বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি: বিপুল সম্ভাবনা, সুন্দরবন ঘিরে উন্নয়নের অপূর্ণ অধ্যায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৪ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতি: বিপুল সম্ভাবনা, সুন্দরবন ঘিরে উন্নয়নের অপূর্ণ অধ্যায়

গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

পর্যটন এখন আর কেবল বিনোদন বা অবকাশযাপনের মাধ্যম নয়; এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণে পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অথচ বিপুল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারছে না।

ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পর্যটন খাতে জিডিপিতে অবদানের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছিল বিশ্বের শীর্ষে। দেশটির পর্যটন অর্থনীতির আকার ছিল প্রায় ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতের পর্যটন অর্থনীতির আকার ছিল ২৫৬ বিলিয়ন ডলার। অথচ বাংলাদেশের পর্যটন অর্থনীতির আকার মাত্র ৪৪৪ মিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ব্যবধান আমাদের পর্যটন খাতের পিছিয়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট করে।

বিশ্ব অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব বাড়লেও বাংলাদেশ এখনো এ খাতের কাঙ্ক্ষিত বিকাশ ঘটাতে পারেনি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ভ্রমণ ও পর্যটন উন্নয়ন সূচকেও বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল। পর্যটন খাতের উন্নয়নে কিছু অগ্রগতি থাকলেও অবকাঠামো, সেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতায় আমাদের অনেক ঘাটতি রয়েছে।

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা অত্যন্ত বিস্তৃত। বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকত কক্সবাজার, ইউনেসকো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, সিলেটের চা-বাগান, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও হ্রদ এবং দেশের অসংখ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার যথেষ্ট উপাদান। বিশেষ করে সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পরিবেশবান্ধব পর্যটনের বিপুল সুযোগ রয়েছে। কিন্তু পরিকল্পিত উদ্যোগ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন ও পর্যটকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে না পারায় এই সম্ভাবনার বড় অংশই অব্যবহৃত রয়ে গেছে।

পর্যটন খাতের বিকাশে অবকাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দুর্বলতা অন্যতম বাধা। আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে সহজ ভিসাপ্রক্রিয়া, উন্নত বিমান যোগাযোগ, নিরাপত্তা, মানসম্মত আবাসন এবং পেশাদার আতিথেয়তা জরুরি। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য পরিবহন ও তথ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকলে আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও পর্যটকদের দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা কঠিন।

দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবস্থাও খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। সাতক্ষীরার সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার পর্যটনকেন্দ্রে যোগাযোগব্যবস্থা, আবাসন ও পর্যটকসেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া, অনিয়ন্ত্রিত মূল্য নির্ধারণ ও পর্যাপ্ত বাজার তদারকির অভাব পর্যটকদের ভোগান্তিতে ফেলে। এসব সমস্যা দূর করতে কার্যকর নজরদারি, স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগও বাড়াতে হবে। হোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন, ট্যুর পরিচালনা, স্থানীয় খাবার ও হস্তশিল্পের মতো সেবামূলক খাতে বিনিয়োগ বাড়লে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে পর্যটন অর্থনীতির অংশীদার করতে হবে, যাতে পর্যটনের সুফল সরাসরি তাঁদের কাছে পৌঁছায়।

সুন্দরবনকে কেন্দ্র করে পর্যটন বিকাশের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। সুন্দরবন শুধু পর্যটন আকর্ষণ নয়; এটি জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ আধার এবং উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত। তাই পর্যটন সম্প্রসারণের নামে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না। পরিবেশের ধারণক্ষমতা বিবেচনায় রেখে পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ নৌযান চলাচল এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনকে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই করা গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি করবে।

এ জন্য পর্যটন খাতকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, বিনিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করা, দক্ষ জনবল তৈরি এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের পর্যটন আকর্ষণ তুলে ধরতে কার্যকর প্রচার চালানো প্রয়োজন। পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সেবার মান নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

প্রতিবেশী ভারত তার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণকে আন্তর্জাতিকভাবে তুলে ধরে পর্যটন খাতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশও পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই খাতে এগিয়ে যেতে পারে। আমাদের প্রয়োজন সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, নীতিগত সংস্কার, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং বাস্তবায়নে জবাবদিহি।

বাংলাদেশের পর্যটন খাতের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই; প্রয়োজন সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। বিশেষ করে সুন্দরবনকে ঘিরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বিকাশ, স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ এবং উন্নত পর্যটকসেবা নিশ্চিত করা গেলে সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পর্যটন বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে।

লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা।

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. আকবর আলী। বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাডভোকেট হেলালুজ্জামান, অ্যাডভোকেট জাকির, অ্যাডভোকেট শাহাজান, অ্যাডভোকেট জগলু, অ্যাডভোকেট একরাম, অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমানসহ অন্য আইনজীবীরা।

বক্তারা অভিযোগ করেন, গত ১ অক্টোবর একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রিপন কুমার বিশ্বাস জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া গত ২৬ অক্টোবর আইনজীবী সমিতির সদস্যসচিব নুরুল আমিনকে এডিসির কক্ষে প্রায় ৪৫ মিনিট আটকে রাখার অভিযোগও তোলেন তাঁরা। তবে, এসব দাবী সম্পর্কে সংশ্লিষ্ঠ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের মর্যাদা ও পেশাগত সম্মান রক্ষায় এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তাঁরা বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম ও দাবি পূরণ না হলে লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণার কথা উল্লেখ করেন।

শ্যামনগরে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন, গাবুরায় জেলে-বাওয়ালিদের ঢল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বনদস্যু নির্মূলের দাবিতে মানববন্ধন, গাবুরায় জেলে-বাওয়ালিদের ঢল

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করা এবং জেলে-বাওয়ালিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা এলাকার বেড়িবাঁধে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় বাসিন্দা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সুন্দরবন উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকার অন্যতম প্রধান অবলম্বন। মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং বনজ সম্পদ সংগ্রহ করে হাজারো পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু বনদস্যুদের অপতৎপরতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্কে তাঁদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে বনে গিয়েও জেলে-বাওয়ালিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বক্তারা সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত অভিযান জোরদার করার দাবি জানান। একই সঙ্গে অপহৃত জেলেদের দ্রুত উদ্ধার, মুক্তিপণ আদায় বন্ধ এবং বনদস্যুদের দমনে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তাঁরা।

আয়োজক কমিটির পক্ষে কামরুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সালাউদ্দিন লিটন। এ ছাড়া বক্তব্য দেন মাস্টার আব্দুর রহিম, মাওলানা এছাহাক আলী, ইউপি সদস্য আবিয়ার রহমান, ইয়াসিন আরাফাত, সংরক্ষিত নারী ইউপি সদস্য ফরিদা পারভীন ও আশিকুর রহমান।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া জেলে ও বাওয়ালিরা নিরাপদে সুন্দরবনে যাতায়াত এবং নির্বিঘ্নে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। তাঁদের মতে, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করার পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ণ
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আজ

পত্রদূত ডেস্ক: আজ ২৮ অক্টোবর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমানের ৫৫তম শাহাদাতবার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে মহান মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজারের ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের লড়াইয়ে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে শহীদ হন তিনি। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর বীরত্ব ও আত্মত্যাগ আজও জাতির কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খোর্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার মধ্যেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে যুদ্ধে অংশ নেন।

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ ছিল ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের লড়াই। পাকিস্তানি বাহিনীর শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার কারণে মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। শত্রুপক্ষের একটি মেশিনগান পোস্ট থেকে অবিরাম গুলিবর্ষণে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে হামিদুর রহমান শত্রুর মেশিনগান পোস্টটি নিষ্ক্রিয় করার দায়িত্ব নেন। অসীম সাহসিকতায় তিনি শত্রুর বাংকারের কাছে পৌঁছে আক্রমণ চালান। একপর্যায়ে মেশিনগান পোস্টটি নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হলেও তিনি গুরুতর আহত হন এবং শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগে মুক্তিযোদ্ধাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম হয়।

মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করে। এটি দেশের সর্বোচ্চ সামরিক বীরত্বসূচক খেতাব।

ধলই যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর তাঁকে ভারতের ত্রিপুরার আম্বাসা গ্রামে দাফন করা হয়। পরে ২০০৭ সালের ১০ ডিসেম্বর তাঁর দেহাবশেষ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং যথাযোগ্য মর্যাদায় পুনরায় দাফন করা হয়।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের বীরত্ব, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।