রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারিদের রাস্তার শরবতে ভরসা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
গরমে তৃষ্ণা মেটাতে পথচারিদের রাস্তার শরবতে ভরসা

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): খুলনার পাইকগাছায় বৈশাখ মাসে টানা তীব্র তাপদাহ চলছে। প্রচন্ড গরমে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঘর থেকে বের হলেই গরমে ঘেমে নাজেহাল। হেঁটে বা গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্যস্থানে যেতে ঘাম ঝরছে শরীর থেকে। কাঠফাটা রোদে শুকিয়ে যাওয়া গলা ভেজাতে রাস্তার পাশের দোকান থেকে ঠান্ডা শরবত ও জুস কিনে পান করেন অনেক মানুষ। সাময়িক প্রশান্তি আর তৃষ্ণা মেটাতে তাই মানুষ ঝুঁকছে রাস্তার শরবত-ফলে। অস্বস্তিকর গরমে রাস্তার পাশের অস্থায় কিংবা ভ্রাম্যমাণ পানীয় ও কাঁটা ফলের দোকানগুলোতে ভিড় চোখে পড়ার মতো।

পাইকগাছার পৌর বাজারে চোখে পড়বে ব্যস্ত সড়কের মোড়ে, মার্কেটের সামনে, রাস্তার পাশে দাঁড়ানো লেবু পানি, আখের রস, বেলের শরবত, আম-পেয়ারা, তরমুজ, শসা, ডাবসহ নানা প্রকারের লোভনীয় ফল-ফলাদি। গরম বেশি পড়লে বেড়ে যায় এসব খাবারের চাহিদা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে ভ্যানে করে শরবত বিক্রি করছেন হকাররা। ভ্যানের ওপর একটি ফিল্টারে পানি ও বরফ মিশিয়ে রাখা হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে লেবু, ড্রিংক পাউডার, বিট লবন, তোকমা ও বরফ কুচি। আখের রস ১০ থেকে ২৫ টাকা গ্লাস, শুধু লেবুর শরবত বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকায় আর ড্রিংক পাউডার দিয়ে তৈরি শরবত বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়। লেবুর শরবত বিক্রেতারা জানান, খবার পানি দিয়ে লেবুর শরবত তৈরি করা হয়। লেবুর শরবতের সাথে বিট লবন ও চিনি মিশিয়ে দেওয়া হয়। তবে যেসব বরফ দেওয়া হয়, সেগুলো মাছ সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা বরফ। দোকানিরা বলছেন, গরমের কারণে সব ধরনের শরবত-জুসের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষ এ ধরনের শরবত বেশি পান করেন।

লেবুর শরবত বিক্রেতা নুর ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ গদ্বাস শরবত বিক্রি হয়। বেশি বিক্রি হলে লাভও হয় বেশি। শরবতের ক্রেতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,শিশুরা, ভ্যানচালক, বাসের হেলপার, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ তাদের ক্রেতা। বরফ কুচি ও বিট লবণ মেশানো লেবুর শরবতের দোকানেও গরমে অস্থির অনেকেই স্বস্তি খুঁজতে ভিড় করেছেন।

লেবুর শরবত বিক্রেতা শহিদুল মোড়ল বলেন, বেশী গরম পড়লে ভীড় বেড়ে যায়। আমার লেবুর পানি একশ ভাগ ভালো। ভালো কারখানা থেকে বরফ আনা। কোনো ক্ষতি হয় না।

তবে বিভিন্ন সূত্রমতে, রাস্তার এসব পানীয়তে যে বরফ ব্যবহার করা হয় তা মাছের আড়ৎ এর ব্যবহার করা হয়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হয় এ বরফ। এসব বরফে মেশানো থাকে কেমিক্যাল ও ইউরিয়া। ফলে ঠান্ডার পরশ পেয়ে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অজান্তেই শরীরে যাচ্ছে জন্ডিস, ডাইরিয়াসহ অন্য রোগের জীবাণু। যদিও বিক্রেতাদের দাবি, খাওয়ার বরফ যেসব কারখানায় বানানো হয়, সেখান থেকে বরফ কেনেন তারা।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, পথঘাটে খাবার না খাওয়াই ভালো। রাস্তার পাশে এসব খাবার পরিস্কার পরিছন্ন পরিবেশে তৈরি করলে তাতে কোন সমস্যা হবে না। তবে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত করা সরবত, আখের রস, জুস এগুলো খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ও জন্ডিসের জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাময়িক তৃপ্তি দিলেও এসব শরবত ও পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত।

Ads small one

নগরঘাটায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
নগরঘাটায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; hdrForward: 0; brp_mask:0; brp_del_th:null; brp_del_sen:null; delta:null; module: video;hw-remosaic: false;touch: (-1.0, -1.0);sceneMode: 0;cct_value: 0;AI_Scene: (-1, -1);aec_lux: 0.0;aec_lux_index: 0;HdrStatus: off;albedo: ;confidence: ;motionLevel: -1;weatherinfo: null;temperature: 46;

আল মামুন: সাতক্ষীরার তালার নগরঘাটায় ওয়ার্ড ভিত্তিক ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে মিঠাবাড়ি ৪ নং ওয়ার্ড। রবিবার (৩১ মে) বিকেলে মিঠাবাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তারা ৬-০ গোলে চকারকান্দা ১ নং ওয়ার্ডকে পরাজিত করে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলায় আধিপত্য বিস্তার করে মিঠাবাড়ি ৪ নং ওয়ার্ড। প্রথমার্ধে ৩-০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটি দ্বিতীয়ার্ধে আরও ৩টি গোল করে বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। পুরো ম্যাচে চকারকান্দা ১ নং ওয়ার্ড তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেনি।

উদ্বোধনী ম্যাচে গোল উৎসব উপভোগ করতে মাঠে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। প্রতিটি গোলের পর সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। খেলা শেষে বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মাঝে উৎসবের আমেজ দেখা যায়।

মিঠাবাড়ি বহুমুখী সংঘের আয়োজনে এবং হাসিব অটো রাইস মিল, রাকিব অটো রাইস মিল ও রাকিব কোল্ডস্টোরেজের পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন রাকিব অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী ও নগরঘাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব ইবাদুল ইসলাম।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মিঠাবাড়ি বহুমুখী সংঘের সভাপতি এস এম লিয়াকত আলী, সাবেক ওয়ার্ড সদস্য এস এম হায়দার আলী, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মনিরুল ইসলাম মনি, আবাদেরহাট এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইকরাম আলী, পাটকেলঘাটা থানার এসআই মতিনসহ সঙ্গীয় ফোর্স, প্রভাষক আতাউর রহমান আতা, শিক্ষক আব্দুল মজিদ, ওয়ার্ড সদস্য ডা. আব্দুল গফুর, শিক্ষক মাহবুব মিলন, বিএনপি নেতা ইলিয়াস হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আয়োজকরা জানান, যুবসমাজকে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ও মাদকমুক্ত রাখতে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী ম্যাচগুলোতেও দর্শকদের উপস্থিত থেকে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানান তারা।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পপতি আলহাজ্ব ইবাদুল ইসলাম বলেন, যুবসমাজকে খেলাধুলার প্রতি আরও উৎসাহিত করতে এই আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, টুর্নামেন্ট শেষে চ্যাম্পিয়ন দলকে পুরস্কার হিসেবে একটি গরু প্রদান করা হবে। এছাড়া অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলগুলোকেও পুরস্কার হিসেবে ছাগল দেওয়া হবে। এ ঘোষণা উপস্থিত খেলোয়াড় ও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহের সৃষ্টি করে।

মাছখোলায় জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ: অবিবাহিতদের জয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৪৫ অপরাহ্ণ
মাছখোলায় জমজমাট প্রীতি ফুটবল ম্যাচ: অবিবাহিতদের জয়

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে এক বর্ণাঢ্য ও আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বিবাহিত একাদশ বনাম অবিবাহিত একাদশ’ প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট। রবিবার (৩১ মে) বিকেল ৫টার সময় টানটান উত্তেজনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে এই ম্যাচটি শুরু হয়।

 

ঈদের ছুটির আমেজে গ্রামের সকল স্তরের মানুষের মাঝে এ খেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। ম্যাচটি দেখতে দুপুরের পর থেকেই স্থানীয় ক্রীড়ামোদী দর্শকরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। খেলা শুরুর আগেই মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠটি দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

খেলার প্রথমার্ধ থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলা শুরু করে। মাঠের চারপাশ থেকে দর্শকদের তুমুল করতালি আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। একদিকে বিবাহিত একাদশের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের চতুর পাসিং, অন্যদিকে অবিবাহিত একাদশের তরুণদের গতিশীল ও দমকা আক্রমণ। সব মিলিয়ে ম্যাচটি রূপ নেয় এক দারুণ লড়াইয়ে।

নিয়মানুযায়ী ফুটবল ম্যাচে যে দল কম গোল হজম করে বা বেশি গোল দেয়, তারাই জয়ী হয়। ম্যাচটিতে অবিবাহিত একাদশ নিজেদের জালে মাত্র ১টি গোল খায়। অপরদিকে, বিবাহিত একাদশ রক্ষণভাগের দুর্বলতার কারণে ২টি গোল খেয়ে বসে। ফলে অবিবাহিত একাদশ ১-২ গোলের ব্যবধানে (১টি গোল কম খেয়ে) ম্যাচটিতে জয়লাভ করে।
খেলা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও টুর্নামেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে বিজয়ী এবং রানার্স-আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই ধরণের প্রীতি ম্যাচ গ্রামীণ জনপদে ঈদের আনন্দকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যুবসমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এবং সমাজের সকল বয়সের মানুষের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে মাছখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

তালার হাজরাকাটি জামতলা মাঠে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
তালার হাজরাকাটি জামতলা মাঠে ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খলিলনগর ইউনিয়নের হাজরাকাটি জামতলা মাঠে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩১ মে) বেলা ১১টা থেকে শুরু হওয়া এ আয়োজনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মাঠজুড়ে প্রাণচাঞ্চল্য ও উৎসবের আবহ সৃষ্টি হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাবেক তালা সদর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সাংবাদিক এস এম নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনতা ব্যাংক সাতক্ষীরা উপজেলা ক্যাম্পাস শাখার ব্যবস্থাপক মো. শাহিনুর রহমান, বিধানচন্দ্র রায়, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম মলঙ্গী, রবিউল ইসলাম।

 

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক হাসেম সরদারসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক জহর হাসান সাগর। সার্বিক আয়োজন করে ভেজাইল্ল পাবলিক ফেসবুক টিম ও স্থানীয় গ্রামবাসী।

ঐতিহ্যবাহী এ হাডুডু খেলায় অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই অনুষ্ঠিত হয়। রোমাঞ্চকর ফাইনাল ম্যাচে হাজরাকাটি হাডুডু দল দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী আঠারোমাইল হাডুডু দল মাত্র এক পয়েন্টের ব্যবধানে পরাজিত হয়ে রানার-আপ হওয়ার কৃতিত্ব লাভ করে।

 

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিবৃন্দ। এ সময় বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শেকড় ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।