সাতক্ষীরার বিভিন্নস্থানে কালবৈশাখী ঝড়, শ্যামনগরে গাছ ভেঙে শিশুর মৃত্যু
পত্রদূত রিপোর্ট: হঠাৎ বৃষ্টির সাথে ঝড়ো হওয়ায় তালগাছ ভেঙে পড়ে শারমিন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শারমিন(৯) শ্যামনগর উপজেলার ঈশ্বরীপুর গ্রামের আব্দুর রউফের মেয়ে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে বাড়ির পাশে খেলছিল শিশু শারমিন। হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে একটি তালগাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। এতে সে গুরুতর আহত হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ জিয়াউর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শারমিন এর মৃত্যু হয়।
এম এ হালিম উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) থেকে জানান, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবার (২৮ মে) বিকেলে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের তান্ডবে মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝড়ের তীব্রতায় আশরাফুলের বসতঘরের ছয় থেকে সাতটি টিনের চালা উড়ে যায় ও ভেঙে পড়ে। একই এলাকায় মোকছেদ গাজীর ঘরের দুই পাটের মধ্যে এক পাটের চাল সম্পূর্ণ উড়প ছিড়ে চলে গেছে। এতে পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপনের শঙ্কায় পড়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আশরাফুল বলেন, “ঝড় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের টিন উড়ে যায়। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে থাকতে হবে। নিজের টাকায় ঘর মেরামত করার সামর্থ্য নেই।”
মোকছেদ গাজী বলেন, “ঝড়ে ঘরের চাল ভেঙে গেছে। সামনে বৃষ্টি হলে থাকার মতো অবস্থা থাকবে না। দ্রুত সহায়তা দরকার।”
এলাকাবাসী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলে এমন দুর্যোগ প্রায়ই দেখা দিলেও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দ্রুত সরকারি সহায়তা ও মানবিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও এনজিও সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জরুরি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।









