মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিজিবি’র ত্রাণ বিতরণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী গরিব ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির উদ্যোগে বৈকারী সীমান্তের হতদরিদ্র ৫০টি পরিবারের মাঝে শুষ্ক খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-৩৩ বিজিবির অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান, উপ-অধিনায়ক শাদমান শাকিব, উপ-পরিচালক মাসুম বেগ ও মিডিয়া কর্মকর্তা মিলন হোসেনসহ বিজিবির বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

এ সময় সাতক্ষীরা ব্যাটালিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল কাজী আশিকুর রহমান বলেন, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষার মূল দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিজিবির পক্ষ থেকে এ ধরনের জনকল্যাণমুখী মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

 

Ads small one

তালায় ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণে সরকারি রাস্তা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
তালায় ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণে সরকারি রাস্তা বাধাগ্রস্তের অভিযোগ

তালা প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার তালা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের ফলেয়া চাঁদকাটি পশ্চিমপাড়া এলাকায় একটি ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরকারি রাস্তা দখল ও জনসাধারণের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডা. নাজমুল হুদা ঈদগাহের জন্য ২ শতক এবং মসজিদের জন্য ৫ শতক জমি দান করেন। ঈদগাহের পশ্চিম পাশ দিয়ে একটি সরকারি রাস্তা রয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় গ্রামবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ঈদগাহের প্রাচীর নির্মাণের ফলে ওই রাস্তার একটি অংশ সংকুচিত হয়ে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

ফলেয়া গ্রামের ডা. নাজমুল হুদার স্ত্রী ফাতেমা বেগম এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

স্থানীয়দের দাবি, মহসিন গাজী, মতিয়ার মোড়ল, আহাদ আলী সরদার ও সাঈদ সরদারের নেতৃত্বে সরকারি রাস্তাটিকে ঈদগাহের অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ নিয়ে নায়েব অফিসে একাধিক অভিযোগও করা হয়েছে। এর আগে কয়েক দফা জমি মাপজোক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

সর্বশেষ ২৫ জুলাই সরকারি আমিন এবং স্থানীয় আমিন আজিজ ও শওকতের উপস্থিতিতে যৌথভাবে জমি মাপজোক করা হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি আমিন রাস্তাটি সরকারি সম্পত্তি বলে উল্লেখ করেন এবং সেখানে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে মত দেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এটি জনসাধারণের চলাচলের সরকারি রাস্তা। এ ধরনের জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ হলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে খলিষখালী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা গাজী মোহাম্মদ আবু হেলাল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব। তিনি বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দেবেন।”

 

এনটিআরসিএর মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫২ অপরাহ্ণ
এনটিআরসিএর মৌখিক পরীক্ষা দ্রুত নেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি

৮ম এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে দেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের জন্য লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে সাতক্ষীরায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ স্মারকলিপি জমা দেন ৮ম এনটিআরসিএ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগপ্রত্যাশী প্রার্থীরা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হওয়ায় নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে। এতে প্রার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দ্রুত মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শূন্য থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ পূরণ হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক নওশাদ আলম, সহকারী শিক্ষক গোলাম মোস্তফা, রবিউল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক পাল শুভাশিষ ও কমলেশ চন্দ্র মন্ডলসহ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ অন্যান্য প্রার্থীরা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

 

 

 

 

 

উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৪:৪৯ অপরাহ্ণ
উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধারে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের উদ্বোধন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: বাংলাদেশের সরকারের ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণ উদ্যোগের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের পাদদেশে অবিস্থিত, আকাশলীনা ইকো ট্যুরিজম সেন্টার সম্মুখে উপজেলার ১২৮ টি সংগঠিত জনসংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশনের ২৫টি যুব সংগঠন, গ্রীণ কোয়ালিশন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক যৌথ আয়োজনে এ কর্মসুচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয় কৃষি পদক প্রাপ্ত কৃষাণী অল্পনা রানী মিস্ত্রির সভাপতিত্বে ও বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মোঃ শাহীন ইসলামের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ শামসুজ্জাহান কণক। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশনের উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, শ্যামনগর উপজেলা গ্রীণ কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জী, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী এসোষিয়েশনের সভাপতি সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, যুব নারী অনন্যা রাজ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, কৃষক, যুব সংগঠনের সদস্য, জনসংগঠনের প্রতিনিধি ও বীজ সহায়তাকারী প্রমূখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ শামসুজ্জাহান কণক বলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ উদ্যোগের সাথে সংহতি জানিয়ে উপকূলীয় শ্যামনগরে ১০ লক্ষ বীজ রোপণের এই প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসনীয় এবং উপকূলের পরিবেশ, প্রাণ, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এই উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতার আহবান জানান। এছাড়াও তিনি কিছু স্থানীয় বীজ ও একটি বট গাছের চারা রোপণ করেন।

সাতক্ষীরা গ্রীণ কোয়ালিশন কমিটির উপদেষ্টা কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততার বিস্তার, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্াস, নদীভাঙন এবং জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের ১০ লক্ষ বীজ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ পুনরুদ্ধারের এই উদ্যোগ জলবায়ু অভিযোজনে গুরুত্বপূর্ন পদক্ষেপ।

অনুষ্ঠানে বীজ সহায়তাকারী রবিন্দ্রনাথ মন্ডল বলেন, দেশীয় জাতের এই ১০ লক্ষ বীজ রোপণ সফল করতে পারলেই সবুজ হবে উপকূলী এবং পাখিসহ বিভিন্ন প্রাণীর আবাস গড়ে উঠবে।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে জাম, কাঁঠাল, নিম, তেঁতুল, তাল, খেজুর, মেহগনি, দেবদারু, আশফল, বট, কাঠবাদাম, পরশপিপুল, অর্জুনসহ স্থানীয় প্রজাতির মোট ৭ লক্ষ বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ১১ সদস্যবিশিষ্ট বীজ রোপণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে বীজ রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়া কার্যক্রম চলমান থাকবে।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরো বলেন, “আজকের একটি বীজই আগামী দিনের একটি শক্তিশালী বৃক্ষ। একটি বৃক্ষ শুধু সবুজের প্রতীক নয়; এটি কার্বন শোষণ করে, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করে, মাটি ও নদীতীর রক্ষা করে, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সৃষ্টি করে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা গড়ে তোলে।”

বক্তারা উপকূলের পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সবস্তরের মানুষকে এই উদ্যোগে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।