বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

এরদোয়ানকে ‘শান্ত হতে’ বললেন নেতানিয়াহু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
এরদোয়ানকে ‘শান্ত হতে’ বললেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রতি ক্রমাগত বৈরী বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানকে ‘শান্ত হওয়ার’ পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তুরস্কের সাম্প্রতিক আক্রমণাত্মক বক্তব্য তাকে উদ্বিগ্ন করে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, অবশ্যই এটি আমাকে উদ্বিগ্ন করে।

সম্প্রতি এরদোয়ান ও তুরস্কের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জেরুজালেমের বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়েছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটিকে জেরুজালেম ‘মুক্ত’ করার আহ্বান জানান। কিছু পশ্চিমা ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে রমজান শেষে এক প্রার্থনা সভায় এরদোয়ান ইসরায়েলের ধ্বংস কামনা করে বলেন, আল্লাহ যেন জায়নবাদী ইসরায়েলকে ধ্বংস ও বিনাশ করেন।

এর জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তুরস্কে যা ঘটছে তা ইরানের ক্ষমতা হ্রাসেরই ফল। ইরান হলো চরমপন্থী শিয়া অক্ষ, অন্যদিকে তুরস্ক মুসলিম ব্রাদারহুডের অক্ষের প্রতিনিধিত্ব করছে যা সমানভাবে একটি চরমপন্থী আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলকে ধ্বংস করার ইচ্ছা এবং জেরুজালেমে আবারও শাসন কায়েম করা নিয়ে এরদোয়ান যা বলছেন আমার মনে হয় তিনি ভুলে গেছেন যে ৪০০ বছরের অটোমান শাসনের অবসান ঘটেছে। আজ এখানে ইসরায়েল নামের একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র আছে। এখানে ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) আছে, ইসরায়েলের জনগণ আছে এবং ইসরায়েলের একটি সরকার আছে। আর তার জন্য শান্ত হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

কাউকে নিজেদের অস্তিত্ব বা নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নেতানিয়াহু বলেন, আমরা কী করতে সক্ষম, তা আমরা প্রমাণ করেছি বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি আমাদের সীমান্ত রক্ষা করা দরকার। তবে আমাদের বুঝতে হবে যে একটি শক্তির পতন ঘটলে আরেকটি শক্তির উত্থান হয়। বিষয়গুলো সব সময়ই এভাবে কাজ করে। আর যে শক্তিটির উত্থান অব্যাহত রাখতে হবে এবং আরও দ্রুত গতিতে উত্থান ঘটাতে হবে তা হলো ইসরায়েল রাষ্ট্র।

সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Ads small one

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী সেবায় রোগীর চাপ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী সেবায় রোগীর চাপ

২৩ দিনে ১২৮ জনের চিকিৎসা; পথপ্রাণীর উপদ্রব নিয়ে উদ্বেগ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী সেবা নিতে রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি মাসের ১ জুন থেকে ২৩ জুন পর্যন্ত মাত্র ২৩ দিনে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা ও টিকা গ্রহণ করেছেন ১২৮ জন। স্বাস্থ্য বিভাগের এই পরিসংখ্যান একদিকে যেমন মানুষের সচেতনতার ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে উপজেলায় পথকুকুর ও অন্যান্য প্রাণীর আক্রমণের উদ্বেগজনক বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে আসছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৬ জন রোগী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসছেন। কোনো কোনো দিনে এ সংখ্যা বেড়ে ১৮ জন পর্যন্ত পৌঁছেছে। আক্রান্তদের অধিকাংশই কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের শিকার বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সড়ক ও জনবহুল এলাকায় পথকুকুরের উপদ্রব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু, বৃদ্ধ ও পথচারীরা প্রায়ই আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন। তবে এ সমস্যা নিরসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে জনস্বাস্থ্য সচেতন মহল বলছেন, শুধু আক্রান্তদের চিকিৎসা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। পথপ্রাণী নিয়ন্ত্রণ, পোষা প্রাণীর বাধ্যতামূলক টিকাদান এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩ দিনে ১২৮ জনের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী চিকিৎসা গ্রহণের ঘটনা যেমন সচেতনতার ইতিবাচক বার্তা বহন করে, তেমনি এটি উপজেলায় প্রাণীর কামড়ের ঘটনার সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও স্থানীয় সরকার, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। নইলে হাসপাতালের টিকাকেন্দ্রে রোগীর এই দীর্ঘ সারি ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, “জলাতঙ্ক শতভাগ প্রাণঘাতী হলেও সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি শতভাগ প্রতিরোধযোগ্য। আমরা নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছি। ফলে মানুষ এখন দ্রুত চিকিৎসা নিতে আসছেন।”

তালায় বাসচাপায় স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত বাবা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৮ অপরাহ্ণ
তালায় বাসচাপায় স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত বাবা

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় বাসচাপায় কুশল রায় সরদার (১৩) নামে এক স্কুলশিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার বাবা কানাই লাল সরদার।

বুধবার (১ জুলাই) সকাল প্রায় ৯টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে খুলনা-পাইকগাছা মহাসড়কের তালা সদর ইউনিয়নের শাহপুর বাজারে ব্র্যাক অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কুশল রায় সরদার তালা ব্রজেন দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে তালা উপজেলার নলতা গ্রামের বাসিন্দা এবং রথখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক কানাই লাল সরদারের ছেলে। চাকরির সুবাদে কুশলের বাবা-মা বর্তমানে চুকনগরে বসবাস করেন এবং উভয়েই শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুর সবুর জানান, পাইকগাছা থেকে খুলনাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস (রেজি. নং খুলনা জ-০৫-০০৪৯) বৃষ্টির মধ্যে শাহপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে চুকনগর থেকে তালাগামী একটি মোটরসাইকেলকে চাপা দেয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা কুশল বাসের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। তার বাবা কানাই লাল সরদার গুরুতর আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত কানাই লাল সরদারকে উদ্ধার করে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

তালা থানার ওসি (তদন্ত) সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

কালিগঞ্জে মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬, ৩:১১ অপরাহ্ণ
কালিগঞ্জে মাছের ঘের থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে সঞ্জিব সরকার (৩৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) ভোর ৪ টার দিকে উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের তুলাকঠি এলাকার একটি মাছের ঘেরের সামনে থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সঞ্জিব সরকার ঠেকরা রহিমপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্র সরকারের ছেলে।

নিহতের বাবা গোপাল চন্দ্র সরকার (৫৮) জানান, মঙ্গলবার (৩০ জুন) দিবাগত রাত ৮টার দিকে সঞ্জিব এবং তিনি বাড়ি থেকে নিজ নিজ মাছের ঘেরের উদ্দেশ্যে বের হন। রাতে সঞ্জিব বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত ৪ টার দিকে সঞ্জিবের ঘেরের বাসার সামনে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

নিহতের পরিবারের দাবি, এটা কোনো স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। তারা বলেন, জমিজমা নিয়ে শরিকদের সাথে বিরোধ ছিল। তারা প্রায়ই সঞ্জিবকে মারধর ও খুন-জখমের হুমকি দিতো। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হবে। এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন আছে।