বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

জলবায়ু সাংবাদিকতায় ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪১ অপরাহ্ণ
জলবায়ু সাংবাদিকতায় ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা

৩০ জুলাই পর্যন্ত সংবাদ ও ডকুমেন্টরি জমার আহ্বান

পত্রদূত রিপোর্ট: জলবায়ু পরিবর্তন, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর বাস্তবতা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের উৎসাহিত করতে ‘হেড ক্লাইমেট মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ ঘোষণা করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা হেড। প্রিন্ট ও অনলাইন এবং ভিডিও সংবাদ-এই দুই ক্যাটাগরিতে সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সাররা এ পুরস্কারের জন্য অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে শহরের একটি হোটেলের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা: স্থানীয় কণ্ঠস্বর, গণমাধ্যমের ভূমিকা ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সহনশীলতা’ শীর্ষক ফলোআপ রাউন্ডটেবিল আলোচনা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় সভায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাওয়ার্ড ঘোষণা করা হয়।

সভায় হেডের নির্বাহী পরিচালক লুইস রানা গাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অনুসন্ধানী, তথ্যনির্ভর ও জনস্বার্থসংশি¬ষ্ট সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রিন্ট ও অনলাইন ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬০০ শব্দের সংবাদ এবং ভিডিও ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ৬ মিনিটের সংবাদ বা ডকুমেন্টরি জমা দেওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, আগ্রহী সাংবাদিক ও ফ্রিল্যান্সারদের আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠান, ঠিকানাসহ সর্বোচ্চ পাঁচটি প্রতিবেদনের প্রস্তাবনা ০১৭১৫৯৪১৮৭৪ ও ০১৭১১২৭৪৮২৭ নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে হবে। অনুমোদিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে প্রকাশিত সংবাদ বা ডকুমেন্টরি ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে জমা দিতে হবে।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সিনিয়র সাংবাদিক শরীফুল¬াহ কায়সার সুমন।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন আজ বৈশ্বিক বাস্তবতা হলেও এর প্রভাব সমানভাবে সবার ওপর পড়ছে না। বাংলাদেশ, বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলগুলো প্রতিনিয়ত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার মতো দুর্যোগের মুখোমুখি হচ্ছে। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে কম দায়ী নারী, শিশু, যুব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছে। তাই জলবায়ু পরিবর্তন এখন শুধু পরিবেশগত নয়; এটি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার, সমতা ও টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা, অভিযোজনের সফল উদ্যোগ, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে স্থানীয় সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সাংবাদিকতা জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনাকে আরও কার্যকর করতে পারে।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নুরজাহান খাতুন ময়না। আলোচনায় করেন সাংবাদিক আমিনা বিলকিস ময়না, ফারুক রহমান, কৃষ্ণ ব্যানার্জী, আসাদুজ্জামান মধু, অ্যাডভোকেট এস. এম. বিপ¬ব, হাবিবুর রহমান সোহাগ, হোসেন আলী, ইব্রাহিম খলিল, মিলন রুদ্র, মৃত্যুঞ্জয় অপূর্ব, দীপক শেঠ, আলতাফ বাবু ও হৃদয় মন্ডলসহ অন্যান্যরা।

বক্তারা বলেন, জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালীভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের দায়িত্ব অপরিসীম। গবেষণাভিত্তিক ও তথ্যসমৃদ্ধ সাংবাদিকতা যেমন জনসচেতনতা বাড়াবে, তেমনি নীতিনির্ধারণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সভায় জানানো হয়, পূর্ববর্তী জলবায়ু ন্যায়বিচার সাংবাদিকতা উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় আয়োজিত এই ফলোআপ রাউন্ডটেবিল সাংবাদিকদের অভিজ্ঞতা, শিক্ষা ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনার পাশাপাশি আরও কার্যকর ও প্রভাবশালী জলবায়ু সাংবাদিকতা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে জলবায়ু ন্যায়বিচার বিষয়ক অ্যাডভোকেসি কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, যুবসমাজ এবং স্থানীয় জনগণের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, স্থানীয় কণ্ঠস্বরকে গুরুত্ব দিয়ে, তথ্যনির্ভর সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করে এবং সব অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জলবায়ু সহনশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী ও তলুইগাছা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার বড়ালী হতে ৩ লাখ ৪২ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার চারাবাড়ি হতে ৬ লাখ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের বনজীবীদের কষ্ট, পরিশ্রম আর অভাব নিত্য সঙ্গী

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলবর্তী অঞ্চলের বনজীবী, জেলে ও বাওয়ালিদের জীবন সত্যিই চরম অনিশ্চয়তা, ঝুঁকি এবং কষ্টের প্রতীক। সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দাকোপ, কয়রা, শ্যামনগরসহ বিভিন্ন এলাকার লাখ লাখ মানুষ জীবিকার জন্য এই বন ও নদীর ওপর নির্ভরশীল।

রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গভীর বনে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করতে হয়। এ সময় তাদের প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার, কুমির ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর আক্রমণের আতঙ্কে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং লবণাক্ততার প্রকোপে তাদের জীবন ও জীবিকা বারবার বিপর্যস্ত হয়। লবণাক্ত পানি ও জলোচ্ছ্বাসের কারণে সুপেয় পানির তীব্র সংকট ও চাষাবাদের জমি নষ্ট হওয়া তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী।

মাছ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন মৌসুম এবং বনজ সম্পদ আহরণে নিষেধাজ্ঞার সময়গুলোতে বনজীবীদের বনে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষেধ থাকে। ওই দীর্ঘ সময়টাতে কাজ না থাকায় অনেকেই চরম মানবিক সংকটে ও অনাহারে দিন কাটান। বনে যাওয়ার জন্য দাদন ব্যবসায়ী বা মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়। এরপর বন থেকে আহরিত সম্পদ বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাওয়া সবসময় সম্ভব হয় না, ফলে সারা বছর অভাব পিছু ছাড়ে না। বনদস্যুদের চাঁদাবাজি ও অপহরণের ভয় তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বর্তমানে বনের পরিস্থিতি অনেক অশান্ত এবং বন বিভাগের অনুমতি ও পাস-পারমিট সংগ্রহ করে বনে টিকে থাকা এখনো একটি অত্যন্ত শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া।

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার অন্যতম প্রধান নদী শাকবাড়িয়ার তীরে সুন্দরবন সংলগ্ন ১৫টি গ্রাম মঠবাড়ি, কাশিয়াবাদ, কয়রা ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, পাথরখালী, মাটিকাটা, গাববুনিয়া, শাকবাড়িয়া, হরিহরনগর, গাতিঘেরি, বীনাপানি, জোড়শিং, আংটিহারা ও গোলখালী। এই ১৫টি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার জন্য এখনও বনের সম্পদের ওপরই ভরসা করতে হচ্ছে। বনজীবীরা মাছ ও কাঁকড়া ধরা, গোলপাতা কাটা ও মধু সংগ্রহ করা। বনের ভেতর ও আশপাশের নদী-খালে এরা চিংড়ি পোনাও ধরে থাকেন। জীবিকা নির্বাহে এটাও তাদের অন্যতম কাজ।

ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ৭ লাখ পরিবারের জীবন ও জীবিকা এভাবেই কষ্টে কাটছে। খুলনা জেলার দাকোপ, কয়রা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, মুন্সিগঞ্জ সহ বিভিন্ন উপজেলার প্রায় ৭০ ভাগ মানুষ সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল বনজীবী। উপকূলের সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় ২০ লাখ দরিদ্র মানুষ তাদের জীবিকার জন্য পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সুন্দরবনের কোল ঘেঁষে এসব মানুষের বসবাস, যারা জীবিকার জন্য বছরের বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া, গোলপাতা, মধু সংগ্রহের জন্য সুন্দরবনের গভীরে যান। তবে গত এক দশকে এসব অঞ্চলের মানুষের আয় কমছে সুন্দরবন থেকে।

বন বিভাগ তথ্য অনুযায়ী, ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটারের ম্যানগ্রোভ সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার বাংলাদেশে। সুন্দরবন রক্ষার স্বার্থে ২০১৭ সালে ২৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। তাই সম্পদ আহরণ সংকীর্ণ হয়ে আসার পাশাপাশি আয় কমেছে সুন্দরবন নির্ভর জনগোষ্ঠীর। বাধ্য হয়ে পেশা বদল করেছেন, নতুন কর্মসংস্থানের খোঁজে বাস্তুচ্যুতও হয়েছেন অনেকে। অনেকে অবৈধভাবে বনে প্রবেশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শাস্তির শিকার হয়েছেন। বন থেকে মাছ, মধু কিংবা অন্য কোনো সম্পদ বৈধভাবে আহরণ করে আগে যেখানে সচ্ছলভাবে চলত প্রতিটি পরিবার, সেখানে এখন ঋণের বোঝা নিয়ে চলতে হয় তাদের।

সুন্দরবন ঘেঁষা এলাকার অধিকাংশ পুরুষেরা মৎস্য আহরণ, গোলপাতা কাটা, কাঁকড়া ধরা আর মধু আহরণে আর নারীরা ব্যস্ত থাকেন চিংড়ির পোনা ধরায়। পরিবারের সবাই মিলে কঠিন সংগ্রাম করেও তিনবেলা ভাত জোটাতে না পেরে বনজীবীদের অনেকে আবার ফিরছে অন্য কাজে। কেউ এলাকায়, আবার কেউ দূরের শহরে। ঋণ বা দাদনের জালে অনেকটাই বন্দি হয়ে পড়েছেন উপকূলের এসকল জেলেরা। মাছ ধরা বন্ধ থাকায় আয়-রোজগার থাকে না। এ কারণে সংসার চালাতে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মুখে দু-মুঠো ভাত তুলে দিতে জেলেরা হাত পাতছেন বিভিন্ন এনজিও ও দাদন ব্যবসায়ী কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কাছে। ঋণ নিয়ে তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান করলেও পরবর্তী সময়ে যা আয় করছেন তা দিয়ে চালাচ্ছেন দীর্ঘমেয়াদি কিস্তির টাকা দিতে গিয়ে বাড়তি কোনো টাকা আর সঞ্চয় রাখতে পারছেন না।

কয়রার মঠবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা রমেন মন্ডল, তিনি প্রায় এক যুগ ধরে সুন্দরবনের ওপর ভর করে জীবনযাপন করছেন। পাসের টাকা, অন্যান্য খরচের টাকা, বনদস্যুর টাকা, ঘুষের টাকা দিয়ে গভীরে গিয়ে যে মাছ পাওয়া যায় তা দিয়ে আসলেই কিছু হয় না। তাই এ বছর আর জঙ্গলে যাইনি। মহাজনের কাছে টাকা ধার করে সংসার চালাচ্ছি।

পাইকগাছার গড়ইখালী গ্রামের জেলে রহমত সরদার বলেন, গত বছরও মাছ ধরতে গিয়ে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। বছরের বিভিন্ন সময়ে বনে যাওয়া নিষেধ থাকে। আগের মতো নদীতে মাছ পাওয়া যায় না। আর প্রতিদিন মাছ নিয়ে আড়তে না গেলে আড়তদারদের লোকজন জেলেদের কটু কথা বলে। আড়তদার ও কোম্পানিদের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মাছ ও টাকা কেটে নিয়ে নেয়। কোন সঞ্চয় তো হয় না ঝণ করতে হয়। দাদন ব্যবসা ও মহাজনের কবলে পড়ে জেলেরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, সুন্দরবন যেমন আমাদের রক্ষা করা প্রয়োজন তেমনি এত গুলো মানুষের জিবীকা নির্বাহের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। আমরা চেষ্টা করছি বনজীবীদের বিকল্প আয়ের জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা করতে। বেশ কয়েকটি প্রকল্প আমরা হাতে নিয়েছি। বনজীবীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের জন্য যোগ্য করে তোলা হবে।

সরকারের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও বনজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে উপকূলীয় উন্নয়ন সংস্থাগুলো নানা পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

 

 

 

 

কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ৪:২৫ অপরাহ্ণ
কপিলমুনিতে পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কপিলমুনি থেকে ১০ পিস ইয়াবাসহ ২ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত ১১ টায় কপিলমুনি ফাঁড়ী পুলিশ তাদের আটক করে।

পুলিশ জানায়, কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে কাশিমনগর মৎস্য আড়ৎ এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় সাধারণ মানুষও পুলিশকে সহায়তা করেন। এ সময় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির দেহে তল্লাশি করে ১০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন, কপিলমুনির নাছিরপুরের খালেক বিশ্বাসের ছেলে মোঃ জয়নাল বিশ্বাস (২৬) ও আফসার বিশ্বাসের ছেলে মোঃ আলমগীর বিশ্বাস (৪০)। তাদের পাইকগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কপিলমুনি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইনপেক্টর মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে জানান তিনি।