭২ শতাংশ, যা দেশের মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে রবি দেশের প্রথম অপারেটর হিসেবে নির্দিষ্ট উচ্চ-ট্রাফিক এলাকা, যেমন ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে, বাণিজ্যিকভাবে ৫জি সেবা চালু করে।
২০২০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে রবি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে ৯,৩৩১ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করেছে। এই সময়ে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৩,১৭৩ থেকে বেড়ে ১৯,৬৪৬টিতে পৌঁছেছে। একই সময়ে রবির স্পেকট্রামও ৩.৪ গুণ বেড়ে ১২৪ মেগা হার্টজ হয়েছে।
শুধু ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (কিউ২) রবি ৭২১.৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। এর ফলে ৪জি সাইটের সংখ্যা ১৯,৬০০ ছাড়িয়েছে এবং দেশের জনসংখ্যার ৯৮.৯৮ শতাংশ এখন রবির ৪জি নেটওয়ার্ক কভারেজের আওতায়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিমতলা–কন্দর্পপুর সড়কে কালভার্ট স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৭ অপরাহ্ণ
প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিমতলা–কন্দর্পপুর সড়কে কালভার্ট স্থাপন
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিমতলা–কন্দর্পপুর সড়কের কাটা অংশে কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির একটি অংশ কাটা থাকায় আশপাশের দুই থেকে তিনটি গ্রামের মানুষের চলাচল ব্যাহত হচ্ছিল। স্থানীয়দের দুর্ভোগের কথা বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি সচল করার উদ্যোগ নেন ভোজগাতী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. শামিম হোসেন।
বুধবার সকালে সড়কের কাটা অংশে কালভার্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়। একই সঙ্গে সড়কে মাটি ফেলার কাজও চলছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কাজ শেষ হলে বৃহস্পতিবার থেকেই সড়কটি স্বাভাবিকভাবে চলাচলের উপযোগী হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নিমতলা থেকে কন্দর্পপুর পর্যন্ত এ সড়কটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন সড়কের একটি অংশ কাটা থাকায় পথচারী ও যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়। বিষয়টি স্থানীয়রা শামিম হোসেনকে জানালে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
শামিম হোসেন বলেন, “এলাকাবাসী বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি এবং সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বুধবার সকালে এখানে কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। বর্তমানে মাটি ফেলার কাজ চলছে। আশা করছি, বৃহস্পতিবার থেকেই রাস্তাটি আগের মতো চলাচলের উপযোগী হবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা সাধ্যমতো ইউনিয়নবাসীর পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আপনাদের সহযোগিতা পেলে আমৃত্যু মানুষের পাশে থাকব, ইনশাআল্লাহ।”
কালভার্ট স্থাপনের সময় উপস্থিত ছিলেন ভোজগাতী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রহমত আলী, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আবু বক্কার, মাওলানা মিজানুর রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি ইকবাল হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
এদিকে কালভার্ট স্থাপনের উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। দ্রুত মাটি ভরাট ও অন্যান্য কাজ শেষ করে সড়কটি পুরোপুরি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১৩ অপরাহ্ণ
ফকিরহাটে ফলতিতা বাজারে ১৩টি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই

ফকিরহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ফলতিতা বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩টি ছোট-বড় দোকান পুড়ে ছাই  হয়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিস, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদার ও স্থানীয়রা জানান, বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভাতে চেষ্টা করে। প্রায় দুই ঘন্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এরমধ্যে ১৩টি দোকান এবং দোকানে থাকা নগদ টাকাসহ, মালামাল ও জিনিপত্র পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে গেছে।

এসব দোকানের মধ্যে দুটি মিষ্টির দোকান, দুটি ভাতের হোটেল, দুটি মুদি দোকান, ১টি ফাষ্টফুডের দোকান, অন্যান্য খাবারের দোকান ছিল।

ক্ষতিগগ্রস্থ দোকানদার আরিফ শেখ, মো: বক্কার, নিমাই, রুপ সাহাসহ অন্যান্যরা জানান, তারা ভোর ৪টার দিকে খবর পেয়ে দোকানে এসে দেখেন সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ফকিরহাট ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো: শাহাজাহান মিয়া বলে, বৈদ্যুতিক সর্ট সার্কিটের মাধ্যমে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে প্রায় দুই ঘন্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।