গুড় পুকুর মেলার সময় বাড়ানোর দাবী ব্যবসায়ীদের
0-0x0-0-0#
মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা আরও ১০ দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, মেলায় দোকান বসাতে পরিবহন, পণ্য আনা, দোকান পরিচালনা ও কর্মচারীদের পেছনে উল্লেখযোগ্য খরচ হয়। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের আয়োজনে অনেকেরই সেই খরচ পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই মেলার মেয়াদ ৩০ দিন করা হলে বেচাকেনার সুযোগ বাড়বে এবং লোকসানের আশঙ্কা কমবে বলে আশা তাঁদের।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মেলার ১৩তম দিনে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁদের কেউ মাদারীপুর, কেউ কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বেচাকেনা মোটামুটি হলেও মেলার সময়সীমা কম হওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করা কঠিন হচ্ছে।
মাদারীপুর থেকে আসা ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক বোরহান বলেন, এ বছরই প্রথম গুড়পুকুর মেলায় দোকান নিয়ে এসেছেন তিনি। বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। তবে সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা থাকায় মেলার সময় আরও কিছুদিন বাড়ানো হলে তাঁদের সুবিধা হবে। কারণ, মেলায় আসা ও দোকান পরিচালনায় ইতোমধ্যে অনেক খরচ হয়েছে।
কুমিল্লা-চাঁদপুর এলাকা থেকে আসা প্রসাধনী ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, “অনেক দূর থেকে এসেছি। মেলাটা দীর্ঘ সময় ধরে চললে আমারা ব্যবসায়ীরা উপকৃত হব। সব খরচ তো আর বেচাকেনা দিয়ে পোষাণো যায় না।”
মাদারীপুর থেকে আসা ‘সাজ কর্নার’-এর মালিক সবুজ হাওলাদার বলেন, মেলার মাঝামাঝি স্থানে দোকান পাওয়ায় তাঁর বেচাকেনা কিছুটা কম। সাধারণত যেসব জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রায় এক মাস ধরে মেলা চলে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। কিন্তু সাতক্ষীরার গুড়পুকুর মেলা হচ্ছে ২০ দিনের জন্য। আরও ১০ দিন সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মেলার আয়োজনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে পণ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসতে হয়। পাশাপাশি দোকানভাড়া, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও কর্মচারীদের খরচ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব ব্যয় তুলে লাভের মুখ দেখা অনেকের জন্য কঠিন। মেয়াদ বাড়লে ক্রেতা সমাগম ও বেচাকেনার সুযোগও বাড়তে পারে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।
মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার বলেন, “মেলা পরিচালনায় সবাই আমাদের সহযোগিতা করছেন। প্রশাসনও খুব সুন্দরভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। মেলার সময় আরও ১০ দিন বাড়ানো হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা উপকৃত হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “মেলায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী এসেছেন। কারও বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, আবার কারও প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। তাই সবার বক্তব্য এক নয়। তবে মেয়াদ বাড়ানো হলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।”
হাসান শিকদার জানান, মেলা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। পুলিশের সদস্যরা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী দিনগুলোতে প্রশাসন নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করবে বলেও আশা করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, মেলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবি বিবেচনা করে নির্ধারিত ২০ দিনের বাইরে আরও ১০ দিন মেলার আয়োজনের সুযোগ দেবে। তবে মেলার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়োজনে গত ১ অক্টোবর শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। দুই বছর বিরতির পর শুরু হওয়া এ মেলা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।









