মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬, ১১:২৫ অপরাহ্ণ
জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা

পত্রদূত রিপোর্ট: দলের বিভিন্নস্তরের নেতা কর্মী এবং বিভিন্ন সংগঠনের উচ্ছ্বসিত নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হলেন নব নিযুক্ত সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব। শুক্রবার সকাল থেকে দিনব্যাপী হাবিবুল ইসলাম হাবিবের কলারোয়ার বাসভবন, সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামসহ বিভিন্নস্থানে পৃথক পৃথকভাবে নেতকর্মীদের সমাগমে মুখরিত থাকে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব, কলারোয়া ও তালা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মী- সমর্থক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সদ্য দায়িত্বপ্রপাপ্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এছাড়া তালা ও পাটকেলঘাটায় সংবর্ধনা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব


সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা স্টেডিয়ামে এ ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আবুল হাসান হাদী, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হুসাইন, সদস্য কাজী জামালউদ্দীন মামুন, আসাদুজ্জামান মধু, রমজান আলী প্রমুখ।
ডিবি ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব


সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ‘ডি.বি ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাব’। ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ এক যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিদাতাদের মধ্যে রয়েছেন ডি.বি ফ্রেন্ডস স্পোর্টিং ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা স ম শহীদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী স ম নুরুল আমিন লাভলু, সাবেক পৌর কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, সাতক্ষীরা সিটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আব্দুল ওদুদ, স্বপন কুমার সাহা, রফিকুল ইসলাম ও প্রধান শিক্ষক এমাদুল ইসলাম দুলু। এ ছাড়া ক্লাবের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সকল সদস্য এই শুভেচ্ছা জানান। প্রেসবিজ্ঞপ্তি
তালায় বিএনপির প্রস্তুতি সভা

 


জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে গণসংবর্ধনা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা করেছে তালা উপজেলা বিএনপি।
শুক্রবার বিকেলে তালা বাজারে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়। সভায় উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে নেতা-কর্মীদের নির্ধারিত সময়ে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, তালা সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম বিশ্বাস, সহসভাপতি রেজাউল ইসলাম রেজা, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু, খেশরা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান এস. এম. লিয়াকত হোসেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সাইদুর রহমান সাঈদ ও ফারুক হোসেন, তালা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, তালা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সোহাগ হোসেন এবং জাসাসের সদস্যসচিব রাসেল বিশ্বাস।
তালা প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা


সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তালা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সেলিম হায়দার।
শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে কলারোয়ায় নবনিযুক্ত প্রশাসকের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন তালা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি আছাদুজ্জামান রাজু, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য কে এম শাহিনুর রহমান, জয়দেব চক্রবর্তী, কামাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম নয়ন।
এর আগে তালা উপজেলা বিএনপি, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মফিদুল হক লিটু এবং তালা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনও জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে পৃথকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
কলারোয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা

 


কলারোয়া ও তালা বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল নেতাকর্মী- সমর্থক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সদ্য দায়িত্বপ্রপাপ্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বাসভবনে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণ বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। তাদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দমুখরতায় এটি সহজেই ধারণা করা যায়। জুম্মার নামাজের পূর্বে সমাগত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া দায়িত্ব আমি নিষ্ঠার সাথে পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি সকলকে দ্বিধা-বিভেদ ভুলে একসাথে সঠিকভাবে দল গঠনের আহবান জানান। সকল দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে তিনি তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কথা বলেন। নেতাকর্মীকে দেশ গঠনে নবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। নব নিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক সাবেক পৌর মেয়র আকতারুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ মিয়া, উপজেলা বিএনপির মুখপাত্র সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রকিব মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন, সাবেক অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক, শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, সাবেক সহ-সভাপতি আখলাকুর রহমান শেলী, তালা বিএনপির সাবেক সভাপতি মৃনাল কান্তি রায়, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মহব্বত হোসেন, কলারোয়া বিএনপি নেতা মাহফুজুর রহমান খান চৌধুরী, প্রভাষক সালাউদ্দিন পারভেজ, জহিরুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এসএম শহিদুল ইসলাম, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ, এমএ রব শাহিন, উপজেলা মহিলা বিএনপির সভানেত্রী মিসেস রাশিদা আশরাফ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এমএ হাকিম সবুজ, সদস্যসচিব তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন খোকন, উপজেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক মাস্টার মনিরুজ্জামান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের মোশারফ হোসেন, কলারোয়া ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাবু, বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শওকত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মীর রফিকুল ইসলাম, ক্রীড়া সংগঠক রমজান আহমেদ, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।
জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজ

 


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনা সম্পাদক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদে জেলা পরিষদ প্রশাসক হিসেবে হাবিবুল ইসলাম হাবিব নিযুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজ সাতক্ষীরা জেলা শাখার পক্ষ থেকে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৫টায় জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজ সাতক্ষীরা জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ সাতক্ষীরা স্টেডিয়াম মাঠে উপস্থিত হয়ে নবনিযুক্ত জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, জাতীয়তাবাদী নাগরিক সমাজ সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবিদুল হক মুন্না, সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ নাজিরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রবিউল ইসলাম, মহিউদ্দীন মিলন, প্রচার সম্পাদক কাজী মিয়ারাজ, ক্রীড়া সম্পাদক রফিকুল ইসলাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ডিএম কামরুল ইসলাম, এড. বায়েজিদ, এড. ইবাদুল হক, জহিরুল ইসলঅম, জাহাঙ্গীর হোসেন, আকরাম হোসেন, নাজমুল প্রমুখ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি
পাটকেলঘাটায় বিএনপির জরুরি সভা
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে অভিনন্দন জানিয়ে জরুরি আলোচনা সভা করেছে পাটকেলঘাটা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন। শুক্রবার রাতে পাটকেলঘাটা প্রেসক্লাব সংলগ্ন যুবদলের নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাশেদুল হক রাজুর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোড়ল আব্দুর রকিবের সঞ্চালনায় সভায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
সভায় গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেন তালা উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নগরঘাটা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহাব্বত আলী, কুমিরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল মালেক এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. রবিউল ইসলাম।
অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন তালা উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মন্টু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মহিতুজ্জামান মুহিত, সরুলিয়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ডা. মো. রফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তার হোসেনসহ বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দ। সভায় বক্তারা সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেন এবং তাঁকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানান। সভা শেষে বিএনপির নেতৃবৃন্দ নবনিযুক্ত প্রশাসককে সশরীরে শুভেচ্ছা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

 

Ads small one

উপকূলের জীবন, দেশের ভবিষ্যৎ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:২৫ অপরাহ্ণ
উপকূলের জীবন, দেশের ভবিষ্যৎ/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে তাকালে সহজেই বোঝা যায়, এই দেশ নদীর দেশ, বদ্বীপের দেশ এবং একই সঙ্গে উপকূলের দেশ। দক্ষিণের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে নদী, খাল, মোহনা ও সমুদ্রের যে মিলনভূমি, সেখানে গড়ে উঠেছে এক অনন্য জীবনব্যবস্থা। সুন্দরবনঘেরা উপকূলের মানুষের জীবন যেন জোয়ার-ভাটার ছন্দে বাঁধা। এখানে প্রকৃতি শুধু পরিবেশ নয়, জীবিকার উৎস; আবার সেই প্রকৃতিই অনেক সময় হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।সুন্দরবন উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকা নিয়ে আলোচনা মানে কেবল দারিদ্র্য বা দুর্যোগের কথা বলা নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবেশ, অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও জলবায়ু ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা। কারণ এই উপকূল বেঁচে থাকলে দেশের একটি বড় অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ভিত্তি বেঁচে থাকবে।

 

একসময় দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের জীবন ছিল নদীনির্ভর স্বয়ংসম্পূর্ণ এক অর্থনীতির উদাহরণ। নদী ছিল মাছের ভা-ার, খাল ছিল পানির আধার, পলি ছিল কৃষির প্রাণ। কৃষক বর্ষায় নদীর আশীর্বাদ পেতেন, শুষ্ক মৌসুমে জমিতে ধান ফলাতেন। জেলে নদীতে মাছ ধরতেন, মৌয়াল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতেন, বাওয়ালিরা বনজ সম্পদ আহরণ করতেন। কিন্তু গত কয়েক দশকে এই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে।

 

নদীর নাব্যতা কমেছে, খাল ভরাট হয়েছে, জলাবদ্ধতা বেড়েছে এবং লবণাক্ততা ভেতরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। ফলে ঐতিহ্যগত জীবনব্যবস্থার ভারসাম্য ভেঙে পড়ছে। সুন্দরবনকে অনেকেই শুধু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল হিসেবে দেখেন। বাস্তবে এটি উপকূলীয় বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক রক্ষাকবচ। ঘূর্ণিঝড়ের গতি কমানো, জলোচ্ছ্বাসের আঘাত প্রশমিত করা, নদীর তীর রক্ষা করা এবং জীববৈচিত্র্েযর ভারসাম্য বজায় রাখতে সুন্দরবনের ভূমিকা অপরিসীম। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের হাজার হাজার পরিবার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল।

 

মধু, গোলপাতা, মাছ, কাঁকড়া, চিংড়ির পোনাÑএসব শুধু বনজ সম্পদ নয়; এগুলো অসংখ্য পরিবারের দৈনন্দিন আয়ের উৎস। কিন্তু বনও সীমাহীন সম্পদের আধার নয়। অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ, নদী দখল, অবৈধ কর্মকা- এবং অপরিকল্পিত উন্নয়ন সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সুন্দরবনের ক্ষতি মানে উপকূলের মানুষের নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে পড়া। উপকূলের সবচেয়ে ভয়াবহ সংকটগুলোর একটি হলো লবণাক্ততা। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী লোনা পানির অনুপ্রবেশের কারণে অনেক এলাকায় কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। সাতক্ষীরার আশাশুনি, শ্যামনগর, কালীগঞ্জ কিংবা খুলনার কয়রা ও দাকোপ অঞ্চলে এখন সুপেয় পানির জন্য মানুষের দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়।

 

পুকুরের পানি লবণাক্ত, নলকূপে লবণ, জমিতে লবণÑএই বাস্তবতা শুধু কৃষিকে নয়, মানুষের স্বাস্থ্যকেও হুমকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে নারীদের ওপর এর প্রভাব বেশি। অনেক এলাকায় প্রতিদিন কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হয়। এটি সময়ের অপচয় নয়; এটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক মর্যাদার প্রশ্নও। উপকূলীয় কৃষি এখন গভীর রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একসময় যেখানে ধান ছিল প্রধান ফসল, সেখানে এখন চিংড়িঘেরের বিস্তার ঘটেছে। চিংড়ি রপ্তানি দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও এর পরিবেশগত মূল্য কম নয়।

 

চিংড়ী চাষের ফলে মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়,মিঠাপানির উৎস নষ্ট হয়,
কৃষিজমি কমে যায়, ক্ষুদ্র কৃষক জমি হারান, কৃষিশ্রমিকদের কর্মসংস্থান কমে যায়। ফলে উপকূলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে বৈষম্য বাড়ছে। কিছু মানুষ লাভবান হলেও বৃহত্তর জনগোষ্ঠী অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। উপকূলের অর্থনীতির আরেকটি বড় ভিত্তি মৎস্যসম্পদ। কিন্তু নদীর পরিবর্তিত পরিবেশ, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, অতিরিক্ত আহরণ এবং দূষণের কারণে দেশীয় মাছের প্রজাতি কমে যাচ্ছে।

জেলেদের আয় অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত। মাছ কমে গেলে শুধু জেলের ক্ষতি হয় না; স্থানীয় বাজার, পরিবহন, বরফকল, আড়তÑসমগ্র অর্থনৈতিক শৃঙ্খল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। উপকূলের মানুষ দুর্যোগের সঙ্গে বসবাস করতে শিখেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সহনশীলতার সীমা কোথায়?সিডর, আইলা, আম্পান, ইয়াস কিংবা সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়গুলো দেখিয়েছে, একটি দুর্যোগ কয়েক দশকের উন্নয়নকে মুহূর্তে ধ্বংস করে দিতে পারে। ঘরবাড়ি ভাঙে, ফসল নষ্ট হয়, মাছের ঘের ভেসে যায়, পানির উৎস দূষিত হয়। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়ে যায়। প্রতিবার দুর্যোগের পর ত্রাণ ও পুনর্বাসন হয়, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা পুনর্গঠন খুব কম ক্ষেত্রেই নিশ্চিত হয়। উপকূলের আরেকটি বড় বাস্তবতা হলো নদীভাঙন। বেতনা, কপোতাক্ষ, শিবসা, পশুরসহ বিভিন্ন নদীর তীরবর্তী মানুষ প্রতিনিয়ত ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় থাকেন।

 

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল বেড়িবাঁধ। অনেক বাঁধ বছরের পর বছর মেরামতের অপেক্ষায় থাকে। কোথাও সামান্য ফাটল বড় বিপর্যয়ের পূর্বাভাস দেয়। বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ঢুকে পড়লে শুধু একটি মৌসুম নয়, বহু বছরের জন্য জমির উৎপাদনক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। এখানেই উন্নয়ন পরিকল্পনার বড় দুর্বলতা স্পষ্ট হয়। একই বাঁধ বারবার মেরামত করা হয়, কিন্তু নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা এবং দীর্ঘমেয়াদি উপকূল ব্যবস্থাপনার প্রশ্নগুলো উপেক্ষিত থেকে যায়। উপকূলের সংকটের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করেন নারীরা।

 

পানি সংগ্রহ, পরিবার রক্ষা, দুর্যোগের পর ঘর পুনর্গঠন, হাঁস-মুরগি পালন, ক্ষুদ্র ব্যবসাÑসবক্ষেত্রেই তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। পুরুষ সদস্যরা অনেক সময় কাজের সন্ধানে অন্যত্র চলে গেলে নারীদেরই পরিবার টিকিয়ে রাখতে হয়। অথচ নীতিনির্ধারণী আলোচনায় তাদের অভিজ্ঞতা খুব কমই গুরুত্ব পায়। সংকটের মধ্যেও উপকূলের মানুষ অসাধারণ অভিযোজন ক্ষমতার পরিচয় দিচ্ছে। তারাÑলবণসহিষ্ণু ধানের জাত ব্যবহার করছে, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করছে,ভাসমান কৃষি করছে, কাঁকড়া ও হাঁস পালন বাড়াচ্ছে, ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলছে। এই উদ্যোগগুলো প্রমাণ করে, উপকূলের মানুষ শুধু সাহায্যপ্রার্থী নয়; তারা পরিবর্তনের সক্রিয় অংশীদার হতে সক্ষম।

 

উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় বিচ্ছিন্ন প্রকল্প নয়, সমন্বিত নীতি প্রয়োজন। প্রথমত, নদী ও খাল পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। তৃতীয়ত, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, কৃষি ও মৎস্যখাতে জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে হবে। পঞ্চমত, সুন্দরবন সংরক্ষণকে উন্নয়ন পরিকল্পনার কেন্দ্রীয় অংশ করতে হবে।

 

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, স্থানীয় জনগণকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। উপকূলের বাস্তবতা বোঝার সবচেয়ে বড় উৎস সেখানকার মানুষ। বাংলাদেশের উন্নয়ন নিয়ে আমরা যখন বড় বড় পরিসংখ্যানের কথা বলি, তখন মনে রাখতে হবেÑউপকূলের মানুষের নিরাপত্তা ছাড়া সেই উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। উপকূল শুধু একটি ভৌগোলিক প্রান্ত নয়; এটি দেশের খাদ্য, মৎস্য, পরিবেশ ও জলবায়ু নিরাপত্তার অন্যতম ভিত্তি।

 

সুন্দরবন বাঁচলে উপকূল বাঁচবে, উপকূল বাঁচলে নদী বাঁচবে, আর নদী বাঁচলে বাংলাদেশ তার প্রকৃত নদীমাতৃক পরিচয় ধরে রাখতে পারবে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকার প্রশ্নকে আর প্রান্তিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি আজ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন। উন্নয়ন, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই কেবল উপকূলের মানুষ নিরাপদ ভবিষ্যতের দিকে এগোতে পারবে, আর সেই ভবিষ্যৎই হবে বাংলাদেশের টেকসই অগ্রগতির সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ফজলে রাব্বী।

সভায় বক্তৃতা করেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডাঃ আব্দুল মজিদ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ পার্থ প্রতিম রায়, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আলতাফ হোসেন, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, সাধারণ সম্পাদক এম. জালাল উদ্দীন,পাইকগাছা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোসলেম উদ্দিন, রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি জিএম মিজানুর রহমান, জামায়াত নেতা মোর্তজা জামান আলমগীর রুলু, ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আব্দুস সালাম কেরু, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ ইউনুছ আলী, দিলীপ কুমার, আজিজুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক রহিমা আক্তার শম্পা, প্রভাষক আবু সাবাহ প্রমুখ।

 

সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৫:১৫ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

শ্যামনগর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত। সোমবার দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

 

নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশানর (ভূমি) রাশেদ হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনাকালে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান, শ্যামনগর থানার উপ-পরিদর্শক নবীর হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্বে থাকা রাশেদ হোসাইন জানান মেডিকেল প্রাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী দু’টি প্রতিষ্টানকে জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের ডাঃ ফার্নান্দো মা ও শিশু হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি ক্লিনিক দু’টির সরকারি অনুমোদন না থাকাসহ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং অনুমোদিত চিকিৎসক না থাকার কারনে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। পরবর্তী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কাগজপত্র নবায়নপুর্বক তা পরিচালনার বিষয়ে স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে।