সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

জনসংখ্যাকে নতুন চোখে দেখার সময় এসেছে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
জনসংখ্যাকে নতুন চোখে দেখার সময় এসেছে

আখলাকুর রহমান

সাতক্ষীরার একটি শিশু জন্মায় ঠিক ততটাই সম্ভাবনা নিয়ে, যতটা নিয়ে জন্মায় ঢাকা কিংবা টোকিওর কোনো শিশু। তফাৎ শুধু সুযোগে।

আজ ১১ জুলাই, বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস। প্রতি বছর এই দিনে আমরা একটি সংখ্যার দিকে তাকাই, পৃথিবীতে মানুষ কত বাড়ল, বাংলাদেশে কত বাড়ল, সাতক্ষীরায় কত বাড়ল। খবরের কাগজে ছাপা হয় গ্রাফ আর পরিসংখ্যান, সেমিনারে পঠিত হয় প্রবন্ধ, তারপর দিনটি চলে যায় আরেকটি সাধারণ দিনের মতো। কিন্তু সত্যি বলতে, জনসংখ্যা কোনো সমস্যা নয়; সমস্যা হলো আমরা সেই জনসংখ্যাকে কতটা সম্পদে রূপান্তর করতে পারছি, তার হিসাব না রাখা।

দীর্ঘদিন ধরে আমাদের সমাজে একটি ভয় গেঁথে আছে যে মানুষ বাড়লেই নাকি সংকট বাড়ে। খাদ্য কমে যাবে, জমি কমে যাবে, বেকারত্ব বাড়বে, রাস্তায় মানুষের ভিড়ে শ্বাস নেওয়াই দায় হয়ে যাবে। এই ধারণা এসেছে এক শতাব্দী আগের চিন্তা থেকে, যখন প্রযুক্তি বা উৎপাদনশীলতার আজকের অগ্রগতি কারো কল্পনাতেও ছিল না। অথচ বাস্তবতা হলো, পৃথিবীর যে দেশগুলো আজ সবচেয়ে সমৃদ্ধ, তাদের অনেকেই একসময় ঘন জনবসতিপূর্ণ ছিল। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া কিংবা নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ প্রমাণ করেছে, ঘনবসতি কোনো অভিশাপ নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সেটাই হয়ে ওঠে অগ্রগতির চালিকাশক্তি। তাই বলা যায়, জনসংখ্যা সমস্যা নয়, বরং অব্যবস্থাপনা আর সুযোগের অভাবই আসল সংকট।

সাতক্ষীরার দিকে তাকালে বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়। উপকূলীয় এই জেলা জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর একটি। নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়ের পুনরাবৃত্তি এখানকার মানুষের জীবনযাত্রার নিত্যসঙ্গী। এমন এক পরিবেশে প্রতি বছর অসংখ্য তরুণ তরুণী কর্মক্ষম বয়সে পা রাখছে। প্রশ্ন হলো, আমরা কি তাদের জন্য দক্ষতা তৈরির সুযোগ, শিক্ষা আর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারছি? নাকি শুধু সংখ্যা গোনায় ব্যস্ত থেকে প্রকৃত সম্ভাবনাকে হারিয়ে ফেলছি? একজন তরুণ যদি সঠিক প্রশিক্ষণ না পায়, তাহলে সেই একই তরুণ যে দেশের সম্পদ হতে পারত, সে হয়ে ওঠে বেকারত্বের পরিসংখ্যানের আরেকটি সংখ্যা মাত্র।

জনসংখ্যা দিবসের প্রকৃত বার্তা আসলে দুটি জায়গায়। একটি হলো নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার, অন্যটি পরিবার পরিকল্পনায় সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা। এটি কোনো জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণের কথা বলে না; বরং প্রতিটি মানুষকে তার নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলে। সাতক্ষীরার মতো জেলায়, যেখানে বাল্যবিবাহের হার এখনো উদ্বেগজনক, সেখানে এই বার্তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি মেয়ে যখন আঠারো বছর বয়সের আগেই বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়, তখন তার শিক্ষা থমকে যায়, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ে, আর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও একই দারিদ্র্যের চক্র তৈরি হয়। একজন কিশোরী মেয়ে যখন শিক্ষা শেষ করে, নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সুযোগ পায়, তখনই প্রকৃত অর্থে জনসংখ্যা ‘নিয়ন্ত্রণ’ হয়, জোর করে নয়, সচেতনতা দিয়ে।

আমাদের চিন্তার ধরন বদলাতে হবে। জনসংখ্যাকে বোঝা না ভেবে বিনিয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে দেখতে হবে। একটি তরুণ জনগোষ্ঠী সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে। সাতক্ষীরার মৎস্য চাষ, কৃষি আর ক্ষুদ্র ব্যবসায় যদি আধুনিক প্রযুক্তি আর দক্ষতা যুক্ত করা যায়, তাহলে এই জনসংখ্যাই হয়ে উঠতে পারে জেলার সবচেয়ে বড় শক্তি। চিংড়ি চাষের সঙ্গে যুক্ত হাজারো পরিবার, ছোট ছোট কুটির শিল্প, হস্তশিল্প কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক ফ্রিল্যান্স কাজ, সবকিছুতেই দরকার একটু সঠিক দিকনির্দেশনা আর বিনিয়োগ। তরুণদের হাতে দক্ষতা থাকলে তারা শুধু নিজেদের নয়, পুরো পরিবার আর সমাজের ভাগ্যও বদলে দিতে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত এই দিনটিকে শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়া। ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো, আর বাল্যবিবাহ রোধে সামাজিক আন্দোলন জোরদার করা, এসবই এখন সময়ের দাবি। শুধু সরকারি উদ্যোগেই এই কাজ সম্ভব নয়, স্থানীয় সাংবাদিক, শিক্ষক, ইমাম, পুরোহিত, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকেই এগিয়ে আসতে হবে। কারণ সচেতনতা তৈরি হয় প্রতিদিনের কথোপকথনে, একটি বক্তৃতায় নয়।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সাতক্ষীরার মতো জেলার স্থানীয় পত্রিকাগুলো যদি প্রতিনিয়ত এই বিষয়গুলো নিয়ে লেখালেখি করে, গল্প বলে, বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরে, তাহলে মানুষের মানসিকতায় পরিবর্তন আসবে ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে। একটি সফল উদ্যোক্তার গল্প, একটি মেয়ের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার গল্প, এসব গল্পই পারে মানুষের চিন্তাভাবনাকে বদলে দিতে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা এখানেই দাঁড়ায়, আমরা কি জনসংখ্যাকে ভয় পাব, নাকি তাকে সম্ভাবনায় রূপান্তরের পথ খুঁজব? সাতক্ষীরার প্রতিটি নবজাতক একটি নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে, একটি নতুন গল্পের শুরু নিয়ে আসে। আমাদের দায়িত্ব সেই সম্ভাবনাকে সঠিক পথে পরিচালিত করা, সংখ্যা কমানো নয়, সক্ষমতা বাড়ানো। এই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে আসুন, আমরা ভয়ের চশমা খুলে সম্ভাবনার চশমা পরি, আর প্রতিজ্ঞা করি, প্রতিটি মানুষকে শুধু সংখ্যা নয়, সম্পদ হিসেবে দেখব।

লেখক : উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা : আসিফা

 

 

 

Ads small one

চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
চাঁদাবাজির মামলায় জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ও সহযোগী কারাগারে

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় জামায়াত নেতা ও বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার সহযোগী বিশ্বজিৎ মন্ডলকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১০ আগস্ট) সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইদুর রহমান তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী পবিত্র কুমার বলেন, বাদীপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সিরাজুল ইসলাম, আইনজীবী শেখ আবদুল খালেক ও নির্মল জোয়াদ্দার আদালতে শুনানি করেন। তারা আদালতে বলেন, আসামিরা সরকারি প্রকল্পের কাজে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। তারা জামিনে বাইরে থাকলে সরকারি কাজ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে উচ্চ আদালত থেকে হাজী মো. নজরুল ইসলাম ও তার সহযোগী ছয় সপ্তাহের জামিনে ছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষে সোমবার তারা সাতক্ষীরার আদালতে হাজির হয়ে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। আদালত সেই আবেদন নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিকে, আদালত চত্বরে নজরুল ইসলামের ছবি নিতে গেলে সাংবাদিকদের ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন ফেলে দেন তার ছোট ছেলে সাইফুল ইসলাম।

গত ২৫ মে রাতে শ্যামনগর থানায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পে চাঁদাবাজি, হামলা ও কাজ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করেন প্রকল্প বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান আর-রাদ করপোরেশনের আইন কর্মকর্তা মো. জালাল উদ্দিন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ ও শুরা সদস্য হাজী মো. নজরুল ইসলামকে। মামলায় তার ছেলে আব্দুর রহমান, স্থানীয় বিশ্বজিৎ মন্ডলসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়। অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শ্যামনগরের পূর্ব দুর্গাবাটি এলাকায় জাইকার অর্থায়নে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ডিএল-উন্নয়ন (জেভি) ও ডকইয়ার্ড অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেডের পক্ষে আর-রাদ করপোরেশন। অভিযোগ করা হয়, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে চাঁদা দাবি এবং কাজ বন্ধের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদা না দেওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল থেকে প্রকল্পের কাজ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। পরে গত ১৯ মে রাতে প্রকল্প এলাকায় গিয়ে হাজী নজরুল ইসলাম ১৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং কাজ চালিয়ে গেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হত্যার হুমকি দেন।

এরপর ২৩ মে দুপুরে হাজী নজরুল ইসলাম, তার ছেলে আব্দুর রহমানসহ কয়েকজন প্রকল্প এলাকায় গিয়ে প্রকৌশলী জাহিদ হাসানকে মারধর করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। তাকে বাধা দিতে গেলে কিউরিং ম্যান ফেরদৌসকেও মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এ সময় প্রকৌশলী জাহিদের একটি অ্যাপল স্মার্টওয়াচ ও মানিব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।

মামলার বাদীর দাবি, পুরো ঘটনা প্রকল্প এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধারণ হয়েছে। হামলায় আহত জাহিদ হাসান ও ফেরদৌসকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
তবে শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন হাজী মো. নজরুল ইসলাম। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। হামলার অভিযোগের সময় তিনি ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট অধিবেশনে ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বর্ষার আগে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা না গেলে উপকূলীয় বিস্তীর্ণ এলাকা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ কারণে প্রকল্পটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী ও এড. আবু বক্কর।

 

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে ১ জন আটক, ইয়াবা উদ্ধার

দেবহাটা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় পুলিশের মাদকবিরোধী অভিযানে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮)। সে কালিগঞ্জ উপজেলার সেহারা গ্রামের মৃত সামত আলীর ছেলে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল আলিমের নেতৃত্বে থানায় কর্মরত এসআই সোহাগ মিয়া ও এসআই সাহিদুর রহমান মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছিলেন।

 

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ১০টার দিকে দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের নওয়াপাড়া ঢালাই রাস্তার মোড় থেকে ওয়াপদার দিকে যাওয়ার পথে জনৈক আব্দুল মান্নানের বাড়ির সামনে ইটের সলিং রাস্তার ওপর অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশ রেজাউল ইসলাম (৪৮) কে আটক করে। তার নিকট থেকে ৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে ১০ আগস্ট সকালে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
শ্যামনগর প্রেসক্লাবে আব্দুল মোমিন ও দিলীপ কুমারের সংবাদ সম্মেলন

সংবাদদাতা: রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০ টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলার সিরাজপুর গ্রামের মৃত নূর আহম্মদ গাজীর ছেলে মোঃ আব্দুল মোমিন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বলেন- তার নিলাম খরিদা ভূমি ছোট ভাই আব্দুল মালেক ও তার সহযোগী বড় ভগ্নিপতি মোঃ আমজাদ হোসেন ও সেজো ভাইয়ের স্ত্রী শাকিলা বেগম এর বক্তব্য দিয়ে আমার ও আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে আমার বৃদ্ধা মাকে ভুল বুঝিয়া এক মিথ্যা বানোয়াট তথ্য পরিবেশন করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে কিছু না শুনে- না জেনে তার ও তার স্ত্রীর সম্মান হেয় করায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানান ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

একই দিন দুপুর ১২টায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দিলিপ কুমার রায়। তিনি শ্যামনগর উপজেলা মিঠাচন্ডিপুর গ্রামের মৃত কাত্তিক চন্দ্র রায়ের ছেলে। দিলিপ কুমার তার লিখিত বক্তব্যে দাবী করেন, হরিনগর এলাকার দিলিপ মল্লিকের কন্যা চম্পা রানী তার স্ত্রী ছিলেন।

 

উক্ত চম্পা রানীর বিরুদ্ধে তিনি বিভিন্ন অভিযোগ করে বলেন, জনৈক আব্দুল মান্নানকে দিয়ে তার ভিটা বাড়ি লিখে নেওয়ার জন্য হুমকি ও মারপিট করেন। এই ঘনটায় তিনি শ্যামনগর থানায় ১৫৮২ নং জিডি করেন।

 

এই ঘটনায় চম্পা রানী নিজেকে আহত দেখিয়ে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদলতে মামলা করেন। দিলীপ দাবী করেন বর্তমান তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এব্যাপারে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।