মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালো চশমা পরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও থানার দালালি করা যাবে না: সাবেক এমপি হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
কালো চশমা পরে চাঁদাবাজি, জমি দখল ও থানার দালালি করা যাবে না: সাবেক এমপি হাবিব

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বস্ত্র বিতরণ ও খাদ্য বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (৩১ শে মে) বেলা ১১ টায় তালা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে শিল্পকলা একাডেমী চত্বরে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তিনি অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করেন এবং পরে খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

তালা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সহোযোগী অধ্যাপক মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম শফি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান শেখ গোলাম মোস্তফা, সাবেক চেয়ারম্যান সরদার মহাব্বত আলী, যুগ্ম সম্পাদক ও চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, হাফিজুর রহমান হাফিজ, সাতক্ষীরা নারী ও শিশু আদালতের পিপি আলমগীর হোসেন, আশিকুর রহমান মুন্না, সাবেক এমপির সহোদর আব্দুস সালাম মধু, গাজী সুলতান আহমেদ, মাস্টার শাহাদাত হোসেন, অমল দত্ত, অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, তালা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মির্জা আতিয়ার রহমান, সদস্য সচিব মোস্তফা হোসেন মন্টু, যুগ্ম-আহবায়ক সাইদুর রহমান সাইদ, মহিলা দলের মেহেরুন্নেসা মিনি, কৃষক দলের জাহাঙ্গীর হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের রফিকুল ইসলাম দাদু, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ রিজভী আহমেদ, ছাত্রনেতা এস কে ফারুক, খাঁজা নাজমুল হুসাইন, সাগর হোসেন সোহাগ, মোস্তাফিজুর রহমান রাজুসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে তার অসামান্য ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শ আজও দেশের গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনার অন্যতম প্রেরণার উৎস।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, “কালো চশমা পরে চাঁদাবাজি, জমি দখল, সন্ত্রাসী কর্মকা-, মাদক ব্যবসা, থানার দালালি কিংবা জমির সালিশ বাণিজ্য তালায় আর চলবে না। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। বিএনপি জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নিরাপদ সমাজ গঠনে বদ্ধপরিকর। এছাড়া আগত স্থানীয় নির্বাচনে দল মনোনিত একক প্রার্থী বাছাই করা হবে বলে জানানো হয়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় যে অবদান রেখে গেছেন তা জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। আলোচনা সভা শেষে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং আরাফাত রহমান কোকো এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক জিয়া-এর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সফলতা কামনা করা হয়। দোয়া মাহফিল শেষে সর্বসাধারণের মাঝে খাদ্য বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Ads small one

আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস: জীববৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ণ
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস: জীববৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক

সাকিবুর রহমান বাবলা
বিশ্বে বর্তমানে বন্য পরিবেশে প্রায় ৫,৫০০ বাঘ রয়েছে এবং বাংলাদেশে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার সংরক্ষণ সাফল্যের একটি আশাব্যঞ্জক উদাহরণ। তবুও বাঘ আজও বিশ্বের অন্যতম বিপন্ন বৃহৎ স্তন্যপায়ী প্রাণি। প্রকৃতির বিস্ময়কর সৃষ্টিগুলোর মধ্যে বাঘ এমন এক প্রাণি, যার উপস্থিতি শক্তি, সৌন্দর্য, সাহস এবং বন্যতার এক অনন্য প্রতীক হিসেবে মানবসভ্যতাকে যুগ যুগ ধরে মুগ্ধ করে এসেছে। পৃথিবীর বৃহত্তম বিড়ালজাতীয় প্রাণি হিসেবে বাঘ শুধু একটি শিকারি প্রাণি নয়; এটি একটি সুস্থ বন, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য এবং ভারসাম্যপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম নির্দেশক। তাই বাঘ রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণিকে বাঁচিয়ে রাখা নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ পরিবেশব্যবস্থাকে সংরক্ষণ করা।
এই উপলব্ধি থেকেই প্রতি বছর ২৯ জুলাই বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস। ২০১০ সালে রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র সম্মেলনে বিশ্বনেতারা বাঘ সংরক্ষণের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তখন পৃথিবীতে বন্য পরিবেশে বাঘের সংখ্যা নেমে এসেছিল আশঙ্কাজনক পর্যায়ে। সেই সংকট মোকাবিলায় বাঘের আবাসস্থল রক্ষা, অবৈধ শিকার বন্ধ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই দিবসের সূচনা হয়।
একসময় এশিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে বাঘের বিচরণ ছিল। কিন্তু বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ শিকার এবং বন্যপ্রাণি পাচারের কারণে বাঘের সংখ্যা দ্রুত কমতে থাকে। অতীতে পৃথিবীতে বাঘের মোট ৯টি উপপ্রজাতি ছিল, যার মধ্যে বালিনিজ, জাভানিজ ও কাস্পিয়ান বাঘ ইতোমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। বর্তমানে প্রকৃতিতে টিকে আছে ৬টি উপপ্রজাতি। এর মধ্যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানে; সাইবেরিয়ান বাঘ রাশিয়ায়; সুমাত্রান বাঘ ইন্দোনেশিয়ায়; ইন্দো-চায়নিজ বাঘ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এবং মালয়ান বাঘ মালয় উপদ্বীপে বাস করে। অন্যদিকে সাউথ চায়না টাইগার বন্য পরিবেশ থেকে কার্যত বিলুপ্ত হয়ে গেছে এবং বর্তমানে কেবল বন্দিদশায় সীমিত সংখ্যায় টিকে রয়েছে।
পরিবেশবিজ্ঞানের ভাষায় বাঘ একটি শীর্ষ শিকারি। খাদ্যশৃঙ্খলের সর্বোচ্চ স্তরে অবস্থান করে এটি হরিণ, বুনো শুকরসহ বিভিন্ন তৃণভোজী প্রাণির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে বনাঞ্চলে উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় থাকে। যদি বাঘ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য ভেঙে পড়তে পারে। তৃণভোজী প্রাণির সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে বনভূমির ক্ষতি করবে, যা শেষ পর্যন্ত জলবায়ু, মাটি, পানি এবং অন্যান্য জীবের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ কারণেই বাঘকে অনেক বিজ্ঞানী “ছাতা প্রজাতি” বলে অভিহিত করেন; কারণ বাঘের আবাস রক্ষা করলে একই সঙ্গে অসংখ্য প্রাণি ও উদ্ভিদও সুরক্ষা পায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বাঘের গুরুত্ব আরও গভীর। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়; এটি উপকূলীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক ঢাল, জীববৈচিত্র্যের ভা-ার এবং লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। এই বনভূমির প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। সুন্দরবনের বাঘ পৃথিবীর অন্য অঞ্চলের বাঘের তুলনায় কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। নদী, খাল ও জোয়ার-ভাটার পরিবেশে অভিযোজিত হয়ে তারা অসাধারণ সাঁতারুতে পরিণত হয়েছে। প্রয়োজনে তারা দীর্ঘ দূরত্ব সাঁতরে এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে যেতে পারে।
আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সুন্দরবনে এখন পর্যন্ত তিনবার পূর্ণাঙ্গ বাঘশুমারি পরিচালিত হয়েছে। প্রথম বৈজ্ঞানিক জরিপে ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি বাঘের উপস্থিতি শনাক্ত হয়। ২০১৮ সালের জরিপে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৪টিতে এবং সর্বশেষ শুমারির ফলাফল অনুযায়ী ২০২৪ সালে সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫টিতে পৌঁছেছে। এর আগে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশে বাঘের সংখ্যা আনুমানিক ৩০০-৪০০টি বলে ধারণা করা হতো এবং ১৯৯৬-৯৭ ও ২০০৪ সালের জরিপে যথাক্রমে ৩৫০-৪০০ ও ৪৪০টি বাঘের কথা উল্লেখ করা হলেও সেসব হিসাব মূলত পায়ের ছাপ ও অনুমাননির্ভর ছিল। ফলে আধুনিক ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপগুলোই বর্তমানে সুন্দরবনের বাঘের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
তবে চ্যালেঞ্জ এখনও কম নয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি, বনাঞ্চল সংকুচিত হওয়া এবং মানব-বাঘ সংঘাত সংরক্ষণ প্রচেষ্টার জন্য বড় হুমকি। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণি পাচার চক্র এখনও উদ্বেগের কারণ। তাই বাঘ সংরক্ষণকে শুধু বন বিভাগের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না; এটি হতে হবে রাষ্ট্র, গবেষক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী, পরিবেশবাদী সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকের সম্মিলিত উদ্যোগ। বিশ্বব্যাপী প্রকৃতি সংরক্ষণের আধুনিক দর্শন বলছে, মানুষ প্রকৃতির বাইরে নয়; বরং প্রকৃতিরই অংশ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী বাঘ সংরক্ষণ মানে মানবকল্যাণ নিশ্চিত করা। কারণ সুস্থ বন জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করে, কার্বন শোষণ করে, দুর্যোগের ঝুঁকি কমায় এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে। বাঘ সেই সুস্থ বনের প্রতীক ও রক্ষক।
আন্তর্জাতিক ব্যাঘ্র দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñপ্রকৃতির প্রতিটি প্রাণির অস্তিত্বের পেছনে রয়েছে একটি বৃহত্তর পরিবেশগত তাৎপর্য। বাঘকে হারানো মানে শুধু একটি প্রাণিকে হারানো নয়; বরং একটি বন, একটি বাস্তুতন্ত্র, একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অমূল্য প্রাকৃতিক সম্পদকে হারানো। তাই আজকের দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক—বাঘের জন্য বন, বনের জন্য বাঘ এবং প্রকৃতির জন্য মানুষের দায়িত্বশীল সহাবস্থান নিশ্চিত করা। কারণ সুন্দরবনের প্রহরী রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বেঁচে থাকলে বেঁচে থাকবে বন, বেঁচে থাকবে জীববৈচিত্র্য, আর নিরাপদ থাকবে আমাদের পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ।

ফেলে দেওয়া শিশুর হারিয়ে যাওয়া পরিচয় নাকি আমাদের বিবেকের পরাজয় ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ণ
ফেলে দেওয়া শিশুর হারিয়ে যাওয়া পরিচয় নাকি আমাদের বিবেকের পরাজয় ?

এম. এম হায়দার আলী
একটি শিশুর পৃথিবীতে আসা মানেই একটি নতুন সূর্যের জন্ম। তার প্রথম কান্না শুনে যেমন মায়ের চোখ ভিজে ওঠে, তেমনি বাবার বুকও অদ্ভুত এক আনন্দে ভরে যায়। একটি ছোট্ট হাত যখন মায়ের আঙুল শক্ত করে ধরে, তখন মনে হয় পৃথিবীর সব নিরাপত্তা যেন ওই মুঠোর ভেতরেই লুকিয়ে আছে। কিন্তু পৃথিবীর সব শিশুর ভাগ্যে কি সেই নিরাপদ আশ্রয় লেখা থাকে? এতদিন শুনে এসেছি, সদ্য ভূমিষ্ঠ নবজাতককে রাস্তার পাশে, ডাস্টবিনে, ঝোপঝাড়ে কিংবা হাসপাতালের বারান্দায় ফেলে রেখে যাওয়ার নির্মম কাহিনি। প্রতিবারই মনে হয়েছে, এর চেয়ে নিষ্ঠুর দৃশ্য আর কী হতে পারে ! কিন্তু এবার হৃদয় যেন অন্যরকম ব্যথায় কেঁপে উঠল। দেশের স্বনামধন্য একটি মিডিয়ার সংবাদে দেখলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার খরমপুর কেল্লা বাবা (রহ.) মাজার প্রাঙ্গণে সাত মাস বয়সী একটি পুত্র শিশুকে রেখে চলে গেছে কেউ। অর্থাৎ সে মায়ের বুকের দুধ খেয়েছে, বাবার কোলে হয়তো একদিন হেসেছে, কারও আঙুল ধরে হামাগুড়ি দিতে শিখেছে। তারপর একদিন হঠাৎ তার পৃথিবী বদলে গেল। যে বুক ছিল তার আশ্রয়, সেই বুকই তাকে অচেনা মানুষের ভিড়ে রেখে অদৃশ্য হয়ে গেল। ভাবতে অবাক লাগে,শিশুটি কি বারবার মায়ের জন্য কেঁদেছিল? সে কি বুঝতে পেরেছিল, যাকে খুঁজছে তিনি আর ফিরবেন না? শিশুরা কথা বলতে পারে না, কিন্তু তাদের নীরব কান্নার ভাষা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর ভাষা। সেই ভাষা কি আমরা শুনতে পাই? আজ প্রশাসন শিশুটির দায়িত্ব নিয়েছে। সমাজসেবা বিভাগ তাকে নিরাপদ আশ্রয় দেবে। হয়তো সে বড় হবে, পড়াশোনা করবে, জীবনের সঙ্গে লড়াই করবে। কিন্তু তার হৃদয়ের একটি প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? আমার মা কে? আমার বাবা কোথায়? এই দুটি প্রশ্ন হয়তো তার জীবনের প্রতিটি জন্মদিনে, প্রতিটি ঈদে, প্রতিটি সাফল্যের দিনে, প্রতিটি একাকী রাতে তাকে তাড়া করে ফিরবে। একজন মানুষ নিজের নাম পরিবর্তন করতে পারে, ঠিকানা বদলাতে পারে, পেশা বদলাতে পারে। কিন্তু নিজের জন্মপরিচয় বদলাতে পারে না। পরিচয়হীনতার যন্ত্রণা পৃথিবীর সবচেয়ে নীরব, অথচ সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা। আমরা প্রায়ই বলি, শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ যদি জন্মের কয়েক মাসের মধ্যেই পরিত্যক্ত হয়ে যায়, তাহলে ব্যর্থতা শুধু একটি পরিবারের নয়; ব্যর্থতা আমাদের সমাজের, আমাদের মানবিকতার, আমাদের মূল্যবোধের। আমি জানি না, শিশুটির মা কী অসহায় পরিস্থিতির শিকার ছিলেন। হয়তো দারিদ্র্য, হয়তো সামাজিক লাঞ্ছনা, হয়তো পারিবারিক নির্যাতন কিংবা এমন কোনো অন্ধকার বাস্তবতা, যার খবর আমরা কোনো দিনই জানব না। তাই কাউকে বিচার করার আগে আমাদের সহমর্মিতাও প্রয়োজন। কিন্তু এটুকু নিশ্চিত করে বলা যায়,সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সেই নিষ্পাপ শিশুটি, যে কোনো অপরাধ না করেও আজ নিজের পরিচয় হারিয়েছে। আমার মনে হয়, প্রতিটি পরিত্যক্ত শিশু আসলে রাষ্ট্রের দরজায় নয়, আমাদের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়ে। সে যেন নীরবে জিজ্ঞেস করে,আমি কি এতটাই অপ্রয়োজনীয় ছিলাম? হয়তো একদিন এই শিশুটি বড় হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের মুখের দিকে তাকিয়ে ভাববে,আমার চোখ কার মতো ? আমার হাসি কার কাছ থেকে পাওয়া ? আমার কপালের রেখাগুলো কি আমার বাবার মতো? আমার মুখে কি মায়ের ছায়া আছে ? কিন্তু উত্তর দেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। জীবনের সবচেয়ে বড় অভিশাপ দারিদ্র্য নয়, অনাথ হওয়াও নয়,সবচেয়ে বড় অভিশাপ নিজের শেকড়ের পরিচয় না জানা। আমরা চাই না আর কোনো মাজারের বারান্দা, কোনো হাসপাতালের সিঁড়ি, কোনো ডাস্টবিন কিংবা কোনো রাস্তার ধারে আরেকটি শিশুর পরিচয়ের কবর রচিত হোক। আমরা চাই এমন একটি সমাজ, যেখানে প্রতিটি শিশু জন্ম নেবে ভালোবাসার অধিকার নিয়ে, বড় হবে নিরাপদ পরিচয়ে, আর কোনো দিন তাকে প্রশ্ন করতে হবে না,আমার ঠিকানা কোথায়? কারণ পৃথিবীর প্রতিটি শিশুর প্রথম ঠিকানা হওয়া উচিত তার মায়ের বুক। আর শেষ আশ্রয় হওয়া উচিত মানুষের ভালোবাসা, পরিত্যাগ নয়। আমি অধমের এমনটি প্রত্যাশা। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

‎‘মডারেট ইসলাম’ নাকি কুরআন-সুন্নাহর ইসলাম: একজন মুসলিমের অবস্থান কোথায় ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
‎‘মডারেট ইসলাম’ নাকি কুরআন-সুন্নাহর ইসলাম: একজন মুসলিমের অবস্থান কোথায় ?

‎‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
‎মানবজাতির জন্য মহান আল্লাহ তাআলার সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ণ ও চিরন্তন জীবনব্যবস্থা। এটি কেবল কিছু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়; বরং মানুষের বিশ্বাস, ইবাদত, নৈতিকতা, পরিবার, অর্থনীতি, সমাজ, বিচার ও রাষ্ট্র পরিচালনাসহ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহপ্রদত্ত দিকনির্দেশনার সমন্বিত রূপ। তাই ইসলামের পরিচয় নির্ধারিত হবে কেবল কুরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে; কোনো যুগের রাজনৈতিক অভিধা, সামাজিক প্রবণতা কিংবা বাহ্যিক বিশেষণের মাধ্যমে নয়। মহান আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, “আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকেই তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।” (সূরা আল-মায়িদা: ৩)
‎এই আয়াত ইসলামের পূর্ণতা, পরিপূর্ণতা ও চূড়ান্ততার অকাট্য ঘোষণা। ওহির ধারায় দ্বীনের মৌলিক ভিত্তি সম্পন্ন হয়েছে; ফলে ইসলামের মৌলিক পরিচয়ে নতুন কোনো ধর্মীয় রূপ, সংস্করণ বা বিশেষণ সংযোজনের ভিত্তি কুরআন ও সহিহ সুন্নাহয় পাওয়া যায় না।
‎‎সমসাময়িক বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী গণমাধ্যমে ও নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তারা দাবি করছে যে তারা “মডারেট ইসলামী দল। কিন্তু কুরআন ও হাদিস কিংবা সাহাবায়ে কেরামের যুগের পরিভাষায় ইসলামের এমন কোনো স্বতন্ত্র পরিচয় বা শ্রেণিবিন্যাসের অস্তিত্ব নেই। মুসলমানের পরিচয় একটি তিনি মুসলিম, আর তাঁর জীবনব্যবস্থার নাম ইসলাম।
‎মহান আল্লাহ বলেন, “তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আনুগত্য কর।” (সূরা আলে ইমরান: ৩২) আরও বলেন, “রাসুল তোমাদের যা দেন তা গ্রহণ কর এবং যা থেকে নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাক।” (সূরা আল-হাশর: ৭) এই আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে শিক্ষা দেয় যে, একজন মুসলিমের চূড়ান্ত মানদ- মানুষের মতামত, রাজনৈতিক দর্শন কিংবা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নয়; বরং আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ -এর সুন্নাহ। হযরত আয়িশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ বলেছেন: যে ব্যক্তি আমাদের এই দ্বীনের মধ্যে এমন কোনো নতুন বিষয় বা কাজ সংযোজন করবে, যা ইসলামের অংশ নয়, তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়; বরং তা প্রত্যাখ্যাত।” অন্য এক হাদিসে তিনি বলেন, “আমি তোমাদের মধ্যে এমন দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি, যতক্ষণ তোমরা তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে, ততক্ষণ কখনো পথভ্রষ্ট হবে না—আল্লাহর কিতাব ও আমার সুন্নাহ।” (আল-মুয়াত্তা; আল-মুস্তাদরাক)
‎এই শিক্ষা থেকেই যুগে যুগে ইসলামী আলেমগণ দ্বীনের মৌলিক বিষয়সমূহে ভিত্তিহীন সংযোজন, বর্জন কিংবা পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন এবং কুরআন-সুন্নাহকেই ইসলামী চিন্তা ও চর্চার একমাত্র নির্ভরযোগ্য মানদ- হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যে “মডারেট ইসলাম”-এর কথা বারবার বলতেছে, আমার প্রশ্ন হলো ইসলাম কি কোনো নতুন বিশেষণ বা সংস্করণের মুখাপেক্ষী? ‎মুসলমানদের বিশ্বাস, ইসলাম আল্লাহপ্রদত্ত পূর্ণাঙ্গ দীন। কোরআন ও সুন্নাহর বিধানই ইসলামের একমাত্র মানদ-। পবিত্র কোরআনে সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে, আর ইসলামী অর্থব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে যাকাত ও সুদমুক্ত লেনদেনের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নারীর পর্দা আল্লাহ তাআলার ফরজ বিধান।
‎বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাস্তবে সুদভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে এবং নারীদের অবাধ মেলামেশা ও পর্দার বিধান সম্পর্কেও এমন অবস্থান নিচ্ছে, যা ইসলামের মৌলিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। রাজনৈতিক কর্মকা- যে কোনো দলের অধিকার। তবে ইসলামের নামে রাজনীতি করলে সেই দলের নীতি, বক্তব্য ও কর্মসূচি কোরআন ও সহিহ সুন্নাহর আলোকে পর্যালোচিত ও সমালোচিত হওয়াও স্বাভাবিক। ইসলামের পরিচয় রাজনৈতিক কৌশলের ভাষায় নয়; কোরআন ও সুন্নাহর ভাষাতেই হওয়া উচিত। ‎মদিনায় রাসুলুল্লাহ যে আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেখানে ইবাদত, ন্যায়বিচার, অর্থনীতি, পারিবারিক জীবন, সামাজিক দায়িত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনা সবই ছিল আল্লাহর বিধানের অধীন। ইসলামকে কেবল ব্যক্তিগত আধ্যাত্মিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবজীবনের পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল নববী মিশনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।” (সূরা আল-বাকারা: ২০৮)। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা