শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কোবাতক নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কচ্ছপ, অবমুক্ত করল বনবিভাগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
কোবাতক নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির কচ্ছপ, অবমুক্ত করল বনবিভাগ

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কোবাতক নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে একটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। শনিবার (১৩ জুন) সকালে মাছ ধরার সময় কচ্ছপটি জেলের জালে আটকা পড়ে। পরে খবর পেয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বনবিভাগের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কচ্ছপটি উদ্ধার করেন।

বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধারকৃত কচ্ছপটি দেখতে স্থানীয়ভাবে পরিচিত সাধারণ কচ্ছপের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন আকৃতির হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। কচ্ছপটির গায়ের রঙ, খোলসের গঠন ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য অন্য কচ্ছপের চেয়ে আলাদা হওয়ায় এটিকে বিরল প্রজাতির বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, কোবাতক নদীতে দীর্ঘদিন ধরে মাছ ধরলেও এমন কচ্ছপ আগে কখনো তাদের জালে ধরা পড়েনি। স্থানীয়দের অনেকেই কচ্ছপটি দেখতে ভিড় করেন।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকে এই নদীতে বিভিন্ন ধরনের মাছ ও জলজ প্রাণী দেখেছি। কিন্তু এমন ধরনের কচ্ছপ এই প্রথম দেখলাম। এটি দেখতে একেবারেই আলাদা।”

খবর পেয়ে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বনবিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কচ্ছপটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ শেষে সুন্দরবন সংলগ্ন একটি নিরাপদ নদীতে কচ্ছপটিকে অবমুক্ত করা হয়।
বুড়িগোয়ালিনী এলাকার মোজাম্মেল হক বলেন, আমারা এই প্রথম দেখলাম এধরনের কচ্ছপ।

বনবিভাগের সদস্যরা জানান, সুন্দরবন ও এর আশপাশের নদ-নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় জলজ প্রাণীর বিচরণ রয়েছে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে এসব প্রাণী ধরা পড়লে দ্রুত বনবিভাগকে খবর দেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের বিরল কচ্ছপের উপস্থিতি সুন্দরবন সংলগ্ন নদীগুলোর জীববৈচিত্র্যের সমৃদ্ধির প্রমাণ বহন করে। তাই এসব প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

Ads small one

ধূলিহরে হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
ধূলিহরে হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স ও মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধূলিহর কাছারী পাড়ায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্স’-এর শুভ উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। শনিবার যোহরের নামাজের পর এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই কমপ্লেক্সের উদ্বোধন করা হয়।
কমপ্লেক্সের জমিদাতা সদস্য গোলাম হোসেন হেলি এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হযরত আব্বাস (রা.) কমপ্লেক্সের সভাপতি ও সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর।
উপস্থিত ছিলেন আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মাস্টার আশরাফুজ্জামান খোকন, সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, মাস্টার আবুল হাসান এবং যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি সাংবাদিক মাওলানা আব্দুল করিম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জার্মান প্রবাসী ও সমাজসেবক জুলফিকার হায়দার। উদ্বোধনকালে কমপ্লেক্সের অধীনস্থ ‘মফিজ উদ্দীন বিশ্বাস ক্যাডেট মাদ্রাসা’র নিজস্ব জায়গায় নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোহাম্মদ আলী হাবিবী।

শ্যামনগরে জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ১০

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে জুয়ার আসর থেকে গ্রেপ্তার ১০

মো. সিরাজুল ইসলাম: শ্যামনগরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি জুয়ার আসর থেকে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) ভোররাত সোয়া একটার দিকে উপজেলার খোসালখালী গ্রামের একটি চায়ের দোকানের পাশের ঘর থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় জুয়া খেলার সরঞ্জাম এবং নগদ ৪ হাজার ৮৯০ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন খোসালখালী গ্রামের শাহিনুর রহমান (৩২), জাহিদ হোসেন (৩৩), ইয়াছিন মোড়ল (৪০), শফিকুল ইসলাম গাইন (৫৪), আবু ইছা গাজী (২৬) ও শহিদুল্লাহ মাঝী (৩২); খেগড়াঘাট গ্রামের আহম্মদ আলী (৩৮) ও আহসান আলী (৩৬); শ্রীফলকাটি গ্রামের এবাদত মোড়ল (৩২) এবং আবাদচন্ডীপুর গ্রামের মোসলেম গাজী (৩৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার পুলিশ সুপারের দিকনির্দেশনায় শ্যামনগর থানা পুলিশের একটি দল খোসালখালী গ্রামের জনৈক জাকিরের চায়ের দোকানসংলগ্ন ঘরে অভিযান চালায়। হাতেনাতে ১০ জুয়াড়িকে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের কাছ থেকে তাস ও টাকা উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুদেব পাল বাদী হয়ে ১৮৬৭ সালের জুয়া আইনের ৩/৪ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের শনিবার সকালেই আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাতক্ষীরায় আন্তধর্মীয় সংলাপ: সম্প্রীতি রক্ষায় ১১ দফার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৪ জুন, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় আন্তধর্মীয় সংলাপ: সম্প্রীতি রক্ষায় ১১ দফার ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘সংঘাত নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ি’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় এক আন্তধর্মীয় সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের ম্যানগ্রোভ সভাঘরে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়। সাতক্ষীরা সদর ও কালিগঞ্জ পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। দি হাঙ্গার প্রজেক্ট বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায় এবং ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) অর্থায়নে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএফজি কো-অর্ডিনেটর অধ্যক্ষ পবিত্র মোহন দাশ এবং সঞ্চালনা করেন পিস অ্যাম্বাসেডর ও সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জ্বল। সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রোকনুজ্জামান, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুফতি আখতারুজ্জামান, সুকুমার দাস বাচ্চু, হেনরি সরদার, আইনজীবী সোমনাথ ব্যানার্জি ও মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং পবিত্র কোরআন, গীতা ও বাইবেল পাঠের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর সংলাপের মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন দি হাঙ্গার প্রজেক্টের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর এস এম রাজু জবেদ।
সংলাপে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ চিরকালই ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রীতির দেশ। কোনো ধর্মই মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে না। তবে কিছু বিপথগামী মানুষ ধর্মকে পুঁজি করে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে, যা রুখে দিতে ধর্মীয় নেতাদের বিশেষ ভূমিকা রাখতে হবে। উসকানিমূলক কোনো গুজবে কান না দিয়ে সত্য তথ্য যাচাই করার এবং একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
সংলাপ শেষে জেলার আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখার লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে ১১টি ঘোষণা সম্বলিত একটি ঘোষণাপত্র তৈরি করা হয়, যেখানে উপস্থিত সকল প্রতিনিধি স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে সাতক্ষীরা ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং পিএফজি ও ওয়াইপিএজি সদস্যরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর মো. আবু তাহের।