টেকসই উন্নয়ন ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে এগিয়ে আসার আহ্বান
সাতক্ষীরায় তরুণদের কণ্ঠে সুশাসনের প্রত্যয়
এসএম বিপ্লব হোসেন: টেকসই উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন ও দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তরুণদের আরও সক্রিয় ও সংগঠিত সম্পৃক্ততার আহ্বান জানানো হয়েছে সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায়। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক সমাজ গঠনে তরুণদের নেতৃত্বই হতে পারে সবচেয়ে বড় শক্তি।
বুধবার (১৪ মে) সাতক্ষীরায় ইয়েস গ্রুপ ও সনাক, সাতক্ষীরা আয়োজিত “টেকসই উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন: তরুণ সংগঠকদের করণীয়” শীর্ষক এ কর্মশালায় জেলার ২৬টি সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৪৭ জন তরুণ প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা স্থানীয় পর্যায়ে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ, দুর্নীতির প্রভাব এবং নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সনাক সভাপতি তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন টিআইবি’র সিভিক এনগেজমেন্ট বিভাগের কো-অর্ডিনেটর কাজী শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন কখনোই সম্ভব নয়। এজন্য আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দারিদ্র্য দূরীকরণ, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অংশগ্রহণকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তরুণদের ইতিবাচক শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে সমাজে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনা সম্ভব।”
কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি), তথ্য অধিকার আইন, দুর্নীতি প্রতিরোধে নাগরিক উদ্যোগ, সামাজিক জবাবদিহিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সামাজিক আন্দোলনের কার্যকর কৌশল নিয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা দলভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে নিজেদের এলাকার বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয় তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, স্থানীয় সরকার ও জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তরুণদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
ইয়েস বিষয়ক উপকমিটির আহ্বায়ক ও সনাক সদস্য মো. অলিউর বলেন, “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইতিহাসে তরুণরাই সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক বাংলাদেশ গঠনে স্বপ্নবাজ তরুণদের সম্মিলিত উদ্যোগ আরও বেগবান করতে হবে।”
সমাপনী পর্বে সনাক সদস্য আবুল বাসারের নেতৃত্বে অংশগ্রহণকারীরা দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন। এসময় তারা স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, সামাজিক আন্দোলন জোরদার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।









