বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিরাপদ আবাসনে সাতক্ষীরায় উত্তরণের উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৫৯ অপরাহ্ণ
জলাবদ্ধতা নিরসন ও নিরাপদ আবাসনে সাতক্ষীরায় উত্তরণের উদ্যোগ

মিলন বিশ্বাস: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সাতক্ষীরা পৌর এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ। জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, ঘর মেরামত, জলবায়ু সহনশীল ঘর নির্মাণ, স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা উন্নয়নের ফলে উপকারভোগীদের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এসব কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকল্পের সমাপনী ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোল চৌধুরীপাড়ায় সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সেতুসংলগ্ন রয়েল প্লাস কনভেনশন হলে সকাল ১০টায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে উত্তরণ বাস্তবায়িত ‘জলবায়ু অভিবাসী ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সমন্বিত জলবায়ু অভিযোজনের মাধ্যমে সহনশীল ভবিষ্যৎ গঠন’ প্রকল্পের আওতায় এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী ফাতেমা হালিমা আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সিনিয়র ডিরেক্টর অব প্রোগ্রামস মিয়া মারিনা ও ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান।

প্রকল্পের আওতায় সাতক্ষীরা পৌরসভার ছয়টি কমিউনিটিতে দুটি জলবায়ু সহনশীল ঘর নির্মাণ, ১০টি বসতঘর মেরামত, ২৮৬ ফুট ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণ, দুটি গোসলখানা তৈরি এবং ৩০টি পরিবারে শৌচাগার স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া ২৫ জন রাজমিস্ত্রি ও কাঠমিস্ত্রিকে প্রশিক্ষণ, একটি ক্ষুদ্র পাইপভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন, ১০ জনকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ এবং ৪০টি বসতবাড়িতে সবজি চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সভার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা জানান, ড্রেন ও ফুটপাত নির্মাণের ফলে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ কমেছে। আগে পানি জমে থাকায় বাড়ি থেকে বের হওয়া কঠিন ছিল; অনেক সময় দিনে একবারের বেশি বাইরে যাওয়া সম্ভব হতো না। বর্তমানে চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। ঘর নির্মাণ ও মেরামতের ফলে দুর্যোগের সময় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রয়োজনও কমেছে। পাশাপাশি স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানির সুবিধা তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছে।

প্রধান অতিথি মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভার নিম্নআয়ের মানুষের উন্নয়নে উত্তরণের কার্যক্রম প্রশংসনীয়। পৌরসভার উন্নয়নে ভবিষ্যতে উত্তরণের বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করা হবে।

বিশেষ অতিথি মিয়া মারিনা বলেন, হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ নিম্নআয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সাতক্ষীরায় এ ধরনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

সংস্থাটির ন্যাশনাল ডিরেক্টর মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, উত্তরণের সঙ্গে যৌথভাবে সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করছে হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা হিসেবে কমিউনিটির চাহিদা পূরণে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

সভাপতির বক্তব্যে ফাতেমা হালিমা আহমেদ বলেন, উত্তরণ ১৯৮৫ সাল থেকে সাতক্ষীরায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ভূমিহীন, জলবায়ু অভিবাসী ও পিছিয়ে পড়া নারীদের উন্নয়নে সংস্থাটি কাজ করছে। হ্যাবিট্যাট ফর হিউম্যানিটি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পের মাধ্যমে সাতক্ষীরা পৌর এলাকার জলবায়ু অভিবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তরণের অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমেও পৌর এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

কর্মশালায় আরও উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা পৌরসভার শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিদুল ইসলাম ও সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। তাঁরা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উত্তরণকে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এ সময় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক, এনজিও ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) প্রতিনিধি এবং প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন উত্তরণের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উত্তরণের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল হোসেন।

Ads small one

খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২১ অপরাহ্ণ
খুলনায় বিভাগীয় বইমেলা শুরু ১০ নভেম্বর

আগামী ১০ নভেম্বর থেকে খুলনায় শুরু হচ্ছে নয় দিনব্যাপী বিভাগীয় বইমেলা। এ উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুনের সভাপতিত্বে সভায় তিনি বলেন, বই মানুষের ভালো বন্ধু। সবার অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। মেলা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সভায় জানানো হয়, ১০ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে বইমেলা। প্রতিদিন আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন আয়োজন থাকবে। ছুটির দিনে সকাল ১১টা থেকে রাত ১০টা এবং অন্যান্য দিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

প্রস্তুতি সভায় সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মু. বিল্লাল হোসেন খান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মো. মনজুর আলমসহ বিভাগীয় পর্যায়ের কর্মকর্তা, জাসাস মহানগর কমিটি ও জিয়া শিশু-কিশোর সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

দেবহাটায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার দেবহাটায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে দেবহাটা উপজেলা যুবদলের আয়োজনে বহেরা এ.টি. মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান কামরুল। সঞ্চালনা করেন সদস্যসচিব মেহেদী হাসান সবুজ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আলী রেজা, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক রাজিব, কুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম মনি, সদস্যসচিব হিরোন কুমার মণ্ডল ও যুগ্ম আহ্বায়ক হোসেন আলী; পারুলিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শাহীন আলম; সখিপুর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম ও সদস্যসচিব সোহাগ হোসেন; দেবহাটা সদর ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল হুদা বাপ্পী ও সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন; নওয়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক বাদশা, সদস্যসচিব কবির হোসেন ও যুগ্ম আহ্বায়ক আনারুল ইসলামসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের নেতাকর্মীরা।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত

সংবাদদাতা: ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর স্মরণে সাতক্ষীরায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জেলা শাখা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে সাতক্ষীরা শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে জেলা জামায়াত আয়োজিত উক্ত বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা শাখার আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে হত্যাকাণ্ড, ষড়যন্ত্র, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঢাকার পল্টনে লগি-বৈঠা নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং এতে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বহু নেতাকর্মী নিহত হন। নিহতদের লাশের ওপর নৃত্য করার ঘটনাও ঘটেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি মো. ওমর ফারুক, অফিস সেক্রেটারি রুহুল আমিন, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসেন, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি খোরশেদ আলম ও সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমানসহ জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেন।

সমাবেশ শেষে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি পাকাপুলের মোড়, নিউমার্কেট মোড়, তুফান মোড় ও বড়বাজার সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।