মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩

তামিলনাড়ুতে ‘বিজয় রথের’ পথে এখনো কাঁটা, শপথ নিয়ে নাটকীয়তা তুঙ্গে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
তামিলনাড়ুতে ‘বিজয় রথের’ পথে এখনো কাঁটা, শপথ নিয়ে নাটকীয়তা তুঙ্গে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিনেমার নায়ক থেকে রাজনীতিতে নাম লিখিয়েই জননেতা বনে যাওয়া চন্দ্রশেখরন জোসেফ বিজয় ওরফে থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজগম (টিভিকে) তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এখনই সরকার গঠন করতে পারছে না।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন না পাওয়ায় জোট গড়তে কংগ্রেসের দ্বারস্থ হতে হয়েছে বিজয়কে। কংগ্রেস তাদের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও জট কাটেনি। উল্টো মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া এবং সরকার গঠনের জন্য বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। এমন পরিস্থিতিতে বিজয় ও তার দল আদালতে যেতে পারে বলে বৃহস্পতিবার খবর দিয়েছে এনডিটিভি।

এদিকে ২০১৫ সালে ‘পুলি’ নামে একটি তামিল চলচ্চিত্রের আয়কর সংক্রান্ত ‘অনিয়মের’ মামলায় বিজয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে মাদ্রাজ হাই কোর্টে একটি রিট আবেদন হয়েছে। নিউজ এইটটিন বলছে, মামলা হলে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজয়ের শপথে আরো জটিলতা তৈরি হতে পারে।

৪ মে ঘোষিত নির্বাচনের ফল অনুযায়ী, তামিলনাড়ু বিধানসভার মোট ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টিতে জিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ১১৮টি আসন প্রয়োজন, তাই জোট গড়ার কথাই ভাবছেন বিজয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের বরাতে হিন্দুস্তান টাইমস বলছে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দিয়ে নির্বাচনে জিতলেও বিজয়কে সরকার গঠনের জন্য দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) দলের নেতৃত্বাধীন ‘সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (এসপিএ)’ অথবা অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) দলের নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সমর্থন নিতে হবে। নির্বাচনে ডিএমকে জয়ী হয়েছে ৫৯ আসন আর এআইএডিএমকে পেয়েছে ৪৭টি আসন।

তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ৫টি আসনে জয় পাওয়া কংগ্রেসের সঙ্গেই জোট করার জন্য বিজয় যোগাযোগ করেছেন। নিজেদের ১০৮ এর সঙ্গে কংগ্রেসের আসনগুলো মিলে প্রথমে ১১৩ সংখ্যায় পৌঁছাতে চায় তারা। স্বতন্ত্র হিসেবে, ছোট দলগুলোর প্রার্থীদের নিজেদের দিকে ভিড়িয়ে বাকি পাঁচটি আসন নিশ্চিত করে ১১৮ এর ‘ম্যাজিক ফিগারে’ পৌঁছাতে চায় টিভিকে।

কিন্তু তাতেও নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। নির্বাচনে জয়লাভ করার পর সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পেতে বুধবার রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকারের সঙ্গে দেখা করেন বিজয়। তখনই শপথের আগে বিজয়কে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দেন রাজ্যপাল। এনডিটিভি বলছে, রাজ্যপাল মনে করছেন, কংগ্রেস বিজয়কে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিলেও সরকার গড়তে ‘ম্যাজিক ফিগার’ ১১৮-তে পৌঁছাতে বাকি আসনগুলো নিয়ে তার সন্দেহ আছে।
গত মাসে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের এই ‘ত্রিশঙ্কু ফলাফল’ তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যতিক্রমী ঘটনা। কারণ গত ছয় দশক ধরে রাজ্যটিতে কেবল ডিএমকে বনাম এআিএডিএমকের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই চলছিল।

রাজ্যপাল অফিস সূত্রের বরাতে এনডিটিভি বলছে, বৃহস্পতিবার সকালে রাজ্যপালের সঙ্গে বিজয়ের আবার সাক্ষাৎ হয়। এ সময় বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় বিজয়কে।

রাজ্যপাল জানতে চান, কীভাবে মাত্র ১১৩ জন বিধায়ক নিয়ে টিভিকে সরকার পরিচালনা করবে? এ ক্ষেত্রে রাজ্যপাল আরলেকার জেদ ধরেছেন, বিজয়কে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনের চিঠি দেখাতে হবে। এর বাইরে বিজয় শপথ নিতে পারবেন না।

এই অচলাবস্থা নিয়ে টিভিকি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং ইঙ্গিত দিয়েছে, রাজ্যপালকে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে তারা আইনি লড়াইয়ে নামতে পারে। এ বিষয়ে তারা বামপন্থি দলগুলো (সিপিআই ও সিপিএম) এবং ভিডুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চির (ভিসিকে) সমর্থন পেয়েছে। এই তিনটি দলই ডিএমকে নেতৃত্বাধীন জোটের অংশ হলেও টিভিকে তাদের সঙ্গে আসন পরিবর্তনের বিষয়ে যোগাযোগ করেছে।

ভিজিসি প্রধান থিরুমাভালাভান এনডিটিভিকে বলেন, আমরা সেক্যুলার প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্সের সঙ্গে আছি। তবে আমরা আগামী দু-একদিনের মধ্যে বিজয়কে সমর্থনের বিষয়ে আলোচনা করব। তিনি রাজ্যপালকে বিজয়ের দাবি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, একটি নতুন সরকারকে তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হয় বিধানসভায়, রাজ্যপালের কাছে নয়।

বিজয়ের সমর্থনে এগিয়ে এসেছে ডিএমকেও। তামিলনাড়ুর বিদায়ি এই শাসক দল রাজ্যপালের পদক্ষেপকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং জনগণের রায়ের প্রতি ‘অসম্মান’ বলে অভিহিত করেছে। তামিলনাড়ুর আরেক চলচ্চিত্র অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের হয়ে সরব হয়েছেন। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, বিজয় ১০৮টি আসন জিতেছে। তাকে সরকার গড়তে আমন্ত্রণ না জানানো তামিলনাড়ুর মানুষের প্রতি অসম্মান। এটি গণতন্ত্রের ক্ষতি।
এনডিটিভির আরেক খবরে বলা হয়, কংগ্রেসের পাঁচটি আসন বর্তমানে বিজয়ের পকেটে রয়েছে। এখন বামপন্থি এবং ছোট তামিল দলগুলো বাকি আসনগুলোর সমর্থন দিলে বিজয় তার সিনেমা থেকে রাজনীতিতে আসার পূর্ণতা পাবেন। যেমনটা এর আগে সি এন আন্নাদুরাই, এমজিআর, জয়ললিতা এবং করুণানিধি করেছিলেন।

বিজয়ের হাতে এখনও কিছুটা সময় আছে। বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ১০ মে। এর মধ্যে তাকে রাজ্যপালকে বোঝাতে হবে, তার কাছে পর্যাপ্ত আসন রয়েছে। টিভিকের সঙ্গে কংগ্রেস, বাম ও ভিসিকের মধ্যে সম্ভাব্য জোট বিজয়কে ১১৯টি আসন দেবে। তবে বিজয়ের এই যাত্রাপথে ‘কাঁটা বিছিয়ে’ দিচ্ছে বিজেপি। রাজ্যপালের মত তারাও দাবি করছে, বিজয়ের কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই এবং শপথের আগেই তাকে তা প্রমাণ করতে হবে।

এদিকে কর অনিয়মের অভিযোগে বিজয়েরর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্টে হওয়া রিট পিটিশনও টিভিকের চিন্তা বাড়াচ্ছে।

নিউজ এইটটিনের খবরে বলা হয়, পিটিশনটি গত মাসে দাখিল করা হয়। তবে রেজিস্ট্রারি বিভাগ প্রাথমিকভাবে মামলাটি নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে। এর প্রেক্ষিতে ৮ এপ্রিল প্রধান বিচারপতি সুশ্রুত অরবিন্দ ধর্মাধিকারী এবং বিচারপতি জি আরুল মুরুগানের একটি ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির গ্রহণযোগ্যতা সাপেক্ষে রেজিস্ট্রারি বিভাগকে এটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

২০১৫ সালে ‘পুলি’ সিনেমাটি মুক্তির পর শুরু হওয়া আয়কর কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করেই এই পিটিশন করা হয়েছে। পিটিশনে উদ্ধৃত নথি অনুযায়ী, আয়কর বিভাগ ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিজয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়েছিল। সে সময় কিছু নথিপত্র উদ্ধার করা হয়, যাতে ওই সিনেমার জন্য বিজয়ের পারিশ্রমিক সংক্রান্ত অঘোষিত নগদ লেনদেনের ইঙ্গিত আছে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Ads small one

সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা পলিটেকনিকের ট্যুরিজম বিভাগ: সম্ভাবনার বাতিঘর

মো. মামুন হাসান

সাতক্ষীরার কোনো এক গ্রামের ছেলে হয়তো এখন ভাবছে, এসএসসি পাস করার পর কী পড়বে। পরিবারের স্বপ্ন, একটি ভালো চাকরি। সন্তানের স্বপ্ন, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। কিন্তু এই দুই স্বপ্নের মাঝখানে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খায়, তা হলো, পড়াশোনা শেষে কাজটা কোথায়? প্রশ্নটির উত্তর হয়তো আমাদের খুব পরিচিত কয়েকটি পেশার বাইরে কোথাও লুকিয়ে আছে।

 

ভাবুন, সাতক্ষীরার একটি ছেলে চার বছর আগে ভর্তি হলো সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে। কয়েক বছর পর সেই তরুণ সুন্দরবনে একজন বিদেশি পর্যটকের গাইড। তার কণ্ঠে সুন্দরবনের গল্প, হাতে পর্যটন ব্যবস্থাপনার দক্ষতা, কথায় ইংরেজির স্বচ্ছন্দ ব্যবহার। আবার অন্য কোনো দিন তাকে দেখা গেল ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলের ফ্রন্ট ডেস্কে। আরেকজন হয়তো বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিসে কাজ করছেন। কেউ নিজের ট্যুর অপারেটর প্রতিষ্ঠান খুলেছেন। কেউ সাতক্ষীরার গ্রামেই হোমস্টে তৈরি করেছেন।আর কেউ হয়তো একদিন মালদ্বীপের কোনো দ্বীপ রিসোর্টে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখছেন।

 

একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে এতগুলো সম্ভাবনার দরজা খুলে যেতে পারে, বিষয়টি এখনো সাতক্ষীরার অনেক শিক্ষার্থীর কাছে যথেষ্ট পরিচিত নয়।বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট কারিগরি শিক্ষার একটি স্বীকৃত চার বছর মেয়াদি শিক্ষাক্রম। কিন্তু এটিকে কেবল আরেকটি ডিপ্লোমা হিসেবে দেখলে এর আসল সম্ভাবনাটাই ধরা পড়ে না। কারণ এই শিক্ষার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত মানুষের চলাচল, আতিথেয়তা, ভ্রমণ, খাদ্য, সংস্কৃতি, যোগাযোগ, ব্যবস্থাপনা এবং সেবা অর্থনীতি।সাতক্ষীরার জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ।কারণ সাতক্ষীরা নিজেই একটি পর্যটন ভূগোল। সুন্দরবনের পশ্চিম অংশ, নদী, উপকূল, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, লোকজ সংস্কৃতি এবং সীমান্তের বাণিজ্যিক অবস্থান মিলে এই জেলার একটি স্বতন্ত্র পর্যটন পরিচয় তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়েও জাতীয় গণমাধ্যমে ইতিমধ্যে লেখা হয়েছে। সুন্দরবনের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে মানুষের উপস্থিতিও দেখিয়েছে যে এই অঞ্চলে পর্যটনের চাহিদা কেবল সম্ভাবনার কাগজে নেই, বাস্তবেও তার উপস্থিতি আছে।কিন্তু পর্যটক এলেই পর্যটন শিল্প তৈরি হয় না। প্রয়োজন দক্ষ মানুষ।

 

একজন পর্যটক সুন্দরবনে এলেন। তিনি শুধু বনের গাছ দেখতে চান না। জানতে চান, এই বন কীভাবে বেঁচে আছে, জোয়ার কীভাবে মানুষের জীবন বদলায়, মৌয়ালরা কীভাবে মধু সংগ্রহ করেন, বাঘকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের ভয় ও বিশ্বাস কী। একজন দক্ষ স্থানীয় গাইড তখন শুধু পথ দেখান না, তিনি একটি ভূখণ্ডের গল্প বলেন। তিনি হয়ে ওঠেন একটি অঞ্চলের অনানুষ্ঠানিক রাষ্ট্রদূত।

 

সাতক্ষীরার তরুণদের জন্য এখানেই বড় সুযোগ।ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পড়া মানে শুধু হোটেলে চাকরি করা নয়। বরং হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, ট্রাভেল এজেন্সি, ট্যুর অপারেটর, এয়ারলাইনস, বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড সার্ভিস, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, ট্যুর গাইডিংসহ পর্যটন ও সেবাখাতের নানা পেশায় যাওয়ার পথ তৈরি করা। পর্যটনবিষয়ক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার ক্ষেত্রে পাঁচ তারকা হোটেল এবং বিমান সংস্থায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কথাও জাতীয় পর্যায়ে আলোচিত হয়েছে।কিন্তু আমার কাছে এই বিভাগের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক চাকরি নয়, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ।

 

সাতক্ষীরার একজন শিক্ষার্থী চাইলে সাতক্ষীরাতেই একটি ছোট ট্যুর কোম্পানি শুরু করতে পারেন। শুরুতে অফিস না থাকলেও চলে। একটি মোবাইল ফোন, একটি ফেসবুক পেজ, কয়েকটি ভালো পর্যটন প্যাকেজ এবং মানুষের সঙ্গে কাজ করার দক্ষতা দিয়েই শুরু হতে পারে। সাতক্ষীরা থেকে সুন্দরবন, সুন্দরবন থেকে খুলনা, গ্রামীণ জীবন, স্থানীয় খাবার, নদীভ্রমণ কিংবা হোমস্টে নিয়ে তৈরি হতে পারে ছোট ছোট পর্যটন প্যাকেজ।

 

একজন কাজ শুরু করবেন, তাঁর সঙ্গে যুক্ত হবেন একজন নৌকার মাঝি, একজন গাড়িচালক, একজন স্থানীয় রাঁধুনি, একজন গাইড, একজন ফটোগ্রাফার। অর্থাৎ একজন তরুণের উদ্যোক্তা হওয়ার সিদ্ধান্ত একসময় কয়েকজন মানুষের কর্মসংস্থানে পরিণত হতে পারে।এখানেই পর্যটন শিক্ষার সৌন্দর্য।এটি শুধু চাকরি খোঁজার শিক্ষা নয়, চাকরি তৈরি করার শিক্ষাও হতে পারে।

 

সাতক্ষীরার স্থানীয় খাবারও হতে পারে এই অর্থনীতির অংশ। একটি সন্দেশ, এক পাত্র খেজুরের গুড়, উপকূলের শুঁটকি, গ্রামের একটি ঐতিহ্যবাহী রান্না কিংবা কোনো কারুশিল্পকে যদি পর্যটকের জন্য একটি অভিজ্ঞতায় রূপ দেওয়া যায়, তাহলে স্থানীয় সংস্কৃতি আর শুধু স্মৃতির বিষয় থাকে না, হয়ে ওঠে অর্থনৈতিক সম্পদ।

 

রবীন্দ্রনাথের সেই পঙ্‌ক্তি মনে পড়ে, “পথের শেষ কোথায়, শেষ কোথায়, কী আছে শেষে।” ট্যুরিজমের শিক্ষার্থীর পথটিরও কোনো নির্দিষ্ট শেষ নেই। সাতক্ষীরায় শুরু হয়ে সেই পথ যেতে পারে ঢাকায়, কক্সবাজারে, সিলেটে কিংবা সুন্দরবনের নৌপথে। আবার দেশের সীমানা পেরিয়ে যেতে পারে মালদ্বীপ, দুবাই, কাতার, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া কিংবা বিশ্বের অন্য কোনো পর্যটনকেন্দ্রে।

 

পৃথিবীর পর্যটন শিল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, এর ভাষা প্রায় সর্বজনীন। একজন মানুষকে স্বাগত জানানো, তার প্রয়োজন বোঝা, তাকে নিরাপদ ও সুন্দর অভিজ্ঞতা দেওয়া, খাবার পরিবেশন করা, ভ্রমণের ব্যবস্থা করা কিংবা একটি স্থানের গল্প বলা, এগুলো কোনো একটি দেশের একচেটিয়া দক্ষতা নয়। তাই দক্ষতা থাকলে একজন সাতক্ষীরার তরুণও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজের জায়গা করে নিতে পারেন। আর এখানেই ইংরেজি ভাষা, যোগাযোগ দক্ষতা, প্রযুক্তি ব্যবহার ও পেশাদার আচরণের গুরুত্ব। একটি ভালো হোটেলের লবিতে দাঁড়িয়ে শুধু হাসতে জানলেই হয় না, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জানতে হয়। একজন পর্যটকের প্রয়োজন বুঝতে হয়। সমস্যা হলে সমাধান করতে হয়। প্রযুক্তির সাহায্যে রিজারভেশন, টিকিটিং, অনলাইন মার্কেটিং কিংবা পর্যটন ব্যবস্থাপনা করতে হয়। ফলে এই শিক্ষার ভেতর দিয়ে একজন শিক্ষার্থী একই সঙ্গে কারিগরি দক্ষতা ও মানবিক দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পান।তবে সবচেয়ে বড় স্বপ্নটি হতে পারে নিজের শহরকে ঘিরে।সাতক্ষীরার ছেলে সাতক্ষীরাতেই দাঁড়িয়ে যদি বলতে পারে, “আমার চাকরি আমি নিজেই তৈরি করেছি”, তাহলে সেটিই হবে এই শিক্ষার সবচেয়ে বড় সাফল্য।

 

আমরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকে অনেক সময় বড় শহরের দিকে তাকিয়ে দেখি। মনে করি ভালো ক্যারিয়ার মানেই ঢাকা। অথচ ডিজিটাল যুগে এবং পর্যটনের বিকাশে এই ধারণা বদলানোর সুযোগ এসেছে। একজন দক্ষ ট্যুর অপারেটরের অফিস সাতক্ষীরায় হতে পারে, তাঁর গ্রাহক হতে পারেন ঢাকার মানুষ কিংবা বিদেশি পর্যটক। তাঁর গাইড হতে পারেন স্থানীয় তরুণ। তাঁর খাবারের সরবরাহ দিতে পারেন গ্রামের নারী উদ্যোক্তা। তাঁর পরিবহন দিতে পারেন স্থানীয় চালক। অর্থাৎ একটি পর্যটন উদ্যোগ একটি পুরো স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল করতে পারে।

 

সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগকে তাই শুধু একটি শিক্ষাক্রম হিসেবে দেখার সময় হয়তো পেরিয়ে গেছে। এটিকে দেখতে হবে সাতক্ষীরার মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং স্থানীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় ভিত্তি হিসেবে।কারণ সুন্দরবন আমাদের আছে, কিন্তু সুন্দরবনের গল্প বলার মতো দক্ষ মানুষ কতজন তৈরি করেছি?প্রকৃতি আমাদের দিয়েছে, কিন্তু সেই প্রকৃতিকে পর্যটন পণ্যে রূপ দেওয়ার দক্ষতা কতটা তৈরি করেছি? সাতক্ষীরার তরুণ আছে, কিন্তু তাদের হাতে স্থানীয় সম্ভাবনাকে কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়ার মতো প্রশিক্ষণ কতটা পৌঁছেছে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার একটি জায়গা হতে পারে পলিটেকনিকের সেই শ্রেণিকক্ষ। হয়তো কোনো একদিন সেই শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা একজন তরুণই সুন্দরবনের নৌকায় বিদেশি পর্যটককে বলবেন, “ওয়েলকাম টু সুন্দরবন.” কয়েক বছর পর হয়তো সেই একই তরুণ নিজের ট্যুর কোম্পানির মালিক।অথবা কোনো পাঁচ তারকা হোটেলের ব্যবস্থাপক।অথবা বিমানবন্দরের পেশাজীবী।অথবা মালদ্বীপের কোনো রিসোর্টে কর্মরত।অথবা নিজের গ্রামের পাশে গড়ে তোলা একটি হোমস্টের উদ্যোক্তা।শুরুটা কিন্তু একই জায়গা থেকে।সাতক্ষীরার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে।

 

তাই ট্যুরিজম পড়া মানে শুধু পর্যটক হওয়া নয়। বরং পর্যটনের মানুষ হওয়া। নিজের মাটিকে নতুন চোখে দেখা। নিজের এলাকার গল্পকে অর্থনীতিতে রূপ দেওয়া। আর প্রয়োজন হলে সেই দক্ষতা নিয়ে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের পরিচয় তৈরি করা।শিকড় সাতক্ষীরায় থাকুক, কিন্তু স্বপ্নের সীমানা হোক পুরো পৃথিবী।সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা হয়তো এখানেই।

 

লেখক: মো. মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় পথচারী নিহত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১১ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় সোহাগ পরিবহনের ধাক্কায় পথচারী নিহত

মো. সিরাজুল ইসলাম : সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় আনন্দ দাস (৫৮) নামে এক পথচারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২০ মিনিটে পাটকেলঘাটা থানাধীন শাকদা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহত আনন্দ দাস শাকদা গ্রামের মৃত কৃষ্ণ পদ দাসের ছেলে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে আনন্দ দাস শাকদা ব্রিজ সংলগ্ন মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে সাতক্ষীরাগামী ‘সোহাগ পরিবহন’-এর একটি বাস (ঢাকা মেট্রো ব-১২-৪৪৬২) তাঁকে তীব্র ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায়। এতে বাসের কয়েকজন যাত্রী সামান্য আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে গেছেন। ঘটনার পর পরই বাসের চালক ও হেলপার পালিয়ে যান।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পাটকেলঘাটা থানা-পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে মহাসড়কের পাশে রয়েছে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে তাঁর নিজ বাড়িতে রাখা হয়েছে। চালক ও হেলপারকে আটকে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর সাথে অ্যাডভোকেট ইফতেখার আলীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে রোববার রাতে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সৈয়দ ইফতেখার আলী।