বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধের ফাঁদ: ঝুঁকিতে বাংলাদেশি তরুণদের জীবন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৭ অপরাহ্ণ
চাকরির প্রলোভনে যুদ্ধের ফাঁদ: ঝুঁকিতে বাংলাদেশি তরুণদের জীবন

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

উচ্চ বেতনে আকর্ষণীয় চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি তরুণদের রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। অভাবের তাড়নায় কিংবা উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পাড়ি জমানো এসব তরুণ সেখানে ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তথাকথিত নিরাপদ বেসামরিক চাকরির আড়ালে তাঁদের অনেককে যুদ্ধের ঝুঁকিতে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

এই সংকটের পেছনে রয়েছে মানবপাচারকারী চক্র ও অসাধু নিয়োগদাতাদের প্রতারণা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। হোটেলকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী কিংবা নিরাপত্তাকর্মীর মতো বেসামরিক চাকরির আশ্বাস দিয়ে তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর পর কারও কারও পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। ফলে চাকরির আশায় বিদেশে যাওয়া তরুণেরা নিজেদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছেন।

যুদ্ধ কোনো সাধারণ কর্মক্ষেত্র নয়। আধুনিক অস্ত্র, ড্রোন ও কামানের গোলার মুখে প্রতিনিয়ত প্রাণহানি ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের অভিজ্ঞতাহীন বাংলাদেশি তরুণদের সম্মুখসমরে পাঠানো হলে তাঁদের জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ে। ইতোমধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশির প্রাণহানি, আহত হওয়া, বন্দি থাকা কিংবা নিখোঁজ হওয়ার খবর তাঁদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্বজনদের অনিশ্চিত পরিণতির অপেক্ষায় দিন কাটছে অনেক পরিবারের।

এই সংকট মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি।

প্রথমত, বিদেশে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে তার সত্যতা যাচাই করতে হবে। বিশেষ করে রাশিয়া, ইউক্রেন কিংবা যুদ্ধের ঝুঁকিতে থাকা অঞ্চলে চাকরির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান, কাজের ধরন, চুক্তিপত্র, ভিসা ও কর্মানুমতির বৈধতা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। অস্বাভাবিক বেশি বেতন বা অল্প সময়ে বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, মানবপাচার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, দালালচক্র, ট্রাভেল এজেন্সি কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অপরাধীদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা গেলে এমন প্রতারণা প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত চাকরির বিজ্ঞাপন পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতামূলক প্রচার বাড়ানো প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র কিংবা সংশ্লিষ্ট স্থানে আটকে পড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের শনাক্ত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশ, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ ও বন্দি নাগরিকদের বিষয়ে তাঁদের পরিবারের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়াও জরুরি।

জীবিকার তাগিদে বিদেশে চাকরি খোঁজা কোনো অপরাধ নয়। বরং প্রবাসী কর্মীদের শ্রম বাংলাদেশের অর্থনীতি ও অসংখ্য পরিবারের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে যুদ্ধের ময়দানে জীবন বিপন্ন করা কোনোভাবেই কাম্য নয়। তাই বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

একটি উন্নত জীবনের স্বপ্ন যেন কোনো পরিবারের জন্য আজীবন দুঃস্বপ্ন হয়ে না দাঁড়ায়। এ জন্য তরুণদের সচেতনতা, প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং বিপদে পড়া নাগরিকদের উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদেশে কর্মসংস্থানের নামে মানবপাচার ও যুদ্ধের ফাঁদ বন্ধে রাষ্ট্র, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে এখনই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।-বানান, ভাষা ও সংবেদনশীল করে দিন

Ads small one

শাহজালালে চীনা দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
শাহজালালে চীনা দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের দুই যাত্রীর কাছ থেকে ১২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে তাদের শরীরে লুকানো অবস্থায় পেস্ট আকারের স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ২৪ কোটি টাকা।

বুধবার রাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের জনসংযোগ বিভাগ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, দুবাই থেকে এমিরেটসের ফ্লাইট ইকে৫৮৬-এ স্বর্ণ চোরাচালান হতে পারে; এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি শুরু করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম।

নজরদারির একপর্যায়ে চ্যান লিইউয়ান ও মো জিয়াউ নামের দুই যাত্রী ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করে ব্যাগেজ বেল্ট-২-এ উপস্থিত হন। এ সময় তাদের তল্লাশি করে জিন্সের প্যান্ট ও অন্তর্বাসের মধ্যে কাপড় দিয়ে সেলাই করে লুকানো অবস্থায় নরম, হলুদ রঙের স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা স্বর্ণের মোট ওজন ১২ কেজি। প্রাথমিক যাচাইয়ে এর বিশুদ্ধতা ২৪ ক্যারেট বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আটক স্বর্ণ ও দুই যাত্রীর বিরুদ্ধে কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং ফৌজদারি আইনে মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র।

বিদেশ সফরে দেশ নির্বাচনে কী প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৬ পূর্বাহ্ণ
বিদেশ সফরে দেশ নির্বাচনে কী প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে অর্থনীতি ও শ্রমবাজারকে প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া, চীন সফর থেকে জাপান পর্যন্ত একই কৌশল অনুসরণ করছেন তিনি। বিদেশ সফরে দেশ বাছাইয়ে কোন বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান—তার স্পষ্ট চিত্র মিলেছে তার প্রথম দুটি রাষ্ট্রীয় সফর এবং চলমান জাপান সফরের পরিকল্পনায়। এক এক করে দেশ নির্বাচন করছেন তার সফরের জন্য। তিনি প্রাধান্য দিচ্ছেন মূলত অর্থনৈতিক কূটনীতিকে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ থেকে ২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। এটি ছিল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম বিদেশ সফর। পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি ২১ জুন কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন এবং সেখান থেকে ২২ জুন বিকালে চীনের উদ্দেশে রওনা হন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমানের বিদেশ সফরের দেশ নির্বাচনে মূলনীতি হিসেবে কাজ করছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি।

২০২৬ সালের জুনে তার প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া ও চীনকে বেছে নেওয়ার মধ্য দিয়ে এই নীতির প্রতিফলন দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লি বা বেইজিংয়ের বাইনারি সমীকরণে না গিয়ে একটি বাস্তববাদী ও প্র্যাগমেটিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছেন তিনি।

কেন প্রথমেই মালয়েশিয়া সফর

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারত-চীন বা আমেরিকা-চীন বাইনারিতে না জড়িয়ে একটি বাস্তববাদী পররাষ্ট্রনীতি দেখাতেই মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকেই করা হয়েছে। এটি দিল্লি বা বেইজিংয়ের পরিবর্তে তৃতীয় একটি দেশকে বেছে নিয়ে আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে বিশেষ সতর্কতা ও ভারসাম্য বজায় রাখার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মালয়েশিয়া সফরে যা প্রাধান্য পেয়েছিল

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মালয়েশিয়া সফরের প্রথম পর্যায়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ মালয়েশিয়ায় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি এবং শ্রমবাজার সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, কৃষি, শিক্ষা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন খাতে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, পেশাজীবী নিয়োগ, কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়।

এছাড়া আসিয়ানের ‘সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আবেদন এবং আরসিইপি-তে বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষা—এই সফরে জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়াসহ আসিয়ান সদস্য দেশগুলো যাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করে, সে বিষয়েও আহ্বান জানানোর কথা জানিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চীন সফরে প্রাধান্য পেয়েছে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে

দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর শেষে চার দিনের জন্য চীন যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে তিনি দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে যোগ দেন। মালয়েশিয়া থেকে সরাসরি চীন যাওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি বার্তা দেন, বাংলাদেশ আরসিইপির মতো বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্য জোটে যোগ দিতে আগ্রহী। এছাড়া কৌশলগত সম্পর্কের উন্নতি ছাড়াও মন্ত্রণালয় পর্যায়ে ১৩টি এবং বিডা-সহ মোট ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে—যার মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা তথা তিস্তা প্রকল্পে চীনের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা ও সম্ভাব্যতা যাচাই দ্রুত করার সম্মতি, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভে যোগদান, প্রতিরক্ষা-কূটনীতিতে 2+2 সংলাপ, এবং চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বাস্তব অর্জন হিসেবে মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণে ৩৩৫.৭৮ মিলিয়ন ডলারের রেয়াতি ঋণ চুক্তি, চট্টগ্রামে চীন অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর, শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রতিশ্রুত ২১০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ/ঋণ/অনুদানের ধারাবাহিকতায় নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত হয়েছে।

তৃতীয় সফর জাপানেও একই ধারাবাহিকতা

একই কৌশলের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব নেওয়ার পর তৃতীয় বিদেশ সফর হিসেবে জাপানকে বেছে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাপান সফরেও জ্বালানি, জনশক্তি রফতানি, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে সামুদ্রিক নিরাপত্তায় ৩৫ মিটারের টহল জাহাজ অনুদান চুক্তি সই হয়েছে কোস্টগার্ডের জন্য, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি কার্যকর হয়েছে, বিগ-বি উদ্যোগকে ‘অভিন্ন সমৃদ্ধির জন্য বিগ-বি’ হিসেবে উন্নীত করা হয়েছে এবং আগামী ৫ বছরে ১ লাখ কোটি ইয়েন (৬.৬ বিলিয়ন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হয়েছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মালয়েশিয়া থেকে শ্রমবাজার, চীন থেকে বাণিজ্য জোটে যুক্ত হওয়ার কূটনীতি এবং জাপান থেকে বিনিয়োগ—এই তিনটি স্তম্ভকে সামনে রেখেই তারেক রহমান তার বিদেশ সফরের দিক নির্ধারণ করছেন। দেশ নির্বাচনে তিনি যেসব বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন, তার মধ্যে প্রথমেই আছে অর্থনৈতিক কূটনীতি ও কৌশলগত বৈচিত্র্যকরণ। তার প্রথম সফরের মূল লক্ষ্য ছিল—বাণিজ্য, শ্রম সহযোগিতা, বিনিয়োগ এবং বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বে জোর দেওয়া। একে বলা হচ্ছে ‘অর্থনৈতিক কূটনীতি’ এবং কৌশলগত বৈচিত্র্যকরণকে প্রাধান্য দেওয়া।

দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল শ্রমবাজার ও প্রবাসী কল্যাণ। মালয়েশিয়াকে প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার, শ্রমবাজারের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত সহযোগিতা গভীর করা। মালয়েশিয়া হচ্ছে বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম বড় গন্তব্য। তাই নতুন কর্মী নিয়োগ, দক্ষ পেশাজীবীদের সুযোগ এবং প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখা হয়।

তৃতীয় প্রাধান্য ছিল বাণিজ্য-বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান। আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিক্ষা, সেমিকন্ডাক্টর, হালাল অর্থনীতি এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের মতো বিষয়গুলো ছিল। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং বিনিয়োগ, অবকাঠামো অর্থায়ন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের গুরুত্বপূর্ণ উৎস, যা দেশের যুব কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জরুরি বলে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এই অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন,‘‘আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত সরকার। আমাদের অগ্রাধিকার জাতীয় স্বার্থ। আমরা অন্যের নির্দেশে নয়, নিজেদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কোথায় সফর করবো, তা নির্ধারণ করবো।’’

জাপানের পর তুরস্ক যাওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ‘জলবায়ু অর্থনীতি’। তুরস্কের আন্তালিয়ায় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কপ-৩১ নিয়ে মতবিনিময় হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের বিষয়টিও ছিল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, কপ সম্মেলনের ফাঁকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হতে পারেন তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে প্রতিরক্ষা শিল্প পার্কে তুরস্কের বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা শিল্প পার্কে বিনিয়োগ করা হলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে।

কূটনৈতিক সূত্রমতে, তুরস্কের পর প্রধানমন্ত্রীর সফর হতে পারে সৌদি আরবে। সৌদি আরব সফরও জ্বালানি, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। এছাড়া আলোচনায় আছে ভারত ও পাকিস্তান সফরও।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের ক্ষেত্রে দেশ নির্বাচন নিয়ে সাবেক একজন কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘‘কোনও দেশের সাথে সম্পর্ক কেবল রাজনৈতিক বা আবেগের খাতিরে না করে, সেই দেশ থেকে বাংলাদেশের কী কী বাস্তব সুবিধা বা প্রয়োজন মিটবে—তা বিবেচনা করাই একটি পরিপক্ব ও দূরদর্শী পররাষ্ট্রনীতির লক্ষণ।’’

সাজেকে সপ্তম দিনে অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে স্থানীয়রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৪ পূর্বাহ্ণ
সাজেকে সপ্তম দিনে অবরোধ, খাদ্য ও ওষুধের সংকটে স্থানীয়রা

পাঁচ দফা দাবিতে টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলায় রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে অচল হয়ে পড়েছে পর্যটন ও যোগাযোগব্যবস্থা। পর্যটক না থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে ব্যবসায়ীদের আয়-রোজগার। অন্যদিকে, যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্ট শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সাজেক রাঙামাটি জেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও পর্যটনকেন্দ্রটির পরিবহন, আবাসন, খাবার ও বিপণন ব্যবসার সঙ্গে খাগড়াছড়ির বহু মানুষ যুক্ত। ফলে সাজেকের অচলাবস্থার প্রভাব পড়েছে খাগড়াছড়ির ব্যবসায়ী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের ওপরও।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য যানবাহন সমিতির নেতা আয়ুস কান্তি চাকমা বলেন, সাজেক-দীঘিনালা-খাগড়াছড়ি সড়কে চলাচলকারী প্রায় সব যানবাহনই এখন অচল। এতে শত শত গাড়ির মালিক, চালক ও শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তাদের পরিবারও কষ্টে রয়েছে। সাজেকের বাসিন্দারাও দুর্ভোগে আছেন। মানবিক বিবেচনায় অবরোধ কর্মসূচি শিথিল বা স্থগিত করা উচিত।

একসময় পর্যটকদের পদচারণে মুখর থাকা সাজেকের রিসোর্ট, কটেজ, রেস্তোরাঁ ও দোকানপাট এখন অনেকটাই নিস্তব্ধ। পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থাকায় পর্যটননির্ভর ব্যবসায়ীদের আয় থেমে গেছে। তবে দোকানভাড়া, কর্মচারীদের বেতন ও পরিবারের দৈনন্দিন খরচ বহনের চাপ রয়েই গেছে। দীর্ঘস্থায়ী অবরোধে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য এবং জরুরি ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থা দীর্ঘায়িত হলে সংকট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় লোকজন।

সাজেকের বাসিন্দা মিন্টি মালা বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী সরবরাহের বিকল্প ব্যবস্থা সীমিত হয়ে পড়ে। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বাড়বে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন হলে ওষুধ সংগ্রহ ও রোগী পরিবহন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

সাজেকের চলমান সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর বাঘাইহাটের উজো বাজারে খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্য, দুই জেলার জেলা প্রশাসক এবং অবরোধকারীদের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রায় দেড় ঘণ্টা মতবিনিময় সভা হয়। তবে পাঁচ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনও সমঝোতা হয়নি। ফলে অবরোধ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তও আসেনি।

কটেজ মালিক যুবরাজ মিয়া জানান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির সংসদ সদস্যরা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করেছেন। তবে এখনও সংকটের সমাধান হয়নি।

আন্দোলনকারীদের নেতা বাবুধন চাকমা বলেন, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা যেখানে হুমকির মুখে, সেখানে বিনোদনকেন্দ্র চালু রেখে কী হবে? পর্যটনকেন্দ্র গড়ে ওঠার পর থেকে স্থানীয় পাহাড়িরা ভূমি হারিয়েছেন। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেকে এখন অন্যের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। প্রশাসন চাইলে এক ঘণ্টার মধ্যেই সন্ত্রাসীদের সরিয়ে দিতে পারে। তা করা হলে সাজেকবাসী অবরোধ তুলে নেবে।

সাজেকের অচলাবস্থায় একদিকে পর্যটন ও পরিবহন খাতের মানুষের আয় বন্ধ হয়ে গেছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দ্রুত সংকট নিরসন করে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।