বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩

ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ণ
ঢাকাসহ দেশের সব বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা

অনলাইন ডেস্ক: চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরণের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরণের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

 

আবহাওয়া অফিসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।

এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশটি উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান রয়েছে।

 

গতকাল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল খুলনার কয়রায় ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রাজশাহীতে রেকর্ড করা হয়েছে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ কি. মি.। ভোর ৬টায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ।

 

আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা গোপালগঞ্জে ৩৯ মিলিমিটার।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।

Ads small one

মৌলভীবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ
মৌলভীবাজারের পথে প্রধানমন্ত্রী

একদিনের সফরে মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

বুধবার (১৭ জুন) সকাল সাড়ে ৯টায় তিনি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন।

 

 

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

 

প্রেস উইং জানিয়েছে, সকাল সোয়া ১০টায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। সেখান থেকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার উদ্দেশে রওনা হবেন।

 

দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরও একটি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।

 

সর্বশেষ বিকাল পৌনে ৫টায় দুসাই রিসোর্টে আয়োজিত একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে রাত সাড়ে ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
তালায় বীমার নামে ২৫ লক্ষ টাকার আত্মসাতের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা সদর ইউনিয়নের সংরক্ষিত ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের সদস্য সাহিদা বেগমের বিরুদ্ধে বীমার নামে ১শত ৮ জনের ২৫লক্ষ টাকার আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন ভুক্তোভোগী পরিবার। এসময় ভুক্তোভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানা পুলিশ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার ডাঙ্গা নলতা মাঝারপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে ডাঙ্গানলতা, জাতপুর, আটরাই, খানপুর, জেয়ালা ও আশপাশের এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী অংশগ্রহণ করেন। পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগৃহীত প্রায় ২৫লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তরা হলেন, কতুব উদ্দীন মাহমুদ, নুর আলি শেখ, পীর আলি শেখ, কালাম মাহামুদ, আরিজুল মালি, জহিরুল ইসলাম, জিহাদ মালি, নীলিমা বেগম, সুফিয়া বেগম, পারভীন, সুফিয়া রশিদা, রিজিয়া,সোরাইয়া, মুক্তা প্রমুখ।
সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন তালা সদর ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা রোকন, পরলোভী, অর্থ আত্মসাতকারী সাহিদা বেগম পপুলার হেলথ এন্ড এডুকেশন সঞ্চয় ও ঋণদান কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন প্রলোভন ও অধিক মুনাফার আশ্বাস দিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষকে সদস্য করেন। পরে প্রায় ১০৮ জন সদস্যের কাছ থেকে সঞ্চয় ও বীমার নামে প্রায় ২৫ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতিষ্ঠানটির বীমা প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ৫ বছর। কিন্তু বীমার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও ৮ থেকে ৯ বছর অতিবাহিত হলেও তারা তাদের জমাকৃত টাকা ও প্রাপ্য মুনাফা ফেরত পাননি। বারবার টাকা ফেরতের জন্য যোগাযোগ করা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও জানান, দিনমজুরির আয়, ভ্যান চালানোর উপার্জন, ডিম বিক্রির টাকা, ক্ষুদ্র ব্যবসার লাভ এবং প্রবাসী স্বজনদের পাঠানো অর্থসহ কষ্টার্জিত সঞ্চয় ওই প্রতিষ্ঠানে জমা রেখেছিলেন। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও অর্থ ফেরত না পেয়ে তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বক্তারা বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাহিদা বেগম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে স্ট্যাম্প ও ব্ল্যাংক চেক প্রদান করেন। কিন্তু প্রতিশ্রুত সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি অর্থ পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তরা আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সাতক্ষীরা জেলা আমীর, উজেলা আমীর, ইউনিয়ন আমীরসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাদের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত তারা কোনো কার্যকর প্রতিকার পাননি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং ভুক্তভোগীদের পাওনা অর্থ ফেরত দেওয়ার দাবি জানান তারা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য শাহিদা বেগমের কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন আমি খুলনা থেকে বাড়িতে আসছি। গাড়িতে থাকায় কিছু শোনা যাচ্ছেনা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন ।

বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ১২:৩৬ পূর্বাহ্ণ
বিশ্বজুড়ে সংকটে শরণার্থী

প্রকাশ ঘোষ বিধান
বিশ্বজুড়ে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ যুদ্ধ, সহিংসতা ও নিপীড়নের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের পাশে দাঁড়ানো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ আমাদের সবার দায়িত্ব। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক হোন, এই আহ্বান অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বৈশ্বিক নৈতিকতার দাবি।
আদিকাল থেকে নিপীড়ন থকে বাঁচতে অনেকে মাতৃভূমি ত্যাগ করেছেন। শরণার্থীর বেঁচে থাকার এবং নিরাপদে আশ্রয় খোঁজার মৌলিক মানবাধিকার রয়েছে। তাদের সঙ্গে কোনো প্রকার বৈষম্যমূলক আচরণ না করে সহানুভূতিশীল হওয়া প্রয়োজন। শরণার্থীদের প্রতি মানবিক আচরণ করা আমাদের নৈতিক ও বৈশ্বিক দায়িত্ব। বলপ্রয়োগ, যুদ্ধ এবং সহিংসতার কারণে নিজের মাতৃভূমি ছাড়তে বাধ্য হওয়া এই মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি সচেতন নাগরিকের কর্তব্য।
২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়। ২০০০ সালের ডিসেম্বরের আগে দিবসটি আফ্রিকা শরণার্থী দিবস হিসেবে পালিত হতো। ১৯৫১ সালে শরণার্থীদের স্বীকৃতির বিষয়ে জাতিসংঘের সনদ গৃহীত হয়।
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটে আসা এই মানুষগুলোর জন্য খাবার, বস্ত্র, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের মতো জরুরি সহায়তা প্রয়োজন হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিজ নিজ অবস্থান থেকে শরণার্থীদের মানবেতর জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে অন্যদের উৎসাহিত করা। বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন ও সুরক্ষায় কাজ করে এমন বিশ্বস্ত সংস্থাগুলোকে সহায়তা বা অনুদান প্রদান করতে পারেন।
বিশ্বজুড়ে দিন দিন বেড়েই চলেছে শরণার্থীদের সংখ্যা। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সংঘাত ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১২ কোটি, যার মধ্যে প্রায় ৪ কোটিরও বেশি মানুষ আন্তর্জাতিক শরণার্থী। ক্রমবর্ধমান এই বাস্তুচ্যুতির বিপরীতে জাতিসংঘের ইউএনএইচসিআর-এর তহবিল ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ শরণার্থী তীব্র খাদ্য সংকট ও মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার সর্বশেষ বৈশ্বিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ, সংঘাত, নিপীড়ন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অন্তত ১১ কোটি ৭৮ লাখ মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। মোট বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখই শিশু। অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত হয়ে ৬ কোটি ৮৬ লাখ মানুষ সংঘাতের কারণে নিজ দেশের ভেতরেই গৃহহীন হয়েছেন। ২০২৬ সালের মার্চের শুরু থেকে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় কেবল লেবাননেই ১০ লাখের বেশি মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ২০২৫ সালে এই সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও, ২০২৬ সালের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাত পরিস্থিতিকে আবারও মারাত্মক করে তুলেছে।
বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের প্রায় ৭৩ ভাগ নি¤œ ও মধ্যম আয়ের দেশে বসবাস করায় তারা খাদ্য, বাসস্থান ও চিকিৎসার চরম সংকটে ভুগছেন। এর ওপর আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা তহবিল কাটছাঁট হওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। বিশ্বব্যাপী ৭০ শতাংশ শরণার্থীই ৫ বছর বা তার বেশি সময় ধরে দীর্ঘমেয়াদি নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক তহবিল সংকটের কারণে মানবিক সহায়তা সংকুচিত হচ্ছে, যা শরণার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সুরক্ষাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে। এই সংকট উত্তরণে জাতিসংঘ ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থীদের মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যার মূল চাবিকাঠি হলো শরণার্থীদের স্থানীয় কর্মসংস্থান ও শিক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা।
পৃথিবীর প্রতি ৭০ জন মানুষের মধ্যে ১ জন বর্তমানে নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বিপন্ন শরণার্থী জীবন বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। যদিও গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুতির সামগ্রিক সংখ্যা সামান্য কমেছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত বিশ্বব্যাপী চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শরণার্থীদের দুই-তৃতীয়াংশ সাত দেশের অধিবাসী। সে গুলো হলো- সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, ফিলিস্তিন, সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া। যাদের প্রায় সবাই মুসলিম।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ১২ কোটি ১২ লাখ, যা ২০২৩ সালের চেয়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে শিশু ৪০ শতাংশ (৪ কোটি ৪৯ লাখ) এবং শরণার্থীর সংখ্যা ৩ কোটি ৬৮ লাখ। আর বিশ্বে শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন দেশে থাকা মানুষের ৬৯ শতাংশের উৎস ৫ দেশ। এই ৫ দেশের মধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে ৬২ লাখ, সিরিয়া থেকে ৬০ লাখ, আফগানিস্তান থেকে ৫৮ লাখ, ইউক্রেন থেকে ৫১ লাখ ও দক্ষিণ সুদান থেকে ২৩ লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিয়েছে। ইউএনএইচসিআরের পরিসংখ্যান বলছে, ৩৭ শতাংশ শরণার্থী অবস্থান করছে ৫টি দেশে। এর মধ্যে ইরানে রয়েছে ৩৫ লাখ, তুর্কিতে রয়েছে ৩৩ লাখ, কলম্বিয়াতে রয়েছে ২৮ লাখ, জার্মানিতে ২৭ লাখ ও উগান্ডায় রয়েছে ১৮ লাখ। প্রতি বছর শরণার্থী হিসেবে জন্ম নিচ্ছে ২৩ লাখ শিশু। মোট শরণার্থীর ৭৩ শতাংশের আশ্রয়দাতা নি¤œ ও মধ্যবিত্ত দেশ এবং ৬৭ শতাংশ শরণার্থীর আশ্রয়দাতা প্রতিবেশী দেশ।
শরণার্থী প্রসঙ্গে দুটি বিষয় কাজ করে। একটি অতিত বা পুরোনো, আরেকটি এখনও চলমান। ১৯৭১ সালে প্রায় ১ কোটি বাংলাদেশিকে স্বাধীনতা সংগ্রামে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় গ্রহণ করতে হয়েছিল। আর স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আগমন শুরু হয়। আরাকানে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে রোহিঙ্গাদের দলগত আগমন বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের প্রচেষ্টা অব্যাহত। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।
শরণার্থী সংকট সমাধানে জাতিসংঘ শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, সহিংসতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ শরণার্থী হিসেবে জীবনযাপন করছেন। এর মধ্যে একটি বিশাল অংশ হলো নারী ও শিশু, যারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট