মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

চিকিৎসালয় যখন মৃত্যুফাঁদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
চিকিৎসালয় যখন মৃত্যুফাঁদ

নাজমুল শাহাদাৎ জাকির
হাসপাতাল হলো মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। সুস্থ হয়ে বাঁচার আশায় মানুষ যেখানে ছুটে যায়, সেই জায়গাটিই যদি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়—তবে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে! সাতক্ষীরার ব্লিস হাসপাতালে ঘটে যাওয়া অগ্নিকা- আমাদের সামনে আবারও সেই পুরোনো, কিন্তু ভয়ানক এক বাস্তবতাকে নগ্নভাবে তুলে ধরেছে। এই অগ্নিকা-ে অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় হয়তো এবার লাশের সারি দেখতে হয়নি, কিন্তু এই ঘটনার পেছনের যে চিত্র উন্মোচিত হয়েছে, তা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনার পর্যায়ে পড়ে না। এটি একটি সুস্পষ্ট কাঠামোগত অপরাধ।
একটি যন্ত্রের ত্রুটি বা শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতেই পারে। দুর্ঘটনা সব সময়ই অনাকাঙ্ক্ষিত। কিন্তু একটি ১০তলা ভবনের জরুরি নির্গমন পথ বা ইমার্জেন্সি এক্সিট স্থায়ীভাবে বন্ধ করে সেখানে টয়লেট নির্মাণ করা কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। এটি একটি সুপরিকল্পিত এবং চরম দায়িত্বহীন সিদ্ধান্ত।
ভবনের নকশায় যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোর পথ রাখা হয়েছিল, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সামান্য কিছু জায়গা বাঁচিয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার জন্য সেই পথটি রুদ্ধ করে দিয়েছে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে দমবন্ধ করা পরিবেশে যখন রোগী ও তাদের স্বজনেরা বাঁচার জন্য ছুটে গেছেন, তখন তারা আছড়ে পড়েছেন সেই বন্ধ দেয়ালে। প্রশ্ন হলো—কয়েক বর্গফুট জায়গা আর একটি টয়লেটের কাছে কি শত শত মানুষের জীবনের মূল্য এতটা তুচ্ছ?
জানা গেছে, আগে এই ভবনটিতে ‘সিভি হাসপাতাল’ নামে একটি চিকিৎসাকেন্দ্র চলত। পরে মালিকানা বদলে এর নাম রাখা হয় ‘ব্লিস হাসপাতাল’।
আমাদের দেশে বেসরকারি সেবাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে এটি একটি সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাইনবোর্ডের রং বদলায়, মালিকানা হাতবদল হয়, কিন্তু সেবার মান বা নিরাপত্তার কোনো উন্নয়ন ঘটে না। চকচকে অভ্যর্থনা কক্ষ আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনের আড়ালে লুকিয়ে থাকে এমন ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদ। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার ন্যূনতম মানদ- না মেনে কেবল মুনাফা লোটার এই যে সংস্কৃতি, তা আজ পুরো স্বাস্থ্যখাতকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই ঘটনার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কি কোনো দায় নেই? একটি ১০তলা ভবনে যখন জরুরি পথ বন্ধ করে দেয়াল তোলা হয়, তখন সেটি কি পরিদর্শকদের চোখে পড়ে না? দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে তদারকি সংস্থাগুলোর ঘুম ভাঙে কেবল বড় কোনো ট্র্যাজেডির পর। বেইলি রোড বা নিমতলীর মতো অগ্নিকা-ের পর কিছুদিন তোড়জোড় চলে, এরপর আবার যে কে সেই। ব্লিস হাসপাতালের এই ঘটনা প্রমাণ করে, নিয়মিত পরিদর্শনের অভাব এবং জবাবদিহি না থাকার কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলো এতটা বেপরোয়া হওয়ার সাহস পাচ্ছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সাহসিকতায় এবার হয়তো বড় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। কিন্তু শুধু ভাগ্য আর ফায়ার সার্ভিসের ওপর নির্ভর করে আমরা আর কতদিন এমন কাঠামোগত ঝুঁকির মধ্যে বাস করব? ব্লিস হাসপাতালের এই ঘটনাকে কেবল একটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইমার্জেন্সি এক্সিট বন্ধ করার মতো হঠকারী সিদ্ধান্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শুধু তদন্ত কমিটি গঠন আর লোকদেখানো জরিমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একইসঙ্গে, দেশের প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে জরুরি অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। মনে রাখতে হবে, মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো চিকিৎসাসেবা চলতে পারে না। লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

 

Ads small one

আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
আজ পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)

ন্যাশনাল ডেস্ক: আজ ১২ রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। আল্লাহর প্রিয় নবী ও রসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন। এ ছাড়া ৬৩২ খ্রিস্টাব্দের এই দিনে তিনি ৬৩ বছর বয়সে ওফাত লাভ করেন। সারা বিশ্বের মুসলমান এ দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন। আখেরি নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর একাত্মবাদের দাওয়াত দিয়ে সত্য-ন্যায়, শান্তি ও মানবতার ধর্ম ইসলাম প্রতিষ্ঠা করেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁকে সৃষ্টি করেছিলেন ‘রহমাতুল্লিল আলামিন’ হিসেবে। মহান আল্লাহ তাঁর ওপর নাজিল করেন পবিত্র কোরআন। মুসলিম উম্মাহ দিনটি ঈদে মিলাদুন্নবী হিসেবে উদ্যাপন করে থাকে। এ দিনে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, বেশি বেশি দরুদ পাঠ, দান-খয়রাতসহ নফল ইবাদতে মগ্ন থাকেন। অনেকে নফল রোজা রাখেন। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জশনে জলুস (আনন্দ শোভাযাত্রা), আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি নিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ নানা ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন। এ ছাড়া ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা) আলোচনা সভা, মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীর মতো প্রধান শহরগুলোয় সুষ্ঠু ও নিরাপদে শোভাযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.): বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও সম্প্রীতির বার্তা

বিশ্বমানবতার পরম বন্ধু, শান্তি, সাম্য ও ইনসাফের প্রতীক সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত মাহান্বিত দিনÑপবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.)। ১২ই রবিউল আউয়াল শুধু মুসলিম জাহানের জন্যই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসেই এক অনন্য ও বৈপ্লবিক মাইলফলক। যে সময়ে আরব সমাজ চরম অজ্ঞতা, অরাজকতা, সহিংসতা ও অমানবিকতার অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলÑইতিহাসে যা ‘আইয়ামে জাহিলিয়াত’ বা অন্ধকার যুগ হিসেবে পরিচিতÑঠিক সেই প্রাক্কালে আল-আমিন বা পরম বিশ্বাসী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে মহানবী (সা.) বিশ্ববাসীকে মুক্তির আলো দেখিয়েছিলেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেছেন, “আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত হিসেবে প্রেরণ করেছি।” রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্ম বা গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজগতের সব জাতি ও মানুষের জন্য সার্বজনীন হেদায়েতের মশাল। তিনি তাঁর আদর্শ ও চরিত্র দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষে জর্জরিত সমাজকে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং নারী ও শ্রমিকের ন্যায্য অধিকার। ‘মদিনা সনদ’-এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকে উপহার দিয়েছিলেন ধর্মীয় সহাবস্থান ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র কাঠামোর কালজয়ী দলিল।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, যখন সারা বিশ্বে হিংসা, পরশ্রীকাতরতা, যুদ্ধ, অন্যায় এবং সামাজিক অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন মহানবী (সা.)-এর শিক্ষাকে নতুন করে লালন করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। শুধু বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতা বা মিলাদ মাহফিলের মধ্যে ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী-এর তাৎপর্যকে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। আসল উদ্যাপন লুকিয়ে আছে তাঁর রেখে যাওয়া সুন্নাহ ও নীতি-আদর্শকে দৈনন্দিন জীবনের সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের মাধ্যমে।
সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা: ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সৎ, আমানতদার ও ইনসাফভিত্তিক আচরণের চর্চা করা।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি: অন্য ধর্মের মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা।
মানবিক সেবা: সমাজে দুস্থ, এতিম, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার সেবা নিশ্চিত করা।
পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের আত্মশুদ্ধি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক ভালোবাসার শিক্ষা দেয়। প্রিয় নবী (সা.)-এর মহান আদর্শকে হৃদয়ে ধারণ করে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয় জীবন থেকে সব ধরনের অন্যায়, বৈষম্য ও হিংসা দূর করাই হোক আজকের দিনের দৃঢ় অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ মেনে চলে দুনিয়া ও আখেরাতে শান্তিময় জীবন গড়ার তৌফিক দান করুন।

 

 

 

 

ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতির বাবার ইন্তেকাল

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের সাবেক যুবদল সভাপতি ও বর্তমান ইউপি সদস্য মো. আবু সাঈদ মোল্লার বাবা শামছুর রহমান মোল্লা (৮৭) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নালিল্লাহি রাজিউন)। মঙ্গলবার বেলা ১টার দিকে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজ শেষে জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ফিংড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং বিডিএফ প্রেসক্লাবের নেতারা।