রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘটিগরম: স্বাদে-স্মৃতিতে এক ঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
ঘটিগরম: স্বাদে-স্মৃতিতে এক ঐতিহ্য/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

এক সময় গ্রামের হাট, শহরের স্কুলের গেট, রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড কিংবা বিকেলের পার্কÑযেখানেই মানুষের ভিড়, সেখানেই শোনা যেত এক পরিচিত ডাকÑ”ঘটিগরম… ঘটিগরম!” এই ডাক শুধু একটি খাবারের আহ্বান ছিল না, ছিল এক টুকরো শৈশব, এক চিলতে আনন্দ আর পথচলার সঙ্গী। আজ আধুনিক ফাস্টফুড, প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও অনলাইন খাবারের ভিড়ে সেই ঘটিগরম বিক্রেতার কণ্ঠস্বর যেন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।ঘটিগরম মূলত একটি ঝাল-মশলাদার মিশ্রণ।

 

ভাজা ছোলা, চানাচুর, মটর, বাদাম, মুড়ি, চিঁড়া, চানাচুর, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা, শসা, টমেটো, লেবুর রস, বিট লবণ ও সরিষার তেলÑসবকিছু একসঙ্গে মিশিয়ে তৈরি হয় এর অনন্য স্বাদ। বিক্রেতার হাতের দ্রুত মিশ্রণ আর মশলার পরিমিত ব্যবহারই ঘটি গরমকে অন্য সব খাবার থেকে আলাদা করে তোলে। এক সময় স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে কাক্সিক্ষত খাবারের তালিকায় থাকত ঘটিগরম। হাতে দুই বা পাঁচ টাকা থাকলেই কাগজের ঠোঙায় ভরে মিলত এক ঠোঙা আনন্দ।

 

বন্ধুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাওয়ার মধ্যে ছিল অন্যরকম উচ্ছ্বাস। কেউ বেশি ঝাল চাইত, কেউ আবার বেশি লেবু। বিক্রেতাও ক্রেতার পছন্দ বুঝে মুহূর্তেই তৈরি করে দিতেন কাক্সিক্ষত স্বাদের ঘটিগরম।গ্রামের সাপ্তাহিক হাটেও ঘটিগরম ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। বাজার করতে এসে কিংবা মেলা ঘুরতে ঘুরতে অনেকেই এক ঠোঙা ঘটিগরম খেয়ে নিতেন। শিশু থেকে বৃদ্ধÑসব বয়সের মানুষের কাছে এটি ছিল সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। দাম ছিল কম, স্বাদ ছিল বেশি, আর পেটও কিছুটা ভরত।ঘটিগরমের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য ছিল এর সহজলভ্যতা।

 

খুব বেশি পুঁজি ছাড়াই একজন মানুষ এই ব্যবসা শুরু করতে পারতেন। একটি টিনের বা অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র, কয়েক ধরনের শুকনো উপকরণ, কিছু সবজি আর একটি ছোট স্ট্যান্ডÑএই ছিল মূল পুঁজি। তাই অনেক নি¤œআয়ের পরিবারের জীবিকার অন্যতম অবলম্বন ছিল ঘটিগরম বিক্রি।এই পথ খাবারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এক ধরনের সামাজিক সম্পর্কও। নিয়মিত ক্রেতাদের পছন্দ-অপছন্দ বিক্রেতারা মনে রাখতেন। কেউ ঝাল কম খেতেন, কেউ বাদাম বেশি চাইতেন, আবার কেউ বাড়তি লেবু ছাড়া খেতেন না।

 

এই আন্তরিক সম্পর্ক আজকের যান্ত্রিক খাদ্য সংস্কৃতিতে খুব একটা দেখা যায় না।তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘটি গরমের জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। এর অন্যতম কারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন। নতুন প্রজন্ম এখন বার্গার, পিজ্জা, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটজাত খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাবও এই পরিবর্তনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।এ ছাড়া স্বাস্থ্যবিধি নিয়েও অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক পথ খাবার বিক্রেতা খোলা পরিবেশে খাবার প্রস্তুত করেন। ধুলাবালি, মাছি কিংবা বিশুদ্ধ পানির অভাবের কারণে অনেক সচেতন মানুষ এসব খাবার এড়িয়ে চলেন। যদিও সব বিক্রেতা একই রকম নন, তবুও কয়েকজনের অসচেতনতা পুরো পেশাটির ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

 

অন্যদিকে, প্রশাসনের বিভিন্ন সময়ে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান কিংবা নির্দিষ্ট জায়গার অভাবে অনেক ঘটিগরম বিক্রেতা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ফলে এই ঐতিহ্যবাহী পেশায় নতুন মানুষও আর তেমন আসছেন না। তবুও আশার কথা হলো, এখনো দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও গ্রামীণ হাটে ঘটিগরমের দেখা মেলে। বিশেষ করে মেলা, ধর্মীয় উৎসব, খেলাধুলার আয়োজন কিংবা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই খাবারের চাহিদা এখনো রয়েছে। অনেকেই নস্টালজিয়ার টানে এক ঠোঙা ঘটিগরম কিনে পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনেন।

 

বর্তমানে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে ঘটিগরম পরিবেশনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে এর জনপ্রিয়তা আবারও বাড়তে পারে। পরিচ্ছন্ন পোশাক, ঢাকনাযুক্ত পাত্র, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ ও পরিবেশ বান্ধব কাগজের ঠোঙা ব্যবহার করলে ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে স্থানীয় উদ্যোক্তারাও এই ঐতিহ্যবাহী খাবারকে আধুনিক উপস্থাপনায় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারেন। বাংলাদেশের পথ খাবারের ঐতিহ্যে ঘটিগরম একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এটি শুধু একটি খাবার নয়; এটি আমাদের শৈশব, সংস্কৃতি, গ্রামীণ জীবন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সংগ্রামের প্রতীক।

 

একটি ঠোঙা ঘটিগরমে যেমন থাকে ঝাল, টক ও মশলার অনন্য সমন্বয়, তেমনি থাকে অসংখ্য মানুষের স্মৃতি, আবেগ ও জীবিকার গল্প। আধুনিকতার এই সময়ে আমাদের উচিত দেশীয় ঐতিহ্যবাহী পথ খাবারগুলোর প্রতি নতুন করে নজর দেওয়া। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পরিবেশন করা গেলে ঘটিগরম আবারও মানুষের প্রিয় খাবারের তালিকায় জায়গা করে নিতে পারে। কারণ স্বাদের সঙ্গে যখন স্মৃতি মিশে যায়, তখন একটি সাধারণ খাবারও হয়ে ওঠে একটি সময়ের জীবন্ত ইতিহাস। ঘটিগরম সেই ইতিহাসেরই এক সুস্বাদু, প্রাণবন্ত এবং চিরচেনা অধ্যায়।

লেখক: সংবাদকর্মী

 

 

Ads small one

জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদ প্রশাসকের সঙ্গে ভূমিহীন নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার ভূমিহীন নেতারা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় দেবহাটা-কালিগঞ্জের ভূমিহীন জনপদের নেতা মো. আলমগীর হোসেন, মো. বায়োজিদ হোসেন সবুর গাজী, জেলা ভূমিহীন পরিবারের সভাপতি মো. কওছার আলী, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ গাজী, সাংগঠনিক সম্পাদক জিএম রেজাউল করিম রেজা, দপ্তর সম্পাদক স্বপন কুমার সানা এবং ভূমিহীন নেতা আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের দীর্ঘদিনের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে বাবরবাদ ঘের ও জমির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী ও পরে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ওই আন্দোলনের সময় ঐতিহাসিক সখিপুর কলেজ মাঠে এসে ভূমিহীনদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। সে সময় তিনি ভূমিহীনদের পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট হত্যাকান্ডের বিচার করার আশ্বাস দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তী সময়ে সরকার গঠনের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালিগঞ্জের ভূমিহীনদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ২৭ জনকে জমির দলিল প্রদান করেন। এরপর তাঁরা সেখানে ভূমিহীন হিসেবে বসবাস করে আসছেন।

মো. হাবিবুল ইসলাম বলেন, ঐতিহাসিক ওই আন্দোলন এবং ভূমিহীনদের স্মৃতি সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভূমিহীনদের অধিকার রক্ষার নামে কেউ যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারেন, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ভূমিহীনদের নাম ব্যবহার করে কেউ যাতে ব্যক্তিস্বার্থে কোনো অপতৎপরতা চালাতে না পারেন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা জরুরি। সাতক্ষীরায় এখনো অনেক প্রকৃত ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। সরকারি খাসজমি থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তাঁদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানানো হবে।

জেলা পরিষদের প্রশাসক বলেন, সরকারি জমি না থাকলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পুনর্বাসন করা সম্ভব নয়। তবে প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলো যাতে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সুন্দর জীবনযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

 

 

 

কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ
কেশবপুরে বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে চলছে আমন ধানের চারা রোপন

এম আব্দুল করিম, কেশবপুর (যশোর): আষাঢ় শ্রাবণ মাস বাংলাদেশের ঋতু বৈচিত্রে বর্ষাকাল। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের কৃষকের জন্য আমন ধানের চারা রোপনের সুবর্ণ সময় এই বর্ষাকাল। তাই বিরামহীন বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেশবপুরের কৃষকরা আমন ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে।

বৃষ্টির মৌসুম শুরুতে একটু বৃষ্টি কম হলেও বর্তমান যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টিপাত হওয়ায় খাল বিল ডোবা নালা পানিতে পরিপুর্ণ হয়ে গেছে। তাই কৃষকরা উচু-ডোবা জমি থেকে আগাম পাট কেটে সেই জমিতে আমন ধান রোপন শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের মাটি পাট চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় অধিকাংশ কৃষকেরা আগাম পাট চাষ করে থাকে। সেই পাট কেটে রোপা আমন ধানের আবাদ করে। অন্যান্য বছরের তুলনায় কেশবপুরে এবার পাটের আবাদ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। পুকুর ও ডোবা নালায় যথেষ্ট পরিমান বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কৃষকদের ক্ষেতের পাট কেটে পঁচন দিতে কোন সমস্যা হচ্ছে না। তাই তারা পাটকেটে পচন দিয়ে সেই জমিতে আমন আবাদ শুরু করেছে।

 

কেশবপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল জুড়ে এখন চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মহোৎসাব। অন্য বছরগুলোতে অতিবৃষ্টি ও কপোতাক্ষের উপচে পড়া পানিতে কেশবপুরের প্রায় ৮০টির বেশী গ্রাম পানিবন্দি হয়ে পড়ার কারণে আমন আবাদ ব্যহত হলেও এবার কৃষকরা কপোতাক্ষের রাহু গ্রাস থেকে রক্ষা পেয়েছেন। তাই এসব জমিতে এখন কৃষকরা মনের আনন্দে ধানের চারা রোপন করছে।

এবিষয়ে কেশবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের জানান, কেশবপুরে এবার ৮হাজার ৫’শত হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকল থাকলে লক্ষ্য মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

 

 

 

কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
কেশবপুর ভোররাতে মসজিদের মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালাল চোর

এম এ রহমান, কেশবপুর (যশোর): যশোরের কেশবপুরে মসজিদে মাইকে ঘোষণা ৭ গরু রেখে পালালো চোর। তথ্য সূত্রে জানা গেছে শনিবার দিবাগত গভীর রাতে পৃথক দুটি বাড়িতে হানা দিয়ে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৭টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল। আলতাপোল (বারোইপাড়া) গ্রামের কুমারের ৪টি এবং মঙ্গলকোট গ্রামের রবিউল ইসলাম রবির ৩টি গরু নিয়ে যায় তারা। গরুর মূল্য হবে ১০ থেকে ১২ লাখ।

চোরেরা সুকুমারের গরুগুলো বাড়ির পাশের একটি বাগানে এবং রবির গরুগুলো যশোর-চুকনগর সড়কের আলতাপোল চারেরমাথা এলাকার একটি মেহগনি বাগানে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, পরে পিকআপে তুলে গরুগুলো নিয়ে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা।

কিন্তু ফজরের আজানের সময় বিষয়টি জানাজানি হলে মসজিদের মাইকে গরু চুরির ঘোষণা দেওয়া হয়। ঘোষণা শুনে চোরেরা দ্রুত পালিয়ে যায়। রেখে যায় চুরি করা ৭টি গরু। পালানোর সময় তারা গরু বাঁধা বাগানে একটি গামছা ও পানির বোতলও ফেলে যায়।

ঘটনাটির আরও একটি বেদনাদায়ক দিক রয়েছে। রবিউল ইসলাম রবির ছোট ভাই মাত্র শুক্রবার হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পরিবারটির শোক এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই বাড়িতে গরু চুরির ঘটনা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য নতুন করে দুর্ভোগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে বৃষ্টির পানিতে কেশবপুরের বিভিন্ন এলাকার মানুষ দুর্ভোগে রয়েছেন, অন্যদিকে কৃষকের শেষ সম্বল গবাদিপশুও নিরাপদ নয়-এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্থানীয়রা বলছে রাতের পুলিশি টহল কতটা কার্যকর?

সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রাতের টহল আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গরু চুরির সঙ্গে জড়িত চক্র শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রোকসানা খাতুন বলেন আমাদের কাছে এ ধরনের কোন অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টা আমাদের জেনেছি তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।