বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

জলবায়ু সাংবাদিকতায় ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সাংবাদিকতায় ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

৩০ জুলাই পর্যন্ত সংবাদ ও ডকুমেন্টরি জমার আহ্বান

পত্রদূত রিপোর্ট: জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের উৎসাহিত করতে ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেড। প্রিন্ট ও অনলাইন এবং ভিডিও সংবাদ-এই দুই ক্যাটাগরিতে সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সাররা এ পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা: স্থানীয় কণ্ঠস্বর, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সহনশীলতা’ শীর্ষক ফলোআপ রাউন্ডটেবিল আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়।

সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অনুসন্ধানী, তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থসংশি¬ষ্ট সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রিন্ট ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের সংবাদ এবং ভিডিও ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬ মিনিটের সংবাদ বা ডকুমেন্টরি জমা দেওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, আগ্রহী সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সারদের আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান, ঠিকানাসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিবেদনের প্রস্তাবনা ০১৭১৫৯৪১৮৭৪ ও ০১৭১১২৭৪৮২৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে হবে। অনুমোদিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ বা ডকুমেন্টরি ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল¬াহ কায়সার সুমন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজ বৈশ্বিক বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব সমানভাবে সবার ওপর পড়ছে না। বাংলাদেশ, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী নারী, শিশু, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সমতা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা, অভিযোজনের সফল উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবাদিকতা জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নুরজাহান খাতুন ময়না। আলোচনায় করেন সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, ফারুক রহমান, কৃষ্ণ ব্যানার্জী, আসাদুজ্জামান মধু, অ্যাডভোকেট এস. এম. বিপ¬ব, হাবিবুর রহমান সোহাগ, হোসেন আলী, ইব্রাহিম খলিল, মিলন রুদ্র, মৃত্যুঞ্জয় অপূর্ব, দীপক শেঠ, আলতাফ বাবু ও হৃদয় মন্ডলসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালীভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অপরিসীম। গবেষণাভিত্তিক ও তথ্যসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা যেমন জনসচেতনতা বাড়াবে, তেমনি নীতিনির্ধারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই ফলোআপ রাউন্ডটেবিল সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী জলবায়ু সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, যুবসমাজ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করে এবং সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Ads small one

ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১১ অপরাহ্ণ
ইতিহাস গড়ার বাসনায় ফের ‘বরবাদ’ নির্মাতার ফ্রেমে শাকিব খান

দেশীয় চলচ্চিত্রে ব্যাপক আলোড়ন তোলা ‘বরবাদ’-এর সাফল্যের পর আবারও এক হচ্ছেন সেই ছবির পরিচালক ও নায়ক। পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয়ের নতুন সিনেমায় আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন শাকিব খান।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে নতুন প্রজেক্টটির আনুষ্ঠানিক সাইনিং সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ‘বরবাদ’ মুক্তির পর ছবিটি বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি দর্শকদের প্রশংসাও কুড়ায়। ছবিটি শাকিব খানের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় বাণিজ্যিক সাফল্যে পরিণত হয়।

ঈদে মুক্তির পর প্রথম সাত দিনেই প্রায় ২৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকার টিকিট বিক্রির দাবি করে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। পরবর্তীতে দেশ-বিদেশে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি এবং বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের অন্যতম সর্বোচ্চ আয়কারী সিনেমাগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেয়।

একই টিমের নতুন সিনেমার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ।

 

যদিও নতুন সিনেমাটির নাম কিংবা গল্প এখনো প্রকাশ করা হয়নি, তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল এনার্জি প্রডাকশন জানিয়েছে, খুব শিগগিরই আনুষ্ঠানিকভাবে ছবিটির ঘোষণা দেওয়া হবে।

পরিচালক মেহেদী হাসান হৃদয় জানিয়েছেন, এটি একটি অ্যাকশন থ্রিলার ঘরানার সিনেমা। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই শাকিব খানকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিকে, শাকিব খানও তার ফেসবুক পেজে সাইনিংয়ের মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, “বরবার টিম আবারও ফিরছে। চলো ফের নতুন ইতিহাস গড়ি।”

নির্মাতাদের দাবি, ‘বরবাদ’-এর মতো এবারও দর্শকদের জন্য বড় পরিসরের একটি চমক নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ঈদুল ফিতরে সিনেমাটি মুক্তি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:১০ অপরাহ্ণ
রোনালদো নাকি মদরিচ, কার বিদায় আজ?

ফুটবল বিশ্বের দুই কিংবদন্তি লুকা মদরিচ ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বয়সের ভারে দুজনই ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে। চলতি বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়া ও পর্তুগালের শেষ ষোলোর লড়াই তাই শুধু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নয়, বরং দুই মহাতারকার একজনের বিশ্বকাপ অধ্যায়ের ইতি টানার মঞ্চও। ম্যাচটা মাঠে গড়াবে আজ রাত ৩টায়। দেখাবে টি স্পোর্টস।

পর্তুগালের মিডফিল্ডার ভিতিনহা ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘মদরিচ ও রোনালদো বিশ্ব ফুটবলের দুই অসাধারণ আইকন। ক্রিস্টিয়ানোর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার সৌভাগ্য হয়েছে, যা আমার জন্য দারুণ অভিজ্ঞতা। মদরিচের সঙ্গেও আরও বেশি সময় কাটানোর ইচ্ছা ছিল। যতটুকু দেখেছি, তিনি ভীষণ ভদ্র ও আন্তরিক একজন মানুষ। কিন্তু আগামীকাল একজনের যাত্রা শেষ হবেই। আমি চাই, সেটি যেন মদরিচের হয়।’

ক্রমশ সময় ফুরিয়ে আসছে দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সী মদরিচ এবং ৪০ বছর বয়সী রোনালদোর এটি শেষ বিশ্বকাপ হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। ফলে বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একজনের জন্য হয়ে উঠতে পারে বিশ্বকাপের শেষ অধ্যায়।

বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুজন মিলে খেলেছেন ৪৭টি ম্যাচ। ২০০৮ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে তাদের ঝুলিতে উঠেছে মোট ছয়টি ব্যালন ডি’অর, যার পাঁচটিই রোনালদোর। আর ২০১২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রিয়াল মাদ্রিদে একসঙ্গে খেলতে গিয়ে জিতেছেন চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা।

পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজও দুই কিংবদন্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেছেন, ‘তারা জনমতের ঊর্ধ্বে থাকা ফুটবলার। এত দীর্ঘ সময় ধরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিজেদের ধরে রাখা-ই তাদের বিশেষ করে তুলেছে। ৪০ পেরিয়েও মদরিচ নিয়মিত খেলছেন এবং দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই কথা আমাদের অধিনায়ক রোনালদোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। আসল বিষয় হলো, তারা মাঠে কী দিচ্ছেন এবং ড্রেসিংরুমে কী ধরনের উদাহরণ তৈরি করছেন।’

এবারের বিশ্বকাপেও দুজনই নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন। তবে বয়সের ছাপ যে তাদের পারফরম্যান্সে পড়েছে, সেটিও স্পষ্ট।

পর্তুগালের হয়ে এখন পর্যন্ত তিনটি ম্যাচেই পুরো ২৭০ মিনিট খেলেছেন রোনালদো। করেছেন দুটি গোলও। তবে সতীর্থদের জন্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি। ২৫০ মিনিটের বেশি খেলা ফরোয়ার্ডদের মধ্যে বল স্পর্শ, বল দখল, প্রগ্রেসিভ পাস এবং দ্বৈরথে অংশ নেওয়ার পরিসংখ্যানে তিনি পিছিয়ে রয়েছেন।

অন্যদিকে মদরিচ খেলেছেন ২২৯ মিনিট। একটি অ্যাসিস্টসহ পাঁচটি সুযোগ তৈরি করেছেন তিনি। তবে ২২৫ মিনিটের বেশি খেলা মিডফিল্ডারদের মধ্যে বল দখল ও দ্বৈরথের পরিসংখ্যানে তিনিও অনেকটাই নিচের দিকে।

তাই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে দুই কিংবদন্তির চেয়ে তাদের সতীর্থদের ভূমিকাই হতে পারে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে মাঝমাঠের লড়াইকে দুই কোচই ম্যাচের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে দেখছেন।

এই জায়গায় পর্তুগালের শক্তি নিঃসন্দেহে চোখে পড়ার মতো। ভিতিনহা, ব্রুনো ফার্নান্দেজ, জোয়াও নেভেস, বের্নার্দো সিলভা ও রুবেন নেভেস—প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থানে বিশ্বের সেরাদের একজন।

অন্যদিকে অভিজ্ঞ মদরিচ ও মাতেও কোভাচিচের পাশাপাশি উদীয়মান পেতার সুচিচকে নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ একটি মিডফিল্ড গড়ে তুলেছে ক্রোয়েশিয়া।

ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচও মনে করছেন, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হবে মাঝমাঠেই। তার ভাষায়, ‘নিঃসন্দেহে এটি হবে বিশাল এক লড়াই। সম্ভবত মধ্যমাঠের আধিপত্যই ঠিক করে দেবে ম্যাচের ফল।’

খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৮:০৮ অপরাহ্ণ
খামেনির শেষ বিদায়ে কত কোটি মানুষ আসবে

প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ব্যাপক জনসমাগমের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধের বার্তা বিশ্বকে পৌঁছে দিতেই এই উপস্থিতির আহ্বান জানান তিনি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

আগামী শনিবার (৪ জুলাই) থেকে শুরু হতে যাওয়া এই শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকতা প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গালিবাফ বলেন, আমি সকল ইরানি জনগণকে আহ্বান জানাই, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ইসলামি ইরানের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায় রচনা করুন। তিনি আরও বলেন, প্রতিশোধের জন্য জাতির আহ্বান যেন পুরো বিশ্বের কানে পৌঁছে যায়।

ঐতিহাসিক এই আয়োজন প্রসঙ্গে গালিবাফ বলেন, ইরান তার ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্তের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ চরম উত্তাল থাকায় খামেনির শেষকৃত্য এতদিন স্থগিত ছিল। তবে সংঘাত থামানোর লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি প্রাথমিক চুক্তি সই হওয়ার পর, বর্তমানে চলমান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এই শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুদ্ধের প্রথম দিন ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে তার বাসভবনে নিহত হন। শনিবার তার মরদেহ জনসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে রাখা হবে। সেখানে তার নিহত স্বজনদের মরদেহও প্রদর্শন করা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে এক কোটি ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে। তাহলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান।

শেষ বিদায় ও দাফন অনুষ্ঠান চলাকালে তেহরানের পাশাপাশি পবিত্র শহর কুম ও মাশহাদে সরকারি ছুটি পালন করা হবে। একই সঙ্গে শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যান চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে শহরের কেন্দ্রের বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।