বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ড্রেনেজ ছাড়াই সড়ক নির্মাণ, জলবায়ু প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ
ড্রেনেজ ছাড়াই সড়ক নির্মাণ, জলবায়ু প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

আসাদুজ্জামান সরদার: বহুল প্রতীক্ষিত সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও তা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে স্বস্তির বদলে হতাশার জন্ম দিয়েছে। কারণ জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়াই নির্মাণ করা হচ্ছে সড়কটি। স্থানীয়রা বলছেন, এই উন্নয়নকাজ টেকসই হবে না। বরং কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে সড়কটি। জলে যাবে প্রকল্পের তিন কোটি টাকার বেশি।

জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পে নেই জলবায়ু পরিকল্পনা

সাতক্ষীরার পোস্ট অফিস মোড় থেকে হাটখোলা মোড় পর্যন্ত ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় আছে। সড়ক দিয়ে দিনে হাজারো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হয়। অবশেষে জলবায়ু অর্থায়নের আওতায় নির্মাণ শুরু হলেও মূল সমস্যা উপেক্ষিত থাকছে। অল্প বৃষ্টিতেই সরকারি কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমে যায়। সম্প্রতি বৃষ্টিতেই কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বড় অংশ প্লাবিত হয়েছিল। সড়কটি নতুন করে তৈরি করা হলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে না। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের প্রকল্পে যদি জলবায়ুর পরিবর্তিত বৃষ্টিপাতের ধরন ও নগরীর পানি প্রবাহের চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় না নেয়, তবে তাকে জলবায়ু সহনশীল বলা যায় না।

প্রকল্পের কাজ নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন জেলা জলবায়ু পরিষদের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী। তিনি  বলেন, ‘বছরের ছয়-সাত পানিতে ডুবে থেকে এই এলাকার অধিক রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর। তারপরও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ছাড়া সড়ক নির্মাণ করা হচ্ছে। এই সড়ক কোনোভাবেই টিকবে না।’

 

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন

সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং প্রজেক্টের’ আওতায় সাতক্ষীরা পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্প ২০২৪-২০২৫-এর অধীনে পোস্ট অফিস মোড় থেকে পুরাতন সাতক্ষীরা হাটখোলা মোড় পর্যন্ত সড়ক নির্মাণকাজ শুরু হয়। সড়কের প্রস্থ দুই পাশে তিন মিটার করে থেকে ছয় মিটার বাড়ানো হয়েছে। ২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ২০ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় তিন কোটি আট লাখ ৬৮ হাজার ৭৫৭ টাকা।

‘ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার মেইনস্ট্রিমিং’ বলতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার জন্য অবকাঠামোগত পরিকল্পনা এবং নির্মাণে স্থিতিস্থাপক নকশা ও কৌশল অন্তর্ভুক্ত করাকে বোঝায়। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো জলবায়ু-সংক্রান্ত ঝুঁকি, যেমন—চরম আবহাওয়া, বন্যা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি—থেকে অবকাঠামোকে রক্ষা করা, যা দীর্ঘমেয়াদে জীবন ও সম্পদের ক্ষতি কমায় এবং টেকসই উন্নয়নে সহায়তা করে। এটি মূলত একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে জলবায়ু পরিবর্তন-জনিত ঝুঁকিগুলো ভবিষ্যতের অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পোস্ট অফিস মোড় থেকে পুরাতন হাটখোলা পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য ১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটার। সর্বশেষ ২০১১-১২ অর্থবছরে পৌরসভার তৎকালীন মেয়র আব্দুল জলিলের মেয়াদকালে এটি শেষবারের মতো পিচ ঢালাই করা হয়। এরপর চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে ২০২৩ সালে ২০ লাখ টাকায় সংস্কার করা হয়। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে নষ্ট হয়ে যায়। ২০২৪ সালে ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে পুনরায় সংস্কার করা হলেও বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বেশিরভাগ সময় থাকে জলাবদ্ধ

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোডটি জেলার প্রাণ হিসেবে পরিচিত। এই রোড সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসক ও জেলা জজের বাসভবন। এ ছাড়া একই এলাকায় রয়েছে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, গোয়েন্দা সংস্থার কার্যালয়, প্রধান ডাকঘর, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, জেলা স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, জেলা সমবায় কার্যালয়, বিটিসিএল কার্যালয়, সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, সমাজসেবা কার্যালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থা, মোসলেমা আদর্শ একাডেমি, পল্লীমঙ্গল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, হোস্টেল, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কোচিং সেন্টার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দফতর। গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি বছরের বেশিরভাগ সময় সড়কটি জলাবদ্ধ থাকায় চলাচলে সবাইকে ভোগান্তি পোহাতে হয়।

নির্মাণকাজ শুরু পর হতাশা

নির্মাণকাজ শুরু হওয়ায় প্রাথমিকভাবে আশার আলো দেখলেও পরে কাজের ধরন দেখে হতাশ হয়েছেন স্থানীয় লোকজন। মূল সমস্যা হলো ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি না করা হয়। বারবার সংস্কার করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা এখনও তৈরি করা হয়নি। বিশেষ করে সরকারি কলেজ মাঠ এবং মোসলেমা আদর্শ একাডেমির সামনের অংশে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুসমান পানি জমে যায়। একটু বৃষ্টি হলেই সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ শহরের বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যায়। যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকে আরও স্পষ্ট করেছে। পানি চলাচলের জায়গা না থাকায় দিনের পর দিন জলাবদ্ধ থাকে। তার ওপর দিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয়দের। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নির্মাণ করা সড়কটি ছয় মাসও টিকবে না বলে জানান এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের ক্ষোভ

শহরের রাজারবাগান এলাকার বাসিন্দা ও তরুণ লেখক মুতাছিম বিল্লাহ সুমন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সড়কের দুই পাশে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে কংক্রিটের ড্রেন নির্মাণ খুবই জরুরি ছিল। কারণ বর্ষায় সড়কটি ডুবে যায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় ২০ ফুট চওড়া হওয়ার কথা থাকলেও সব স্থানে সমান প্রশস্ত হচ্ছে না। এ ছাড়া সড়কটির ভেতর থেকে গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি সরানো হয়নি।

নতুন সড়কটি ছয় মাসও টিকবে না বলে জানালেন সরকারি কলেজ সড়কের বাসিন্দা ও জেলা উদীচীর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‌‘পানি চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধ অবস্থা থাকে বেশিরভাগ সময়। ফলে যতবারই সংস্কার করা হয়, ততবারই সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট বাড়ানো হয়েছে। তবু ড্রেনেজের জন্য জায়গা রাখা হয়নি। অবৈধ স্থাপনা দিয়ে সড়কের অনেক জায়গা দখল করা হয়েছে, সেগুলো সরানো হয়নি। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় সড়ক টিকবে না।’

প্রকল্পে ড্রেন নির্মাণের কথা নেই

সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারি কাজের দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালীর কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ ও মিজানুর আলম (জেভি)। ঠিকারদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. শিহাব বলেন, ‘আমরা শুধুমাত্র সড়কের কাজের দায়িত্ব পেয়েছি। প্রকল্পে ড্রেন নির্মাণের কোনও কথা উল্লেখ নেই। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে আমরা দ্রুত কাজ করছি। তবে বিদেশি প্রকল্প হওয়ায় প্রতিটি ধাপে পরীক্ষা ও অনুমোদন নিয়ে অগ্রসর হতে হচ্ছে। এজন্য সময় বেশি লাগছে। এ ছাড়া জনবহুল এলাকা হওয়ায় একসঙ্গে অনেক শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে পারছি না। সড়কে নির্মাণসামগ্রী রাখলে চলাচলে অসুবিধা হয়, তাই কাজ দ্রুত করা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া সড়ক করা মানেই অর্থ অপচয়

সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল বলেন, ‘এই সড়কে যে খোয়া ফেলা হয়েছে, তার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে আমাদের। জলবায়ু প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে, অথচ টেকসই কোনও সমাধান হচ্ছে না। ড্রেন ছাড়া সড়ক সংস্কার মানেই অর্থের অপচয়।’

সড়ক নির্মাণের এক বছর পর শুরু হবে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কাজ

প্রকল্পের কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী মিরাজ আহম্মেদ বলেন, ‘জলবায়ু সহনশীল প্রকল্পটিতে অর্থায়ন করছে জার্মান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ড এবং বাংলাদেশ সরকার। এটি শুধুমাত্র সড়ক নির্মাণের জন্য। এতে ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনও কাজ অন্তর্ভুক্ত নেই। তবে আলাদা ‘ড্রেন প্যাকেজ’ রয়েছে, যা প্রায় এক বছর পরে শুরু হবে। সেখানে ৩৫-৪০টি ড্রেন নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। তবে জায়গা সংকটের কারণে সব স্থানে করা সম্ভব হবে না। অনেক সরকারি জায়গা স্থানীয় লোকজন দখল করে রেখেছেন, তাই প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কাজ সম্পন্ন হলে পানি নিষ্কাশনের সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হবে।’

সরকারি কলেজ মোড় থেকে মোসলেমা একাডেমি পর্যন্ত সড়কটি পানিতে তলিয়ে থাকে উল্লেখ করে প্রকল্পের কনসালট্যান্ট প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘আর্থিক সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিরা এই দৃশ্য দেখে সড়কটিতে আরসিসি ঢালাইয়ের প্রস্তাব করেছেন। আমরা সেই প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।’

যা বলছেন পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা

সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘প্রকল্পে ড্রেনেজ ব্যবস্থা আছে কিনা, তা আমার জানা নেই। শহরের ভেতর দিয়ে ১০টি ড্রেনেজ প্রকল্প চলমান আছে। এসব প্রকল্পের মধ্যে ওই সড়কও থাকতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, ‘১ দশমিক ৮৫ কিলোমিটারের মধ্যে পোস্ট অফিস থেকে ৮৫০ মিটার কার্পেটিংয়ের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করছি। বাকি অংশটুক আমরা চেষ্টা করছি আরসিসি ঢালাই দেওয়ার জন্য। এটা অবশ্যই কিছুটা দেরিতে হবে। আরসিসি ঢালাইয়ের জন্য আলোচনা করছি।’

Ads small one

কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
কপোতাক্ষ নদে বজ্রপাতে নিখোঁজ জেলের মরদেহ ২৯ ঘণ্টা পর উদ্ধার

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলা এলাকায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়া জেলে মো. আরিফ হাসানের (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২৯ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার রাত ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাট সংলগ্ন নদ থেকে তাঁর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মৃত আরিফ হাসান চাকলা গ্রামের মৃত আব্দুল হাই সানার ছেলে। এর আগে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে চাকলা গ্রামের কপোতাক্ষ নদে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আরিফ হাসান প্রতিদিনের মতো সোমবার বিকেলে একা একটি নৌকা নিয়ে কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরতে যান। বিকেলের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হলে একপর্যায়ে তাঁর নৌকার ওপর বজ্রপাত হয়। এতে তিনি নৌকা থেকে ছিটকে নদে পড়ে নিখোঁজ হন এবং নৌকাটি ডুবে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় জেলে, স্বজন ও এলাকাবাসী মিলে ডুবে যাওয়া নৌকাটি উদ্ধার করতে পারলেও আরিফের কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল ও ডুবুরিরা নদে তল্লাশি অভিযান শুরু করে। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে চাউলখোলা খুটিকাটা লঞ্চঘাটের পাশে নদে তাঁর মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা উদ্ধার করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা গিয়ে আরিফ হাসানের মরদেহ শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে চিলতে ওই গ্রামের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।
প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রউফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বজ্রপাতে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই নদের বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। মঙ্গলবার রাতে স্থানীয়দের সহায়তায় তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ ডিজিটাল সেবার নামে এনালগ ভোগান্তি বন্ধ হোক

প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিক ও সহজ গ্রাহকসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য নিয়ে দেশে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল গ্রাহকেরা ঘরে বসেই অনায়াসে রিচার্জ করতে পারবেন এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব রাখতে পারবেন। কিন্তু সাতক্ষীরায় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রিপেইড মিটারের বর্তমান চিত্রটি ঠিক এর উল্টো। গত এক মাস ধরে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশ, রকেট বা নগদের মাধ্যমে রিচার্জ করতে না পেরে শত শত গ্রাহককে তীব্র গরমের মধ্যে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সেবা সহজ করার আধুনিক এই মাধ্যমটি এখন গ্রাহকদের জন্য নতুন ভোগান্তি, এমনকি কারও কারও ভাষায় ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোল এলাকার ওজোপাডিকোর গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে সকাল থেকেই নারী, পুরুষ, প্রবীণ ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড় জমছে। অনেক বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তীব্র গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একদিকে ডিজিটাল রিচার্জ ব্যবস্থা অচল, অন্যদিকে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের জন্য কাউন্টার সংখ্যা অপ্রতুল। ফলে মাত্র একটি বা দুটি কাউন্টারের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে দিনমজুর থেকে শুরু করে অসুস্থ মানুষকেও। যেখানে সাধারণ মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, সেখানে সেবার নামে এমন এনালগ ও কষ্টদায়ক ব্যবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
ওজোপাডিকোর আওতাধীন সাতক্ষীরা বিদ্যুৎ সরবরাহ দপ্তরের গ্রাহক সংখ্যা ৪৫ হাজারের বেশি। এত বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের সেবা সচল রাখতে কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান করা কর্তৃপক্ষের প্রথম দায়িত্ব ছিল। অথচ এক মাস ধরে এই সংকট চললেও এখন পর্যন্ত মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন রিচার্জ সুবিধা চালু করা সম্ভব হয়নি। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে কাউন্টার বাড়ানোর যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা সাময়িক উপশম মাত্র, স্থায়ী সমাধান নয়।
আমরা মনে করি, আধুনিক সেবার মূল শর্তই হলো তা হয়রানিমুক্ত ও সহজলভ্য হতে হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশের যুগে এসে সামান্য রিচার্জের জন্য মানুষকে কাজ ফেলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হওয়া প্রশাসনের সমন্বয়হীনতা ও দূরদর্শিতার অভাবকেই স্পষ্ট করে। অবিলম্বে মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপগুলোর কারিগরি জটিলতা দূর করে ঘরে বসে রিচার্জের ব্যবস্থা সচল করতে হবে। একই সঙ্গে এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে ওজোপাডিকো কার্যালয়ে কাউন্টার ও লোকবল বাড়িয়ে লাইনে দাঁড়ানো মানুষের কষ্ট লাঘব করা জরুরি। আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আর কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং গ্রাহকদের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করবে।

প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতাপনগরে বজ্রপাতে নৌকা থেকে পড়ে জেলে নিখোঁজ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের চাকলায় কপোতাক্ষ নদে মাছ ধরার সময় বজ্রপাতে আরিফ হোসেন (৩৫) নামে এক মৎস্যজীবি নৌকা থেক পড়ে নিখোঁজ রয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকাল ৫ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ডুবে যাওয়া নৌকা উদ্ধার হলেও আরিফের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ জানান, চাকলা গ্রামের মৃত্যু আব্দুল হাই সানার ছেলে আরিফ হোসেন প্রতিদিনের ন্যায় নদীতে নৌকায় মাছ ধরার কাজে করছিল। হঠাৎ মেঘের গর্জন ও হাল্কা বৃষ্টিপাতের একপর্যায়ে নৌকায় বজ্রপাতে ঘটলে নৌকায় থাকা একমাত্র আরিফ হোসেন ছিটকে কপোতাক্ষ নদে পড়ে যায় এবং নৌকটিও নদীতে ডুবে যায়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নৌকাটি উদ্ধার করা গেলেও আরিফ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ আরিফ হোসেনের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন আত্মীয় স্বজন, এলাকাবাসী ও মৎস্যজীবীরা।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু জানান, ঘটনাটি আমি শুনেছি, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের টিম সদস্য ও ডুবুরীরা উদ্ধার কাজ শুরু করেছে।
আশাশুনি ফায়ার সার্ভিসের সদস্য জাকির হোসেন জানান, কয়রা থেকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার কাজে গিয়েছে।