বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অদৃশ্য শত্রু: সাইবার নিরাপত্তায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩১ অপরাহ্ণ
ডিজিটাল অগ্রযাত্রার অদৃশ্য শত্রু: সাইবার নিরাপত্তায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

‎ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা মানুষের জীবনযাত্রাকে যেমন সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করেছে, তেমনি এর অপব্যবহার নতুন নতুন ঝুঁকিরও জন্ম দিয়েছে। আজ ঘরে বসেই শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সরকারি-বেসরকারি নানা সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। স্মার্টফোন ও ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি সাইবার অপরাধও উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো, আর্থিক প্রতারণা, সাইবার বুলিং ও ব্ল্যাকমেইলিং এখন ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্র সবার জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ এগিয়ে চলছে, সেই যাত্রাপথকে নিরাপদ রাখতে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আজ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। প্রযুক্তির সুফল তখনই অর্থবহ হবে, যখন এর ব্যবহার হবে দায়িত্বশীল, নিরাপদ এবং সচেতনতার সঙ্গে।

‎প্রযুক্তির অপব্যবহারের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও ভুয়া তথ্যের বিস্তার। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটি অসত্য তথ্য লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা সামাজিক বিভ্রান্তি, সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা কিংবা অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। যাচাই-বাছাই ছাড়া তথ্য শেয়ার করার প্রবণতা সমাজের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

‎সাইবার বুলিংও বর্তমানে উদ্বেগজনক সমস্যা। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরী, শিক্ষার্থী ও নারীরা প্রায়ই অনলাইন হয়রানি, অপমানজনক মন্তব্য, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার কিংবা ব্যক্তিগত ছবি বিকৃত করে ছড়িয়ে দেওয়ার মতো অপরাধের শিকার হচ্ছে।

 

এর ফলে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন এবং সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে প্রযুক্তির প্রতি অতিরিক্ত আসক্তিও নীরব সংকটে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম বা ভিডিওতে ডুবে থাকার কারণে অনেক তরুণের পড়াশোনা, কর্মক্ষমতা, পারিবারিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রযুক্তি মানুষের সময় বাঁচানোর কথা থাকলেও অসচেতন ব্যবহারে সেটিই অনেক সময় অপচয় ও মানসিক চাপের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় হুমকিগুলোর একটি হলো অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং।

 

প্রতারকচক্র বিভিন্ন ফিশিং লিংক, ভুয়া ওয়েবসাইট বা প্রতারণামূলক বার্তার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড ও ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা আর্থিক সেবার অ্যাকাউন্ট অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে। আর্থিক প্রতারণাও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওটিপি, পিন নম্বর বা গোপন তথ্য হাতিয়ে নিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা অন্যান্য আর্থিক সেবা থেকে অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। কখনো চাকরির প্রলোভন, কখনো লটারিতে পুরস্কার পাওয়ার মিথ্যা আশ্বাস, আবার কখনো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো হচ্ছে।

 

সচেতনতার অভাবে সাধারণ মানুষ সহজেই এসব প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ব্ল্যাকমেইলিং বর্তমানে আরেকটি বড় সামাজিক সমস্যা। ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও বা তথ্য চুরি করে অর্থ দাবি কিংবা মানহানির হুমকি দেওয়ার ঘটনা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীরা এ ধরনের অপরাধের শিকার হয়ে চরম মানসিক সংকটে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জার ভয়ে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছেও যেতে সাহস পান না, যা অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করে। সাইবার অপরাধের ক্ষতি শুধু আর্থিক নয়, এর গভীর মানসিক ও সামাজিক প্রভাবও রয়েছে। অনলাইন হয়রানি বা প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা বিষণ্নতা, উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতায় ভুগছে।

 

পারিবারিক সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হচ্ছে, কর্মজীবন ও শিক্ষাজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে নয়, সামাজিক ও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব দিতে হবে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা। শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (২ঋঅ) চালু রাখা, অপরিচিত লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত তথ্য বা ওটিপি কারও সঙ্গে শেয়ার না করা এবং তথ্য যাচাই করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা এসব অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

 

একই সঙ্গে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা, সাইবার অপরাধ দমনে দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের সহজে অভিযোগ জানানোর সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। পরিবারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানরা ইন্টারনেটে কী দেখছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং কত সময় অনলাইনে কাটাচ্ছে এসব বিষয়ে মা-বাবার ইতিবাচক ও দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন। নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে সচেতনতা ও পারস্পরিক আস্থার পরিবেশ গড়ে তুললে শিশুরা নিরাপদ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে পারবে। লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

 

Ads small one

কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
কলকাতায় অগ্নিকান্ডে নিহতদের দু’জনার বাড়ি সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় নিহতদের ২ জন সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। বুধবার (১৯ আগষ্ট) রাত ১০টার দিকে এলাকায় খবর পৌঁছানোর পর ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন নিহতদের একজনের পরিবারের সদস্যরা।

নিহত আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) কালিগঞ্জের তারালী ইউনিয়নের বরেয়া গ্রামের মৃত. ইউনুচ সরদারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঘের ব্যবসায়ী এবং অপরজন একই উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রেবতী সরকার। তবে তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

নিহত সাজুর নিকটাত্মীয় মোখলেছুর রহমান পল্টু জানান, কোমরে ব্যাথার জন্য চিকিৎসক দেখাতে ৫-৬ দিন আগে সাজু ভারতে যায়। বুধবার বাড়িতে ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাত ১০টার দিকে বাড়িতে খবর আসে হোটেলে অগ্নিকান্ডে সে নিহত হয়েছেন।

সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়, ঘটনাটি জানার পর বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য যে, মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে হোটেলটিতে অগ্নিকান্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশী।

৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
৫০ অসহায় পরিবারের হাতে মাসিক ত্রাণ তুলে দিল রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশন

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শার উলাশীতে রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের নিজস্ব কার্যালয়ে ৫০টি অসহায় পরিবারের মাঝে মাসিক ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অসহায় পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, সাবানসহ এক মাসের প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নির্বাচিত ৫০টি পরিবারের হাতে দেওয়া হয় মাসিক ত্রাণ কার্ড। এ কার্ডের মাধ্যমে এসব পরিবার নিয়মিত প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী পাবেন।
একই অনুষ্ঠানে অসহায় মো. জাহাঙ্গীরের অপারেশনের জন্য নগদ ৫০ হাজার টাকা চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি তাঁর পরিবারের জন্যও মাসিক ত্রাণ কার্ডের মাধ্যমে এক মাসের প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। রুবিয়া রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান রুবিয়া রহমানের নিজস্ব অর্থায়নে এসব মানবিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা কতদূর?

শ্যামল শীল
২০২৩ সালের ২ নভেম্বর জাতীয় সংসদে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৩ পাশ হয়। ১৩ নভেম্বর সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।
বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে অগ্রসরমান বিশ্বের সাথে সংগতি রক্ষা ও সমতা অর্জন এবং জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞানচর্চা পঠন-পাঠনের সুযোগ সৃষ্টি ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ এবং সম্প্রসারণ কার্যক্রমের অগ্রগতিকল্পে এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস ইনকিউবেটর-এর মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নতুন নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশকে উন্নত দেশে রূপান্তর করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা অতীব প্রয়োজনীয় ও যুক্তিযুক্ত।
একইদিনে নারায়নগঞ্জে আরো একটি বিশ্ববিদ্যালয় এর আইন পাশ করা হয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক কার্যক্রম এখনো শুরু হয়নি। তবে, ২০২৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামকরণ করা হয়।
জাতীয় সংসদের গত বাজেট অধিবেশনে ১০৬ সাতক্ষীরা-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মুহাম্মাদ আব্দুল খালেক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং একই সাথে জেলা/উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা; এবং থাকলে, তা কতদিনে বাস্তবায়ন হতে পাবে? প্রশ্ন করেন।
উত্তরে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসার এবং আঞ্চলিক বৈষমা হ্রাসের লক্ষ্যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়টি সরকার সময়ে সময়ে পর্যালোচনা করে থাকে। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসার, উদ্ভাবনী চর্চা, গবেষণামনকতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত, প্রয়োজনীয়তা নিরূপণ, সম্ভাবাতা যাচাই এবং অর্থায়নের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। যদি এ সংক্রান্ত কোনো প্রকল্প গ্রহণ ও অনুমোদিত হয়, তবে প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা অনুযায়ী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে।”
মাননীয় সংসদ সদস্য মহোদয় তাঁর প্রশ্নে সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৬২ নং আইন) সম্পর্কে যেমন সুনিদিষ্ঠ কিছু বলেননি, ঠিক একইভাবে মাননীয় মন্ত্রী মহোদয় এর উত্তরেও “চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি” উল্লেখ করে আইনের বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন।
সাতক্ষীরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় যে আইনটি বিগত সময়ে প্রণয়ন হয়েছিল, সেটি বাতিল হয়েছে এমন কোন তথ্য আমরা খুজে পাইনি। যদি আইনটি থাকে, তবে চুড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য আর কি কি প্রয়োজন সেটা সম্পর্কেও সুনিদিষ্ঠ কোন তথ্য কারো কাছ থেকে জানতে পারিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত ছিলেন আমার এমন একজন শিক্ষকের সাথে কথা বললে তিনি জানিয়েছেন, আইন পাশের পর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরুর জন্য ভিসিসহ অন্যান্য পদে নিয়োগ এবং একাডেমিক কার্যক্রম যে কোন সময় শুরু করা যেতে পারে।
সাতক্ষীরা জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এটা এখন সময়ের দাবী। তবে, রাজনৈতিক গ্যাড়াকলে পড়ে আমাদের অনেক দাবীই বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। বিশ্বাবদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনাটুকু অতিতে সৃষ্টি হয়েছিল তা আবার হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রয়োজন থেকেই এই জনপদে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হোক-এই দাবীতে সাতক্ষীরাবাসীর দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হওয়াটা এখন জরুরি। এব্যাপারে সকলে এগিয়ে আসুন।