জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জেলা প্রশাসকের
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরার রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ঠজনসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় করেছেন সাতক্ষীরায় নবাগত জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। বুধবার উক্ত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এ সভায় জেলার সার্বিক উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। নবাগত জেলা প্রশাসক উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং জেলার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিষ্ণুপদ পাল, জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ এর অধ্যক্ষ প্রফেসর আবুল হাসেম, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদী, সদস্য শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরাফাত হোসেন, সাবেক ফিফা রেফারি তৈয়েব হাসান বাবুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় বক্তারা জেলার উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রশাসন ও জনগণের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে সরকারের ৫ মহাপরিকল্পনা বিষয়ে অপর এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বলা হয়, “সবার আগে বাংলাদেশ, করবো কাজ, গড়বো দেশ”Ñএই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র বিনির্মাণে একগুচ্ছ যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে সরকার। ‘উই হ্যাভ এ প্ল্যান’ দর্শনের আলোকে এসব অঙ্গীকারের কথা জানানো হয়েছে।
এদিকে জেলা তথ্য অফিস আয়োজিত এক প্রেসব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন সাতক্ষীরার নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর চৌধুরি প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন জেলা তথ্য অফিসার মো. জাহারুল ইসলাম।
এতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের অগ্রগতি তুলে ধরে বলা হয়Ñ প্রান্তিক ও নি¤œ আয়ের পরিবারগুলোর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হয়েছে ডিজিটাল ‘ফ্যামিলি কার্ড’। এই কার্ডের বিশেষত্ব হলো, এটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে প্রদান করা হচ্ছে। গত ১০ মার্চ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর কড়াইল বস্তি এলাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৪টি ইউনিয়নের ৩৭ হাজার ৫৬৭টি হতদরিদ্র পরিবার প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাচ্ছে। লক্ষ্য রয়েছে ৫ বছরে ৫০ লাখ গ্রামীণ পরিবারকে এই ডিজিটাল সুরক্ষার আওতায় আনার।
নদী ও খাল খনন বিষয়ে বলা হয়Ñপরিবেশ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ‘স্বেচ্ছাশ্রমে খাল খনন কর্মসূচি’ পুনরুজ্জীবিত করেছে সরকার। আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের হারিয়ে যাওয়া ৫২০টি নদী ও হাজারো খালের পানি প্রবাহ পুনরুদ্ধার করা হবে। সাতক্ষীরা জেলায় ইতোমধ্যে ৩৩টি খালের মধ্যে ৪টির খনন কাজ শেষ হয়েছে এবং ২৫টির কাজ চলমান রয়েছে।
সাতক্ষীরার সাত উপজেলায় মোট ৩৩টি খাল খনন প্রকল্পের মধ্যে আছেÑ কামু খাল, কাটা খাল, কোলকাতলা খাল, খেজুরডাঙ্গা খাল, পুটিমারী খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল, লেবুখালি খাল, নারায়নবাড়ি খাল, হেতালবুনিয়া খাল, কুড়িকাহুনিয়া, গেটের খাল, আই খাল, আইতলা খাল, চিত্রা খাল, হিমখালির খাল, ফারি খাল, খোসালখালি খাল, ধানখালি খাল, খলশিমুখো খাল, সোয়লিয়া খাল, হেতেলখালি খাল, গাবলাখালি খাল, খাশখামার খাল, দশ ফুটের খাল, কুমড়া খাল, কাটাখালি খাল, শ্যাম খাল, পাতাকাটা খাল, টুংগিরপুর খাল-০১, টুংগিরপুর খাল-০২, বসুখালি খাল ও বোয়ালমারি খাল।
এসব খালগুলো মধ্যে কামু খাল, কাটা খাল, পুটিমারী শাখা খালে, মজুমদার ও মজুমদার শাখা খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খালগুলোর মধ্যে কুড়িকাহুনিয়া, আইতলা খাল, গাবলাখালি খাল ও হিমখালির খাল খননের জন্য প্রস্তাবিত আকারে রয়েছে। বাকি খালগুলো খননের কাজ চলমান রয়েছে।
কর্মসূচিভুক্ত খালগুলোর দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮ কিলোমিটার। ইতোমধ্যে ১৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান জেলা তথ্য অফিসার। সভায় আরও জানানো হয়, ’সবুজ হোক দেশ, নির্মল হোক পরিবেশ’Ñস্লোগানে জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি করতে আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ৩ দশমিক ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। পাশাপাশি ‘সার্কুলার ফিউচার মডেল’-এর মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করার আধুনিক ব্যবস্থা চালু করছে সরকার।
জেলা তথ্য অফিসার বলেন, যাতায়াতে নারীদের নিরাপত্তা ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করতে বিআরটিসির মাধ্যমে বিশেষ বাস সার্ভিস চালু হচ্ছে। রাজধানীতে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বাস এবং বিশেষায়িত নিরাপদ বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা গণপরিবহনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই বাসের চালক ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বেও থাকবেন নারীরা।
তিনি আরও বলেন, ”কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ”Ñএই চেতনায় দেশের প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’-এর আওতায় আনার কাজ চলছে। গত ১৪ এপ্রিল টাঙ্গাইলে এই সেবার উদ্বোধন করা হয়। কার্ডধারী কৃষকরা বছরে ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তাসহ সার, বীজ, সহজ শর্তে ঋণ ও শস্য বীমার মতো ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন।
সাতক্ষীরা জেলা তথ্য অফিস জানায়, সরকারের এসব উন্নয়নমূলক কর্মকা- ও নির্বাচনী ইশতেহার সম্পর্কে তৃণমূলের মানুষকে সচেতন করতে জেলাজুড়ে উঠান বৈঠক, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, মাইকিং ও ডিজিটাল প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তথ্য অফিস আয়োজিত উক্ত প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত হয়েও বসার জায়গা না পেয়ে প্রেস ব্রিফিং বর্জন করে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ বাস্তবায়নের আওতায় প্রেস ব্রিফিংয়ে অংশ নিতে বুধবার সাড়ে এগারটার দিকে কমপক্ষে ৬০ জন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে যান। এসময় তাঁরা প্রায় সব হলুদ ও ভূইফোড় সাংবাদিকদের চেয়ার দখল করে বসে থাকতে দেখেন। এমতাবস্থায় নবাগত জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করেন। মুলধারার সাংবাদিকদের দাঁড়িয়ে রেখে তিনি ব্রিফিং শুরু করলে ‘বসার জায়গা না পেয়ে অগত্য সাংবাদিকরা সম্মেলন কক্ষ ত্যাগ করেন।’
এবিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচিত সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত জানতে খুবই আগ্রহ নিয়ে আমরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গিয়েছিলাম। কিন্তু বসার জায়গা না পাওয়া ও জেলা প্রশাসকের অসৌজন্যমুলক আচরণে আমাদের চলে আসা ছাড়া পথ ছিলনা। ’
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আমরা মূলধারার সাংবাদিকরা সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকা-ের সকল খবর প্রচার করে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, গত ১লা এপ্রিল বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামের শ্যামনগর সফরের নিউজ মুলধারার সাংবাদিকরা সর্বোচ্চ কাভারেজ করেন। অথচ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত সাংবাদিকদের দেখা যায়নি।






