শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঝড়ে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ, বজ্রপাত-গাছ চাপায় নিহত ৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ মে, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
ঝড়ে লন্ডভন্ড পশ্চিমবঙ্গ, বজ্রপাত-গাছ চাপায় নিহত ৮

অনলাইন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজ্যজুড়ে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে কলকাতা ও এর আশপাশের জেলাগুলোর ওপর দিয়ে এই তীব্র ঝড়-বৃষ্টি বয়ে যায়। ঝড়ের আঘাতে উপড়ে গেছে বহু গাছপালা, ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ির দেয়াল। এর ফলে রেল ও বিমান সেবা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি কলকাতায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

 

ঝড়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রত্যেক পরিবারকে চার লাখ রুপি করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

 

আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, শুক্রবার বিকেলে কলকাতায় ঝড়ের সর্বোচ্চ গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮৮ কিলোমিটার। ঝড়ের দাপটে রাসবিহারী, রবীন্দ্র সরোবর, নেতাজি নগর, টালিগঞ্জ, হরিশ মুখার্জী রোড, রিপন স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিট, মল্লিক বাজার ও এজেসি বোস রোডসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক গাছ উপড়ে পড়ে। পরবর্তীতে কলকাতা পৌরসভা, পুলিশ ও দমকল বাহিনীর কর্মীরা এসে গাছ সরিয়ে রাস্তা সচল করেন।

 

ঝড়ের কারণে শিয়ালদহ ও হাওড়া শাখায় ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। গাছ ও ডালপালা ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গায় ওভারহেড তার ছিঁড়ে যায়। কলকাতা বিমানবন্দরেও বেশ কিছু সময় প্লেন ওঠানামা ব্যাহত হয়।

 

কলকাতায় ঝড়ের কবলে পড়ে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ জানায়, ঝড়ের সময় একটি গাছের ডাল ভেঙে চক্ররেলের ওভারহেড লাইনের ওপর পড়লে তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, কলকাতার চেতলা এলাকায় ঝড়ের দাপটে দেয়াল ভেঙে মাথায় পড়লে রবিন কুমার ঠাকুর নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারান।

 

রাজ্যের জেলাগুলোর মধ্যে পুরুলিয়ায় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। জেলাটিতে বজ্রাঘাতে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাশুড়ি থানা এলাকার বাসিন্দা চৈতন্য ধীবর (৫৬) কাজ শেষে সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে মারা যান। এছাড়া শেখ ছোটু (২৫) নামের এক যুবক এবং বরাবাজার থানার পালমা গ্রামে মাঠে কাজ করার সময় নিমাই চন্দ্র গড়াই (৪৫) নামের এক কৃষক বজ্রপাতে প্রাণ হারান।

 

পশ্চিম মেদিনীপুরে ঝড়ের কবলে পড়ে রূপক চইড়া ও অয়ন গোস্বামী নামের নবম শ্রেণির দুই ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঝাড়গ্রাম জেলায় মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রাঘাতে মুক্তিপদ পাল (৫৯) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ওদিকে হুগলি জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পর থেকে এক মৎস্যজীবী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সচিবালয় ‘নবান্ন’ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে কলকাতা ও বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে এবং উদ্ধারকাজ তদারকির জন্য পৌরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, কলকাতা পৌরসভা ও কলকাতা পুলিশ একযোগে কাজ করছে। মুখ্যমন্ত্রী নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে দ্রুত চার লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Ads small one

ফাইনালের আগে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে শঙ্কা, যা জানালো স্পেন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:২৪ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে শঙ্কা, যা জানালো স্পেন

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে স্পেন শিবিরে দেখা দিয়েছে সাময়িক দুশ্চিন্তা। দলের তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল মূল দলের সঙ্গে অনুশীলন না করে আলাদাভাবে অনুশীলন করায় তাকে নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। তবে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) জানিয়েছে, উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাকে আলাদা অনুশীলন করানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুশীলনে ইয়ামালের সঙ্গে ডিফেন্ডার পেদ্রো পোরোকেও মূল দল থেকে আলাদা রাখা হয়। দুজনই পুনর্বাসন ও হালকা ফিটনেস অনুশীলন করেন। এটি ছিল ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর স্পেনের প্রথম অনুশীলন।

অনুশীলনের ছবি প্রকাশ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়ামালের চোট নিয়ে জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে। তবে দ্রুতই বিষয়টি পরিষ্কার করে আরএফইএফ জানায়, দুজনকেই কেবল অতিরিক্ত চাপ এড়ানোর জন্য আলাদা অনুশীলন করানো হয়েছে। তাদের ফিটনেস নিয়ে কোনও উদ্বেগ নেই।

ফেডারেশনের আশা, রবিবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালে লামিনে ইয়ামালকে নিয়েই মাঠে নামবে স্পেন।

১৮ বছর বয়সী ইয়ামাল চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের অন্যতম সেরা পারফর্মার। তাই শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা দ্রুতই কাটিয়ে ওঠে স্প্যানিশ শিবির।

 

ফাইনালের আগে অনুশীলনে আর্জেন্টিনা, বেঞ্চে বসেই সময় কাটালেন মেসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ফাইনালের আগে অনুশীলনে আর্জেন্টিনা, বেঞ্চে বসেই সময় কাটালেন মেসি

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে আটলান্টায় প্রথম অনুশীলন সেশন করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তবে এই সেশনে মাঠে বল নিয়ে অনুশীলনের বদলে বেঞ্চে বসেই সময় কাটাতে দেখা গেছে অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে।

সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর ২৪ ঘণ্টাও পার হয়নি। তাই বৃহস্পতিবারের অনুশীলন ছিল মূলত পুনরুদ্ধার (রিকভারি) সেশন। যেসব খেলোয়াড় ৬০ মিনিটের বেশি খেলেছেন, তারা শুধু হালকা শারীরিক অনুশীলন করেন। অন্যদিকে কম সময় খেলা কিংবা না-খেলা ফুটবলাররা বল নিয়ে হালকা অনুশীলন করেন।

অনুশীলনের সময় মেসির সঙ্গে লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজকে খালি পায়ে একটি বেঞ্চে বসে গল্প করতে ও হাসতে দেখা যায়। পরে জুলিয়ানো সিমিওনে, হুলিয়ান আলভারেজসহ সেমিফাইনালের শুরুর একাদশের আরও কয়েকজন খেলোয়াড়ও তাদের সঙ্গে যোগ দেন।

পুরো অনুশীলনেই ছিল স্বস্তির আবহ। যেসব ফুটবলার আগের ম্যাচে কম খেলেছেন বা খেলেননি, তারা তুলনামূলক হালকা কসরত করেছেন।

আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুশীলন হবে শুক্রবার। নিউ জার্সিতে ফাইনালের ভেন্যুতে রওনা হওয়ার আগে আটলান্টায় এটিই হবে তাদের শেষ সেশন।

এবার ফিফা ফাইনালের আগে দুই দলের সূচিতে কিছু পরিবর্তন এনেছে। শুক্রবারের অনুশীলনের প্রথম ১৫ মিনিট গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। পাশাপাশি প্রতিটি দল থেকে তিনজন খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন সাংবাদিকরা। এদিন সংবাদ সম্মেলনে আসবেন আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি ও স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও।

তবে ফাইনালের আগের দিন শনিবার আর্জেন্টিনা ও স্পেন—দুই দলের অনুশীলনই হবে সম্পূর্ণ ক্লোজড ডোর। শেষ মুহূর্তের কৌশলগত প্রস্তুতির জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

স্পেনকে নিয়ে যা বললেন মেসি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
স্পেনকে নিয়ে যা বললেন মেসি

ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শিরোপার লড়াইয়ে এবার তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন। দীর্ঘদিন বার্সেলোনায় খেলার সুবাদে স্প্যানিশ ফুটবল ও খেলোয়াড়দের সম্পর্কে ভালোভাবেই জানেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাই ফাইনালের আগে প্রতিপক্ষকে যথেষ্ট সমীহ করেই কথা বলেছেন তিনি।

রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। ম্যাচের আগে টিওআইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, ‘ওরা দুর্দান্ত একটি দল। চমৎকার সব খেলোয়াড় আর দারুণ ফুটবলশৈলী রয়েছে তাদের। দলটিকে আমি খুব ভালো করেই চিনি। বহু বছর ধরে তারা নিজেদের একটি নির্দিষ্ট ফুটবল দর্শন ধরে রেখেছে। তাদের অনেক খেলোয়াড়কে আমি চিনি, তাদের বিপক্ষে খেলেছি এবং এখনও তাদের খেলা অনুসরণ করি। কয়েকজন তো বার্সেলোনায় খেলে, যে ক্লাবকে আমি মন থেকে ভালোবাসি। এটি একটি বিশেষ ম্যাচ, বিশ্বকাপের ফাইনাল। আমার বিশ্বাস, ম্যাচটি খুবই হাড্ডাহাড্ডি হবে।’

সমর্থকদের উদ্দেশে মেসি বলেন, ‘আমরা যেভাবে এই মুহূর্তটি উপভোগ করছি, আপনারাও সেভাবেই উপভোগ করুন। আমরা আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি এবং আর্জেন্টিনাকে বিশ্বের সেরা দুই দলের একটিতে পরিণত করেছি। গত চার বছর ধরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে যে আনন্দ পেয়েছি, এবারও সেই মঞ্চে ফিরেছি। এখন বাকিটা ঈশ্বরের ইচ্ছা।’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিকতার প্রশংসা করে মেসি বলেন, ‘এই দলের পারফরম্যান্স আমাকে অবাক করে না। আমরা জানি আমাদের সামর্থ্য কতটুকু। দলের কয়েকজন খেলোয়াড় শারীরিকভাবে সীমার শেষ প্রান্তে থেকেও, এমনকি ইনজুরি নিয়েও খেলেছে। তাই হয়তো অনেকে সন্দেহ করেছিল আমরা এতদূর আসতে পারব কি না। কিন্তু এই দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাড়তি শক্তি পায়। একে অপরকে অনুপ্রাণিত করে এমন শক্তি বের করে আনে, যা হয়তো তারা নিজেরাও আগে জানত না।’