বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬, ১০:৪০ অপরাহ্ণ
ডেমোক্র্যাটরা কি ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধ থামাতে পারবে?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয়ের মাধ্যমে রিপাবলিকানদের হারিয়ে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আগামী জানুয়ারির শুরুতে দায়িত্ব নিতে যাওয়া এই কংগ্রেস ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে যাচ্ছে। যদিও ডেমোক্র্যাটদের নীতি পাসের ও তদারকির ক্ষমতা বেড়েছে, তবে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে এখনও প্রচুর নির্বাহী ক্ষমতা রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে মধ্যবর্তী নির্বাচনে তার দলের হারের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি মনে করি এর একটি অংশ ছিল ইরান, তবে একই সময়ে মানুষ ইরানের বিষয়ে আমার পদক্ষেপের গুরুত্বও বুঝতে পেরেছে।

মুদ্রাস্ফীতি, জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্ষুব্ধ ভোটারদের সমর্থন পেতে ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয়কেই প্রচারণার মূল হাতিয়ার বানায়।

গত ফেব্রুয়ারিতে কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই ট্রাম্প এই যুদ্ধ শুরু করেন। ১১ ডিসেম্বর বর্তমান সরকারি বাজেট বিলের মেয়াদ শেষ হলে নতুন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের সামরিক তহবিলের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তবে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষক জেমস বয়েস জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে সেনা উপস্থিত থাকা অবস্থায় অর্থ বন্ধ করাটা কঠিন, কারণ এটি মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সামিল হবে।

অন্যদিকে, ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ার্স রেজুলেশনের মাধ্যমে ট্রাম্পকে থামানো অসম্ভব হতে পারে। এই আইনে সামরিক অভিযান চালাতে হলে ৬০ দিনের মধ্যে কংগ্রেসের অনুমোদন বা যুদ্ধ ঘোষণার নিয়ম রয়েছে। তা না হলে প্রেসিডেন্টের ভেটো বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন, যা বর্তমান ডেমোক্র্যাটদের নেই। ইউসিডি ক্লিনটন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক স্কট লুকাস বলেন, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে কাজ করে আইন প্রস্তাব করতে পারে। যেমন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুরু থেকেই এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিলেন এবং সম্প্রতি ইরানকে বার্তা পাঠিয়েছেন।

তবে জেমস বয়েসের মতে, এটি ট্রাম্পের শেষ মেয়াদ হওয়ায় নির্বাচনি বাধ্যবাধকতা না থাকায় তিনি উল্টো আরও বিশ্বমঞ্চে বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারেন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়াতে পারেন।

শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য

বিশ্ববাজারকে তোলপাড় করে প্রায় ৯০টি দেশের ওপর ট্রাম্পের আরোপিত ১০ থেকে ৫০ শতাংশ শুল্ক গত ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেন। কিন্তু এর পরপরই ট্রাম্প অন্য আইনের অধীনে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করে শুল্ক ১৫ শতাংশে উন্নীত করেন, যা ১৫০ দিনের জন্য কার্যকর থাকে এবং বাড়ানোর জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের দরকার হয়।

ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের এই শুল্কনীতিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি ‘আমেরিকান জনগণের পকেট কাটছেন’। ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস রফতানিকারকদের কিছুটা সাময়িক স্বস্তি দিতে ছাড় দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু পুরোপুরি পরিবর্তন ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সম্ভব নয়। জেমস বয়েস জানান, শুল্ক মামলাগুলো সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে এবং আগে আদায় করা শুল্কের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

তবে চীনকে প্রযুক্তির নাগাল থেকে দূরে রাখতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা একমত। রিমোট অ্যাক্সেস সিকিউরিটি অ্যাক্ট ও চিপ সিকিউরিটি অ্যাক্ট-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চিপ ও প্রযুক্তির রফতানি নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি বজায় রাখবে নতুন কংগ্রেস।

অভিবাসন ও তদন্তের ক্ষমতা

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় সব সংসদীয় কমিটির প্রধান হবেন ডেমোক্র্যাটরা, যার ফলে সাক্ষী তলব ও তদন্তের ক্ষমতা তাদের হাতে আসছে। এর মাধ্যমে ট্রাম্পের পারিবারিক ব্যবসা, জেফরি অ্যাপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে তদন্ত হতে পারে। এমনকি ইরান যুদ্ধ কেন্দ্র করে ট্রাম্পকে তৃতীয়বারের মতো অভিশংসনের চেষ্টাও হতে পারে।

এ ছাড়া ট্রাম্পের বিতর্কিত গণ-বিতাড়ন ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যাপক তদন্ত চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। মার্কিন কর বিভাগ (আইআরএস) ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যৌথ অভিযান নিয়ে তারা তলব পাঠাতে পারে। নির্বাচনের আগে ফক্স নিউজের এক জরিপে দেখা গেছে, ৫৩ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার মনে করেন অভিবাসনবিরোধী এই কড়াকড়ি ‘অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি’ হয়ে গেছে। স্কট লুকাস মনে করেন, এই ফলের পর ডেমোক্র্যাট ও দায়িত্বশীল রিপাবলিকানরা স্থানীয় কমিউনিটিগুলোকে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণে উৎসাহিত করতে পারবেন।

সূত্র: আল জাজিরা

Ads small one

প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী খুলনায় আসছেন আজ, উদ্বোধন করবেন ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প 

পত্রদূত ডেস্ক: দুই সপ্তাহের ব্যবধানে আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আবারও মোংলা বন্দরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে তিনি বন্দরের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা জানান, প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি ও ইয়ার্ড নির্মাণের পাশাপাশি পণ্য ওঠানামায় ৪৯টি আধুনিক যন্ত্রপাতি যুক্ত করা হবে। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকার ৪৭৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। বাকি অর্থ দেবে সংশ্লিষ্ট চীনা প্রতিষ্ঠান।

প্রকল্প বাস্তবায়নে গত ১০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক ও ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরে এ-সংক্রান্ত উন্নয়ন চুক্তি করেন।

মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বন্দরের চ্যানেলের নাব্যতা বাড়াতে পরিকল্পিত ড্রেজিং, সড়ক ও রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, ফয়লা বিমানবন্দর চালু এবং আকরাম পয়েন্টে এলএনজি স্টেশন নির্মাণের দাবি জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী নতুন দুটি কনটেইনার জেটির নির্মাণকাজ উদ্বোধনের পাশাপাশি ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের মধ্যে রেলপথ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করবেন। এর ফলে মোংলা বন্দরে কনটেইনার পরিবহনে রেল যোগাযোগ চালুর সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
জেড. এইচ. সিকদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজ্ঞান মেলা, প্রদর্শিত ৪০ প্রকল্প

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে জেড. এইচ. সিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) আয়োজিত এ মেলায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ৪০টি বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শন করেন।

‘উদ্ভাবন, অনুসন্ধান ও টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত মেলায় শরীয়তপুরের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। তাঁদের প্রকল্পে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সৃজনশীল প্রয়োগ এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানের নানা ধারণা তুলে ধরা হয়।

মেলা পরিদর্শন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুল খালেক, রেজিস্ট্রার খন্দকার তাহমিনা নিষাদ এলিনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা তাঁদের প্রকল্পের ধারণা, কার্যপদ্ধতি ও সম্ভাব্য ব্যবহার তুলে ধরেন। অতিথিরা তাঁদের উদ্ভাবনী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং গবেষণায় উৎসাহ দেন।

আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী সক্ষমতা বৃদ্ধি, গবেষণায় আগ্রহ তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরিতে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এতে নির্বাচিত সেরা প্রকল্পের শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে।

মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করেছে বেসিক পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, অ্যালবাট্রস এডুকেশন ও ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
বল্লীতে মসজিদের রাস্তা সংস্কারে পরিমাপ ও পরিদর্শন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের বরাদ্দে সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোচড়া জামে মসজিদে যাওয়ার রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিনে রাস্তার মাপজোখ ও কারিগরি পরিদর্শন সম্পন্ন করে।

এ সময় বল্লী ইউনিয়ন জামায়াতের আমির ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ মিজানুর রহমান (পিকলু) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কাজের গুণগত মান বজায় রেখে দ্রুত সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এতে মসজিদের মুসল্লি ও সাধারণ পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হতো। রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকাবাসী স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। পরিদর্শনকালে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।