বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে বাঁচতে পারে লাখো প্রাণ: গবেষণা প্রতিবেদন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবায় বিনিয়োগে বাঁচতে পারে লাখো প্রাণ: গবেষণা প্রতিবেদন

ন্যাশনাল ডেস্ক: জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতিতে আগেভাগে বিনিয়োগ করলে লাখো প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। এমনকি, আগেভাগে বিনিয়োগ করলে প্রাথমিক ব্যয়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে। এক বৈশ্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে এমনি তথ্য। গত ৬ মে গবেষণাটি প্রকাশ করেছে ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই)। এই গবেষণায় সহায়তা করেছে দ্য রকেটফল ফাউন্ডেশন।

গবেষণায় প্রতিবেদনে বলা হয়, নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবায় এক মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করলে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মৃত্যু, রোগের চাপ ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে চার থেকে ৬৮ মার্কিন ডলারের সুফল পেতে পারে।

৪০ দেশে চলা ৪৬টি প্রকল্প বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদন করা হয়েছে। এতে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, রোগ নজরদারি, জলবায়ুভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়েছে।

গবেষকরা বলেছেন, তাপপ্রবাহ, বন্যা ও রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতিতে দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাসম্পন্ন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কলেরা ও ডায়রিয়ার মতো সংক্রামক রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবার একটি সমন্বিত প্যাকেজ সরকার, হাসপাতাল, জরুরি সেবাদানকারী সংস্থা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও সক্ষম করে তোলে।

ডব্লিউআরআই’র প্রেসিডেন্ট ও সিইও অ্যানি দাসগুপ্তা বলেন, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তবে, এগুলো মানব স্বাস্থ্যে যেটুকু প্রভাব ফেলবে, তা এখনও আমাদের নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে মানবিক দিক। এটি সবার ওপর প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে শিশুদের ওপর এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর।

গবেষণা প্রতিবেদনে সতর্ক করা বলা হয়, শক্তিশালী পদক্ষেপ না নিলে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ুজনিত কারণে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে প্রায় এক কোটি ৬০ লাখ মৃত্যু পারে। এছাড়া ২০ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি সত্ত্বেও বিশ্বজুড়ে অর্ধেকেরও কম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বর্তমানে তাদের জাতীয় রোগ নজরদারি ও স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থায় জলবায়ু বিষয়ক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করছে।

গবেষণা করার সময় গবেষকরা দেখেছেন, জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতিতে বিনিয়োগ রোগের প্রাদুর্ভাব আগেভাগে শনাক্ত করার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ায়। এমনকি, জরুরি প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং ইতোমধ্যেই চাপের মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ কমায়।

দ্য রকফেলার ফাউন্ডেশনের ডা. নাভিন রাও বলেন, জলবায়ু সংকট মূলত একটি স্বাস্থ্য সংকট, যা ইতোমধ্যেই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই গবেষণাটি দেখায়, সামান্য বিনিয়োগও কীভাবে সম্প্রদায়গুলোকে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকির আগে প্রস্তুত হতে সাহায্য করতে পারে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করে এবং প্রাণ বাঁচাতে পারে।

ডব্লিইআরআই’র অনুমান, আড়াই কোটি জনসংখ্যার একটি দেশ বছরে আনুমানিক এক কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলারে একটি পূর্ণাঙ্গ জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্যসেবা প্যাকেজ বাস্তবায়ন করতে পারলে প্রতি ব্যক্তির জন্য বছরে খরচ হবে মাত্র ৭২ সেন্ট।

বিশ্বজুড়ে চলা বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া গেছে বলে গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য অবকাঠামো প্রকল্পে জ্যামাইকায় প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে ১৬৮ ডলার এবং সেন্ট লুসিয়ায় ৩১৭ ডলারের সুফল পাওয়া গেছে। একই সময়ে ভারতের শহরগুলোতে তাপপ্রবাহ সতর্কতা ব্যবস্থা চালুর ক্ষেত্রে প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে প্রায় ৫০ ডলার পর্যন্ত সুফল মিলেছে।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই ফলাফলগুলো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনায় জলবায়ু অভিযোজনকে অন্তর্ভুক্ত করার জরুরি প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করেছে।

সেন্টার ফর পার্টিসিপোটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, বাংলাদেশসহ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জলবায়ু ও স্বাস্থ্যকে আলাদা নীতিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনার সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা ভবিষ্যতে বড় আকারের স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার তুলনায় অনেক কম ব্যয়বহুল। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষিত রাখতে এখন আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, কমিউনিটি প্রস্তুতি এবং জলবায়ু–সংবেদনশীল স্বাস্থ্য পরিকল্পনা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বড় ধরনের অর্থায়ন ঘাটতির বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনও জলবায়ু সহনশীল স্বাস্থ্য কর্মসূচির জন্য দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছে। আর আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থাগুলোও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য পর্যাপ্ত সম্পদের অভাবে রয়েছে।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) সেক্রেটারি জেনারেল কেলেসতে সাউলো বলেন, জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক উপকরণ ও তথ্য ইতোমধ্যেই সরকারগুলোর হাতে রয়েছে। আমরা যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হই, তবে আমাদের পরিবর্তিত জলবায়ু স্বাস্থ্যঝুঁকিকে এমন গতিতে বদলে দেবে, যা আমাদের ব্যবস্থাগুলো অভিযোজিত হওয়ার চেয়েও দ্রুত।”

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:২১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি

চীফ রিপোর্টার: চলতি অর্থবছরে সাতক্ষীরার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির মধ্যেও গুণগত মান রক্ষা করে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে অন্তত ২৬ ভাগ বেশি কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দপ্তরটির কাজের সামগ্রিক গড় অগ্রগতির হার ছিল ৫৩ দশমিক ৫ শতাংশ। যা চলতি অর্থবছরে বৃদ্ধি পেয়ে ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
সূত্র মতে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সাতক্ষীরা জেলায় গ্রামীণ সড়ক কার্পেটিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৩৭ কিলোমিটার। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১৪৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান রয়েছে ৮৮ দশমিক ৫ কিলোমিটার কাজ। যা আগামী শীত মৌসুমের মধ্যেই শেষ হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। চলমান কাজের অগ্রগতিসহ লক্ষ্যমাত্রার ৭৮ ভাগ কাজ সম্পন্ন করেছে দপ্তরটি। একই সময়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ছিল ৫২ শতাংশ।
এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলায় ছয়টি বক্স কালভার্ট, ২৫০ মিটার ব্রিজ সংস্কার, ১৫টি হাট বাজারের উন্নয়ন, দুইটি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ, তিনটি স্কুলের প্রাচীর নির্মাণ, ১৩টি স্কুলের প্রধানশিক্ষকের কক্ষ নির্মাণ, আটটি স্কুল সংস্কার, তিনটি স্কুলের নতুন ভবন নির্মাণ এবং দুই হাজার ৩১১টি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। যার শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
এছাড়া ১০টি ব্রিজ নির্মাণের মধ্যে চারটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ছয়টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৬ শতাংশ। ১৬টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ কাজের মধ্যে একটি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলমান ১৫টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৬৩ শতাংশ। ৩২টি মসজিদ ও মন্দির উন্নয়নের কাজের মধ্যে ২৮টির কাজ শেষ হয়েছে। চলমান চারটির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৮৮ শতাংশ। ৪০৫ মিটার ড্রেনের মধ্যে ২৯৭ মিটার ড্রেন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৩ শতাংশ। পাঁচ দশমিক চার কিলোমিটার খালের মধ্যে চার দশমিক ২৪ কিলোমিটার খাল খনন সম্পন্ন হয়েছে। চলমান কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৮ শতাংশ। ২৭টি পুকুরের মধ্যে ২০ খননের কাজ শেষ হয়েছে। চলমান ৭টির কাজসহ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ৭৪ শতাংশ।
খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা জিসি টু প্রতাপনগর জিসির ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার, খাজরা ইউপি টু বড়দল সড়কের প্রায় ৭ কিলোমিটার, তালার দলুয়া জিসি টু বুধহাটা জিসির ৪.১ কিলোমিটার, দেবহাটার সুর্বনবাদ জিসি টু কোমরপুর জিসির ছয় কিলোমিটার, দেবহাটা ইউপি অফিস টু ভাতশালা কোমরপুর সড়কের ২ কিলোমিটার, নাংলা বাজার টু পানির কল পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার, বদরতলা টু গাজীরহাট ১.৮ কিলোমিটার, কালিগঞ্জের বাশতলা বাজার টু কাশিমাড়ি সড়কের ২ কিলোমিটার, কালিগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড টু তারালী সড়কের দেড় কিলোমিটার, কালিগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হতে মথুরেশপুর ইউপি সড়কের ১.৩ কিলোমিটার, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কদমতলা টু কাথন্ডা জিসির ২.৫ কিলোমিটার, কলারোয়ার তুলসীডাঙ্গা হতে কুশোডাঙ্গা ইউপি অফিসের ৩.৭ কিলোমিটার, শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার, বুড়িগোয়ালিনী ইউপি টু নীলডুমুর ঘাট সড়কের ৩.৩ কিলোমিটার সহ প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকার গ্রামীণ শতাধিক সড়কের কাজ দ্রুততম সময়ে শেষ হওয়ায় স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে লাখ লাখ মানুষ।
যেখানে পূর্বে সড়ক উন্নয়নের নামে রাস্তা খুড়ে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হতো, সেখানে চলতি অর্থবছরে এলজিইডির কর্মতৎপরতায় কাজ সম্পন্নের হার ৮৯.৩৭ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এসব গ্রামীন সড়কের কাজ শেষ হওয়ায় একদিকে যেমন জনগনের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে অপর দিকে গ্রামীন অর্থনীতিতেও বিরাট ভূমিকা রাখবে।
শ্যামনগরের কচুখালী গ্রামের গৌর মন্ডল বলেন, আমার বয়স ৭০ বছর হয়েছে। এর আগে শ্যামনগরের গ্যারেজ বাজার থেকে হরিনগর বাজার রাস্তায় তিন বার কাজ হতে দেখেছি। কিন্তু এবারই প্রথম আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার করে কাজ হতে দেখলাম। আমার বাড়ি রাস্তার পাশেই। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি রাস্তার কাজ দেখেছি। এতো দ্রুত কাজটি শেষ হবে আমরা ভাবতেও পারিনি। সবচেয়ে বড় কথা কাজটি দ্রুত করায় সাধারণ মানুষের কোনো ভোগান্তি হয়নি। এতে আমরা খুশি। রাস্তাটি মেরামত হওয়ার ফলে এ অঞ্চলের কয়েকটি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হয়েছে।
হরিনগর বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, পূর্বে এ রাস্তা দিয়ে মালামাল আনতে খুবই অসুবিধা হতো। তাছাড়া শ্যামনগর থেকে মুন্সিগঞ্জ হয়ে হরিনগর বাজারে আসতে কয়েক কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো, তাতে আমাদের পরিবহন খরচও অনেক বেড়ে যেতো। কিন্তু রাস্তাটি দ্রুত মেরামত করার ফলে আমরা সহজে মালামাল পরিবহন করতে পারছি। এতে আমাদের খরচ অনেক কম হচ্ছে।
একই সাথে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি অর্জন না হওয়ায় কেবিএস (খুলনা বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা) প্রকল্পের অনেক কাজে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে দপ্তরটি।
কাজ বাস্তবায়নকারী কয়েকটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে কাজ বাস্তবায়ন করতে হিমসিম খেতে হয়েছে। তারপরও কাজের গুণগত মান রক্ষা করে প্রায় শতাধীক গ্রামীণ সড়কের কাজ শেষ করা হয়েছে। এসব কাজ শেষ করার ফলে জেলার উন্নয়নসহ গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে এলজিইডি সাতক্ষীরার নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম তারিকুল হাসান খান বলেন, চলতি অর্থবছরে কাজ করা অনেক চ্যালেঞ্জের ছিল। জেলায় চরমভাবে বালু সংকট, জ্বালানি সংকট ও বিটুমিনের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির পরও নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত কাজ শেষ করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়ার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে।
দাপ্তারিক নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এলজিইডির উপজেলা অফিসগুলোতে জনবল সংকট রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলীদের কোনো যানবাহন না থাকায় নিয়মিত তদারকির বিষয়টিও বিঘিœত হয়। কারণ অর্থের অংকে কম হলেও উপজেলাগুলোতে স্কিম সংখ্যা অনেক বেশি। তাই এলজিইডির কর্মতৎপরতা বৃদ্ধির জন্য দপ্তরগুলোতে জনবল বৃদ্ধি এবং উপজেলা প্রকৌশলীদের যানবাহন সরবরাহ করা উচিত।
মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সাতক্ষীরায় এসেছি মাত্র ১১ মাস। যোগদানের পর প্রতিটি কাজই সর্বোচ্চ তদারকির মাধ্যমে শেষ নামানো হয়েছে। কিন্তু মানুষ বুঝে না বুঝে অপপ্রচার চালায়। বিশেষ করে রাস্তায় কার্পেটিংয়ের পর পিচ জমাট বাধতে স্বাভাবিক হতে একটা নিদিষ্ট সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু এক শ্রেণীর মানুষ পিচ দেওয়ার এক দুই দিন পরেই তা তুলে ফেলে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলে। পরে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা মেলে না। কিন্তু এমন অপপ্রচারে অহেতুক সরকারের দুর্নাম হয়।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য মানবতার দেওয়াল স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) সকালে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জে এম দুদায়েভ মাসুদ খান অর্ঘ্য’র দিক নির্দেশনায় স্টার বিডি’র পরিচালক উৎসব এর সহযোগিতায় সরকারি কলেজে মানবতার দেওয়াল স্থাপন এর উদ্ধোধন করেন কলেজ ছাত্রদল নেতা শেখ মিনহাজ আলম মুন।
মানবতার দেওয়াল স্থাপন বিষয়ে কলেজ ছাত্রদল নেতা শেখ মিনহাজ হোসেন মুন বলেন, এটি মুলত স্থাপন করা হয়েছে সমাজের অসহায়, ছিন্নমূল, দরিদ্র, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য, এই মানবতার দেওয়ালে সমাজের বিত্তবানরা তাদের ব্যবহারযোগ্য অতিরিক্ত পোশাক এখানে রেখে যেতে পারবেন আর সেই পোশাক এখান থেকে গরীব, অসহায়, ছিন্নমূল মানুষেরা বিনামূল্যে সংগ্রহ করতে পারবেন। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান রেখে আরো বলেন, এই মানবতার দেওয়াল এর কার্যক্রম চলমান থাকবে।

শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদযাত্রা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদযাত্রা

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় বুধবার (২৪ জুন) রুপান্তরের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কঠিন বর্জ্য পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ পদযাত্রার আয়োজন করা হয়। নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে রুপান্তরের গোফর ইমপ্যাক্ট প্রকল্পের আওতায় সুইজারল্যান্ড, ওয়াটার এইড বাংলাদেশ ও সুইসকন্টাক্ট বাংলাদেশের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মিনা হাবিবুর রহমান। নওয়াবেঁকী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আসাদুজ্জামান মিঠুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন নওয়াবেঁকী বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান, রুপান্তর কর্মকর্তা তুষার বড়ু–য়া প্রমুখ।